ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পারিবারিক বন্ধনকে সুন্দর রাখার ছোট-ছোট কিছু উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৯ এএম
পারিবারিক বন্ধনকে সুন্দর রাখার ছোট-ছোট কিছু উপায়

কাজে গেলে কখন আসবে বাবা পথ পানে চেয়ে থাকে ছোট্ট মেয়েটি।  প্রিয় বাবাকে নিয়ে এই উৎকণ্ঠা কেবল পরিবারেই সম্ভব। ছেলে পড়তে যাবে, এগিয়ে এসে যানবাহনে উঠিয়ে দেন বাবা।  ছেলে যাওয়ার পথে যতক্ষণ চোখ যায় তাকিয়ে থাকেন মা।  অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগেই আঁচলে চোখ মোছেন মা। খেয়ে না খেয়ে ছেলের টাকা হাতে তুলে দেন প্রিয় বাবাই।  নিজের জীবন বিপন্ন করে সন্তানকে বাঁচাতে চান মা-বাবা।  মায়ের বিলাপ, বাবার অশ্রু আর ভাইবোনের কান্না-এটাই, তো পরিবারের দৃশ্য।  এমন রক্তের, হৃদয়ের, মমতার ও ভালোবাসার  বন্ধন  একমাত্র পরিবারেই আছে। তাই পারিবারিক সম্পর্কের প্রতি আমাদের হতে হবে যত্নশীল। 

সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ককে অটুট সুন্দর রাখার কিছু কিছু উপায় তুলাধরা হলো আজ। স্বীকৃতি পেলে কে খুশি না হয়। যেহেতু  পরিবারে সবাই সমান পারদর্শী নয়  তাই কাউকে অবহেলা করবেন না।  যে যেটা নিয়মিত করছেন তাকে কাজের সম্মান দেখান ও মুখে ফুটে তার স্বীকৃতির কথা জানান৷ সংসারের কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিন৷ কারো পেশাগত চাপ বা পড়াশোনার চাপ থাকলে কাজটি অন্য আরেকজন সেরে ফেলুন৷ কাজ ভাগাভাগির বিষয়ে দিনের কোন একটা  সময়ে বা  সপ্তাহে অন্তত একদিন খাবার টেবিলে আলোচনা করুন। ৷সকালে বাড়ি থেকে কেও বের হবার আগে কখনো গুরুত্বপূর্ণ  আলাপ করবেন না।

পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছের মূল্য দিন৷ একজনের শখ  অপর জনের ভালো নাও লাগতে পারে পারে৷তাই বলে কাউকে অসম্মান নয়৷প্রয়োজনে ভালো-মন্দ বুঝিয়ে বলতে পারে৷ একে অন্যের আগ্রহের কথা জানতে পারলে  সবাই মিলে তা আলোচনা করে সমাধান করাসম্ভব৷ মাঝে-মাঝেই কথায়-কথায় এর সাথে ওর লেগে যায়। হুট হাট উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে ‘কলহ’।  এ সময় একজন উত্তেজিত হলে অন্যজন শান্ত থাকুন৷ ঝগড়া এড়িয়ে চলতে কিছুটা সচেতন হয়ে কথা বলুন।  
মনের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব বা ভিন্ন মত থাকলে তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে খোলাখুলিভাবে সবাই মিলে সে বিষয়ে কথা বলুন৷ পারিবারিক দ্বন্দ্ব এড়াতে সরাসরি আলোচনা করুন।

ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা সবার বিশেষ দিনগুলো বা জন্মদিন  সবাই মিলে উদযাপন করতে পারেন৷ এই দিনটির  মাধ্যমে তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিন যে, পরিবারে তার মূল্য অন্যাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়৷ অসুখ হলে একে অপরের প্রতি যত্ন নিন। এ সময় অবহেলা নয়  প্রয়োজনে নিজের কোনো একটি কাজ ফেলে রোগীর প্রতি একটু যত্ন নিন। কিনে আনুন তার প্রিয় খাবার, পছন্দের বই বা অন্য মজার কোনো কিছু। যাতে তিনি খুশি হোন। ছুটির দিনে পরিবারের সবাই একসাথে বেশি সময় নিয়ে সকালের নাস্তা করুন৷ কারো কোন কাজ থাকলে সবাইকে জানিয়ে দিন। হঠাৎ করে বলবেন না ‘আমার কাজ আছে’৷বাড়ি থেকে ফিরতে দেরি হলে অবশ্যই বাড়িতে ফোন করে জানাবেন৷

এ বছর কোথায় বেড়াতে যাওয়া হবে কিনা, এ নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করুন৷ হোক সে ছোট বা বড়, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যেরই মতামতের মূল্য রয়েছে।  বেড়াতে গিয়ে জীবনের সমস্ত চাপ ঝেড়ে ফিরে আসুন নতুন উদ্যম নিয়ে