ইনসাইড পলিটিক্স

আইনি জটিলতায় বিপাকে বিএনপি

প্রকাশ: ০১:০০ পিএম, ২১ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মরিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘকাল ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে আরও সহিংস হয়ে উঠেছে। হরতাল-অবরোধে চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে চাইলেও দেশজুড়ে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কারণ, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগই নানান অপরাধে জড়িত, যারা সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার পরিপন্থি।

জানা যায়, মামলা, গ্রেপ্তার এবং আদালতের সাজায় বড় নেতৃবৃন্দ রাজনীতির মাঠের বাইরে রয়েছেন। এরমধ্যে গত রোববার এবং সোমবারেই পুরোনো মামলায় ১৪০ জনের সাজা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। ২৮ অক্টোবরের সহিংসতায়ও রাজধানীতে থাকা শীর্ষ নেতাদের নামেও হয়েছে মামলা। যোগ্য প্রার্থীর সংকট এবং আইনি জটিলতার কারণেই বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, সংবিধান লঙ্ঘনে মামলা, সাজাসহ ফৌজদারি দন্ডে দণ্ডিতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের দফা (১) এ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে বলা হয়েছে। সেখানে অযোগ্যতারও কিছু শর্ত রয়েছে যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ তে উল্লেখ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) তে ১২ এর (১) এর (ঘ) অনুযায়ী, ‘সংবিধানের ৭৩, ৭৪, ৭৮, ৭৯ ,৮০, ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪ ও ৮৬ অনুচ্ছেদ এর অধীন কোন অপরাধে অপরাধী হইয়া অন্যুন দুই বছরের কারাদণ্ডে দন্ডিত হইয়া থাকেন এবং তাহা হইতে মুক্তি লাভের তারিখের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়’ তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ফৌজদারি অপরাধে মামলা হলেও তিনি নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।‘ 

গত কয়েকদিনে রাজধানীতে নাশকতার অভিযোগে হওয়া পৃথক সাত মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ সহ অঙ্গসংগঠনের ১৪০ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; এমনকি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর তাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও শীর্ষ নেতাদের অভাবে মনোনয়ন কিংবা সংলাপ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে দলটি। কারণে, প্রায় সকলেই মামলাজটে জর্জরিত।

গত ২৮ অক্টোবর পুলিশ সদস্য খুন, নাশকতা, প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও হাসপাতালে হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায়ও বিপুল সিনিয়র নেতাকর্মী অগোচরে। এদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বাইরে রয়েছেন। কিন্তু, তার নামেও রয়েছে মামলা। তিনি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবরোধ-হরতাল ঘোষণা করে চলেছেন। তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অগ্নিসংযোগ-ভাংচুর চালাচ্ছেন। এতে তাদের নামেও মামলা হচ্ছে। একদিকে মামলা এবং আইনি জটিলতায় বিএনপির সিনিয়র নেতারা বিচারাধীন, অন্যদিকে তৃণমূল ব্যস্ত নাশকতায়। সব মিলিয়ে দ্বাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে শীর্ষস্থানীয় দলটি।


নির্বাচন   মামলা   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

হাসপাতালে খালেদা জিয়া, দেখতে আসেনি পরিবারের কেউ

প্রকাশ: ১২:৫৬ পিএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সাত দিন ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনও উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে গত কয়েক মাসে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। টানা ১০ দিনের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ২ জুলাই বাসায় নিয়ে আসা হয় তাকে। কিন্তু ৫ দিনের ব্যবধানে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে ৮ জুলাই ভোর রাতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এখন পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে তাকে দেখতে দুই সন্তানের পরিবারের কেউ দেশে আসেনি। তবে নিয়মিত পরিবারের সদস্যরা ভার্চুয়ালি তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার দুই সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিবার ও ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফত রহমান কোকোর পরিবার লন্ডনে থাকেন। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাকালে এবং বিভিন্ন সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকলে তাকে দেখতে দেশে আসতেন কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে। এবার এখন পর্যন্ত তাদের কেউ দেশে আসেনি।


হাসপাতাল   খালেদা জিয়া   দেশে   পরিবার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘কোটা নিয়ে সংসদে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে’

প্রকাশ: ১১:২৪ এএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। কোটা যেভাবে আছে তা চলতে পারে না। সংসদে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে। রোববার (১৪ জুলাই) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

সময় সরকারের সমালোচনা করে চুন্নু বলেন, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতায় দুর্নীতির বিস্তার হয়েছে দেশে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। কোটা যেভাবে আছে তা চলতে পারে না। সংসদে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে সর্বোচ্চ শতাংশ কোটা রেখে, বাকি কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাসের এক দফা দাবিতেবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারেশিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

গত জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সরকারি চাকরির প্রথম দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেন। পরে ১০ জুলাই হাইকোর্টের দেয়া রায়ে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন আপিল বিভাগ।

এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


কোটা   সংসদ   বিল   জাতীয়   পার্টি   ভূমিকা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিতে অনেক যোগ্য নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন: মেজর হাফিজ

প্রকাশ: ০৯:৪৩ এএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, বিএনপিতে অনেক যোগ্য নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। যোগ্য নেতাদের আরও মূল্যায়ন করা উচিত।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি, দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল সর্বগ্রাসী দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার দাবিতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। এ আলোচনা সভায় মেজর হাফিজ এসব কথা বলেন।

এছাড়াও মেজর হাফিজ বলেন, আজ হাজার হাজার তরুণ ছাত্রছাত্রী রাস্তায় নেমেছে। ৫৬ শতাংশ কোটা বিশ্বের কোনো দেশে নেই। আমাদের দেশের কোটাব্যবস্থা অসভ্যতার পরিচায়ক। কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানাই। মেজর হাফিজ বলেন, ছাত্রসমাজকে বলব মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আশা করি কোটা আন্দোলন সফল হলে তোমাদের গণতন্ত্র ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে রাজপথে লড়াই করতে হবে। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকব ইনশা আল্লাহ। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ। আওয়ামী লীগ দুর্নীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দলীয় সমর্থনপুষ্ট আমলারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখেছে। জনগণ ভোট দেয় না। পরপর তিনটি প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগের কোনো নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় থাকার।


বিএনপি   যোগ্য   নেতৃত্ব   অবমূল্যায়ন   মেজর হাফিজ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আজ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৯:২৪ এএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের এই দিনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঢাকাসহ সারা দেশে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং স্মরণসভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পার্টির প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করবে জাতীয় পার্টি ও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন।

ঢাকায় জাতীয় পার্টির কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল ৯টায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মিলনায়তনে হবে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত। বিকাল ৩টায় রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি। জাতীয় পার্টি মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপিসহ দলের শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত থাকবেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কুচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে তার পরিবার রংপুরে চলে আসে। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এরশাদ।

১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসাবে নিয়োগ করা হয়।

১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এই পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।

১৯৯১ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গ্রেফতার হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় পাঁচটি করে আসনে জয়ী হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেন তিনি। ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তার দল ২৭টি আসনে জয়ী হয়। এরপর দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালনের মধ্যেই অসুস্থ হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সিএমএইচে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


জাতীয়   পার্টি   প্রতিষ্ঠাতা   এরশাদ   পঞ্চম   মৃত্যুবার্ষিকী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সংকট সমাধানে চায় রাজনৈতিক উদ্যোগ

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৩ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

শিক্ষকদের সঙ্গে পেনশন স্কিম নিয়ে আজ বৈঠক হয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে। এই বৈঠক অত্যন্ত সফল এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ এবং শিক্ষক প্রতিনিধিদের উভয়ই বলেছেন। শিক্ষক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই বৈঠকটি আরও আগেও হতে পারত। তাহলে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে এবং শিক্ষকরাও এভাবে আন্দোলনে যেতেন না। এই একটি ঘটনা সুস্পষ্ট করেছে যে, এই ধরনের সংকটের রাজনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি এবং রাজনৈতিকভাবে যে কোনও সংকটের সমাধান করাটা রাজনৈতিক সরকারের কাছ থেকে কাম্য। 

কিন্তু গত ১৫ বছরে আস্তে আস্তে আমলাতন্ত্রের খপ্পরে পড়েছে সরকার। যে কোনও সংকট সমাধানের জন্য আমলাতান্ত্রিক সুরাহার পথে এগোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তার ফল হচ্ছে হিতে বিপরীত। পেনশন স্কিমের কথাই যদি ধরা যায় তাহলে এই পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন করা যেত আরও সহজে এবং সুন্দর প্রক্রিয়ায়। যখন শিক্ষকদের কাছে এই পেনশন স্কিম দেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, তখনই যদি সংশ্লিষ্টরা শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতেন, তাদেরকে পুরো বিষয়টা বোঝাতেন এবং এটি সরকার কেন চাচ্ছে তার বাস্তব কারণের কথা উল্লেখ করতেন, সে ক্ষেত্রে শিক্ষকরা হয়তো এই ধরনের আন্দোলনে যেতেন না। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া একতরফা ভাবে একটি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তটি শিক্ষক সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। 

বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, একটি সংকটের সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগ খোঁজার আগে আমলাতান্ত্রিক সমাধানের দিকে সরকার ঝুঁকছে এবং এর ফলে ছোট সমস্যা বড় আকার ধারণ করছে। ধরা যাক ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের বিষয়টি। সেই সময়ে যখন শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলন করেছিল তখনই এর রাজনৈতিক সমাধান হতে পারত। সরকার পুরো কোটা বাতিল না করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বসতে পারতেন এবং কোটা নিয়ে একটি কমিশন করে কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে সকল পক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা যেত। কিন্তু সরকার সে পথে যায়নি। 

আমলারা সমাধান দিয়েছেন যে এখনই সব কোটা বাতিল করে দিলে সংকটের সমাধান হবে। এ যেন মাথা ব্যথায় মাথা কাটার মতোই সমাধান। সেই সময়ই সমাধান হয়েছিল বটে। কিন্তু এটি যে একটি যুক্তিসঙ্গত সমাধান ছিল না আজ তা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ সমস্ত কোটা বাতিল করা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এর ফলে মানুষ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। কোটা বাতিলের পর বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এই সময় নারীর বিসিএস অন্তর্ভুক্তি কমেছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর চাকরি লাভে বঞ্চিত হয়েছে। অন্তত ১৮ থেকে ২০ টি জেলা থেকে কেউই সরকারি চাকরি পায়নি। তাই টানা ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগকে সব সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে, আমলাতান্ত্রিক সমাধান নয়। যে সমস্যাগুলো রাজনৈতিক ভাবে সমাধান করা যায় তা দীর্ঘ মেয়াদী সুফল দেয় সরকারকেই। রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে একটি সমাধানে সকল পক্ষের ভূমিকা থাকে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক সমাধান সবসময় চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং এ ধরনের সমাধান দীর্ঘ মেয়াদে সরকারকেই চাপে ফেলে। যা বর্তমানে হয়েছে। আর এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সকলে মনে করেন যে সংকট সমাধানে সরকারকে রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, আমলাতান্ত্রিক নয়।

পেনশন স্কিম   আওয়ামী লীগ   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন