ইনসাইড ইকোনমি

ঋণ নিয়ে ফের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ: ০২:৫৫ পিএম, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তা পর্যায়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এখন শর্তসহ বাকি খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে আগামী জানুয়ারিতে ফের বৈঠক করতে চায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহিবল-আইএমএফ ঋণ।

এবারের বাংলাদেশ সফরে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সংস্থার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্তোনেত্তে মনসিও সাইয়া। বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে আইএমএফ ঢাকা কার্যালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংককে।

১৪ থেকে ১৮ জানুয়ারি চার দিনের ওই সফরের সম্ভাব্য সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএমএফ এর মধ্যে। উচ্চ পর্যায়ের এ সফরের প্রটোকল নিশ্চিত রতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে আইএমএফ এর পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, “ঋণ সম্পর্কিত বিষয়ে ফলোআপ করতে জানুয়ারির ১৪ তারিখে আইএমএফ প্রতিনিধি দল বৈঠকের আগ্রহ জানিয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা ওই চিঠিতে জানিয়েছে আইএমএফ।

কোভিড মহামারীর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও ইউক্রেইন যুদ্ধের জেরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বড় ধরনের চাপে পড়েছে; ডলারের বিপরীতে মান হারিয়ে চলছে টাকা, মূল্যস্ফীতিও পৌঁছেছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে।

রিজার্ভ ধরে রাখতে আমদানিতে লাগাম টানায় অর্থনীতি সঙ্কুচিত হয়েছে; জ্বালানি সংকটের মুখে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মত দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতেই গত জুলাই মাসে আইএমএফ এর কাছে ঋণ চেয়েছিল বাংলাদেশ। আইএমএফ  এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অক্টোবরের শেষে ঢাকায় আসেন। দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর ঋণের বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানানো হয় সরকারের তরফ থেকে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৯ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইএমএফ সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে রাজি। এই অর্থ বাংলাদেশ পাবে সাত কিস্তিতে। সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম কিস্তির ৩৫২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার তারা ছাড়তে পারে।

ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ কিস্তি বাংলাদেশ হাতে পাবে ২০২৬ সালে। সুদের হার হবে ২.২ শতাংশ।

আইএমএফ কর্মকর্তা রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে আইএমএফের নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করবেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা সেরে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আইএমএফ বোর্ড এ ঋণ প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারে।

৪২ মাসের চুক্তিতে সরকারের নেওয়া ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে’ সহায়তা হিসেবে আইএমএফের এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি ( ইসিএফ) এবং এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি থেকে ৩২০ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। আর রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় পাবে বাকি ১৩০ কোটি ডলার।

এ ঋণের অর্থ দিয়ে যেসব প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার হাতে নেবে, তার উদ্দেশ্য হবে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং দুর্দশায় পড়া জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিয়ে দৃঢ়, অর্ন্তভুক্তিমূলক এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি কমিয়ে আনতেও এই ঋণের অর্থ ব্যয় করা হবে।

তবে ঋণের শর্ত নিয়ে কোনো পক্ষই তখন স্পষ্ট কিছু জানায়নি।সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, আইএমএফ এর ঋণ পেলে অন্যান্য বৈশ্বিক উৎস থেকে ঋণ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে।

তার পরামর্শ ছিল, প্রবৃদ্ধির চাকাকে আরও গতিশীল করার জন্য কাঠামোগত সমস্যাগুলোতে নজর দিতে হবে, সেই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সুসংহত করা এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতা গড়ে তুলতে হবে।

বিদেশি মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, মহামারীর সময়ে শুধু ব্যাংকিং চ্যানেল খোলা থাকায় বাংলাদেশে রেমিটেন্স বেশি এসেছিল। সেই গতি ধরে রাখতে হলে সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

রেমিটেন্স বাড়াতে সরকারও ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে হুন্ডি বন্ধের কিছু উদ্যোগও রয়েছে। অবৈধ ‘হুন্ডি’র মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার কয়েকশ এজেন্টের হিসাব সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি মোবাইল হিসাব বিদেশে বসে পরিচালনা ও মোবাইলেই সরাসরি রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ওই সফরের সময় দেশে আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়টি বিভিন্ন অঙ্গনে আলোচনায় গুরুত্ব পায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার, আইন বাস্তবায়ন ও ডিজিটালাইজেশন, ব্যাংক খাতেরর সংস্কার ও খেলাপি ঋণ এবং সরকারের বিভিন্ন খাতের ভর্তুকির বিষয়গুলো সেই আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসে।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেভাবে হিসাব করা হয়, সেই পদ্ধতি নিয়েও তখন কথা হয়।

রাহুল আনন্দ ৯ নভেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আইএমএফ যে কোনো দেশের রিজার্ভ হিসাবের বেলায় বিপিএম ৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) পদ্ধতি অনুসরণ করে।

এ পদ্ধতিতে রিজার্ভের প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য তহবিলই প্রকাশ করার কথা। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী সেদিন তার সংবাদ সম্মেলনে রিজার্ভের হিসাবে মোট ও নিট– দুই ধরনের তথ্যই প্রকাশ করার কথা বলেছিলেন।

আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সেদিন বলেছিলেন, “অতীতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে সেই সংস্কারের বিষয়গুলো আগেই আলোচিত হয়েছে। সেগুলো একটি প্যাকেজ আকারে এক জায়গায় করা হয়েছে। সেই সংস্কারে তারা (আইএমএফ) সহায়তা করবে।”


ঋণ আলোচনা   আইএমএফ   বৈঠক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

এবার একীভূত হচ্ছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৯ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সাথে একীভূত করার মধ্য দিয়ে ব্যাংকিং খাতে যে সঙ্কট তা নিরসনের যে উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ করেছে তার অংশ হিসাবে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক একটি শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে। এই ব্যাংকটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল এবং খেলাপি ঋণে ব্যাংকটি প্রায় দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ব্যাংকটির আর্থিক সঙ্কট এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে, গত মাসে তারা তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে বেতন দিতে পারেনি। তিন শতাধিক কর্মচারী এই ব্যাংকে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এই ব্যাংকটিকে একীভূত করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলেই একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

উল্লেখ্য যে, এর আগে দুর্বল ব্যাংক পদ্মা ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং এটি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত করার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চিহ্নিত দুর্বল ১২টি ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক হচ্ছে দ্বিতীয় ব্যাংক, যেটি একীভূত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই ব্যাংকটি উৎস ১৯৮৭ সালে আল বারাকা ব্যাংক হিসেবে। কিন্তু আল বারাকা ব্যাংকের ব্যাপক ঋণখেলাপি থাকার কারণে ১৯৯৪ সালে আল বারাকা ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তারপরও এই ব্যাংকের পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং তার গ্যাংরা এই ব্যাংক থেকে যে টাকা তুলেছিল সেই টাকা শোধ করতে পারেননি। এক পর্যায়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে ২০০৪ সালে আল বারাকা ব্যাংককে ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে নাম পরিবর্তন করে নতুন ভাবে চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতেও এই ব্যাংকটির অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। 

২০০৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের বোর্ড বিলুপ্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আসে। এসময় বিভিন্ন ঋণ খেলাপের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। কিন্তু তাতে এই ব্যাংকের অবস্থা উন্নত হয়নি। এরপর ২০০৮ সালে এই ব্যাংকের নতুন নাম করা হয় আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। আইসিবি ইসলামী ব্যাংক নামকরণ করা হলেও ব্যাংকটি সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বরং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক হওয়ার পর এর সঙ্কট নতুন করে দানা বেঁধেছে বলেই জানা যাচ্ছে। ব্যাংকটি টানা লোকসান করে যাচ্ছে এবং ২০২৩ সালে ব্যাংকটির লোকসানের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এই ব্যাংকটি এখন মূলধনের সঙ্কটে ভুগছে এবং মূলধন সঙ্কটের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মূলধন চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 

একাধিক সূত্র বলছে, এখন এই ব্যাংকটি একীভূত করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের পর আরও বেশ কিছু ব্যাংক একীভূতকরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের পরই রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার কাজ সম্পন্ন হবে এবং এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়াটি ঈদের পরপরই শুরু হতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আইসিবি ইসলামি ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

রিজার্ভ আরও কমলো

প্রকাশ: ০৭:৪৭ পিএম, ২৮ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে আরও কিছুটা কমেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চায়ন স্থির হয়েছে ২৪ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গণনায় তা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে। এদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, গত ২১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবায়নে সঞ্চিত বিদেশি অর্থের পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের গণনা পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা ছিল ১৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে গত ১ সপ্তাহে গ্রস রিজার্ভ কমেছে ৫৩ কোটি ডলার।

এছাড়া দেশের আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ সংস্থার নিট রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে। এটি শুধু আইএমএফকে দেয়া হয়, প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই মেথডে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন প্রায় সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার। এ দিয়ে ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

মূলত, প্রতি মাসে পণ্য কেনা বাবদ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার করে দায় পরিশোধ করা হয়। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ বর্তমানে শেষ প্রান্তে রয়েছে।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রপ্তানি আয় প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। ইতোমধ্যে বাইরের ছোট দায় পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে বিদেশি অর্থের মজুত হালকা ক্ষয় হয়েছে।

রিজার্ভ   বাংলাদেশ ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

কোন দেশের মুদ্রার দাম কত

প্রকাশ: ০৩:২৫ পিএম, ২৮ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেন ঠিক রাখতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া বিশ্বের নানা দেশে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বসবাস করেন। তারা বাংলাদেশের জন্য  সম্পদ। মূলত, তাদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থে সচল রয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে টাকায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার তুলে ধরা হলো-














মুদ্রা   টাকা   বাংলাদেশ ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

একনেকে ৪১ প্রকল্প উঠছে আজ

প্রকাশ: ১০:১৮ এএম, ২৮ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

চলতি অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অষ্টম সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। আর এটিই হতে যাচ্ছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভা। এই সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। এর বাইরেও অনুমোদন পাচ্ছে আরো ৩০টি প্রকল্প।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে চলতি অর্থবছরের ৮ম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য এরই মধ্যে ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মেয়াদ বৃদ্ধি, সংশোধন এবং নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ১১টি।

এর বেশির ভাগই নতুন প্রকল্প। সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে চারটি। অর্থাৎ নতুন প্রকল্প রয়েছে সাতটি। এর বাইরে পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ৩০টি প্রকল্প প্রস্তাব একনেক সভাকে অবহিত করা হবে।

নতুন সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভায় যেসব প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থানীয় সরকার বিভাগের। এই বিভাগের রয়েছে তিনটি প্রকল্প। স্থানীয় সরকার বিভাগের বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলাগুলোর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ (৩য় পর্যায়) এবং অবকাঠামো, উন্নত দক্ষতা এবং তথ্যে অ্যাকসেসের মাধ্যমে দুর্বলদের জন্য স্থিতিস্থাপকতা প্রচার করা (পোভার্টি) (১ম সংশোধিত)।

এ ছাড়া একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ বেতার, শাহবাগ কমপ্লেক্স, আগারগাঁও, ঢাকায় স্থানান্তর, নির্মাণ ও আধুনিকায়ন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি তৃতীয় বার সংশোধনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর বাইরেও একনেক সভার অবগতির জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাবিত ৩০টি প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ সংশ্লিষ্ট ১৪টি, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের ৯টি, শিল্প ও শক্তি বিভাগের একটি এবং কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের ছয়টি প্রকল্প।


একনেক   জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ   দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

দৈনিক রেমিট্যান্স এসেছে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার

প্রকাশ: ০৮:৫৩ পিএম, ২৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪১ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৫ হাজার ২০৮ কোটি টাকা (প্র‌তি ডলার ১১০ টাকা হিসাব করে)। এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

রোববার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, মার্চ মাসে প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪১ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার। তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে দুই কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১২০ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি মার্কিন ডলার। আর ফেব্রুয়া‌রি‌তে আসে ২১৬ কো‌টি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ।

রেমিট্যান্স   প্রবাসী আয়   বাংলাদেশ ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন