ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির আন্দোলন: নেপথ্যে যারা

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail বিএনপির আন্দোলন: নেপথ্যে যারা

বিএনপি এখন সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায় অন্যান্য বারের চেয়ে তারা এবার অনেক আশাবাদী। বিএনপি নেতারা বলছেন দেখেন, কিছু একটা ঘটবে। আন্দোলন সামনের দিনগুলোতে আরও বেগবান করবে বলে বিএনপি নেতারা বলছেন। নির্বাচনের বাকি এখনো প্রায় দেড় বছর। দেড় বছর আগে থেকেই বিএনপি আন্দোলনে মারমুখী আচরণ করছে কেন এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন। আবার বিএনপি এত আগে থেকে আন্দোলন করে সে আন্দোলন ধরে রাখতে পারবে কিনা সে নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলে। কিন্তু এসব সংশয়ের জবাবে বিএনপি নেতারা এখন পর্যন্ত আশাবাদী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বিএনপি একক ইচ্ছায় বা একক শক্তিতে আন্দোলন করছে না। বরং বিএনপির আন্দোলনের পেছনে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন কিছু কিছু মহল। যারা বিএনপিকে রাজপথে নামার জন্য প্রলুব্ধ করেছে এবং রাজপথে মেনে সরকার পতনের প্রলোভন দেখিয়েছে। যে সমস্ত ব্যক্তিরা বিএনপির এই আন্দোলনকে উৎসাহিত করছে এবং যাদের আগ্রহের কারণে বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে তাদের কিছু নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূলত সুশীল সমাজের একটি অংশ এবং বিভিন্ন পশ্চিমা মহল বিএনপিকে আন্দোলনের প্রলুব্ধ করছে। বিএনপির আন্দোলন করে একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে এবং সেই পরিস্থিতিতে কোনো কোনো মহল ফায়দা লুটবে- এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির আন্দোলন এগোচ্ছে বলে কোনো কোনো মহল মনে করেন। বিএনপির এই আন্দোলনের নেপথ্যে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমা কিছু মহল। পশ্চিমা কিছু মহল বিএনপিকে এখন আন্দোলনের জন্য প্রলুব্ধ করছে। কারণ বাংলাদেশের যে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা ইত্যাদি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কিছু ঈশ্বা এবং অস্বস্তি রয়েছে। তারা মনে করছে যে, যদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা না হয় তাহলে তাদের কর্তৃত্ব এখানে প্রতিষ্ঠিত হবে না। আর বিবেচনা থেকেই পশ্চিমা দেশের কোনো কোনো মহল বিএনপিকে আন্দোলনের পথ দেখাচ্ছে বলে কেউ কেউ মনে করে।

বিএনপির আন্দোলনের নেপথ্যে সুশীল সমাজের একটি অংশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করেন। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলছে এবং এই তদন্ত গুলোতে যদি শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাথমিকভাবে দোষী প্রমাণিত হন। তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর এ সমস্ত এড়ানোর জন্যই বিএনপিকে মাঠে নামানোর ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করেছেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। বিএনপির সাম্প্রতিক আন্দোলনের বক্তব্যগুলো একটু বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এ সমস্ত বক্তব্যগুলো সবই সুশীল সমাজের শেখানো বক্তব্য। বাংলাদেশের অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, অর্থপাচার, রিজার্ভ ইত্যাদি নিয়ে যে সমস্ত কথাবার্তাগুলো বলা হচ্ছে সেই সমস্ত কথাবার্তাগুলো প্রতিনিয়ত সুশীল সমাজ বলছেন। সুশীল সমাজের কথাগুলোই লুফে নিচ্ছে বিএনপি। তাহলে কি সুশীল সমাজের ইঙ্গিতেই বিএনপির এই আন্দোলন? স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির রচনা? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বিভিন্নভাবে সক্রিয়। তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। আর অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা তখনই সম্ভব হবে যখন রাজনীতিতে একটি সহিংস এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আর এ কারণেই বিদেশে বসে যে সমস্ত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি কাজ করছে তারা বিএনপিকে আন্দোলন করার জন্য প্রলুদ্ধ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশে পলাতক কিছু ব্যক্তি নিরন্তর সরকারবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আর এই অপপ্রচারের প্রধান লক্ষ্য হলো বিএনপিকে তাকিয়ে তোলা। এখন প্রশ্ন হল যে, বিএনপি যে এই ত্রিমুখী পরামর্শে আন্দোলন করছে সেই আন্দোলনের ফল কি ঘরে তুলবে? শেষ পর্যন্ত যদি এই আন্দোলন থেকে ইতিবাচক কিছু হয় তাহলে কি বিএনপি লাভবান হবে? বিএনপির কোন কোন নেতার মধ্যেই এখন এই প্রশ্নটি বেশ বড় করে দেখা দিয়েছে।

বিএনপি   ড. মুহাম্মদ ইউনূস   সুশীল সমাজ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করছে আওয়ামী লীগ?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দেশের সবচেয়ে প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রতিনিধি সভা নামে আয়োজন হলেও কেন্দ্রীয় তিন নেতার বক্তব্যই ছিল পুরো সময়। সেখান থেকে ৬ নির্দেশনা পেলেও ময়মনসিংহ থেকে আগত প্রতিনিধিরা কেউই কিছু বলতে পারেননি। আগামী বর্ধিত সভায় বলতে পারবেন এমন আশ্বাস নিয়ে ফিরতে হয়েছে ময়মনসিংহ থেকে আসা প্রতিনিধিদের। এ বিষয় নিয়ে অনেকেই আশাহত হলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি। এ রকম বাস্তবতায় তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষার করার অভিযোগ উঠেছে দলটির বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, প্রতিনিধি সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী ডা. দীপু মনি। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপিসহ উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। প্রতিনিধি সভাটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

তবে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করার অভিযোগ অস্বাকীর করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ কখনোই তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে না। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই আমাদের দলের প্রাণের সঞ্চার। আমরা কোনো ভাবেই তাদেরকে অস্বীকার করতে পারি না। গত বৃহস্পতিবার যে সভাটি ছিল সেটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমরা তাদেরকে শুধু নিদের্শনা দেওয়ার জন্য ডেকে এনেছিলাম। আমরা জেলায় জেলায় বর্ধিত সভা কবর। সেখানে আমাদের নেতাকর্মীরা সারা দিনব্যাপী কথা বলার সুযোগ থাকবে এবং তাদের মতামত গুলোকে অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হবে।

আওয়ামী লীগ   ময়মনসিংহ   শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি-ছাত্রদলের আরও ৫ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৭:৪৩ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উকিল আব্দুস সাত্তারের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় বিএনপি ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

রোববার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সুনির্দিষ্টভাবে জড়িত থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক বিএম রিফাত বিন জিয়া, অরুয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. বাদল আহমেদ, অরুয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুর রউফ, সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বার ও চুন্টা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলমকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ সহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক বহিষ্কার করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুস সাত্তার। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন আবদুস সাত্তার। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ওই আসনে উপনির্বাচন অংশ নিচ্ছেন তিনি। 

বিএনপি   ছাত্রদল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপনির্বাচনের মাঠে নেই বিএনপি: ছক্কা হাঁকাচ্ছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৭:২৮ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ছয়টি আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ মাসের পরেই। কিন্তু উপনির্বাচনের মাঠে নেই বিএনপি। এর আগে নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু  প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু ভোটযুদ্ধে পাশ করতে পারেননি। কিন্তু এবার বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ছয়টি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ফলে এসব উপনির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয়জয়কার দেখা যাবে এটাই স্বাভাবিক। 

এদিকে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য। পরে একটি সংরক্ষিত মহিলা আসন বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ছয় আসন শূণ্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এসব শূণ্য আসনে সিইসির তফসিল ঘোষণা মতে, আগামী ১ ফ্রেব্রুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কিন্তু এসব শূণ্য আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় ছক্কা হাঁকাতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদ সদস্যের মৃত্যু, দুর্নীতি, দলীয় নিয়ম-নীতি লঙ্ঘনের কারণে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন কারণে মহান জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন শূণ্য হতে দেখা গেছে। এছাড়াও বিএনপির এমপিদের পদত্যাগের কারণেও জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন শূণ্য হয়েছে। পরে এসব শূণ্য আসনে নির্বাচনের তফসিলও ঘোণা করা হয় এবং জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হতে দেখেছি আমরা। কিন্তু এসব কোনা আসনেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মনোনীত কোনো প্রার্থীকে জয়লাভ করতে দেখা যায়নি। বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ছয়টি আসনে একমাত্র আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ছাড়া বিএনপি মনোনীত কোনো প্রার্থীও দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠে ছক্কা হাঁকাবে আওয়ামী লীগ। 

সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগের গণসমাবেশে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরদিন তারা সংসদ ভবনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগপত্রও জমা দেন। পরে ছয়জনের আসন শূণ্য ঘোষণা করে ১১ ডিসেম্বর রাতেই গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এসব আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। এসব আসনের উপনির্বাচনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ চলবে। ছয় আসনের তিন আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এগুলো হলো বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন। এর বাইরে দুটি আসনে জোটের শরিক জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টিকে একটি করে আসন ছাড় দিয়েছে। একটিতে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাকেই বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এটিকে ট্রাম্পকার্ডও বলছে দলটি।

বগুড়া-৪ আসনের ১৪ দলীয় মনোনীত প্রার্থী বগুড়া জেলা জাসদের সভাপতি একেএম রেজাউল করিম তানসেন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী। এই দুই আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহায়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কাজ করছে। এর বাইরে বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ।

বগুড়া-৬ আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আওয়ামী লীগের প্রার্থী মু. জিয়াউর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) মো. আব্দুল ওদুদ। প্রার্থীদের জেতাতে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর সফরের পাশাপাশি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও তাদের দলবল নিয়ে ঘুরে এসেছেন।

এসব আসনগুলোর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা দেখা গেলেও বিএনপির কোনো সাড়া নেই। আসনগুলোতে বিএনপি থেকে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। ফলে উপনির্বাচনের মাঠে নেই বিএনপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াকে দেখা গেলেও তিনি বিএনপি ছেড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথেই আঁতাত করেছেন। তাকেই জেতাতে চায় আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন মিলনায়তনে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া সমর্থকগোষ্ঠীর ব্যানারে এক কর্মীসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ওই সময় আব্দুস সাত্তারের কলার ছড়া প্রতীকের অপর নাম ‘নৌকা’ বলেও মন্তব্য করেন আহমদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবো। ১ তারিখ (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর খবর হবে কলার ছড়া জিতেছে, নৌকা জিতেছে। কলার ছড়ার অপর নাম নৌকা। বেনামে দিলাম আরকি। এটা মনে করেই চলবেন। দেখলেন না, লোকজন সব আওয়ামী লীগের, নাম দিলাম সমর্থকগোষ্ঠী। আসলে ভাসুরের নাম বলা যায় না, এখানে সবই আমরা। এই নির্বাচনে জয়লাভ করা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করার জন্য। তিনি (আব্দুস সাত্তার) আমাদের ট্রাম্পকার্ড। আগামী দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এটা সেমিফাইনাল, এই সেমিফাইনালে জিততে হবে।’

এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নওগাঁ- ৬ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু । তার পর থেকেই বিএনপি নির্বাচন বিমুখ। নির্বাচনে তারা হেরে যাবে- জেনেশুনেই কোনো আসনেই প্রার্থী দেয়নি। আসছে ছয়টি উপনির্বাচনের মাঠেও নেই বিএনপি, ফলে নির্বাচনের মাঠে ছক্কা হাঁকাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির আবদুস ছাত্তার ভূঁইয়া বিএনপির লোক হলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগও তাকে সমর্থন দিচ্ছে। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা, কী ঘটতে যাচ্ছে ফ্রেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন।

উপনির্বাচন   বিএনপি   আওয়ামী লীগ   উকিল আব্দুস সাত্তার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি আবার সুযোগ পেলে দশ ‘বাংলা ভাই’ বানাবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬:৫৯ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি যদি আবার সুযোগ পায়, তারা একটা নয়, দশটা ‘বাংলা ভাই’ সৃষ্টি করবে, এই রাজশাহী অঞ্চলকে তারা জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে। কিন্তু মানুষ তা হতে দেবে না।

রোববার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতার আগে দলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ তার বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এখানে রাজশাহীতে 'বাংলা ভাই' সৃষ্টি হয়েছিল,  বিএনপির নেতারা তাকে বরণ করে নিয়েছিল। আজ শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনায় গত ১৪ বছরের উন্নয়নে রাজশাহী জেলা বদলে গেছে, রাজশাহী বিভাগ বদলে গেছে, পুরো দেশ বদলে গেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা যেমন দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন, রাজশাহীতেও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জননেত্রীর নেতৃত্বে, রাজশাহী মেয়রের নেতৃত্বে রাজশাহী আজ দেশের সবচেয়ে সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা আমাদের বলে 'পালাবার পথ পাবেন না'। অথচ তাদের বড় নেতা তারেক রহমানই পালিয়ে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন 'হাওয়া ভবন' তৈরি করে সারাদেশের মানুষের ওপর টোল বসিয়েছিল, চাঁদা বসিয়েছিল, আমোদ ফুর্তি করার জন্য 'খোয়াব ভবন' বানিয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, যদি মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয় হাওয়া ভবনের সবচেয়ে বড় চোরের নাম কি, তারা বলবে- তারেক রহমান। আর মির্জা ফখরুল বলেন, তারা যদি ক্ষমতায় যান, তাহলে না কি সেই তারেক রহমান আসবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। সে কারণেই মানুষ তাদেরকে আর সেই সুযোগ দেবে না।

হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার জন্য রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দান থেকে জনতার ঢেউয়ে পুরো রাজশাহী শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী থেকে শুরু করে জাতীয় নেতৃবৃন্দ এখানে বক্তব্য রেখেছেন। তাই এই মাঠেই আমরা সমাবেশ করছি এবং মানুষও আমাদের আর বিএনপির সমাবেশের পার্থক্য বুঝতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশে দেখেছি তারা কাঁথা, কম্বল, বালিশ, মশার কয়েল এনেছিল, খিচুড়ি রান্না করে খেয়েছিল। সেটা কোনো জনসভা ছিল না, ছিল পিকনিক। বিএনপি সারাদেশে জনসভার নামে পিকনিক করেছে। আর আজকে এখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার আগমনে মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার ও জেলা শাখার।সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারার সঞ্চালনায় দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জনসভায় বক্তব্য দেন।

বিএনপি   রাজশাহী   বাংলা ভাই   তথ্যমন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বার বার কেন মত পাল্টাচ্ছে গণ অধিকার পরিষদ

প্রকাশ: ০৬:১২ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বার বার মত পাল্টাচ্ছে ‘গণতন্ত্র মঞ্চের’ অন্যতম শরিক দল ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের গণ অধিকার পরিষদ। গত ১৯ জানুয়ারি এক জরুরী বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে রেবিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছে গণ অধিকার পরিষদ। ১৯ জানুয়ারির ওই বৈঠকে পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়াও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ গণতন্ত্র মঞ্চ ভেঙে যাওয়া যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এখন আর সেটি হচ্ছে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে কেন বার বার পরিষদ মত পাল্টাচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ জানুয়ারি গণতন্ত্র মঞ্চের গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার কারণে মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গণ অধিকার পরিষদ। 

গণ অধিকার পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জানুয়ারি দেশে ফেরেন ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। দেশে ফেরা আগেই তিনি লাইভে বলেছিলেন যে, তিনি দেশে এসে গণতন্ত্র মঞ্চের গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। গণ অধিকার পরিষদের নেতারাও বিষষটি গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের জানান। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের পৌঁছানোর আগে মঞ্চের অন্যান্য শরিকরা অনেকটা তাড়াহুড়ো করে কর্মসূচি শেষ করেন বলে অভিযোগ পরিষদের নেতাদের। সেদিন গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ না পাওয়ার কারণে পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং সেদিনই এক ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় যে, তারা মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাবেন। এই সিদ্ধান্ত থেকেই গত ১৬ জানুয়ারি তারা গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়নি।

গণ অধিকার পরিষদ   রেজা কিবরিয়া   নুরুল হক নুর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন