ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেলেন মারিয়া মুমু

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৯:০৯ এএম
ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেলেন মারিয়া মুমু

তরুণদের সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য মাত্র ২০ বছর বয়সেই মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে সম্মানজনক ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেলেন মারিয়া মুমু। মানসিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য মারিয়ার প্রতিষ্ঠান `মশাল মেন্টাল হেলথ` এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।

২০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসের প্রথম স্ত্রী—প্রিন্সেস ডায়ানা স্মরণে সমাজসেবায় যুক্ত তরুণদের দেওয়া হয় ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড। প্রিন্সেস ডায়ানার দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারি সরাসরি এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। সোমবার রাত ৯টায় এ বছরের ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তরুণদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের ১৯ জন তরুণ-তরুণী। যাদের মধ্যে একজন মারিয়া মুমু। 

পুরস্কার পেয়ে মারিয়া বলেন, `আমার যখন তিন বছর বয়স, তখন আমার বাবা আর মা আলাদা হয়ে যান। আমি মায়ের কাছেই বড় হই। তারপর বাবার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। আমি চেষ্টা করেছি, বাবা সাড়া দেননি। আমি তাঁর এই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি। তবু বাবা দিবসে একটু মন খারাপ লেগেছে। আর সেদিনই অ্যাওয়ার্ডটা আমার হাতে আসে। কী যে খুশি লাগল! এর আগেই অবশ্য জানতে পেরেছিলাম। যাঁরা আমাকে মনোনীত করেছিলেন তাঁদের মাধ্যমে।`

দীর্ঘদিন বিষণ্নতা আর উদ্বিগ্নতার সঙ্গে লড়াই করেছেন মারিয়া। পরবর্তীকালে তিনি নিজেকে একজন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। মারিয়ার সামাজিক কার্যক্রমের প্রভাব শুরু হয় `মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯` থেকে। সেবার তিনি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। শেষ পাঁচে এসে চতুর্থ হয়ে যাত্রা শেষ হয় তার।  তিনি নাকি সেখানে বিজয়ী হতে যাননি। গিয়েছিলেন মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলার একটা প্লাটফর্ম পেতে। আর কারও প্রিয়জন যাতে বিষণ্নতায় আত্মহত্যা করে মারা না যায়, সে জন্য কাজ করে চলছেন তিনি।

মিস ইউনিভার্স এর পরের বছর অর্থাৎ গত বছর তিনি `মশাল মেন্টাল হেলথ` প্রতিষ্ঠা করেন। মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় এই প্রতিষ্ঠানের। একই সঙ্গে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী আর কার্যকর করে তুলতে রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে থাকেন।

খুব অল্প সময়ে মশাল দেশের ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ভেতর উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে সক্ষম হয়। চলমান করোনা অতিমারির কারণে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রথমে হটলাইনের মাধ্যমে প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান শুরু করে মশাল। সম্প্রতি তারা সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি অনাথ শিশুদের বিনা মূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। `ইয়ুথ ফর দ্য ওয়ার্ল্ড` (যেখানে অংশ নেয় সাতটি দেশ) কিংবা `লেটস টক মেন্টাল হেলথ`-এর মতো কর্মসূচির আয়োজন করেছে। প্রথমবারের মতো এই ধরনের ইভেন্ট আয়োজন করে দেশের মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ নজির স্থাপন করেছে মারিয়ার প্রতিষ্ঠান।

তিন শ শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি কার্যক্রমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল মশাল; সেটি আরও বড় হয়েছে। মশালের মাধ্যমে আমি এমন একটি সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে একটি শিশু ছোটবেলা থেকে সমর্থনশীল পরিবেশে বেড়ে উঠছে। যেখানে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক খুবই মধুর, ভালো ফল করতে না পারাটা কোনো অপরাধ নয়। আমি স্বপ্ন দেখি এমন একটি সমাজের, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংগ্রাম করে যাওয়া একজন মানুষ সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতা পাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক আর প্রয়োজনীয় সেবা হয়ে উঠেছে—এমন স্বপ্নের কথাই শোনালেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী এই সদস্য তরুণী।