লিট ইনসাইড

বিভিন্ন আখ্যানে অঙ্কিত 'একটুখানি চাকরি'

প্রকাশ: ০৫:০৪ পিএম, ০৮ মে, ২০২২


Thumbnail বিভিন্ন আখ্যানে অঙ্কিত 'একটুখানি চাকরি'

মেমোয়ার- কথাটি শুনলেই আমাদের মনে প্রথমেই চলে আসে জীবনালেখ্য। একজন মানুষের গোটা জীবনটাই চলে আসে সিনেমার রিলে কিংবা শব্দের বুনটে। তবে সিনেমার রিলে যেমন করে মূল গল্প থেকে কিছুটা সরে এসে সেখানে নানাভাবে রঙচঙ মাখানো হয়, তারচেয়ে বরং শব্দের বুনটটাই মেমোয়ারপ্রেমীদের কাছে বেশি প্রিয়। এতে লেখকের সাথে পাঠকেরা এক আত্মিক বন্ধনের যোগসূত্র খুঁজে পান, বাস্তবতার পরশ পান। 

একটুখানি চাকরি, নামটা শুনলে একটু ভ্রূ কুঁচকে ওঠাটাই স্বাভাবিক। পাঁড় পড়ুয়ারা হয়ত নাম শুনে হেঁকে বসতে পারেন, আরে ও তো চাকরি নিয়ে বই লেখা হয়েছে। এটা বরং যারা চাকরিপ্রত্যাশী তাদের হাতেই তুলে দেয়া হোক।

তবে তাদেরকে যখন বলা হবে এটি চাকরিপ্রত্যাশী তো বটেই, একইসাথে একজন লেখকের গোটা জীবনের স্পর্শ সুনিপুণ তুলির চমৎকার স্ট্রোকে ক্যানভাসে অঙ্কন করা হয়েছে, তারাও অবাক হতে বাধ্য হবেন বৈকি। 

বইয়ের পেছনের ফ্ল্যাপ থেকেই শিল্পীর পরিচয়ে আসা যাক- 

মো. আবদুল মান্নান মূলত একজন সিভিল সার্ভেন্ট। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভেন্ট প্রশাসন ক্যাডারের ৮ম ব্যাচের সাহসী, দক্ষ ও স্বনামধন্য কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর সুনাম ও খ্যাতি সর্বত্র। তিন দশকের অধিককালের সময়জুড়ে তার কর্মপরিধি বিস্তৃত। পরবর্তীতে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন তিনি। 

এটুকু পড়লে তার জীবনের কর্ম সম্পর্কে জানাটা পাঠকের কাছে অধরাই থেকে যায়। সেজন্য তাদেরকে হাতে তুলে নিতে হবে একটুখানি চাকরি নামের এই বইটি। 
পাঠকের কাছে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে পারে, বইটির নাম এমন কেন? তাছাড়া যদি মেমোয়ারই হয়ে থাকে, নামটি আরও শৈল্পিক হবার কথা ছিল না? লেখকের মুনশিয়ানা বোধহয় এখানেই। বইটি শুরু করলে পাঠকেরা বুঝতে পারবেন এরচেয়ে যৌক্তিক নামকরণ হওয়া বোধহয় আর সম্ভব ছিল না। 

একটুখানি চাকরি বইটিতে লেখকের চাকরি জীবনের শুরু থেকে নানা ঘটনার সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ, দেশের প্রতি মমত্ববোধ, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কর্তব্যপালন ইত্যাদি নানা গুণের সমাহার উঠে এসেছে জীবনের নানা গল্পের বাঁকে বাঁকে। আটপৌরে জীবনটিকেই অসামান্য সব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি করে তুলেছেন বর্ণিল। তাই বলে কি পরিবারের প্রতি তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি? একইসাথে কর্মজীবন, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবন কীভাবে আগলে রেখে জীবনটাকে ব্যালেন্স করে চলা যায়, তার চমৎকার এবং জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছেন হোসেন আবদুল মান্নান। তার লেখা বইতে উঠে আসে সত্তর, আশি, নব্বইয়ের দশকের নানা উদাহরণ, নানা চরিত্র, নানা আখ্যান। পড়তে পড়তে পাঠক হিসেবে আমরা তন্ময় হয়ে যাই। 

বিপন্ন বিস্ময় নামক আখ্যানে আমরা দেখতে পাই লেখক পরিচিত হচ্ছে ব্রজেন দাসের সামনে, যিনি সর্বপ্রথম ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছিলেন। সে কথাটি অকপটে তার লেখনীতে উঠে এসেছে। নিখাদ বিস্ময় তো ছিলই, কিন্তু সেখানে কোনো বাড়তি মেদ ছিল না। পড়তে পড়তে পাঠক যেন চিত্রটি একদম চোখের সামনে দেখতে পান। 

হাফিজের জন্য নৈবেদ্য নামক আখ্যানে উঠে এসেছে হাফিজ নামের এক চরিত্রের কথা, যিনি কোনো কাজ করেন না। তাকে যখন প্রশ্ন করা হলো, তখন তার কণ্ঠে একইসাথে উঠে আসে জাতির পিতার প্রতি সম্মান ও নিখাদ ভালোবাসা। ‘মুজিব ভাই বলে দিয়েছেন, তুই ভালো থাকবি’- কথাটি পড়তে পড়তে অকারণেই কেন যেন শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে আসে মাথা। 

আবার মুখোমুখি সৌমিত্র আখ্যানে আমরা পাই ভারতের প্রয়াত প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা। লেখকের যখন তার সাথে দেখা হয়, তখন তাদের মাঝে কথোপকথন এবং পারস্পরিক সম্মানের কথা উঠে এসেছে অকপটে। 

এমনই নানা আখ্যান উঠে এসেছে একটুখানি চাকরি নামক বইটিতে। রাজনৈতিক, সামাজিক নানা চিত্র ফুটে এসেছে বিভিন্ন আখ্যানে, অঙ্কিত হয়েছে নানা ঘটনাবহুল চরিত্র এবং লেখকের ব্যক্তিগত ইতিহাস। 

তরুণ প্রজন্মের কাছে সিভিল সার্ভিসের প্রতি একধরণের ভালোবাসা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জন্মাবে লেখকের এই অনবদ্য বইটি পড়লে। একইসাথে প্রতিকূল পরিস্থিতি কেমন করে প্রজ্ঞার সাথে মোকাবিলা করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, সেটিও এই বইটির চমৎকার উপজীব্য। 

ধ্রুব এষের মানানসই প্রচ্ছদে হোসেন আবদুল মান্নানের বইটি প্রকাশিত হয়েছে আগামী প্রকাশনী থেকে, মুদ্রিত মূল্য ৬০০ টাকা।


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

যুব নেতৃত্ব সম্মাননায় ভূষিত আলতামিশ নাবিল

প্রকাশ: ০৪:৫৬ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail যুব নেতৃত্ব সম্মাননায় ভূষিত আলতামিশ নাবিল

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের রয়্যাল থাই আর্মি ক্লাবে অনুষ্ঠিত-২০২২ গ্লোবাল ইয়্যুথ লিডারশিপ সামিট-এর ‘গ্লোবাল ইয়্যুথ লিডার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন লেখক, সমাজকর্মী ও টেক ইভানজেলিস্ট মুহাম্মাদ আলতামিশ নাবিল। 

গত ২৪ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া এ সামিটে অংশ নেয় বিশটির অধিক দেশ থেকে তরুণ নেতারা। সামিটটি আয়োজন করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ইয়্যুথ পার্লামেন্ট এবং ইউনাইটেড ন্যাশনস পিসকিপারস ফেডারেল কাউন্সিল। বাংলাদেশের যুবদের দক্ষতাবৃদ্ধিতে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ নাবিলকে এই অবদানে ভূষিত করা হয়।

পুরস্কার প্রসঙ্গে আলতামিশ নাবিল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিসরে অর্জিত জীবনের সকল স্বীকৃতিই ভীষণ অনুপ্রেরণার। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিটি সামনের দিনে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে মাথায় রেখে যুবদের দক্ষতাবৃদ্ধি এবং সমাজের নানা অসুবিধা-অসংগতি নিয়ে কাজ করতে উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে।’

আলতামিশ নাবিল নিয়মিত লেখালেখি ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি ম্যানেজড সার্ভিসের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মিয়াকি নামের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে। এরই সাথে তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই)-এর ঢাকা ওয়েস্ট শাখার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠা করেছেন বি. পজিটিভ ফাউন্ডেশন নামের একটি সামাজিক উদ্যোগ। 

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা বেশকিছু বই। পাশাপাশি পার্সোনাল ব্র‍্যান্ডিং, কন্টেন্ট রাইটিং, অ্যাপ্লিকেশন মনিটাইজেশন সহ নানা যুগোপযোগী বিষয়ে সারাদেশে যুবদের জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন নানা কর্মশালা।

গ্লোবাল ইয়্যুথ লিডারশিপ সামিট  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

পদ্মা সেতু

প্রকাশ: ১১:১৩ এএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail পদ্মা সেতু

আমি আজ এসেছি ওই জেদি মেয়েটির কথা বলতে-
আমি এসেছি রাত্রিজাগা ওই বহ্নিশিখার কথা বলতে,

তাঁকে দাবিয়ে রাখা যায়নি
দাবিয়ে রাখা যাবে না ভবিষ্যতে।

আমি এসেছি স্পষ্টভাষী একেলা চলা ওই সাহসী মেয়েটির কথা বলতে-
বজ্রের মতো কঠোর ফুলের মতো কোমল,
দহন তেজে রুখেছে অপরাধীর ভয়াল ছোবল।

আমি আজ এসেছি আশৈশব তুখোড় সতত ওই বালিকার কথা বলতে- 
বাংলার মাঠে বাংলার ঘাটে ছুটেছে রৌদ্রদুপুর, 
শক্ত পায়ে কাঁঠালে-পলাশে হেঁটেছে বহুদূর। 
আমি আজ এসেছি তেজি একরোখা 
দূরদর্শিনী ওই বুদ্ধিমতীর কথা বলতে
আগলে রেখেছে বাঙালির সম্মান অহংকার, 
কখনোই ভয় করেনি কোনো কিছু হারাবার।

আমি আজ এসেছি,
পাহাড়সম দৃঢ়তা আর আকাশচুম্বী ওই দেশপ্রেমিকের কথা বলতে-
খুঁজে ফেরে জায়নামাজ নির্ঘুম রাতের কিনারে,
বেদনার তসবি জপে ফরিয়াদ খোদার দরবারে।

সীতারামের চোখের জল ঝরে যায় মরে যাওয়ার শর্তে-
ওই জেদি মেয়েটি স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে।

দেশ-বিদেশ সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে, 
মৃত্যুর সাথে কত শতবার পাঞ্জা লড়ে, 
এক লাখ চল্লিশ হাজার ঘনমিটার পানির তলে-
একটির পর আরেকটি পাইল ফেলে ফেলে, 
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চৌদ্দটি মেধার প্রয়োগ বলে, 
মিথ্যে গুজব নিন্দুক দৃষ্টি যত অপচেষ্টা অনাসৃষ্টি, 
ভেসে গেছে আজ পদ্মার বানের জলে। 
সকল বাধাবিপত্তি মাড়িয়ে-বিশ্বব্যাংক ছাড়িয়ে, 
নিজেদের অর্থায়নে ওই জেদি মেয়েটির নেতৃত্বে-
পদ্মা সেতু-আজ দৃশ্যমান।

বিশ্ব আজ আছে মুখিয়ে
আছে সম্মানের হাত বাড়িয়ে
ভারত বলে দশভুজা 
ইউনেস্কো বলে শান্তিবৃক্ষ
বিশ্ব মঞ্চের অনিন্দ্য এক কণ্ঠ।

আমি আজ বলতে এসেছি অবিরত বলতে চাই-
বিশ্বের বিস্ময় ওই জাদুকরের নাম 
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সুনাম।


পদ্মা সেতু  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

চোখের জলে এ্যালকোহল

প্রকাশ: ০৮:১৬ পিএম, ২১ Jun, ২০২২


Thumbnail চোখের জলে এ্যালকোহল

শাহাবুদ্দীন জনি

কই সব সময়তো চোখ দিয়ে পানি আসে না,
খুব কষ্ট হয় চোখ ভারী হতে
আক্ষেপ, হতাশা, বিষণ্ণতা, যান্ত্রিকতা আঁকড়ে ধরতে ধরতে মন পিষে ফেলে।
মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়,
ফিলিংস তার অটোমেটেড যন্ত্রকে না করে দেয়,
ইনপুট আউটপুট দিও না।

কাজের প্রেশারে বুকে চাপা কষ্ট জমা নেয়
কাঁদতে চাইলেও জল আসে না, মন হালকা হয় না।
কে? রাঁধা কষ্ট মেটাবে? সে তো কলঙ্কিনী রাধা!
মৌসুমী পাখির মত এক জায়গায়
থাকতে পারে না, শুইতে পারে না, ঘুমোতে পারে না।
সিজনে সিজনে ডাল চেঞ্জ করে দেশ থেকে দেশান্তর।

বাসায় বুকের চাপ নিয়েই ঘুমাতে হয়,
তবে আক্ষেপে মন ভার থেকেই যায়, চোখের জল বুকে জমতে থাকে।
সীমাহীন ধৈর্য বাঁধ ভেঙ্গে
জল ফেলতে মদের টেবিলে আসতে হয়।
চোখের জল ফেলতে গিয়ে কখনও কাঁদি, হাসি, চিল্লাই, উচ্চস্বরে রাজনৈতিক আলাপ পারি।
এই ভিড়ে আমি একা না হাজারো লোক আছে, ভিন্নও আছে।
কেউ এসব দেখে, হাসে, নাচে, ঠাট্টা করে।

তবে এ এমনই একটা বাস্তুসংস্থান,
ঘুরেফিরে চোখের জল ফেলতেই হবে।
প্রকৃতি থেকে যা নেবে তা ফেরত দিতে হবে বস,
এটাই নিয়ম!
সব সময় আঁখি ভরা জল আসে না,
বুক ফেটে আর্তনাদ ভরা চিৎকারও আসে।
লোকে তখন বলে নিজেই টাল অবস্থায় পাগল, পাগল বাদ দে।


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১০:২৩ এএম, ২০ Jun, ২০২২


Thumbnail কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ

দেশে ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ মহীয়সী নারী কবি সুফিয়া কামালের ১১১তম জন্মবার্ষিকী আজ (সোমবার)। ‘জননী সাহসিকা’ হিসেবে খ্যাত এই কবি ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। সুফিয়া কামাল আজীবন মুক্তবুদ্ধির চর্চার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিপক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় মারা যান।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের নারী সমাজের এক ও অনুকরণীয় উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তিনি নারী সমাজকে কুসংস্কার আর অবরোধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নারীদের সংগঠিত করে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশাত্মবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামসহ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি তাকে জনগণের ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেছে। তার স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ‘বেগম সুফিয়া কামাল হল’ নির্মাণ করে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সোমবার (২০ জুন) বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারকবত্তৃতা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ‘সুফিয়া কামাল ও নারীবাদী আন্দোলন’ শীর্ষক স্মারকে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন। কবি সুফিয়া কামাল সম্মাননা দেওয়া হবে বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ইফফাত আরা দেওয়ানকে।

বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সুফিয়া কামালের ছিল আপসহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে তার প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরি তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ। সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

কবি   সুফিয়া কামাল   জন্মবার্ষিকী  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন ফরিদুর রেজা সাগর

প্রকাশ: ০৮:৩১ পিএম, ১৬ Jun, ২০২২


Thumbnail চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন ফরিদুর রেজা সাগর

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিনী বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা কণা রেজা।

বিমানবন্দরে ফরিদুর রেজা সাগরকে স্বাগত জানান চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। সে সময় ফরিদুর রেজা সাগরের ছোটভাই স্থপতি ফরহাদ রেজা প্রবালসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অসুস্থতার সময় তার সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করায় সকল গণমাধ্যম কর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি ফরিদুর রেজা সাগর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

একুশে পদকে ভূষিত শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর চিকিৎসাকালীন সময় বেশকিছু গল্প-উপন্যাস লিখেছেন। শীঘ্রই তিনি চ্যানেল আইয়ে তার নিয়মিত কার্যক্রমও শুরু করবেন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন