ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

কেস স্টাডি: প্রথম আলো কিভাবে, কেন তথ্য বিকৃতি করে

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail কেস স্টাডি: প্রথম আলো কিভাবে, কেন তথ্য বিকৃতি করে

তথ্য বিকৃতি করে চরিত্র হনন মিশনে 'প্রথম আলো'র জুড়ি মেলা ভার। যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য পরিবেশন করে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার প্রথম আলোর অন্যতম সম্পাদকীয় নীতি। তার সর্বশেষ উদাহরণ হলো চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসককে নিয়ে অপপ্রচার। আসলে কি হয়েছিলো সেদিন? কি বলেছিলেন চট্রগ্রামের ডিসি?

আসন্ন দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক সম্প্রীতি সভা চলছিল। দুর্গা পূজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার লক্ষেই চলমান এই সভাটিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমান আবার একজন রিটার্নিং কর্মকর্তাও। ওই দিন ছিল জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই চলমান সম্প্রীতি সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম শ'খানেক নেতাকর্মী নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। তখন নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলার সভাপতি সাংসদ মোছলেম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এবং নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের নেতারা।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শফর আলী মোনাজাত পরিচালনা করেন। হঠাৎ করে মোনাজাত ধরায় সেখানে উপস্থিত সকলেই সেই মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। সেই প্রেক্ষাপটে উপস্থিত চট্টগ্রামের ডিসি এবং রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মমিনুর রহমানও মোনাজাতে কেবলমাত্র অংশগ্রহণ করেন। সেখানে ডিসি মমিনুরের আর কোনো ভূমিকাই ছিল না। আওয়ামী লীগ নেতা শফর আলী ওই মোনাজাতে নির্বাচন প্রসঙ্গে কোনো কথাও বলেননি। ওই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই ডিসি মমিনুরের মোনাজাতে অংশগ্রহণ করার বিষয়টি প্রথম আলোর কিছু  স্বার্থন্বেষী মহলের পক্ষে চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসককে বিতর্কিত করার মিশনে নামে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে আবারও ক্ষমতায় আসেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। প্রশ্ন উঠেছে, কেন দেশের একটি প্রধান গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই বিকৃত করে সংবাদটি উপস্থাপন করলো? কাদের স্বার্থে কাজ করলো প্রথম আলো?

এর কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, মোহাম্মদ মমিনুর রহমান চট্টগ্রামের ডিসি হিসেবে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি যোগদান করেন। একজন সৎ, সাহসী এবং মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রামের ডিসি হিসেবে যোগদানের পর তিনি বেশ কিছু সাহসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

প্রথমত, বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট ভূমিখেকো ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর। প্রায় তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ে হাজারো অবৈধ স্থাপনা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে। সম্প্রতি সেখানে ডিসি মমিনুরের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর খাস জমি। এছাড়াও বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। সলিমপুরকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন ডিসি মমিনুর রহমান। এ নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হয়। জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের কারণেই বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের প্রধান চক্ষুশূলে পরিণত হন ডিসি মমিনুর রহমান। ডিসি মমিনুর একজন সৎ এবং মেধাবী কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তাঁকে কোনোভাবেই কাবু করতে পারছিলো না বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। তখন ওই সন্ত্রাসী এবং ভূমিদস্যুরা বিভিন্নভাবে ডিসি মমিনুরকে হয়রানি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং ওঁত পেতে থাকে। বিএনপি-জামায়াতের ওই সন্ত্রাসী এবং ভূমিদস্যুরা স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এবং মাধ্যম ব্যবহার করে এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে।

দ্বিতীয়ত, চট্টগ্রামের আদালত ভবন যেখানে নির্মিত সেই ‘কোর্ট হিল’ বা ‘পরীর পাহাড়ে’ নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সঙ্গে আইনজীবীদের বিরোধ শুরু হয়। দেখা যায় যে, আইনজীবীরা সরকারের খাস জমিতে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করে চলেছে। একইসাথে, আদালত ভবন এলাকায় অর্থাৎ ‘পরীর পাহাড়ের’ ১৩০ বছরের পুরনো দ্বিতল আদালত ভবনটিকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই বিষয়েও ডিসি মমিনুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। ফলে পাহাড়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করতে এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তাতে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে ডিসি মমিনুর রহমান আইনজীবীদের একাংশের চক্ষুশূলে পরিণত হন এবং আইনজীবীরা ডিসি পদত্যাগ দাবী করেন।

