ইনসাইড বাংলাদেশ

রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২:১৪ পিএম, ১১ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ঘূর্ণিঝড় রেমালে যাদের ঘরবাড়ি ভেঙেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে, তাদেরকে আমরা ঘর তৈরি করে দেব। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো নির্মাণের উপকরণ দিয়ে সহায়তা করব।

মঙ্গলবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের কাছে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। এদিন সারাদেশে গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে আরও ১৮ হাজার ৫৬৬টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস হয়ে গেল। সেখানে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকে যেন ঘর নির্মাণ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা আমি করে দেব। এরইমধ্যে সেভাবে আমার প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রত্যেক এলাকা থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি। সে অনুযায়ী আমরা সহায়তা পাঠাব।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করার পর অবৈধভাবে ক্ষমতার দখলকারীরা এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে ব্যস্ত ছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তখন থেকেই ভূমিহীন মানুষদের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তখন বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তারপরও ভূমিহীন মানুষদের মধ্যে ঘর তৈরি করার জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প নিয়ে আমরা ঘর বানাতে শুরু করি।


প্রধানমন্ত্রী   রেমাল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কুবির প্রধান ফটকে কোটা বিরোধীদের অবস্থান, উত্তাল ক্যাম্পাস

প্রকাশ: ০৯:০৬ এএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। তাদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে মধ্যরাতের নীরব ক্যাম্পাস। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল,শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল, শেখ হাসিনা হলে দফায় দফায় স্লোগান উঠে। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু ও নজরুল হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে জড়ো হোন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা অবিলম্বে কোটা সংস্কার চান। এ নিয়ে তারা কোনো অজুহাত মানবেন না।

এছাড়াও ঢাবি, জবি, জাবি, চবি, ইডেন মহিলা কলেজ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।



কুবি   বিক্ষোভ   আন্দোলন   শিক্ষার্থী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেরোবির কোটা বিরোধী মিছিলে কারমাইকেল কলেজসহ অন্যরাও

প্রকাশ: ০৯:০৫ এএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা বিরোধী স্লোগানে উত্তাল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাস। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও অংশ নেন কারমাইকেল কলেজসহ পার্শ্ববর্তী কলেজের শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে বারটার দিকে তারা এই মিছিল বের করেন।

এর আগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বের হয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা কোটা বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছাড়াও পার্ক মোড়, মডার্ণ মোড়, লালবাগ, খামার মোড়, দর্শণা ও কলেজ পাড়া, সরদার পাড়া খেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাসে আসেন। এরপর রাত ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে মডার্ন মোড়, দর্শনা হয়ে আবার ক্যাম্পাসে এসে অবস্থান নেন।


বেরোবি   কোটা   মিছিল   কারমাইকেল কলেজ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রাতের স্লোগানে উত্তাল দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

প্রকাশ: ০৯:০৪ এএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তপ্ত হয় ওঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ফলে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলগুলো থেকে মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে এসে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এ সময় তারা, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার’, ‘রাজাকার আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাস ও রাজপথে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে গণভবনে চীন সফর উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে। গত কয়েক দিন ধরে কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথ উত্তাল করে রেখেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? তাদের নাতিপুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? এটা আমার দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন। তাদের অপরাধটা কী? নিজের জীবন বাজি রেখে, নিজের পরিবার সব ফেলে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, দিন-রাত খেয়ে না খেয়ে, কাদামাটি পেরিয়ে, ঝড়বৃষ্টি সব মোকাবিলা করে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দিয়েছে। বিজয় এনে দিয়েছে বলেই তো আজ সবাই উচ্চপদে আসীন। আজ গলা বাড়িয়ে কথা বলতে পারছে। তা না হলে পাকিস্তানিদের বুটের লাথি খেয়ে থাকতে হতো।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ‘অবমাননাকর’ দাবি করে মধ্যরাতে একযোগে প্রতিবাদে নামেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বলেন, এত দিন তারা কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য তাদের ব্যথিত করেছে। সমাধানের কোনো পথ বাতলে না দিয়ে উল্টো তিনি তাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেছেন। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’, ‘এই বাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাঁটি’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

এক সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ঢাবির মাস্টারদা সূর্যসেন, বিজয় একাত্তর ও মুহসিন হলের শিক্ষার্থীদের গেটে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা বিজয় একাত্তর হলের সামনে জড়ো হন। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বেগম রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা গেটের তালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

পরে সম্মিলিত মিছিল নিয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল, সূর্যসেন হল, বিজয় একাত্তর হল, জিয়াউর রহমান হল, বঙ্গবন্ধু হল, জসিম উদ্দীন হল, শহীদুল্লাহ হল, জগন্নাথ হল, এফএইচ হল, একুশে হল এবং রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন টিএসসিতে।

এ সময় তাদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারও বাপের না’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘আমার স্বাধীন বাংলায়, একের কথা চলে না’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালি-বাঙালি’, ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারও বাপের না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলার জেরে রোববার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, আজ সংবাদ সম্মেলনে কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য আমাদের রক্তে আগুন ধরিয়েছে। যখন কারও রক্তে দাগ লাগানো হয়, তখন কেউ ঘরে বসে থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, তাহলে আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

রাত দেড়টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি শেষে তারা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা হল থেকে বেরিয়ে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন।  

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার’ স্লোগান দিতে থাকেন।

ইডেন কলেজ 

ঢাকা, জবি, রাবির পাশাপাশি কোটা সংস্কারের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে কোটা বিরোধীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। প্রায় একই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ প্রত্যেকটি হলের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

অপরদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা তাতীবাজার মোড় অবরোধ করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে তারা ওই সড়কে অবস্থান নেন।

এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রীরা হল থেকে এবং আশেপাশে মেসে থাকা ছেরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন।

উল্লেখ্য, দুপুরে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্তে না যায় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এসে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সময় রাজধানীর শাহবাগ থানায় কোটাবিরোধীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারে পূর্বে দেওয়া আল্টিমেটামের ২৪ ঘণ্টার সঙ্গে আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে হামলা করেছে ছাত্রলীগ। রোববার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে রাত নয়টার দিকে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’ ইত্যাদি স্লোগান দিইয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে তারা বিভিন্ন হল থেকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলায় জড়ো হতে থাকেন। 

এসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে দুজন আন্দোলনকারীকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই খবর জানাজানি হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের মুক্ত করার জন্য বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার। তখনো শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলের সামনে ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছিলেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি রাত সোয়া দুইটার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন এবং মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন শিক্ষক দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা আন্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবির আখ্যা দেন ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গালাগাল করেন।

এক পর্যায়ে রাত পৌনে তিনটার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ৪৬ ব্যাচের ছাত্র প্রাচুর্যসহ বেশ কয়েকজন হামলা করছেন। হামলায় আহসান লাবিব নামের একজন আন্দোলনকারী ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উসকে দিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের অর্থসম্পাদক ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তৌহিদুল আলম বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা আমাদের হলের সামনে এসে কোটা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগকে অবমাননা করে স্লোগান দিচ্ছিল। তখন আমরা একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। তাদের কোনো হামলা করিনি, যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছি। আমরা হলে ফিরে যাওয়ার সময় তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।’

এদিকে সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টায় সহউপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, এমন আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভোর সাড়ে চারটার দিকে নিজ নিজ হলে ফিরে যেতে থাকেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় 

প্রধানমন্ত্রীর একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত ১১টার পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং নারী ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত শেখ হাসিনা হল থেকে ভেসে আসে স্লোগানের শব্দ। 

‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’, ‘কীসের তোমার অধিকার, তুমি একটা রাজাকার’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল ক্যাম্পাসের হলগুলো। রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের মূল গেটে মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  

নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাইফুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার এখন পর্যন্ত মোটেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। একটি বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে রাজাকারের নাতি-নাতনি বলে সম্বোধন করেছেন। একটা ঘৃণিত শব্দ এখন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবি করছি।’ 

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় 

এদিন রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনকারীরাও। বিভিন্ন হল ও কটেজ থেকে মিছিল করতে করতে বেরিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে। এ সময় ‘চাইলাম অধিকার, হইলাম রাজাকার’, ‘তুমি কে, আমি কে-রাজাকার, রাজাকার’-এমন বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

সরকারি চাকরিতে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মিছিল বের করেন আন্দোলনরত কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা। রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা চত্বরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় 

রোববার (১৫ জুলাই) রাতে জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মিলিত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পুনরায় জিয়া মোড়ে এসে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন। 

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় 

রাত সাড়ে ১১টা থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ মুখতার ইলাহি হল থেকে ভেসে আসে স্লোগানের শব্দ। এ সময় মিছিল বের করে মিছিলটি রংপুরের মর্ডান মোড়, দর্শনা, লালবাগ হয়ে আবারও পার্ক মোড় হয়ে আবারও মর্ডান মোড়ে গিয়ে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘কীসের তোমার অধিকার, তুমি একটা রাজাকার’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল।  

শাবিপ্রবিতে মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীদের ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে মাঝরাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। বিপরীতে ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি’ পাল্টা স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও অ্যাকাডেমিক ভবন ডি’এর সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষ। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।

প্রসঙ্গত, চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে না কি রাজাকের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে? তারই প্রতিবাদে রাতেই রাজপথে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় 

ঢাবিসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে মধ্যরাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। এ সময় তারা কোটা বিরোধী স্লোগান দেন।

প্রথমে বঙ্গবন্ধু হল ও শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা স্লোগান শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে হল থেকে বের হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলে আসেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে স্লোগান দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ডে এসে মিছিলটি শেষ করেন।

এদিকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীরা হলের ভেতরে মিছিল বের করেন। মিছিলটি হলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

শেরে বাংলা হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছি। আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিলে আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাব।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়   জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়   ইডেন কলেজ   জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়   কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়   চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   রাবি   ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়   শাবিপ্রবি   বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়   কোটা আন্দোলন   বিক্ষোভ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঢাবির কোটা বিরোধীদের সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নামেন বুয়েট

প্রকাশ: ০৮:৫০ এএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাজপথে নেমে আসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। 

রোববার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে ২টার দিকে কয়েক'শ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে ঢাবির টিএসসিতে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা আবার চলে যান। 

এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। রোববার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ প্রত্যেকটি হলের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, কবি জসিম উদ্দিন হল, বঙ্গবন্ধু হল, জিয়াউর রহমান হলসহ বিজ্ঞান অনুষদের হলগুলোর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এদিকে, মিছিলে যোগ দেওয়া ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল, বিজয় একাত্তর হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীদেরকে আটকে রাখার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসে এই হলগুলোর মূল ফটকের তালা ভেঙে আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে উদ্ধার করে মিছিলে যুক্ত করেন।


ঢাবি   কোটা   বুয়েট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মধ্যরাতে ইডেন কলেজেও কোটা বিরোধীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ০৮:৪৭ এএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা, জবি, রাবির পাশাপাশি কোটা সংস্কারের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে কোটা বিরোধীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন।

প্রায় একই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ প্রত্যেকটি হলের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

অপরদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা তাতীবাজার মোড় অবরোধ করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে তারা ওই সড়কে অবস্থান নেন।

এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রীরা হল থেকে এবং আশেপাশে মেসে থাকা ছেরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন।

উল্লেখ্য, দুপুরে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্তে না যায় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এসে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সময় রাজধানীর শাহবাগ থানায় কোটাবিরোধীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারে পূর্বে দেওয়া আল্টিমেটামের ২৪ ঘণ্টার সঙ্গে আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন তিনি।


ইডেন কলেজ   শিক্ষার্থী   কোটা আন্দোলন   বিক্ষোভ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন