ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ , ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাড়ির জন্য মন কাঁদে

মারিয়া আলম
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার, ০৮:১০ এএম
বাড়ির জন্য মন কাঁদে

কুমিল্লা থেকে আগত শান্তা, ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এই প্রথম সবাইকে ছেড়ে একা হোস্টেলে ওঠে। ভালো পড়াশোনা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আসা শান্তা কেঁদে অস্থির। অবশেষে এক মাসের মধ্যে বাধ্য হয়েই তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়ির রোকসানার গল্পটা খানিকটা ভিন্ন। ঢাকায় দূরের আত্মীয় থাকায় কোনো রকমে সামলে নিয়েছিল নিজেকে। তবে প্রতি দুই সপ্তাহেই বাড়ি যেতে হত তাঁকে। আত্মীয়দের সঙ্গ বেশিদিন মন ভোলাতে পারত না তার। তাই ছুটিগুলো আপনজনদের জন্যই বরাদ্ধ থাকতো তার।

বাড়ি থেকে দূরে থাকাই ‘হোম সিকনেস’ বলে। অর্থাৎ বাড়ির জন্য মন কাঁদে। হোম সিকনেসের কারণে অনেকেই মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। স্বাভাবিক কাজ পর্যন্ত করতে পারেন না। শুধু বাড়ির জন্যই না, অপরিচিত পরিবেশ যখন মনকে অপ্রস্তুত ও অস্বস্তিকর করে দেয় তখন হোম সিকনেস দেখা দেয়। কয়েক কারণে হতে পারে হোম সিকনেস।

-      এতদিনের অভিজ্ঞতা যখন নতুন পরিবেশের বিপরীত হয়। 

-      অন্যদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ব্যবহার যখন পাওয়া যায় না। 

-      যখন চারপাশের মানুষের সঙ্গে আপনার ব্যক্তিত্যের মিল হয় না।  

-      নতুন পরিবেশ যখন আপনাকে খুব বেশি চ্যালেঞ্জ করে।

-      পরিবারহীন আপনি যখন নিজেকে অসুরক্ষিত মনে করেন, তখনো হোম সিকনেস দেখা দিতে পারে।

হোম সিকনেস কাটিয়ে তোলায় জন্য সবার আগে নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে হয়। আপনি বাড়ি থেকে দূরে যাচ্ছেন, সব নতুন থাকবে এটা মেনে নিলেই অর্ধেক সমাধান পেয়ে যাবেন। নতুন বন্ধু তৈরি করা, পরিবারের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলা, নতুন জায়গা ঘুরে দেখা, মন খারাপের কথা প্রকাশ করা, নতুন ঘর গোছানো ইত্যাদি নানা উপায়ে নিজেকে অনুপ্রাণিত করা যায়।

গুরুতর হোম সিকনেসের জন্য কাউন্সিলিং খুব ভালো কাজে দেয়। ফরেন স্টুডেন্টদের জন্য আলাদা কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা থাকে উন্নত দেশে। ফাহিমও কয়েকবার কাউন্সিলিং করিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে কানাডায় পড়তে যাওয়া ফাহিম বলে, তার ক্ষেত্রে ব্যপারটা অনেক বেশি কষ্টের। দু বছরে অনেক কিছু মানিয়ে নিলেও এখনো ঈদে, জন্মদিনে, কান্না পায় তাঁর। প্লেনের টিকেটের অনেক দাম, তাই চাইলেই যখন তখন দেশে আসা যায় না।

আমাদের দেশে কাউন্সিলরদের সংখ্যা এতো বেশি না হলেও খুব একটা কম হয়। কাউন্সিলিং, এমন যে কারও কাছেই করানো যায় যে আপনাকে বুঝবে এবং যার সঙ্গে আপনার আন্তরিক সম্পর্ক আছে। যার কথা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে। এক্ষেত্রে অনেকেই নিজের কাউন্সিলিং করেন। শুধু নিজেকে বার বার মনে করিয়ে দেওয়া, ‘আমি পারব’।


বাংলা ইনসাইডার/এমএ/জেডএ