ইনসাইড পলিটিক্স

ইনসাফ কায়েম কমিটি নিয়ে ধোঁয়াশা, কারা এরা?


Thumbnail জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটির নৈশভোজ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক এ নেতা বলেছেন, দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরবেন। বহিষ্কারের কারণ হিসেবে জানা যায়, শওকত মাহমুদকে নিয়ে বহুদিন ধরেই বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছিল। তার কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছিল। এর আগে তাকে দু’দফা শোকজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সূত্র। সূত্রটি বলছে, সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) রাজধানী বনানীর এক হোটেলে ন্যাশনাল কমিটি ফর সিভিল রাইটস জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটির এক সুধী সমাবেশ ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার এবং সদস্য সচিব বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ কারণেই শওকত মাহমুদকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে বহিষ্কারের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন- বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে। জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটিও সরকারের পতন চায়। সেক্ষেত্রে জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি নিশ্চয়ই বিএনপি বা সমমনা দলগুলোর একটি অংশ। তবে শওকত মাহমুদকে কেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলো? তবে কি এটি বিএনপির নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের কৌশল? আবার কেউ বলছেন, ইনসাফ কায়েম কমিটি যদি বিএনপি বা সমমনা দলগুলোর অংশ না হয়, তবে কারা এরা?          

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটির নেপথ্যে থেকে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা নিজেদেরকে আমেরিকান সিআইএ-তে কর্মরত বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। যারা আয়োজক তাদের মতে, ১৯১৩ সালে তারা এই কমিটি গঠন করেছেন। নৈশভোজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন করে তারা এই কমিটি পুনরুজ্জীবিত করলেন। ল্যাংলে-তে কাজ করেন বলে যিনি পরিচয় দেন, অর্থাৎ আমেরিকাতে সিআইএ হেডকোয়ার্টারে তিনি কাজ করেন, নাম মাসুদ করিম। অনেক দিন থেকেই এই অঞ্চলে তাকে দেখা যায়, কখনও ব্যাংককে কখনও কাডমান্ডুতে, কখনও কলোম্বতে এবং দুবাইয়ে এসব জায়গায়- তিনি বাংলাদেশি আমেরিকান, তার এলাকা সিলেটে। আমাদের দেশের প্রথিতযশা অ্যাক্টিভিস্ট যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় তিনি বৈঠকে মিলিত হন। যাদের সঙ্গে তিনি (মাসুদ করিম) বৈঠকে মিলিত হয়েছেন, তাদের অনেকেই ওই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। তাকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একাধিক ব্যক্তি, যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয় উপস্থাপক- তারা তাকে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। ফলে তাকে জড়িয়ে একটা রহস্য, একটা ধোঁয়াশা ওয়াকিবহাল মহলের মধ্যে আছে।

সূত্র জানায়, তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখিও হয়েছে। তারা বিভিন্ন বিরোধী নেতা-নেত্রীদের কাছে ‘সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) কাজ করেন’- এই বলে গল্প দেয় যে, তাদেরকে নাকি মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি কাজ দিয়েছে বাংলাদেশের সরকার হটানোর। যা পুরোপুরি বানোয়াট ও কল্পনা প্রসূত। আশ্চর্য হলেও সত্য এই যে, সিআইএ’র নাম বিক্রি করে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা- আমলাদের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। 

সূত্র আরও জানায়, নৈশভোজ আয়োজনের বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ড বা সিনিয়র পর্যায়ের কোনো নেতাকে জানানো হয়নি। যে কারণে এই অনুষ্ঠানের ওপর দলটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে তীক্ষ্ণ নজর ছিল। শওকত মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে দলের পক্ষ থেকে ফোন করে অনুষ্ঠানে না যেতে বলা হয়। যারা নৈশভোজে আমন্ত্রিত ছিলেন, পরে তারা অংশ নেননি। এলডিপির কর্নেল অলি আহমেদ অনুষ্ঠানে গিয়েও অংশগ্রহণ না করে ফিরে আসেন। এমনকি আমন্ত্রিত অতিথিদের নজরদারি করতে সেখানে দুই সাবেক ছাত্রনেতাকে পাঠানো হয়, যাদের মধ্যে একজন অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণ করেন। আর অন্যজন সরাসরি লাইভে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে দেখান।

বিএনপির সূত্রমতে, সোমবার (২০ মার্চ) বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ অনুষ্ঠান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে নেতারা বলেন, গত বছরের এপ্রিলে পেশাজীবী সমাজের ব্যানারে একটি সমাবেশ ডেকে সরকার পতনের ডাক দিয়েছিলেন শওকত মাহমুদ। সেই পটভূমিতে তখন ওই সমাবেশের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক ছিল না। এর আগে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বরও হাইকমান্ডকে না জানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি মিছিল বের করে মুক্তাঙ্গনে গিয়ে অবস্থান নেন। দুই কর্মসূচির নেতৃত্বেই ছিলেন শওকত মাহমুদ। দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে ‘সরকার পরিবর্তন আন্দোলন’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তাকে দুবার শোকজ করা হলেও এসব থেকে তিনি বের হতে পারেননি। ফলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে বহিষ্কার করা হয়।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, যেখানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে বিজয়ী হলে রাজপথে আন্দোলনে থাকা দলগুলো নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন, সেখানে ইনসাফ কায়েম কমিটির ব্যানারে শওকত মাহমুদ তার প্রস্তাবনায় অন্তর্বর্তীকালীন একটি জাতীয় সরকার গঠনের দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রস্তাবনায় জাতীয় সরকার গঠনের পর সেই সরকারকে বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়। দলের পদে থেকে ভিন্ন ব্যানারে শীর্ষ নেতার সিদ্ধান্তকে অমান্য করেছেন তিনি। জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটির ব্যানারে যে অনুষ্ঠান হয়েছে, সেখানে একাধিক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ছিলেন, যাদের শওকত মাহমুদের আগের দুই বিতর্কিত কর্মসূচিতেও দেখা গেছে। আগে ক্ষমা করা হলেও এখন ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দলে ভিন্ন মেসেজ যেতে পারে। পরে স্থায়ী কমিটির সবার মতামতের ভিত্তিতে শওকত মাহমুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হলেও কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনজন ভাইস চেয়ারম্যান ও দুজন যুগ্ম মহাসচিব জানান, বনানীর হোটেলে সুধী সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অন্তত ২৬ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দলের একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও অঙ্গ সংগঠনের একজন শীর্ষ নেতাকে ফোকাস করা। কিন্তু তারা দলের হাইকমান্ডকে বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেন এবং সেখানে অংশ নেবেন না বলেও নিশ্চিত করেন।

সূত্র জানায়, জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটির এই আয়োজনটার টাকা কোত্থেকে এসেছে?- এটা নিয়েও অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা করেছেন। প্রায় ১২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এই টাকা কোত্থেকে এসেছে সেটাতো কেউ বলেন নাই। তবে এইটা বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা হয়তো সহায়তা করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।   

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির ওই নেতারা জানান, তাদের অনুষ্ঠানে অর্থের উৎস নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির কাছে তথ্য রয়েছে, এর পেছনে একটি শক্তি কাজ করছে। এর আগেও নানা তৎপরতায় তাদের নাম এসেছে। এখন আবারও নতুন করে কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। বিএনপির নেতৃত্ব ও আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করাই হলো তাদের মূল উদ্দেশ্য। এর সঙ্গে বিএনপির কিছু নেতা ছাড়াও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও কিছু পেশাজীবী নেতা জড়িত আছেন। যারা ফেব্রুয়ারিতেও থাইল্যান্ডে গোপন বৈঠক করেছেন বলেও তথ্য আছে। 

এসব বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্যত বিএনপি অস্বীকার করলেও বিএনপিকে কেন্দ্র করেই জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি ফোকাস হতে চেয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছে। যদিও বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এ ঘটনাও সন্দেহের উর্ধ্বে নয়। হতে পারে এটি বিএনপির নতুন কোনো ষড়যন্ত্র। আবার এ-ও হতে পারে, যেহেতু জামায়াতের সাথে বিএনপির একটা সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে, তাই বিএনপির নেতাদের সামনে রেখে নতুন একটা পরিকল্পনা করছে জামায়াত। তবে ইনসাফ কায়েম কিমিটির পেছনে বিএনপি না জামায়াত ইন্দন দিচ্ছে- সেটাই দেখার বিষয়।


জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি   নৈশভোজ   শওকত মাহমুদ   বিএনপি   জামায়াত   সিআইএ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০৩:৪৭ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

দেশের চলমান নানা পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এই বৈঠক হয়। 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কামরুল ইসলাম, মির্জা আজম, বাহাউদ্দিন নাছিম, মাহবুবুল হক হানিফসহ শীর্ষ নেতারা। এছাড়া ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি-সম্পাদক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সাড়ে ১০টার দিকে এই কার্যালয়ে আসেন ওবায়দুল কাদের। সাধারণত কার্যালয়ের নিচের কক্ষে বৈঠক হলেও আজকের বৈঠকটি কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক   ওবায়দুল কাদের   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না, আন্দোলনের কুশীলব বিএনপি-জামায়াত: কাদের

প্রকাশ: ০৩:৪৭ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের জবাব দিতে ছাত্রলীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের সবাই প্রস্তুত আছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের উল্লেখ করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রচেষ্টা চলছে এবং এতে বিএনপির সমর্থন ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের অস্তিত্বকে আঘাত করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী স্লোগান দিয়ে এ আশঙ্কা প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এ দেশের মাটিতে রাজাকারের জায়গা নেই, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য যথার্থ। পরাজিত শক্তির আস্ফালন মেনে নেওয়া হবে না। যারা দেশের গৌরবকে অস্বীকার করে রাজাকার পরিচয় দেয়, তারা কিভাবে নিজেদের মেধাবী পরিচয় দেয়?”

কাদের সতর্ক করে বলেন, রাজাকারের চেতনা ধারণকারীরাও রাজাকার। আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব ছাত্রলীগই দেবে।

 তিনি আরও বলেন, অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। আন্দোলনের কুশীলব বিএনপি-জামায়াত। সরকারের বিরুদ্ধে আল্টিমেটাম দেওয়া দৃষ্টতা। কোটা সংস্কার নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। জনদুর্ভোগ মেনে নেওয়া হবে না। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের জবাব দিতে ছাত্রলীগসহ স্বাধীনতার সপক্ষের সবাই প্রস্তুত।



ওবায়দুল কাদের   কোটা আন্দোলন   বিএনপি-জামায়াত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভেসে যাবে সরকার: রিজভী

প্রকাশ: ১২:৫১ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের স্রোতে সরকার ভেসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে কারাবন্দি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুক হক এনামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অহেতুক মন্তব্য করেছেন। ঢালাওভাবে আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতি’ বলে নিন্দা করেছেন।

‘রাগ করে ২০১৮ কোটা বাতিল করেছি- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, শপথ ভঙ্গ করেছেন। দেশের আদালত আজ প্রধানমন্ত্রীর শাড়ির আঁচলে বন্দি’ বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগকে সরকার লেলিয়ে দিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এ আন্দোলনে ক্ষমতাসীনরা ভেসে যাবে, তাদের সিংহাসন উড়ে যাবে।’

গণতন্ত্র ফিরে না আসা পর্যন্ত বিএনপি রাজপথে থাকবে বলেও জানান রুহুল কবির রিজভী। 


বিএনপি   রাজনীতি   রুহুল কবির রিজভী   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

হাসপাতালে খালেদা জিয়া, দেখতে আসেনি পরিবারের কেউ

প্রকাশ: ১২:৫৬ পিএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সাত দিন ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনও উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে গত কয়েক মাসে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। টানা ১০ দিনের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ২ জুলাই বাসায় নিয়ে আসা হয় তাকে। কিন্তু ৫ দিনের ব্যবধানে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে ৮ জুলাই ভোর রাতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এখন পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে তাকে দেখতে দুই সন্তানের পরিবারের কেউ দেশে আসেনি। তবে নিয়মিত পরিবারের সদস্যরা ভার্চুয়ালি তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার দুই সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিবার ও ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফত রহমান কোকোর পরিবার লন্ডনে থাকেন। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাকালে এবং বিভিন্ন সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকলে তাকে দেখতে দেশে আসতেন কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে। এবার এখন পর্যন্ত তাদের কেউ দেশে আসেনি।


হাসপাতাল   খালেদা জিয়া   দেশে   পরিবার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘কোটা নিয়ে সংসদে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে’

প্রকাশ: ১১:২৪ এএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। কোটা যেভাবে আছে তা চলতে পারে না। সংসদে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে। রোববার (১৪ জুলাই) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

সময় সরকারের সমালোচনা করে চুন্নু বলেন, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতায় দুর্নীতির বিস্তার হয়েছে দেশে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। কোটা যেভাবে আছে তা চলতে পারে না। সংসদে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে সর্বোচ্চ শতাংশ কোটা রেখে, বাকি কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাসের এক দফা দাবিতেবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারেশিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

গত জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সরকারি চাকরির প্রথম দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেন। পরে ১০ জুলাই হাইকোর্টের দেয়া রায়ে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন আপিল বিভাগ।

এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


কোটা   সংসদ   বিল   জাতীয়   পার্টি   ভূমিকা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন