লিট ইনসাইড

মাইকেল মধুসূদন দত্তের আজ ১৯৮ তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail মাইকেল মধুসূদন দত্তের আজ ১৯৮ তম জন্মবার্ষিকী

অমিত্রাক্ষর  ছন্দের জনক মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকি আজ। এই মহা কবি ১৮২৪ সালের আজকের এ দিনে তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী এবং পিতা জমিদার রাজ নারায়ণ । তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।

মধুসূদন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তার কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।  

তাঁর মায়ের হাত ধরেই তা শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। এরপর ছোটবেলায় নিজ গ্রামের এক পাঠশালায় মাওলানা লুৎফর রহমানের কাছে শিশু মধুসূদন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পাশাপাশি গৃহশিক্ষক হরলাল রায়ের কাছে বাংলা ও ফারসি ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন তিনি। আর জাহ্নবী দেবীই শিশু মধুসূদনকে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে পরিচিত করে তোলেন। সাগরদাঁড়িতে বাল্যকাল অতিবাহিত করে ১৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় যান। কৃতী ছাত্র হিসাবে তার সুনাম ছিল। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি নারী শিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে স্বর্ণ পদক লাভ করেছিলেন।

মধুসূদন মহাকবি হওয়ার স্বপ্নে বিলেত যাওয়ার সুবিধার জন্য ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। এতে তাকে ত্যাজ্যপুত্র করা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় ছদ্মনামে কবিতা লিখতে থাকেন। কয়েকটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ও সম্পাদকীয় বিভাগেও কাজ করেন। একই বছর বিয়ে করেন রেবেকা ম্যাকটাভিসকে। তাকে হিন্দু কলেজ থেকে বিতাড়িত করা হয়। পরে তিনি শিবপুরের বিশপ কলেজে ভর্তি হন। 

মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা এবং বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের পথিকৃৎ। নাটক, প্রহসন, মহাকাব্য, পত্রকাব্য, সনেট, ট্র্যাজেডিসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অমর সৃষ্টি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উন্নত মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করার পর তার নামের সঙ্গে 'মাইকেল' যুক্ত হয়। তিনি ‘পদ্মাবতী’ নাটক, ‘তিলোত্তমাসম্বব কাব্য’, ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামে দুটি প্রহসন, ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক, ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য ও চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক তিনি। 

তার মেঘনাদবধ কাব্য রামায়ণের পৌরাণিক কাহিনী থেকে সংগৃহীত হলেও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যের ভাবনার সংমিশ্রণে মধুসূদনের এ এক অপরূপ সৃষ্টি।

শেষ জীবনে অর্থাভাব, ঋণগ্রস্থ ও অসুস্থতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন দূর্বিষহ উঠেছিল। এরপর সকল চাওয়া পাওয়াসহ সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় তিনি মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মহাকবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

তেল নিয়ে তেলেসমাতি

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১৩ মে, ২০২২


Thumbnail তেল নিয়ে তেলেসমাতি

হঠাৎ করেই বাজার থেকে
তেলের ড্রাম হাওয়া!
কোন্  গুদামে লুকিয়েছে
আর কি যাবে পাওয়া?

কারা মিলে করলো গায়েব
লক্ষ লিটার তেল?
এসব নাকি  রক্তচোষা
সিন্ডিকেটের খেল !!

আম জনতা ভীষণ হতাশ
তেলের চড়া দামে 
কে-বা জানে দামের রকেট
কোথায় গিয়ে থামে!

ক’দিন আগেও খেললো ওরা 
আলু-পেঁয়াজ নিয়ে,
ওঁৎ পেতে রয় পরের খেলা
খেলবে কোনটা দিয়ে?

লোক ঠকিয়ে রাতারাতি 
যারাই ধনী হয়,
তাদের জন্য অসীম ঘৃণা
হবেই তাদের ক্ষয় !!

তেল   তেলেসমাতি  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

একটি ই-মেইল ও একজন সফল তেল ব্যবসায়ী


Thumbnail একটি ই-মেইল ও একজন সফল তেল ব্যবসায়ী

জন্মের আগেই বাবাকে হারিয়েছে আবুল মিয়া। আবুলের মা বাসা-বাড়িতে ঝি'র কাজ করে আবুলকে অনেক কষ্টে বড় করেছে। টেনেটুনে মেট্রিক শ্রেণি পাশ করেছে আবুল।রেজাল্ট থার্ড ক্লাস। কাওরান বাজার বস্তিতে আবুলের বসবাস।

একটি স্বনামধন্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে আবুল একদিন সিভি নিয়ে কোম্পানিটির হেড অফিসে গেলো। মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা সিভি দেখে থ মেরে গেলো। আবুল সাহেব! একবিংশ শতাব্দীতে এসে আপনার একটা ই-মেইল আইডি নেই? আবুল ভয়ে ভয়ে উত্তর করল, "স্যার আমি তো নাইট গার্ড পদে চাকরির জন্য আসছি, আমারও ই-মেইল লাগব স্যার?" কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দিলেন, যে ব্যক্তির ই-মেইল আইডি নেই, এমন কেয়ারলেস এমপ্লয়ি তাদের প্রতিষ্ঠানে দরকার নেই। একবুক হতাশা নিয়ে আবুল অফিস থেকে বেরিয়ে আসলো।

আবুলের বন্ধু মফিজ কাওরানবাজারের  স্বনামধন্য চা বিক্রেতা। মুখ ভার দেখে আবুলকে ডাকলো মফিজ। সব কথা শোনে আবুলকে কাঁচামালের ব্যবসায় নামতে পরামর্শ দিল মফিজ। মফিজের পরামর্শে আবুল মফিজের থেকে ধার করা তিনশ টাকা পুঁজিতে পেয়াজের ব্যবসা শুরু করল আবুল। সে কাওরানবাজার থেকে পেয়াজ কিনে ফকিন্নি বাজার গিয়ে বিক্রি করত। হুট করে পেয়াজের দাম বেড়ে গেলে একবার বেশ লাভ পেল আবুল। এর মাঝে ব্যবসার খুঁটিনাটি সব ফাঁকফোকর শিখে গেল আবুল।

আবুল কাওরানবাজারে একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে সয়াবিন তেলের ব্যবসা শুরু করল। সুযোগ বুঝে প্রচুর তেল স্টক করল আবুল। এলাকায় একবার তেলের অভাব দেখা দিলে আবুল বেশি দামে তেল বিক্রি শুরু করল। প্রচুর টাকা লাভ হল।আবুল দোকান বাড়াতে লাগল। আবুল এখন কাওরানবাজারের সফল ব্যবসায়ী আবুল সাহেব।

সুযোগ বুঝে একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়ে গেল আবুল। এবার আবুলের ব্যবসা দেশব্যাপী ছড়িয়ে গেল। দুহাত ভর্তি টাকা আসতে লাগল। এক রাজনীতিবিদের মেয়ের সাথে আবুলের বিয়ে হল।আবুলের আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। আবুল আর মফিজের চা স্টলে চা খেতে যায় না। আবুল সাহেবের আর বন্ধু মফিজের তিনশত টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

আবুল সাহেব এখন প্রচুর টাকার মালিক। আবুল সাহেবের কাছের মানুষরা তাকে পরামর্শ দিলেন একটা গ্রুপ অফ কোম্পানি খুলতে। পরামর্শ অনুযায়ী আবুল সাহেব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের ফর্ম ফিলাপ করতে বসেছেন। এবারও আবুল সাহেবের ই-মেইল এর ঘর ফাঁকা রাখলেন। কর্তৃপক্ষ একদিন আবুল সাহেবকে ডাকলেন। আবুল সাহেবকে কর্মকর্তা খুব খাতির করলেন। ফর্মে ই-মেইলের ঘরটা ফিল আপ করতে বললে চোখটা ছলছল করে উঠল আবুল সাহেবের। কর্মকর্তাকে বললেন, "এই ই-মেইল টা নাই বলেই আজ আমি গ্রুপ অফ কোম্পানির মালিক হতে যাচ্ছি "! কর্মকর্তা এবার নড়েচড়ে বসলেন। আবুল সাহেব সেই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির পুরনো ঘটনাটি খুলে বললেন। আবুল সাহেবের কাহিনী শোনে কর্মকর্তা থ মেরে বসে রইলেন। সেই দিনই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে কর্মকর্তা পেয়াজ ও তেলের ব্যবসায় নেমে পড়লেন।


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

বিভিন্ন আখ্যানে অঙ্কিত 'একটুখানি চাকরি'

প্রকাশ: ০৫:০৪ পিএম, ০৮ মে, ২০২২


Thumbnail বিভিন্ন আখ্যানে অঙ্কিত 'একটুখানি চাকরি'

মেমোয়ার- কথাটি শুনলেই আমাদের মনে প্রথমেই চলে আসে জীবনালেখ্য। একজন মানুষের গোটা জীবনটাই চলে আসে সিনেমার রিলে কিংবা শব্দের বুনটে। তবে সিনেমার রিলে যেমন করে মূল গল্প থেকে কিছুটা সরে এসে সেখানে নানাভাবে রঙচঙ মাখানো হয়, তারচেয়ে বরং শব্দের বুনটটাই মেমোয়ারপ্রেমীদের কাছে বেশি প্রিয়। এতে লেখকের সাথে পাঠকেরা এক আত্মিক বন্ধনের যোগসূত্র খুঁজে পান, বাস্তবতার পরশ পান। 

একটুখানি চাকরি, নামটা শুনলে একটু ভ্রূ কুঁচকে ওঠাটাই স্বাভাবিক। পাঁড় পড়ুয়ারা হয়ত নাম শুনে হেঁকে বসতে পারেন, আরে ও তো চাকরি নিয়ে বই লেখা হয়েছে। এটা বরং যারা চাকরিপ্রত্যাশী তাদের হাতেই তুলে দেয়া হোক।

তবে তাদেরকে যখন বলা হবে এটি চাকরিপ্রত্যাশী তো বটেই, একইসাথে একজন লেখকের গোটা জীবনের স্পর্শ সুনিপুণ তুলির চমৎকার স্ট্রোকে ক্যানভাসে অঙ্কন করা হয়েছে, তারাও অবাক হতে বাধ্য হবেন বৈকি। 

বইয়ের পেছনের ফ্ল্যাপ থেকেই শিল্পীর পরিচয়ে আসা যাক- 

মো. আবদুল মান্নান মূলত একজন সিভিল সার্ভেন্ট। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভেন্ট প্রশাসন ক্যাডারের ৮ম ব্যাচের সাহসী, দক্ষ ও স্বনামধন্য কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর সুনাম ও খ্যাতি সর্বত্র। তিন দশকের অধিককালের সময়জুড়ে তার কর্মপরিধি বিস্তৃত। পরবর্তীতে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন তিনি। 

এটুকু পড়লে তার জীবনের কর্ম সম্পর্কে জানাটা পাঠকের কাছে অধরাই থেকে যায়। সেজন্য তাদেরকে হাতে তুলে নিতে হবে একটুখানি চাকরি নামের এই বইটি। 
পাঠকের কাছে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে পারে, বইটির নাম এমন কেন? তাছাড়া যদি মেমোয়ারই হয়ে থাকে, নামটি আরও শৈল্পিক হবার কথা ছিল না? লেখকের মুনশিয়ানা বোধহয় এখানেই। বইটি শুরু করলে পাঠকেরা বুঝতে পারবেন এরচেয়ে যৌক্তিক নামকরণ হওয়া বোধহয় আর সম্ভব ছিল না। 

একটুখানি চাকরি বইটিতে লেখকের চাকরি জীবনের শুরু থেকে নানা ঘটনার সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ, দেশের প্রতি মমত্ববোধ, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কর্তব্যপালন ইত্যাদি নানা গুণের সমাহার উঠে এসেছে জীবনের নানা গল্পের বাঁকে বাঁকে। আটপৌরে জীবনটিকেই অসামান্য সব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি করে তুলেছেন বর্ণিল। তাই বলে কি পরিবারের প্রতি তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি? একইসাথে কর্মজীবন, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবন কীভাবে আগলে রেখে জীবনটাকে ব্যালেন্স করে চলা যায়, তার চমৎকার এবং জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছেন হোসেন আবদুল মান্নান। তার লেখা বইতে উঠে আসে সত্তর, আশি, নব্বইয়ের দশকের নানা উদাহরণ, নানা চরিত্র, নানা আখ্যান। পড়তে পড়তে পাঠক হিসেবে আমরা তন্ময় হয়ে যাই। 

বিপন্ন বিস্ময় নামক আখ্যানে আমরা দেখতে পাই লেখক পরিচিত হচ্ছে ব্রজেন দাসের সামনে, যিনি সর্বপ্রথম ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছিলেন। সে কথাটি অকপটে তার লেখনীতে উঠে এসেছে। নিখাদ বিস্ময় তো ছিলই, কিন্তু সেখানে কোনো বাড়তি মেদ ছিল না। পড়তে পড়তে পাঠক যেন চিত্রটি একদম চোখের সামনে দেখতে পান। 

হাফিজের জন্য নৈবেদ্য নামক আখ্যানে উঠে এসেছে হাফিজ নামের এক চরিত্রের কথা, যিনি কোনো কাজ করেন না। তাকে যখন প্রশ্ন করা হলো, তখন তার কণ্ঠে একইসাথে উঠে আসে জাতির পিতার প্রতি সম্মান ও নিখাদ ভালোবাসা। ‘মুজিব ভাই বলে দিয়েছেন, তুই ভালো থাকবি’- কথাটি পড়তে পড়তে অকারণেই কেন যেন শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে আসে মাথা। 

আবার মুখোমুখি সৌমিত্র আখ্যানে আমরা পাই ভারতের প্রয়াত প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা। লেখকের যখন তার সাথে দেখা হয়, তখন তাদের মাঝে কথোপকথন এবং পারস্পরিক সম্মানের কথা উঠে এসেছে অকপটে। 

এমনই নানা আখ্যান উঠে এসেছে একটুখানি চাকরি নামক বইটিতে। রাজনৈতিক, সামাজিক নানা চিত্র ফুটে এসেছে বিভিন্ন আখ্যানে, অঙ্কিত হয়েছে নানা ঘটনাবহুল চরিত্র এবং লেখকের ব্যক্তিগত ইতিহাস। 

তরুণ প্রজন্মের কাছে সিভিল সার্ভিসের প্রতি একধরণের ভালোবাসা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জন্মাবে লেখকের এই অনবদ্য বইটি পড়লে। একইসাথে প্রতিকূল পরিস্থিতি কেমন করে প্রজ্ঞার সাথে মোকাবিলা করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, সেটিও এই বইটির চমৎকার উপজীব্য। 

ধ্রুব এষের মানানসই প্রচ্ছদে হোসেন আবদুল মান্নানের বইটি প্রকাশিত হয়েছে আগামী প্রকাশনী থেকে, মুদ্রিত মূল্য ৬০০ টাকা।


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৮:২৩ এএম, ০৮ মে, ২০২২


Thumbnail বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্ম বার্ষিকী

আজ (৮ মে) ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী। ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দের (৭ মে ১৮৬১ খিষ্টাব্দ) এ দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের অনন্য এ কবি।

কবিগুরুর ১৬১তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে জাতীয়ভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে তার স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে জাতীয়ভাবে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

২৫শে বৈশাখ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সাংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া  এবারের রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা।

কবিগুরুর সাহিত্য চর্চায় জীবনের বেশকিছু মূল্যবান সময় কেটেছে নিরিবিলি পরিবেশ, নিভৃত বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। এখানে বসে রচিত গীতাঞ্জলী কাব্যই রবীন্দ্রনাথকে এনে দিয়েছে নোবেল পুরষ্কার আর বিশ্বকবির মর্যাদা। এছাড়াও তিনি এখানে বসেই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতসহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্য রচনা করেছেন। কুঠিবাড়িতে সংরক্ষন আছে সেসব দিনের নানা স্মৃতি।

৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে তিনি ইংল্যান্ড যান। সেখানে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালের ভবতারিণীর সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী।

এর মধ্যেই চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্বকবি   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর   জন্মবার্ষিকী  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

‘বাঙালির আশীর্বাদ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশ: ০৪:১৭ পিএম, ০৭ মে, ২০২২


Thumbnail ‘বাঙালির আশীর্বাদ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

শনিবার(৭ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বাঙালির আশীর্বাদ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আসাদুজ্জামান নূর।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহ আজম শান্তনু, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ কেন্দ্রীয় সভাপতি লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আব্দুল মতিন ভূইয়া প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা মানবতার ধারক-বাহক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর চর্চা বাড়াতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শ বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ।

তিনি সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

‘বাঙালির আশীর্বাদ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা’   গ্রন্থ   মোড়ক উন্মোচন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন