ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সুখী জীবনের সফলতা পেতে মধ্যবয়সে এড়িয়ে যাবেন এসব বাধা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০১:০১ পিএম
সুখী জীবনের সফলতা পেতে মধ্যবয়সে এড়িয়ে যাবেন এসব বাধা!

মধ্যবয়স সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন,  মধ্যবয়স একজন মানুষের জীবনে কয়েকটি বছরমাত্র নয় বরং সমস্ত বয়সের মধ্যে ওইটুকুই তার আসল জীবন।  এ বয়সে এখনো প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে  অনেকের খোলা মাঠে গিয়ে খেলতে ইচ্ছে করে। কারও গলা ছেড়ে গান গাইতে ইচ্ছে করে । কেউ মাঝ রাস্তায় ঝুম বৃষ্টি দেখলে নিজেকে আটকে রাখতে পারেন না। বিজ্ঞানীরা বলছেন এর মানে আপনার মনের বয়স ১৫ কি ১৬।

ব্রিটিশ সাইকোলজিকাল সোসাইটির রিসার্চ ডাইজেস্ট এ দেখা গেছে যে, সেসব কোম্পানিই বেশী সফল যাদের কর্মীরা নিজেদের আপেক্ষিক বয়সের তুলনায় তরুণ মনে করেন। তাই তারা  সামাজিক, সাংসারিক, কর্মজীবন সবক্ষেত্রেই সফলভাবে টিকে থাকেন। কোরিয়ার আরেক গবেষণায় বলছে, নিজেকে যত বুড়ো ভাববেন আপনার মস্তিষ্ক ততো দ্রুত ক্ষয়ে যাবে, আর যতো তরুণ ভাববেন, মস্তিস্কও ততো তরতজা থাকবে।  মানুষের বয়ঃসন্ধিকালে যেমন শারিরীক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। তেমনি বয়স যখন ৪০ তখনও সেরকম একটা মানসিক পরিবর্তন ঘটে। এ সময়  শারীরিক পরিবর্তনও আসে।

মধ্যবয়সে যে ধরণের  মানসিক জটিলতার মুখোমুখি  হতে হয়:স্ত্রী-সন্তান পালনের দিকে মনোযোগ দেয়ার কারণে এ বয়সে স্ত্রী সাথে রোমাঞ্চ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন অনেকে। জীবন একঘেয়ে লাগে। এই এক ঘেয়েমি দূর করতে বিশেষ করে পুরুষের মনে তখন বিভিন্ন ধরণের ফ্যান্টাসী কাজ করে। এ ফ্যান্টাসীর কারণে বিভিন্ন ভুল কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা দেয় পুরুষদের মধ্যে। অনেকেই পরনারীতে আসক্ত হয়ে পড়েন। বয়সের অনেক ছোট মেয়েদের প্রেমে পড়েন তারা। কম বয়স্ক মেয়েদেরকে উত্যক্ত করা, বিভিন্ন অশালীন আচরণ, অবৈধ সম্পর্কের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করেন। কেউ বা বিয়ে করে ফেলেন বয়সে অনেক ছোট নারীকে। অসম বয়সের পরকীয়ায় তাদের জীবন আরো দূর্বিসহ হয়ে ওঠে। শেষ মেষ বিবাহ বিচ্ছেদের মত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তদের অনেকে।

গবেষণা বলে, এই বয়সে মানুষ সবচেয়ে কম সন্তুষ্ট বোধ করেন। মধ্য বয়সের হঠাৎ হঠাৎ কারণে অকারনে রেগে যায়। বিশেষ করে স্ত্রী- সন্তানদের সাথে কথায় কথায় রাগ বেড়ে গিয়ে বাগ বিতণ্ডায় জড়িয়ে পরেন ।ছেলেমেয়ের প্রতি  দায়িত্বহীন হয়ে পড়েন।  মধ্যবয়সে এসে অনেকে মা-বাবাকে হারান। মা-বাবা মৃত্যু তার মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি করে।  অন্যদিকে পড়ালেখা বা বিয়ে ইত্যাদি কারণে সন্তানেরা দূরে চলে যায়। এতে করে শূন্যতা আরও বাড়ে। হঠৎ করেই ধূমপান ও মদ খাওয়া বেড়ে যায় অনেকের। এছাড়াও ঘুম কম হওয়া, দেরি করে ঘুমানো ও ওঠা, মোবাইলে বেশি কথা বলা ও লুকোচুরিসহ নানাবিধ  অভ্যাস বেড়ে যায়।

এদিকে নিজের কাজ, বয়স্ক বাবা-মার দায়িত্ব ও ছেলেমেয়ের বাড়তি দায়িত্ব থাকায় এই বয়সে নিজের স্বাস্থ্যের ওপর যথেষ্ট নজর দিতে পারে না। তাই স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। ওজন বাড়ে, মেদ বাড়ে, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাইপারটেনশান,গাঁটে ব্যথা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়,  সহজেই জটিল ও দুরারোগ্য রোগ বাসা বাধে, পরিপাকে সমস্যা দেখা দেয়াসহ নানা রকমের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগেন। আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা উঁকি দেয়।

তাই  ৪০-এর কোঠায় নিজেকে রাখুন সুস্থ, সচল, সক্রিয় ও প্রাণশক্তিতে থাকুন ভরপুর। এর জন্য মানা উচিত ছোট্ট কিছু নিয়ম। প্রতিদিন ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করুন। সুস্থ-সবল থাকতে  মদ্যপান ও ধূমপান বন্ধ করুন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। পারিবারিক রোগের ইতিহাস জানুন। যথাযথ ভাবে ঘুমান।  চাপ কমান কারণ চাপ আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। খাবারে উদ্ভিজ প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ান। পরিমিত আহার করুন।  কয়েক রকমের ফল খান। শাকসবজি খান। সুষম খাবার খান। ৪০ বছরের পর শরীর সচল রাখতে সঠিক ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া খুব দরকার। শরীর ফিট রাখতে চিকিৎসকরা পরামর্শ নিন।

মস্তিষ্কের কাজে পিছিয়ে পড়বেন না। ইয়োগা ও মেডিটেশন করুন। মন শান্ত রাখার কৌশল গ্রহণ করুন।  নিজেকে ক্রিয়েটিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন। চাইলে কোন শখের কাজও শুরু করতে পারেন। সামাজিক কাজে অংশ নেন। জনহিতকর কাজে ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করুনন। আত্মীয়, স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। সম্ভব হলে সহযোগিতা করুন। মন ভালো রাখতে বেড়াতে যান, গান শুনুন ও চলচ্চিত্র দেখারমতো কাজ করতে  পারুন। নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। যাদের ওপর বার বার রাগ হয়, তাদের সঙ্গে আপনার সমস্যা নিয়ে কথা বলুন। এতে অপরাধ বোধ, সংকুচিতমন ও স্ট্রেস তৈরি হবে না।অ্যাডভেঞ্চারের বশে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন না।  অযথা আপনার জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীকে সন্দেহ করবেন না। কোনো সমস্যা মনে করলে খোলামেলা আলাপ করুন। সন্তানের দিকে নজর দিন। নেতিবাচক পথ পরিহার করুন।