তৃতীয়ত, ডিসি মমিনুর রহমান চট্টগ্রামের বেশকিছু দুর্নীতিবাজ এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বদলী করার জন্য সুপারিশ করেন। ফলে এক সঙ্গে ৬ জন এসিল্যান্ড বদলি করা হয়। দূর্নীতি মুক্ত হয় ভূমি অফিস।

ডিসি মমিনুর রহমানের এই সাহসী কর্মকাণ্ডের ফলে তিনি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজনে পরিণত হন এবং তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রে তৈরি করে। অবশেষে সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি প্রকাশ্য রূপ দেখা যায় দেশের একটি প্রধান গণমাধ্যমে। এই ষড়যন্ত্রের একটি আভাস অবশ্য এর আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া গিয়েছিল। জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা সবসময় নাশকতার প্রস্তুতি এবং ষড়যন্ত্র করছে, ডিসি মমিনুর রহমানের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা চলছে এমনসব খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্রেরই বাস্তবায়ন করে দেশের একটি প্রধান গণমাধ্যম।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক   ডিসি   মোহাম্মদ মমিনুর রহমান   প্রথম আলো  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

বিএনপি-জামায়াতকে অর্থ সহায়তা বন্ধ করলো আইএসআই

প্রকাশ: ১০:০২ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দেউলিয়া হওয়ার পথে পাকিস্তান। ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের রুপির সর্বোচ্চ দর পতন ঘটেছে। এখন এক ডলারে ২৬৮ রুপি মিলছে। সেটিও দুষ্প্রাপ্য। আইএমএফ এর বেল আউট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যেয়ে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। আগামী মাসে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট শুরু হবে দেশটিতে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে থাকার কারণে আমদানি এখন বন্ধের উপক্রম। দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা পাকিস্তান এখন নিজেরাই অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। এই অবস্থায় ২০২৩ সাল থেকে আইএসআই বিভিন্ন সহযোগী দেশের বিভিন্ন রকম সংগঠনকে যে অর্থ সহায়তা দিত তা বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকে এই অর্থ সহায়তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেই পাকিস্তানের গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

এর ফলে হরকাতুল জিহাদ সহ বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন সংগঠন গুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে যাবে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপাব হলো আইএসআই এর অর্থ যে সকল রাজনৈতিক দলগুলো পেত তাদের তালিকায় বাংলাদেশের দুটি রাজনৈতিক দলও রয়েছে। একটি হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, অন্যটি  জামায়াতে ইসলামী। এই দুটি দলই নিয়মিত ভাবে আইএসআই থেকে মাসোহারা পেত। আইএসআই ভারতের বিভিন্ন ইসলামী এবং জঙ্গি সংগঠনকে অর্থায়ন করতো, সেখানে যেন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তৈরি হয়। এমনি লশকর-ই তৈয়ব বলে একটি সংগঠনকে অর্থ দানের কথাটি আইএসআই প্রধান সরাসরি স্বাকীর করেছিলেন। এমনকি আইএসআই এর সাবেক প্রধান এটিও বলেছেন যে, এই সমস্ত জঙ্গি সংগঠনগুলোতে অর্থ দেওয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। 

শুধু ভারতে বিচ্ছিন্নবাদী সংগঠন বা জঙ্গি সংগঠনগুলোকে নয়, বাংলাদেশের বেশ কিছু সংগঠনকে অর্থ সহায়তা দিত আইএসআই। তার মধ্যে অন্যতম হলো বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলাম। বিএনপিকে অর্থায়নের কথা আইএসআই সাবেক প্রধান আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, ২০০১ এর নির্বাচনের আগে আইএসআই বিএনপিকে অর্থ সহায়তা দিত। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় পুন:প্রতিষ্ঠিত করা, পাকিস্তানের প্রতি সহানুভতি সৃষ্টি করা এবং ভারত বিদ্বেষ বাংলাদেশের মধ্যে জাগ্রত করার জন্যই এই রাজনৈতিক দল দুটিকে অর্থায়ন করা হতো বলে জানা গছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে এই দুটি দলকে ভারত বিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবহার করা হত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই অর্থায়ন কমতে শুরু করে। তবে কিছুদিন আগেই আইএসআই বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে বিবেচনা করে বিপুল অর্থায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়ে সরকারকে দুর্বল করে তোলার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় আইএসআই। 

বাংলাদেশের সঙ্গে এখন চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভালো হওয়ার কারণে আইএসআইকে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার জন্য চীন অর্থ সহায়তা দিচ্ছে না। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পাকিস্তানকে সামরিক গোয়েন্দা খাতে ব্যয় হ্রাসের পরামর্শ দিয়েছে। ফলে আইএসআই ১৯৪৭ এর পরে সবচেয়ে বড় অর্থ সংকটে ভূগছে। এ কারণেই তারা নতুন বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন নতুন সংগঠনে আর্থিক সহায়তা বা অনুদান বন্ধ করছে। এর ফলে বিএনপি এবং জামায়াত নতুন করে অর্থ সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বিএনপি   জামায়াত   আইএসআই  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ব্যবসায়ীদের ইউটার্ন, তারেক বিপাকে

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail তারেক রহমান। ফাইল ছ

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই ব্যবসায়ীরা তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে যখন বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং অর্থনৈতিক সংকট শুরু হয় তখন অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী, যারা বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং আওয়ামী লীগের আমলে ফুলে-ফেঁপে ওঠে ছিলেন তারা গোপনে তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরকম অন্তত পাঁচজন ব্যবসায়ী গ্রুপকে বিভিন্ন সংস্থা চিহ্নিত করেছে। যার আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিন্তু গোপনে তারেক জিয়াকে অর্থায়ন করে। এ সমস্ত ব্যবসায়ীরা মনে করেছিল, সরকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হয়ে যাবে। কাজেই এখন বিএনপির সাথে একটি গোপন সম্পর্ক রাখা ভালো। যাতে তাদের ভবিষ্যতে কোনো বিপদে পড়তে না হয়। আর এই অর্থ বিএনপির আন্দোলনে প্রলুব্ধ করা ছিল। বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপির ব্যাপক সমাবেশ এবং ব্যাপক অর্থ ব্যয় থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, বিএনপির কাছে প্রচুর অর্থ আসছে। 

আওয়ামী লীগ আমলে টেলিভিশন, সংবাদপত্র পাওয়া একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তারেক জিয়ার কাছে অর্থ পাঠিয়েছেন এমন বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন ছিল। সাবেক হাওয়া ভবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী আবার আওয়ামী লীগ আমলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ রেখে ব্যবসার প্রসার বৃদ্ধি করা। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি একটি ইংরেজী পত্রিকায় সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতির ব্যাপক সমালোচনা করছে। সেরকম একটি ব্যবসায়িক গ্রুপও তারকের সঙ্গে নতুন করে তাদের সম্পর্ক ঝালিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। 


বাংলাদেশের আর্থিক খাতে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গেও তারেকের যোগাযোগ হয়েছিল এবং তারা তারেককে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল এমন অভিযোগও কোনো কোনো মহল থেকে উঠে এসেছিল। এই সমস্ত ব্যবসায়ী গ্রুপদের আর্থিক সহায়তার কারণে বিএনপির আন্দোলনে গতি পেয়েছিল এবং তারা সরকার পতনের দিবা স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সময় যত এগোতে থাকে ততই এই ব্যবসায়ীরা বুঝতে শুরু করে যে, সরকারের পতন এতো সহজ নয়। সরকার আইএমএফের থেকে ঋণ সহায়তা পাচ্ছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন মহল যখন জানতে পারে যে, এরকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তখন সরকারও নজরদারি বাড়ায়। এর ফলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কথিত ব্যবসায়িক গ্রুপগুলো ইউটার্ন নেয়। তারা বিএনপিকে এবং তারেক জিয়াকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে শুরু করে। সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেয়, বন্ধ করে দেয় যোগাযোগ। ফলে বিএনপির আন্দোলনে যে জোয়ার এসেছিল সেই জোয়ারে ভাটার টান আসে। আর অন্যদিকে লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া এখন এ ধরনের কয়েকজন ব্যবসায়ী সঙ্গে যোগাযোগ করেও পাত্তা পাচ্ছেন না।

ব্যবসায়ীরা একটা বিষয় বুঝে গেছে, আওয়ামী লীগের দোষ ক্রটি আছে, তবে শেখ হাসিনার বিকল্প এখন নেই। ফলে তারা আবার তারেক বিমুখ হয়ে পড়েছেন। ফলে বিএনপির আন্দোলনে শক্তি হচ্ছেনা। কর্মসূচি দেওয়ার অর্থ জোগাড় করার জন্য বিএনপি নেতারা লন্ডনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু লন্ডন তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারছে না। ফলে বিএনপির আন্দোলন যেমন গতি হারাচ্ছে তেমনি বিপাকে পড়েছেন তারেক জিয়াও। 

ব্যবসায়ী   তারেক জিয়া   বিএনপি   সরকার   আইএমএফ   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

মসিউর রহমানই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কোন অঘটন না ঘটলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ আগামী এপ্রিলে শেষ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ ভোটের দিন রেখে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি যাচাই বাছাইয়ের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

মনোনয়ন জমা দেয়ার পর পরই নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না। যেহেতু ৩৪৩ জন সংসদ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, কাজেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ড. মসিউর রহমানকে চূড়ান্ত করেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মসিউর রহমান একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা। মসিউর রহমান একজন সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ছিলেন।

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর মসিউর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং মসিউর রহমানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাঁর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের দলীয় পরিষদের নির্বাচনে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তিনি পুনরায় একই পদে নিয়োগ পান।



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ভোটে যেতে তারেক চায় হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৮:০১ পিএম, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

তারেক জিয়া। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি এখন বিএনপির সর্বেসর্বা হর্তাকর্তা। তার নির্দেশেই বিএনপির সবকিছু করছে। তিনি যা সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, সেটি পালন করাই যেন বিএনপি নেতাদের একমাত্র কাজ। তাকে নিয়েই বিএনপিতে সন্দেহ এবং রহস্য। বাংলা ইনসাইডারের হাতে এসেছে তার নির্বাচন ভাবনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অন্তত তিনজন বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে তারেক জিয়ার বৈঠক হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই বৈঠকে তারেক জিয়া বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে নিয়ে যাওয়ার  ইঙ্গিত দিয়েছেন। এজন্য তিনি দাবি করেছেন এক হাজার কোটি টাকা। এই টাকা পেলেই বিএনপির সুর পাল্টে যাবে এবং বিএনপি নির্বাচনে যাবে এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে বসবাসরত তারেক জিয়া মূলত চাঁদাবাজি, পদ বাণিজ্য এবং কমিটি বাণিজ্য করেই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক। সেখানে তিনি রাজকীয় জীবনযাপন করছেন। আগামী নির্বাচন তার টাকা উপার্জনের একটি বড় অস্ত্র হিসেবে মনে করা হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন মনোনয়ন বাণিজ্য করে তারেক জিয়া অন্তত সাড়ে তিনশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। এবং এই টাকাই তার রাজকীয় জীবনযাপনের প্রধান উৎস। বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, তাবিদ আউয়াল, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে এই টাকার লেনদেন হয়েছিল, যে টাকাগুলো সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব হয়ে লন্ডনে গিয়েছে। এই টাকাগুলো যে সূত্র ধরে গেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় তার একটি কনসাল্টিং পিআর ফার্মের হিসাব খতিয়ে দেখলেই। 

হিসেবে দেখা যায় যে,লন্ডনে তারেক জিয়া এবং তার স্ত্রীর এই কোম্পানির স্ফীতি ঘটেছে দুইশত গুন। তাদের অ্যাকাউন্টে এখন এই সম্পত্তির পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পাচশ কোটি টাকা। অথচ, তারা কি ব্যবসা করছে, সে সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য জমা দিতে পারেনি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ব্রিটিশ সরকার তদন্ত করলেও রহস্যজনক কারণে সেই সমস্ত তদন্ত মাঝপথে থেমে গেছে। এখন বিএনপির ভূমিকা কি, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, ইত্যাদি বিষয়ে জানার জন্য অন্তত তিনটি দেশের কূটনীতিকরা লন্ডনে তারেক জিয়ার সাথে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে তারেক জিয়া নির্বাচনে না যাওয়ার কথা সরসরি কোথাও বলেননি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন দূতাবাসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদের সাথে একান্ত বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি প্রথম জানেন, তারেক জিয়া নির্বাচন করতে আগ্রহী। আমীর খসরু মাহমুদ এই ঘটনায় অন্তত বিস্মিত হন। তিনি জানতে চান, তার এই তথ্যের সত্যতা কি? তখন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লন্ডনে মার্কিন একজন কূটনীতিকের সাথে তারেক জিয়ার দু’দফা বৈঠক হয়েছে এবং সে বৈঠকে তারেক জিয়া বলেছেন যে, সরকার যদি তার সাথে একটি সমঝোতা করে, তাহলে তিনি নির্বাচনে যেতে পারেন। 

বিএনপির একজন নেতা বলছেন, তারেকে জিয়া ভালোমতোই জানেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করা সম্ভব না। তিনি এটিও জানেন, আগামী নির্বাচনে তাদের যে সাংগঠনিক অবস্থা, তাতে বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপিকে আন্দোলনে ঠেলে দিয়ে একটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা এবং সেই অবস্থান থেকে সরকারের সাথে পর্দার আড়ালে দর কষাকষি, টাকা-পয়সার লেনদেন চূড়ান্ত করাটাই তারেক জিয়ার রাজনৈতিক কৌশল বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আর এই রকম একটি তথ্য তিনি আরেকটি প্রতিবেশি দেশের কূটনীতিকদেরকেও দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন যে, বিএনপি যদি নির্বাচনে যায়, তাহলে কত টাকা আমাদেরকে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছেন। এর পর ওই কূটনীতিক তার সাথে আর কথা বাড়াননি। কারণ, যে বিপুল আর্থিক লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি তার কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। 

একাধিক সূত্র বলছে, সরকারের কাছেও তারেকের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, যদি তাকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়, তাহলে তিনি বিএনপিকে নির্বাচনমূখী করবেন। কিন্তু সরকারে অবস্থান এখন পর্যন্ত সুষ্পষ্ট। সরকার বলছে, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটা তাদের বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত তারেকের প্রস্তাব সরকার বা অন্য কেউ গ্রহণ করবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ওয়াশিংটনে পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন এবং দলীয়  রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ১৪ জন বাংলাদেশের নাগরিক যৌথভাবে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে পিটার ডি হাসের সাম্প্রতিক কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে বলে আবেদনকারীদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে এই অভিযোগটি দাখিল করেন। তারা অভিযোগে কয়েকটি সুস্পষ্ট বিষয় উল্লেখ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, পিটার ডি হাস বাংলাদেশের যাওয়ার পরপরই বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন। যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, বিএনপির একাধিক নেতাদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় বৈঠক করছেন এবং এই সমস্ত বৈঠকগুলো একপেশে অযাচিত এবং দুই দেশের সম্পর্কের জন্য হানিকর বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে চলছে। পিটার ডি হাসের কারণে এই সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত শাহীনবাগ যাওয়া নিয়ে এই অভিযোগে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, পিটার ডি হাস যে শাহীনবাগে গেছেন সেটি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কাউকে তিনি অবহিত করেনি। অথচ এরকম একটি স্পর্শকাতর জায়গায় তার যাওয়ার আগে সরকারকে অবহিত করা উচিত ছিল। এভাবে যার কারণে তার নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। একজন রাষ্ট্রদূত এভাবে যেতে পারেন কিনা সে ব্যাপারেও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ছাড়াও সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় যাওয়া প্রসঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি একজন বিএনপি নেতা ছিলেন এবং তাঁর মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

ধারণা করা হয় যে, মাদক ব্যবসায়ী পক্ষের সহিংসতার কারণেই তিনি গুম হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তদন্ত যাচাই-বাছাই না করে এক পাক্ষিক অবস্থান গ্রহণ করে পিটার ডি হাস কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন বলেও মনে করেন প্রবাসী এই বাংলাদেশীরা। তারা অভিযোগে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, কূটনীতির একটি মৌলিক বিষয় হলো নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। কিন্তু পিটার ডি হাস অনেক ক্ষেত্রে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ অবলম্বন করছেন। যে রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে জঙ্গী এবং মৌলবাদীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি কূটনীতির যে আচার-আচরণ সেটি লঙঘন করেছেন। বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে তাকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, না হলে এটি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভুল বার্তা দেবে। এখন দেখার বিষয় যে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কিভাবে খতিয়ে দেখে। তবে একটি সূত্র বলছে যে, পিটার ডি হাস যেভাবে শাহীনবাগে গেছেন সেটা ওয়াশিংটন পছন্দ করেনি এবং এ রকম যাওয়ার আগে যে ধরনের সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত ছিল এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত ছিল সেটি তিনি করেননি। 

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে পিটার ডি হাসের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তখন  ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমরান সুস্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে যেতেন তাহলে তার নিরাপত্তা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। পিটার ডি হাসের বিষয়টি এখন ওয়াশিংটন কিভাবে দেখছে এবং কিভাবে এর সমাধান করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

ওয়াশিংটন   পিটার ডি হাস   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন