লিট ইনসাইড

এক পলকে একটু দেখা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৩৬ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১


Thumbnail

দেশে ফিরতেই চারিদিক থেকে বায়ুর চাপের মতনই চাপ ভর করতে লাগল পলনের  উপর।এই চাপ দূর করার মন্ত্র জানা বাল্যকালের সুখ দুঃখের বন্ধু দিবাকরের বাসার দিকে ছুটল পলেন।
পারিবারিক চাপের বর্ণনা শেষ করে বলল,এবার বল তো কি করি? এ বছর বিয়া করার চিন্তা করে দেশে আসি নাই,বুঝলি?
দিবাকর বলল-তো সমস্যা  কি?সবাইকে নিয়ে মিটিং করে তোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে  দে।
সে করার আর সময় কই?মনে হয় আমার দিদিমা কিছুদিনের মধ্যেই মারা যাবেন!মুখের কোনরূপ পরিবর্তন ছাড়াই বলল পলেন।
মানে কি? কি হইছে উনার?
বিয়া খাওয়ার রোগ হইছে মনে হয়!বলে কিনা নাতী বউ না দেখে মরলে নাকি শান্তি  পাইবে না।
ও,এই রোগ সব দিদিমা-দাদু,ঠাকুরমা-ঠাকুর দাদারই আছে।এর নাম হল`ব্লাক মেইল"রোগ!নাতি-নাতনীদের বিয়ের বয়স হইলেই এই রোগ তাদের ঘাড়ে ভর করে।বুঝলি?লম্বা এক সান্ত্বনার বানী শোনালো দিবাকর।
ঘটনা সত্য! দিবাকরকে সাপোর্ট দিল পলেন।শুনছি আমার বাবার দিদিমাও এই বইল্যা আমার বাবারে বিয়েতে রাজী করাইছিল।এরে কয় রাজ কপাল!
তবে কি করবি?আমার বন্ধু মোহননের একটা বোন আছে,যাবি নাকি দেখতে?
তোর কি মনে হয় এমনিই ঘর থেকে বের হইছিনি?তবে আগে থেকে বলিস না কিছু।ভয় পাই,বুঝলি?বলেই হেসে ফেলল পলেন।
 বাসা থেকে বের হতেই কোথা থেকে একটা শাটল উড়ে এসে পলেনের মাথায় পড়ল।আরে...এটা আবার কে মারল রে?মাটি থেকে শাটল তুলে নিল পলেন।
শাটলটা দেখেই দিবাকর তাকালো ছাঁদের দিকে।দিবাকরদের বাড়িটা দুইতলা।শাটলটা যে ছাঁদ থেকে এসেছে,সেটা বুজতে বাকি রইলনা।শাটলটা হাতে নিতেই উপর থেকে কেউ বলল,দাদা শাটলটা দিয়ে যা!
পলেন ছাঁদের দিকে তাকালো।একটা  মুখ দেখতে পেল।দুই হাতে রেলিং ধরে নিচের দিকে ঝুঁকে আছে মেয়েটা।
দিবাকর বলল,নিচে এসে নিয়ে যা।আমি বের হচ্ছি।শাটলটা নিচে রেখে বলল,এ হচ্ছে আমার বোন দেবযানী।তোর মনে নেই ওর কথা,মেয়েরা হঠাৎ বড় হয়ে যায়।আমার সাত বছরের ছোট। চল।এদিকে আবার দেরি হয়ে যাবে।
দিবাকর কথা বলার আগেই চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিল পলেন।কিন্তু তখন বুঝতে পারেনি আঘাতকারী তারই বন্ধুর একমাত্র বোন।দেবযানীর সুন্দর মুখটা দ্বিতীয়বার দেখার ইচ্ছা হলেও তাকানোর সাহস হল না।
মোহনদের বাড়ি থেকে ফিরতে বেশ দেরিই হল।দিবাকর আরো দুইটা মেয়ের সংবাদ দিবে,তাই আপাততঃ চুপ থাকাই উত্তম ভেবে বাড়িতে পাত্রী  দেখার বিষয়টা চেপে গেল।
এই যে শুনছেন?মেয়েলি কন্ঠ শুনে পিছনে তাকালো পলেন।হাত দুটো পিছনের দিকে নিয়ে আর্মিদের মত দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি।
অবশ্যই শুনছি।আমি কালা নই,বুঝেছেন?
সে ভগবানের অশেষ দয়া আপনার উপর।মেয়েটি বলল।
মনে করিয়ে দেবার জন্য বুঝি ভগবান আপনাকে নিচে পাঠিয়েছেন?প্রশ্ন করল পলেন।
ভগবানের কি আর কোন কাজ নেই নাকি?
ও আচ্ছা,যখন ভগবানের কোন মাথা ব্যথা নেই আমাকে নিয়ে,তখন আপনার কি এত দরদ যে,আপনি আসমান থেকে নেমে এলেন?দুই হাত বুকের কাছে আড়াআড়ি রেখে প্রশ্ন করল পলেন।
মেয়েটি এতটুকুও রাগল না।কথায় হেরে গেলে মেয়েরা রেগে যায় আর সত্য কথা যত দ্রুত বলেই বিদায় হয়।কিন্তু এর বেলায় বিপরীত ই মনে হল।
জ্বি না,আমি আসমান থেকে আসিনি!ওই বাড়ির ছাঁদ থেকে নেমে এসেছি।চোখের ইশারায়  দুইতালা বাড়ির দিকে দেখাল।
খুব চেনা মনে হল বাড়িটা।
চিনতে পারেন নি তো?বাম হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,আমার শাটল দিন!
মেয়েটাকে কেমন যেন মনে হতে লাগল!
কি হল?চিনতে পারছেন না?তখন তো ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিলেন।মনে হয়েছিল,শাটল না হয়ে যদি ক্রিকেটের বল হত,বেশ হত!অদ্ভুত ভঙ্গিতে বলল মেয়েটা।
ও,আচ্ছা এবার চিনেছি,তারমানে তুমি দিবাকরের বোন,তাই না?
জ্বি,না,দিবাকর আমার দাদা।বুঝলেন?
হা হা হা শব্দে হেসে উঠল পলেন।তুমি দেবযানী,এটাই সত্যি।
সে যে ই হই,বলব কেন?
তা ঠিক।আমি ড্যাবড্যাব করে তাকাইনি,এটাও সত্যি।
তাকিয়েছেন,আর দ্বিতীয়বার ও তাকাতে চেয়েছিলেন।
দেখ,দেবযানী, আমি হিসেব করেই বলে দিতে পারব,কত সেকেন্ড তাকিয়ে ছিলাম,বুঝেছ?
ও,তাই নাকি?তাহলে বলে ফেলুন।
২৪ সেকেন্ড এর বেশি তো নয়-ই!
প্রমাণ দিন,আপনি সত্য বলেছেন!
দেখ দেবযানী, আমরা যখন কোন কিছু দেখি,তখন একটানা ২৪ সেকেন্ডের বেশি দেখি না।২৪ সেকেন্ড  =১ পলক।কি বুঝলে?
দেবযানীর মুখে অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল।ডান হাতটা সামনে নিয়ে এল।হাতে পানির বোতল দেখতে পেল।দেবযানী  যত্ন করে বোতল টা খুলে ডান হাতের তালুতে পানি ঢেলে পলেনের উপর ছিটিয়ে দিল ভু...ল...ভু...ল...ভু...ল...বলেই দৌঁড়ে পালিয়ে গেল।
পানির ঝাপটা পরতেই পলেনের ঘুম ভেঙ্গে গেল!বাইরে দারুণ বৃষ্টি হচ্ছে।জানালা দিয়ে বৃষ্টির ঝাপটা আসছে।
সকালে দিবাকরকে ফোন দিল পলেন।
কিরে রাতে কি ঘুম হয়নি?
হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করল দিবাকর।
ঘুম তো হইছে রে দোস্ত,কিন্তু মাঝরাতের বৃষ্টি ঘুম কাইরা নিছে!পাল্টা হাসিতে উত্তর  দিল পলেন।
তবে,পাত্রী দেখা শেষ?কাজ হইছে মনে হচ্ছে!
হুম,তা বলতে পারিস এক প্রকার শেষ-ই।আমার পরিবারকে তোর বাড়িতেই পাঠাবো ভাবছি।
মানে কি রে?দিবাকর অবাক হল।
মানে হল,গতকাল শাটলের যে আঘাত পাইছি,সেটা মনে ওই খেলোয়াড় ই সাড়াতে পারবে!দোস্ত তুই ভরসা....
দেবযানীর কথা বলছিস?আমার বোন অনেক চঞ্চল, জেদী আর অভিমানীরে!দেখলি না,তোর মাথায় শাটল লেগেছে,অথচ সরি পর্যন্ত  বলল না।
তুই রাজী কি না বল?পলেনের কন্ঠে উৎকন্ঠা ধরা পরল।
তুই আসবি না?
না,আমার দেখা শেষ!যা করার তোরা করবি।শুভ দৃষ্টিতে দেবযানীর সাথে দেখা হবে আমার।
বোনটাকে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম রে।তোর হাতে দিতে পারব সেটা ভাবিনি।ওকে,পাঠিয়ে দে তো পরিবারকে।শুভকামনা রইল!
শুভদৃষ্টি শুভই হলো।দেবযানীকে মনে হল যেন স্বর্গের দেবী।যতটা কল্পনায় ছিল,তার চেয়ে ও সুন্দরী।সুন্দরী মেয়েরা জেদী আর  অভিমানী না হলে সৃষ্টির মধ্যে বুঝি অপূর্ণতা থেকে যেত।
বাসর ঘরটা দারুণ সাজিয়েছে!দেবযানী খাটের উপর বসা ছিল।পলেনকে ঘরে ঢুকতে দেখেই খাট থেকে নেমে টেবিল থেকে লাল কাপড়ে ঢাকা একটা ট্রে এনে বিছানার উপর রাখল দেবযানী।
লাল কাপড়টা সরিয়ে নিতেই চোখ কপালে উঠে গেল পলেনের।দুটো র্যাকেট আর একটা শাটল রাখা।হায়রে সাধের বাসর!শেষে কিনা ব্যাট মিন্টন খেলেই রাত পার করতে হবে!মনে পরল- দেবযানী বড্ড জেদী আর অভিমানী!কাজেই স্মরণীয় সুন্দর রাতে এমন সুন্দরী বউকে না রাগানোই মঙ্গল!
পলেন হাত বাড়িয়ে র্যাকেটটা তুলে নিতেই দেবযানীর মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।



মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

বাণিজ্য মেলা বন্ধ এবং বই মেলা পেছানোর সুপারিশ

প্রকাশ: ০৫:৫৮ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনাভাইরাসের প্রকোপ  দিন দিন বেড়ে যাওয়ার ফলে সংক্রমণ ঠেকাতে বাণিজ্য মেলা বন্ধের সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। একইসঙ্গে আসন্ন বইমেলাও আরো পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সরকারকে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে আরও কঠোর হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি)  কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনাভাইরাস   বাণিজ্য মেলা   বই মেলা  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

মাইকেল মধুসূদন দত্তের আজ ১৯৮ তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

অমিত্রাক্ষর  ছন্দের জনক মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকি আজ। এই মহা কবি ১৮২৪ সালের আজকের এ দিনে তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী এবং পিতা জমিদার রাজ নারায়ণ । তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।

মধুসূদন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তার কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।  

তাঁর মায়ের হাত ধরেই তা শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। এরপর ছোটবেলায় নিজ গ্রামের এক পাঠশালায় মাওলানা লুৎফর রহমানের কাছে শিশু মধুসূদন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পাশাপাশি গৃহশিক্ষক হরলাল রায়ের কাছে বাংলা ও ফারসি ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন তিনি। আর জাহ্নবী দেবীই শিশু মধুসূদনকে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে পরিচিত করে তোলেন। সাগরদাঁড়িতে বাল্যকাল অতিবাহিত করে ১৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় যান। কৃতী ছাত্র হিসাবে তার সুনাম ছিল। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি নারী শিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে স্বর্ণ পদক লাভ করেছিলেন।

মধুসূদন মহাকবি হওয়ার স্বপ্নে বিলেত যাওয়ার সুবিধার জন্য ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। এতে তাকে ত্যাজ্যপুত্র করা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় ছদ্মনামে কবিতা লিখতে থাকেন। কয়েকটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ও সম্পাদকীয় বিভাগেও কাজ করেন। একই বছর বিয়ে করেন রেবেকা ম্যাকটাভিসকে। তাকে হিন্দু কলেজ থেকে বিতাড়িত করা হয়। পরে তিনি শিবপুরের বিশপ কলেজে ভর্তি হন। 

মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা এবং বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের পথিকৃৎ। নাটক, প্রহসন, মহাকাব্য, পত্রকাব্য, সনেট, ট্র্যাজেডিসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অমর সৃষ্টি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উন্নত মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করার পর তার নামের সঙ্গে 'মাইকেল' যুক্ত হয়। তিনি ‘পদ্মাবতী’ নাটক, ‘তিলোত্তমাসম্বব কাব্য’, ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামে দুটি প্রহসন, ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক, ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য ও চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক তিনি। 

তার মেঘনাদবধ কাব্য রামায়ণের পৌরাণিক কাহিনী থেকে সংগৃহীত হলেও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যের ভাবনার সংমিশ্রণে মধুসূদনের এ এক অপরূপ সৃষ্টি।

শেষ জীবনে অর্থাভাব, ঋণগ্রস্থ ও অসুস্থতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন দূর্বিষহ উঠেছিল। এরপর সকল চাওয়া পাওয়াসহ সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় তিনি মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মহাকবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন ১৫ জন

প্রকাশ: ০৭:২৭ পিএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

২০২১ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ১১ বিভাগে ১৫ গুণীজনকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

আজ রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- কবিতায় আসাদ মান্নান ও বিমল গুহ, কথাসাহিত্যে ঝর্না রহমান ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধ বা গবেষণায় হোসেনউদ্দীন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান ও রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধু-বিষয়ক গবেষণায় হারুন-অর-রশিদ, বিজ্ঞান বা কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনিতে সুফিয়া খাতুন ও হায়দার আকবর খান রনো এবং ফোকলোর বিভাগে আমিনুর রহমান সুলতান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করবেন।’

বাংলা একাডেমি   সাহিত্য পুরস্কার  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

১১ পাঠাগারে ৫ শতাধিক বই উপহার রিভার বাংলার

প্রকাশ: ০৬:০৪ পিএম, ২২ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নদী বিষয়ক সংগঠন ‘রিভার বাংলা’ পাঁচ শতাধিক বই উপহার দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের ১১টি পাঠাগারে। আজ শনিবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বইগুলো তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, লেখক-গবেষক মু আ লতিফ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ এ কে এম নূরুন্নবী বাদল।

কবি আমিনুল ইসলাম সেলিমের সঞ্চালনায় রিভার বাংলার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে জেলার ১১টি পাঠাগারের প্রতিনিধিদের হাতে পাঁচ শতাধিক বই হস্তান্তর করা হয়।

উপহার পাওয়া পাঠাগার হচ্ছে—জেলা পাবলিক লাইব্রেরি, হাজী আব্দুল খালেক স্মৃতি পাঠাগার, অ্যাডভোকেট শেখ নূরুন্নবী বাদল পাঠাগার ও সংগ্রহশালা বাজিতপুর, মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার, বাতিঘর পাঠাগার, কবি আইয়ূব বিন হায়দার পাঠাগার, জ্ঞানতীর্থ পাঠাগার, বাদশাহ ভূঁইয়া স্মৃতি পাঠাগার, জিয়াউল হক বাতেন পাঠাগার, কবি নূরে মালেক স্মৃতি গ্রন্থাগার এবং সুলতানপুর নূরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা পাঠাগার।

রিভার বাংলার সমন্বয়ক ও লেখক ফয়সাল আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সহ-সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. নিজাম উদ্দিন, জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মন, কবি নূরে মালেক স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শ্রমিক নেতা আবদুর রহমান রুমী, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

বই উপহার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক, কবি, সাহিত্যিক, বইপ্রেমী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

রিভার বাংলা   বই-উপহার  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

প্রখ্যাত নাট্যকার সাঈদ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২১ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নাট্য জগতের বিখ্যাত নাট্যকার সাঈদ আহমদের আজ ২২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার ল্যাব-এইড হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মারা যাওয়া পূর্বে তিনি কিছুদিন বিবিধ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগেছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁকে আজিমপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নাট্যকার সাঈদ আহমদ ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি  পুরান ঢাকার ইসলামপুরের এক সম্ভ্রান্ত শিল্প-সংস্কৃতিকমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মীর্জা এফ মোহাম্মদ ও মা জামিলা খাতুন দুজনেই সংস্কৃতি আমোদে মানুষ ছিলেন।  ভাইদের মধ্যে সাঈদ আহমদ ছিলেন কনিষ্ঠ ।

সাঈদ আহমদে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং ১৯৪৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে ব্রিটেনে যান। সেখানে তিনি ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি লাভ করেন। জীবিকাসূত্রে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য ছিলেন।

তিনি নাটকের জন্য সমধিক পরিচিত হলেও শৈশব ও কৈশোরে এমনকি প্রথম যৌবনেও অসম্ভব টান ছিল তার সঙ্গীতের প্রতি। আবৃত্তি আর গান মিলে ছিল তার ছেলেবেলা। ১৯৫১ সালে তিনি সাঈদ আহমদ অ্যান্ড পার্টি নামে পাশ্চাত্যের ধাঁচে একটি সঙ্গীতের দল গড়ে তোলেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে প্রথম ইলেকট্রিক গিটার ব্যবহার শুরু করেনে এবং খুব ভালো সেতার বাজাতে পারতেন। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত রেডিও পাকিস্তানে সেতার ও অর্কেস্ট্রা বাদন পরিবেশন করেন এবং ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত তিনি বিবিসির সাথে জড়িত ছিলেন।

১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৭৬ সালে সূফী মোতাহার হোসেন পুরস্কার সহ মুনীর চৌধুরীর সম্মাননা, ঋষিজ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর এই সম্মানে  ১৯৭৬ সালে ওয়াশিংটন ডিসির প্রখ্যাত নাট্যশালা এরিনা স্টেজের দর্শকের আসনের একটি সারি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়। তাঁর নাটক ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষাতেও অনুদিত হয়েছে।

তাঁর অন্যান্য বইয়ের মধ্যে 'ফাইভ পেইন্টার অব বাংলাদেশ', 'কনটেম্পোরারি আর্ট', 'কনটেম্পোরারি গ্রাফিক আর্টস অব বাংলাদেশ', 'বাংলাদেশের সুরস্রষ্টারা' উল্লেখযোগ্য।

নাট্যকার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন