ইনসাইড পলিটিক্স

এবার ‘পদ্মাকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত হলেন শেখ হাসিনা

প্রকাশ: ০৯:০১ পিএম, ২৩ জুন, ২০২২


Thumbnail এবার ‘পদ্মাকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত হলেন শেখ হাসিনা

এবার ‘পদ্মাকন্যা’ উপাধি পেলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি দেশরত্ন, জননেত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি এবং কওমি জননী উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় বিষয়টি উঠে আসে।

সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সভার সভাপতিত্ব করেন। আর দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ গণভবন থেকে সভা সঞ্চালনা করেন।

আলোচনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘‘আপা, গতকাল আমরা কয়েকজন গিয়েছিলাম। পদ্মা আপনার জন্য অধীর আগ্রহে আছে। পদ্মাপারের লাখো কোটি মানুষ সাহসী ও সাহসিকতার জননী ‘পদ্মাকন্যা শেখ হাসিনাকে’ এক নজর দেখার জন্য অপেক্ষা করে আছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় নেত্রী আপনি ধারণাই করতে পারবেন না। ওখানে শুধু মানুষের সমাবেশ হবে না, ওখানে উৎসবের সমাবেশ হবে। ওখানে আনন্দের জোয়ারে নতুন পদ্মা সৃষ্টি হবে, সেই অপেক্ষায় আছে মানুষ।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন (রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র), মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কেন্দ্রীয় সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমেদ মান্নাফী।

পদ্মাকন্যা   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তৃতীয়বার সাধারণ সম্পাদক না রাষ্ট্রপতি?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail তৃতীয়বার সাধারণ সম্পাদক না রাষ্ট্রপতি?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের এখন দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। একই সাথে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক, অন্যদিকে সেতুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী এক বছর তার জন্য তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই কাউন্সিল অধিবেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। তারে তৃতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক করার ক্ষেত্রে অনেকেই আগ্রহী এবং ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ বলছেন যে, এই মুহূর্তে দলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ওবায়দুল কাদেরের কোনো বিকল্প নেই। আর এই বিবেচনা থেকেই তৃতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য তিনি অন্যতম দাবিদারও বটে। কিন্তু তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ সম্পাদক না, ওবায়দুল কাদের আগামী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে তারা বলছেন যে, ওবায়দুল কাদেরের পরিবার থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তিনি আগামী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী এপ্রিলে। ফেব্রুয়ারি মাসেই আওয়ামী লীগ সরকারকে একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া তাতে আওয়ামী লীগ যাকে মনোনীত করবে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে অভিষিক্ত হবেন। আর সেই বিবেচনা থেকে আওয়ামী লীগের মধ্যে আগামী রাষ্ট্রপতি ভাবনা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কে রাষ্ট্রপতি হবেন, তা নিয়ে বিভিন্নমুখী আলাপ-আলোচনা চলছে। অনেক নাম উঠে এসেছে। তবে ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকার একাধিক নেতা বলেছেন যে, ওবায়দুল কাদের রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদেরের পরিবার তাদেরকে জানিয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে তাদের আগামীতে রাষ্ট্রপতি হবেন এবং তার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তার সহধর্মিণী। কিন্তু এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনেকেই মনে করছেন যে, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কাকে করা হবে এটি প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বিষয় এবং আগামী নির্বাচন হবে নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে। কাজেই রাষ্ট্রপতির পদটি নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে শেখ হাসিনা অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করবেন। বিশেষ করে তার জাতীয়-আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা। সেই বিবেচনা থেকে ওবায়দুল কাদের রাষ্ট্রপতি হতে পারেন কিনা বা তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, এ নিয়ে নানারকম আলাপ-আলোচনা আছে, নানা রকম বিতর্ক আছে।

কিন্তু রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য তাকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তার আগেই আগামী ডিসেম্বরে দলের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই কাউন্সিল অধিবেশনে দিকেই ওবায়দুল কাদেরের সমর্থকদের বেশি আগ্রহ। ওবায়দুল কাদেরের একনিষ্ঠ যারা সমর্থক এবং কর্মী তারা রাষ্ট্রপতির চেয়ে আওয়ামী লীগের আগামী কাউন্সিলে তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ব্যাপারেই আগ্রহ বেশি। ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ একজন রাজনৈতিক নেতা বলেছেন যে, তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া একটি দুর্লভ ব্যাপার এবং এই মুহূর্তে ওবায়দুল কাদেরেরই সাধারণ সম্পাদক হওয়া উচিত। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি নিয়েও নানা রকম মেরুকরণ আছে, নির্বাচনের আগে এই পদটিও আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় আসতে চায় তাহলে সংগঠনকে শক্তিশালী, গতিশীল করতে হবে। সেক্ষেত্রে একজন সার্বক্ষণিক কর্মঠ সাধারণ সম্পাদক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু মিলিয়ে ওবায়দুল কাদের কি আগামী কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবেন নাকি ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি হবে নাকি তিনি দুটোর কিছুই হবে না, সেই প্রশ্নই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমীকরণের সৃষ্টি করেছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বাড়াবাড়ি কইরেন না, মা বইলা গো কওয়ার সুযোগ পাবেন না: শামীম ওসমান

প্রকাশ: ০৮:১৫ পিএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাড়াবাড়ি কইরেন না, মা বইলা গো কওয়ার সুযোগ পাবেন না: শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ‘কিছু ক্ষয় হবে। কিছু শামীম ওসমানের মরদেহ দাফন হবে। কিছু বড় ধরনের ঘটনা ঘটবে। এরপরও ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন। এতটুকু খবর রেখে রাজনীতি করি। বাড়াবাড়ি কইরেন না, মা বইলা গো কওয়ার সুযোগ পাবেন না।’

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ডিআইটি মাঠে শোক দিবসের আলোচনা সভায় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এসব কথা বলেন। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শামীম ওসমান বলেন, লেভেল ক্রস করবেন না। সবাই বুঝেন আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনি। এজন্য নারায়ণগঞ্জকে ঠান্ডা রাখি। এবার কিন্তু উনার কথা শুনবো না। যে ভাষায় তুমি খেলবা, আমরা সে ভাষায় খেলবো এবং জিতবো আমরা। যত ইচ্ছা খেলো। শয়তান কখনো আল্লাহর সঙ্গে জিতে না। সে শুধু শয়তানি করতে পারে। শেখ হাসিনার ওপর আল্লাহর রহমত আছে। লন্ডনে বসে পরামর্শ দেন। কিন্তু মা মরে মরে অবস্থা মায়ের জন্য আসেন না আপনি। আপনি দেশের জন্য কেমনে করবেন?

তিনি আরও বলেন, রাজপথ শেখ হাসিনার দখলেই থাকবে। আমাদের শরীরের রক্ত টগবগ করে। যারা যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছেন তাদের দায়িত্ব শেষ। শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের সম্পদ না, তিনি আগামী দিনের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ। তাকে আঘাত করলে এ দেশ এমন জায়গায় যাবে যেখান থেকে আমরা আদৌ উঠে আসতে পারবো কি-না জানি না। এ সংকটে তারা আঘাত করবে। ক্ষমতায় আসা তাদের মূল টার্গেট না। বাংলাদেশকে তারা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

শামীম ওসমান বলেন, এই সংকটে তারা আঘাত করবে। ক্ষমতায় আসা তাদের মূল টার্গেট না। বাংলাদেশকে তারা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। ওই যে চতুর্দিক কথাটা, এর মানে ঘরে বাইরে সব জায়গায় আছে। আজ যদি শেখ হাসিনার কিছু হয়। শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের সম্পদ না, তিনি আগামী দিনের বাচ্চাদের ভবিষ্যত। তাকে আঘাত করলে এ দেশ এমন জায়গায় যাবে যেখান থেকে আমরা আদৌ উঠে আসতে পারব কীনা জানি না।

তিনি বলেন, রাস্তায় স্লোগান হয়। এমন বাজে ভাষা। এরা কোন মায়ের পেটে জন্ম নিয়েছে জানি না। আমরাও তো খালেদা জিয়ার সমালোচনা করি। তারা এই মহিলাকে বাজে ভাষায় গালিগালাজ করছে। ঢাকায় তারা চ্যালেঞ্জ করছে রাজপথ দখলে নিবে। এ নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্ম। আমার নেত্রীকে গালি দিবা আমরা কী চুপ করে বসে থাকতে পারি। আমাদের শক্তির উৎস হল জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে চলতে চাই। 

শামীম ওসমান বলেন, আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ আছে। আমাদের মনে কষ্ট আছে। আমরা লিংক রোডের পাশে কলেজ করছি, হাসপাতাল হচ্ছে। পঞ্চবটী থেকে ফ্লাইওভার হচ্ছে। কে দিচ্ছে, শেখ হাসিনা। আমাদেরও তো প্রতিবাদের রাইট আছে। আমার মাকে কেউ গালি দিলে আমরা প্রতিবাদ করব না? প্রতিবাদের ভাষা সংযত রাখতে হবে। তারা বলে শামীম ওসমানের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে। আমার গায়ে লাগে না। তারা আমার গুনাহ কিনছে। কিন্তু আপনার মাকে নিয়ে বললে আপনি ছাড়বেন? 

একুশে আগস্টে একটা গ্রেনেড ট্রাকে পড়লে আজ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হত না। মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দিলে বলত সন্ত্রাসী। এখনও অনেকে লাফায়। আমাদের ৪৯ জন মানুষ মরেছে। ধৈর্য্যের একটা সীমা আছে। লেভেল ক্রস করবেন না। আমি নেত্রীর কথা শুনি তাই নারায়ণগঞ্জ ঠান্ডা আছে। এবার কিন্তু জাতির পিতার কন্যার কথা শুনবো না। খেলেন যত খুশি। শয়তান কখনও জিতে না। কিছু ক্ষয় হবে কিছু ডালপালা ভাঙবে। কিছু শামীম ওসমানের লাশ পরবে। তারপরেও ২০২৪ সালে ইনশাআল্লাহ শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী হবে। বাড়াবাড়ি করবেন না। মা বইলা গো বলার সময় পাবেন না। 

শামীম ওসমান বলেন, যে নেতা মায়ের জন্য আসে না আপনি দেশের মানুষের জন্য কী আসবেন। বলেন ডাক্তার লাগবে। তার স্ত্রী তো ভাল ডাক্তার। আসতেন শাশুড়ির সেবা করার জন্য। নাতি-নাতনিরা আসত। আমার কষ্ট লাগে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরবর্তীতে উপযুক্ত কেউ হলে সেটা তার কাজের মেয়ে ফাতেমা। তাকে নিয়ে এসে বসান। 

তিনি বলেন, দয়া করে আপনারা জনগণকে সম্পৃক্ত করে আসবেন। পবিত্র কাবা শরীফ থেকে একবার শপথ করেছিলাম নিষিদ্ধ পল্লী পুনর্বাসনের মাধ্যমে সরাবো। শেখ হাসিনার উসিলায় আমরা সেটা সুন্দর ভাবে করতে পেরেছি। এবার যাওয়ার পরেও আরাফাতের ময়দানে ঠিক করেছি মানুষ সবচেয়ে বেশি যেটা চায় শান্তিতে থাকতে চায়। সন্ত্রাস চাঁদাবাজি মুক্ত সমাজ গড়তে চাই। অক্টোবর মাসে আমরা সমাজের ভাল মানুষগুলিকে নিয়ে আগের দিনের মতো পঞ্চায়েত করব। আমি নিজে চুপচাপ গিয়ে দেখব তারা ভাল না খারাপ। একটা সমাজ আমি গড়ে তুলতে চাই। আমরা বিএনপি, জাতীয় পার্টি, চরমোনাই, হেফাজতের ভাইদেরও পাশে চাই। আওয়ামী লীগ যারা করে সবাই তো ভাল লোক না। তাদের মধ্যেও অনেক ভাল লোক আছে। 

বিএনপি নেতাদের মেরে আওয়ামী লীগের দায় চাপানো হবে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শহরে অনেক কালো টাকা ঢুকেছে। বিএনপির মাঝারি সারির নেতাদের মেরে ফেলা হতে পারে। তাদের মেরে আমাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা হতে পারে। কয়েকদিন আগে অধ্যাপক মামুনের (জেলা বিএনপির সদস্য সচিব) ওপর হামলা করা হয়েছে। একটুর জন্য বেঁচে গেছেন। এ এলাকার একজন লোক যার হাতে আমাদের বহু লোক মারা গেছে, তার ছেলের নাম এসেছে।’

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মো. জুয়েল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শামীম ওসমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: মান্না

প্রকাশ: ০৭:২৫ পিএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: মান্না

‘ভারতের কাছে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার অনুরোধ করেছি’, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‌‘তার এই বক্তব্য অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এই সরকার দেশের গণতন্ত্রকে হত্যার সাথে সাথে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে।’

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

মান্না বলেন, ‘কিছুদিন আগে অবৈধ সরকারের এই অথর্ব পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকায় গিয়ে অনুরোধ করেছে তারা যেন বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে। আর এখন প্রকাশ্যে জানাল যে হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে ভারতের কাছে অনুরোধ করেছে। তার মানে কি এই সরকারের কোনো বন্ধু নেই, তারা দেশকে বিশ্ব রাজনীতিতে বন্ধুহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে? একটা বিষয় স্পষ্ট যে সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ করছে। এভাবে যদি তারা কেউ আমেরিকা, কেউ চায়না, কেউ ভারত কিংবা রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে থাকে, তাহলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতভাবেই হুমকির মুখে পড়বে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অন্য দেশের সাথে দেন-দরবার করলেও জনগণের কাছে আসে না। তারা যে জনগণের রায়ের তোয়াক্কা করে না, এই বক্তব্যে আবারও তা স্পষ্ট করল। সাহস থাকলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় থাকতে জনগণের সামনে আসেন। কারো হাতে পায়ে ধরে আর টিকতে পারবেন না। কোনো দেশেই আপনাদের ঠাঁই হবে না।’

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ‘এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এই দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমাদের সবার পরিচয় এক। আমরা বাংলাদেশি। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, গারো, সাওতাল, চাকমা, মারমাসহ সকল গোত্র, ধর্ম, বর্ণের মানুষ মিলেই আমাদের বাংলাদেশ।’

সরকারকে হুঁশিয়ার করে মান্না বলেন, ‘কোনো উসকানি দিয়ে এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে দেশের সকল জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে আপনাদের প্রতিহত করবে।’


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদার জন্য নির্বাচনে যাবে বিএনপি?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail খালেদার জন্য নির্বাচনে যাবে বিএনপি?

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যাবে কি যাবে না, সেটি কোটি টাকার প্রশ্ন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা কোনো নির্বাচনে যাবে না। আর নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের জন্য তারা আন্দোলনে যাবে, প্রয়োজনে সকল দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএনপি এই দাবিতে তাদের পাশে কাউকে পায়নি, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনও গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে, বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলছেন যে, আমরা সরকারের পতন ঘটাতে চাই, সরকারের পতনের পর আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করবো এবং সেই সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা জাতীয় সরকার গঠন করবো। বিএনপির এই সমস্ত বক্তব্যের আড়ালে সরকারের সঙ্গে দেন-দরবারের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মহলের কয়েকদফা বৈঠক হচ্ছে এবং নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

সরকারের একাধিক সূত্র দাবি করেছে যে, শেষ পর্যন্ত বিএনপি আসবে এবং বিএনপি যেন নির্বাচনে আসে তার ট্রাম্পকার্ড আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে আছে। ট্রাম্পকার্ডটা কি, জানতে চাওয়া হলে সরকারের একাধিক ব্যক্তি বলেছেন যে, এই ট্রাম্পকার্ড হলো বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে আসা হচ্ছিলো। বলা হচ্ছিলো যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না দিলে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বেগম খালেদা জিয়ার এই মুক্তি দেয়া না দেয়া নিয়ে যে রাজনীতি, সে রাজনীতিতে বিএনপি কখনোই বিজয়ী হতে পারেনি। বরং যখন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় দুর্নীতির মামলায়, তখন বিএনপির সকলে মনে করছিলো যে, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারবে না। কিন্তু দুই বছর বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। এই সময়ে বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রাজপথে আন্দোলন করতে পারেনি। এমনকি আইনি লড়াইয়েও পরাজিত হয়েছে। পরে দেশে করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের মার্চে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে বিশেষ বিবেচনায় জামিন দেয়া হয়। এখন তিনি ফিরোজায় অবস্থান করছেন। ছয় মাস অন্তর অন্তর এই জামিন বাড়ানো হয়। বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার জন্য একাধিক আবেদন করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, আইনসম্মত নয়। আইনমন্ত্রী এটিও জানিয়েছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে হলে আবার জেলে যেতে হবে, সেখান থেকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। এরকম টানাপোড়েনের মধ্যেই আগামী নির্বাচনের আগে বেগম খালেদাকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চায় সরকার।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে, এরকম একটি সমীকরণের মধ্যেই এখন সংলাপ এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির এখন প্রধান এজেন্ডা নির্বাচন নয় এবং বিএনপি জানে যে নির্বাচনে যাওয়ার পরও বিএনপিকে অনেকগুলো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মধ্যে কোনো ভাবনা নেই। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, নির্বাচনে যদি আমরা জয়ী হই আমাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? কারণ, বেগম খালেদা জিয়ার এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়া সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য। একই অবস্থা তারেক জিয়ার ক্ষেত্রে। তারেক জিয়ার যে মামলাগুলো রয়েছে তিনি যদি দেশে আসেন তাকে প্রথমে জেলে যেতে হবে এবং তারপর এই মামলাগুলোর আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে। তাই বেগম জিয়া, তারেক জিয়া বা জিয়া পরিবারের কেউই চান না এখন নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হোক। বরং সরকারের সঙ্গে যদি দেন-দরবার করে বেগম জিয়ার মুক্তি, তারেক জিয়ার দেশে ফেরা ইত্যাদি বিষয়গুলো ফয়সালা করা যায় তাহলে সেটি বিএনপির জন্য পরবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল দেবে বলে বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ইস্যুটি সরকার বিবেচনা করতে পারে। যদি বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তাহলে তার বিনিময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি সরকার দিতে পারে বলে দিতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে এবং এটিই হবে নির্বাচনের আগে সরকারের সবচেয়ে বড় চমক। কিন্তু তারেক জিয়ার ব্যাপারে সরকারের সুনির্দিষ্ট আপত্তি রয়েছে। তারেক জিয়ার ব্যাপারে সরকার কোনোরকম ছাড় দিতে রাজি নয়। আর এ কারণেই খালেদা জিয়ার বিনিময়ে নির্বাচন, এই ফর্মুলায় তারেক সম্মত হবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল’: আ স ম আব্দুর রব

প্রকাশ: ০৫:৩১ পিএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল’: আ স ম আব্দুর রব

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্য ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল’ মন্তব্য করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার, সেটা করতে বলেছেন। তিনি ভারত সরকারকে এ অনুরোধ জানিয়েছেন। এটা স্পষ্ট রাষ্ট্রদোহিতার শামিল।’

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে আ স ম আব্দুর রব এ মন্তব্য করেন।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। অন্য কোনো রাষ্ট্রের অঙ্গ বা কারও মক্কেলরাষ্ট্র নয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতায় থাকা বা না থাকা নির্ভর করে দেশের জনগণের অভিপ্রায়ের ওপর। অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভিপ্রায়ে নয়। ভারতের কাছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতায় টিকে থাকার এ হীন আকুতি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বার্থ ও মর্যাদার পরিপন্থী। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্তে জড়িত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন। তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন।’

জেএসডি সভাপতি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যে বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে, তাতে দেশবাসী স্তম্ভিত। সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার সুগভীর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্লু প্রিন্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ করায় জাতি উদ্বিগ্ন।’



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন