ইনসাইড পলিটিক্স

চা-চক্রে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৩ অগাস্ট, ২০১৮


Thumbnail

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট আজ সোমবার এক চা চক্রের আয়োজন করেন। অ্যামেরিকান ক্লাবের এই চা চক্রটিকে বলা হয়েছে বার্নিকাটের বিদায় উপলক্ষে সুশীলদের সঙ্গে বৈঠক। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই চা-চক্রে দাওয়াতি মেহমান হিসেবে যারা ছিলেন, তারা সবাই ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আমেরিকান ক্লাবে বার্নিকাটের চা-চক্রে ছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন, সিপিডির ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ওয়ান ইলেভেনের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। এছাড়াও ছিলেন দেশের বাংলা ও ইংরেজি দুটি দৈনিকের দুজন আলোচিত সম্পাদক।

বার্নিকাটের বিদায়ী চা চক্র বলা হলেও, অতিথির তালিকা দেখে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের এক করার উদ্যোগ নিয়েছেন বার্নিকাট?

অবশ্য, গত কিছুদিন ধরেই মার্শা বার্নিকাটের তৎপরতা দেশের রাজনৈতিক সচেতন মহলে অনেক প্রশ্ন উদ্রেক করেছে। সম্প্রতি সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতে একটি চা-চক্রে মার্কিন দূতাবাসের প্রটোকল ভেঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন বার্নিকাট। আজকের চা-চক্রের অতিথিদের অনেকেই সেই চা-চক্রেরও অতিথি ছিলেন। আবার সম্প্রতি বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গেও দেখা গেছে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কর্মকাণ্ড থেকে এটি স্পষ্ট যে গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব ও সুশীলদের ঐক্যবদ্ধের প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন বার্নিকাট। ওয়ান ইলেভেনের অবস্থা যদি আরেকবার ফিরে দেখা হয়, তাহলে বোঝা যাবে ওই সময় আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে একটি তৃতীয় শক্তির উত্থান চেয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেনা সহায়তায় এর প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চলে। এখন আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সম্প্রতি একটি বিষয় হয়তো অনেকেই খেয়াল করেছেন, এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুজন ও ড. কামাল হোসেন সবাই অভিন্ন ভাষায় কথা বলছেন। সবাই প্রায় একই ভাষায় সমালোচনা করছেন সরকারের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পন্থা হলো নির্বাচন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সুশীলদের নিয়ে কাজ করছে তাঁরা জনবিচ্ছিন্ন এবং নির্বাচনে মূল্যহীন বলেই স্বীকৃত। এমন সুশীলদের নিয়ে তৃতীয় শক্তির খোয়াব শুধু খোয়াবই। নির্বাচনের মাঠে এই সুশীলদের জয়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা বা আশঙ্কা নেই। তাই সুশীলদের নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৃতীয় শক্তির প্রচেষ্টা বৃথা বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। এই বিষয়টি নিশ্চয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও অজানা নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের ধারক দাবিদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুশীলদের নিয়ে তৃতীয় শক্তির উত্থানের পরিকল্পনা তবে কি ভিন্ন কোনো পথে?  

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বার্নিকাটের সাম্প্রতিক চা-চক্রসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডসহ উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। এই জল্পনা-কল্পনা শেষ পর্যন্ত কোনো পথে বাস্তবে মোড় নেবে তা কয়েক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সরকার মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০২:০৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের জাগিয়ে তুলতে হবে। সরকার ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে। ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতাগুলো অর্জিত হয়েছিল, সেই মুক্ত সমাজ, কথা বলার স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, সেগুলো এই আওয়ামী লীগ সরকার লুট করে নিয়েছে। ভিন্ন মোড়কে তারা এখানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে। 

আজ বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে  বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কেন সরকার খালেদা জিয়াকে (বিদেশে) যেতে দিতে চায় না? তারা আইনের কথা বলে। এই আইনের মধ্যেই বলা আছে, ইচ্ছা করলে সরকার তাঁকে যেতে দিতে পারে। বাধা আইন নয়, বাধা হচ্ছে সরকার। এই অবৈধ সরকার তাঁকে (খালেদা জিয়া) রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশের শুরুতে মহিলা দলের আয়োজনে মৌন মিছিল করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পুলিশ নেতা-কর্মীদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আটকে দেয়। সমাবেশ শেষেও তারা মিছিল করার চেষ্টা করেন। তাও আটকে দেয় পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, মৌন মিছিলকেও সরকার ভয় পায়।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অনুমতি না থাকা ও যানজটে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মহিলা দলকে মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। তারপরও তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে।

মহিলা দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকার সড়কে যান চলাচল সীমিত ছিল। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

মির্জা ফখরুল   বিএনপি   খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদার অসুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসকদের দুটি সংগঠনের বিবৃতি

প্রকাশ: ০১:২৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়ার শারিরীক অসুস্থতার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের প্রেস ব্রিফিং-এর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি এলামনাই এসোসিয়েশন ও এসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য সঠিক চিকিৎসার বিষয়ে যথাযথ আলোকপাত করার  আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে,  লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারন, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে। ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স হতে রক্তক্ষরন বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বারবার রক্তক্ষরন বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারনে বারবার রক্তক্ষরন এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরেও বারবার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ট্রান্সজগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিপস) করা যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি এলামনাই এসোসিয়েশন ও এসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে,  টিপস-এর ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগ জনিত কারনে অজ্ঞান হওয়ার প্রবনতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিপস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং শিরা পথে ডাই ব্যবহারে কিডনীর জটিলতা বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিপস করার সময়েও হার্ট ডিজিজ বা কিডনী ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেগম জিয়ার শারিরীক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠন দুটি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদার অসুস্থতার রাজনীতি কি বুমেরাংয়ের পথে?

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস রোগ ও তার চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের পারদটা উর্ধ্বমুখী। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন, সব জায়গায় খালেদার অসুস্থতা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। লিভার সিরোসিস রোগের সঙ্গে অনেকেই অপরিচিত হওয়ায় এ নিয়ে অন্তহীন গুজবও ছড়াচ্ছে একাধিক কুচক্রী মহল। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় বাতাসেরও আগে ছড়িয়ে যাচ্ছে এসব গুজব। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের পর খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বাংলাদেশেই সম্ভব’ বলে বিবৃতি দেয় ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএ। এরকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি যে অসুস্থ রাজনীতিটা এতদিন করে আসছিল তা এখন বুমেরাং হয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

খালেদা জিয়া গত ১৩ নভেম্বর থেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি৷ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা সংবাদ সম্মেলন করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন। বিপরীতে গত সোমবার বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বাংলাদেশেই সম্ভব’ বলে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। বিবৃতিতে সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং দেশের প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম। বর্তমানে লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম, তা করোনার সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা এসময়ে দেশের প্রায় সব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীই দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিএমএর ডাক্তারদের এ বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে অনেকেই রুষ্ট হয়েছেন বিএনপির ওপর। তারা বলছেন, শেষমেশ খালেদার অসুস্থতাকেও রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে ছেড়েছে বিএনপির নেতারা। তার ব্যক্তিগত ডাক্তাররা যে বক্তব্য দিয়েছেন এগুলো সব বিএনপির শেখানো বলেও মনে করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে রাজনৈতিক জল ঘোলাই যেন বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন একাধিক জনস্বাস্থ্যবিদ।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ডাক্তারদের করা সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, যে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে বিবৃতি দিল বা প্রেস ব্রিফ করছে তারা সবাই বিএনপির দলীয় চিকিৎসক। এখানে এভারকেয়ার হাসপাতালের কোন চিকিৎসক না, কিংবা এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের বোর্ডের কোন লিখিত সিদ্ধান্ত তারা পড়ে শোনায়নি। বিএনপির চিকিৎসকেরা খালেদার চিকিৎসা নিয়ে যে পদ্ধতির কথা বলেছে তা বিজ্ঞান সম্মত না। তারা অনেক ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রতিদিন একই সুরে কথা বলে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলছেন যে, ম্যাডাম অত্যন্ত গুরুতরভাবে অসুস্থ৷ যে কথা আমি বলেছিলাম প্রথম দিনে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে৷ এই কথাটাই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট কথা৷ তবে মির্জা ফখরুল এ কথা খালেদা জিয়ার দণ্ডিত ও জেলে যাওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন। ফলে অনেকেই এ প্রশ্ন তুলছেন যে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা একজন মানুষ এতদিন কিভাবে বেঁচে থাকে? মির্জা ফখরুলের কথা যদি সত্য হয়, তবে এটা অলৌকিক একটা ঘটনা বলেও মনে করছেন অনেকে। এমন অবস্থায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা আর অসুস্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষতো বটেই এমনকি বিএনপির ভিতরে দলীয় কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নানা কূটতর্কে জড়াচ্ছে। স্লো পয়জনিং এর মতো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বিষয়কে সামনে এনে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। নেতাকর্মীদের আন্দোলনের কথা বললেও বিদেশ থেকে ডাক্তার আনছেন না। যেখানে খালেদা জিয়ার জীবন-মরণের প্রশ্ন সেখানে আন্দোলন, চাপ প্রয়োগ, তর্ক-বিতর্ক না করে সবার আগে বিদেশ থেকে ডাক্তার আনা জরুরি। কিন্তু তারা তা করছে না। বিপরীতে দোষারোপের রাজনীতিটা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা কিংবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার বিধান মতে দণ্ড মওকুফ করে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি মিললে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়া যাবে। কিন্তু যতদিন তা হচ্ছে না ততদিন বিদেশ থেকে ডাক্তার না এনে তর্ক, বাদানুবাদ করলে, মানুষ ঠিকই আসল বিষয়টা ধরতে পারে। এটা এখন পরিষ্কার তারা চিকিৎসার ব্যাপারে আগ্রহী না, এটা নিয়ে রাজনীতি করতে যাচ্ছে এবং তারা আন্দোলন করতে চাচ্ছে। আন্দোলনের কর্মসূচির কথা বলছে। চিকিৎসার চেয়ে ওইদিকে বেশি ব্যস্ত তারা। তারা আইনের ৪০১ ধারার কথা বলছে কিন্তু আদালতে যাচ্ছে না। সুতরাং চিকিৎসা, আইন-আদালত সব ব্যাপারে বিএনপি একটি ধুম্রজালের সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের রাজনীতি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


খালেদ জিয়া   বিএনপি   স্বাচিপ   সিসিইউ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি নেতাদের বাঁধা দিলেন তারেক

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপি নেতারা চেয়েছিলেন আন্দোলন না করে সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর। কিন্তু বিএনপির এই উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে তৃতীয় দফায় এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। তিনি সে সময় বলেন যে, তার সঙ্গে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কথা হয়েছে এবং সেজন্য তিনি নতুন করে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে একটি আবেদন করেছেন। এ আবেদনের জন্য যেন বিএনপি নেতারা চেষ্টা করে।

শামীম এস্কান্দার এটাও বলেছিলেন যে এ নিয়ে কোনো রাজনীতি না করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রার্থনা করা এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টা বুঝালে তিনি সহানুভূতিশীল হবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ ব্যাপারে শামীম এস্কান্দার সাথে সহমত পোষণ করেন। এর পরপরই তিনি আরো কয়েকজন নেতাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। এই পরিকল্পনার বিষয়টি জানেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। এরপর তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে টেলিফোন করেন এবং টেলিফোন করে তাকে রীতিমত ধমক দিয়ে বলেন যে এ ধরনের উদ্যোগ কেন নেয়া হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলে সেটি বিএনপি'র জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বরং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজনীতির মাঠ গরম করার জন্য পরামর্শ দেন তারেক জিয়া।

বর্তমানে বিএনপি যে ৮ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে সে কর্মসূচি তারেক জিয়ারই প্রেসক্রিপশনে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তারেক জিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে এর ফলাফল খারাপ হবে। যদি শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়াটাই প্রধান বিষয় হয় তাহলে সরকারের সাথে দেন-দরবার করে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি আদায় করে এটা করতে হবে। কিন্তু তারেক জিয়া এটি চান নাই। তারেক জিয়া এক ঢিলে তিন পাখি মারার পরিকল্পনা থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

প্রথমত, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিটি যেহেতু একটি স্পর্শকাতর মানবিক দাবি সেজন্য সাধারণ মানুষের সহানুভূতি সহজে আদায় করা যেতে পারে এই ধারণা থেকে তারেক জিয়া এ ধরনের আন্দোলন উৎসাহী।

দ্বিতীয়ত, এই আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি স্থবিরতা কিছুটা হলেও কাটবে। বিএনপি আন্দোলনের ইস্যুতে নিজেদেরকে সংগঠিত করতে পারবে, বিশেষ করে কর্মীরা আগের চেয়ে একটু চাঙ্গা হবে।

তৃতীয়ত, শেষ পর্যন্ত যদি বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হয় সেক্ষেত্রে গরম মাঠেই তারা নতুন করে আন্দোলন করতে পারবেন। কিন্তু তারেক জিয়া কখনো অনুধাবন করেনি যে এটিকে রাজনীতিকরণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা চিকিৎসার বিলম্বিত হতে পারে। আর এটি তারেক জিয়া ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছেন বলেই অনেকে মনে করেন।

বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন যে তারেক জিয়া ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্ত হতে চান। ভারমুক্ত হওয়ার জন্য তিনি তার মাকে বলিদান করতেও কার্পণ্য করবেন না। তারেক জিয়া ভালোমতোই জানেন যে খালেদা জিয়ার জামিন কোনো আন্দোলন বা আইনি প্রক্রিয়া হয়নি, খালেদা জিয়ার জামিন হয়েছে প্রধানমন্ত্রী অনুকম্পায়। ঠিক একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার যদি অনুমতি পেতে হয় সেটি আন্দোলন করে, আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব না। এটি পেতে হবে সরকারের সাথে দেন-দরবার এবং সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু সেই সমঝোতার পথ বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন আন্দোলন খেলে আসলে তারেক জিয়া কি অর্জন করতে চাইছেন এটি বিএনপি'র অনেকের কাছে প্রশ্ন। তারেক জিয়ার বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি বরং তারা আন্দোলনের পথে এগিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার পথ কে আরো বাধাগ্রস্ত করলেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদার স্লো পয়জনিং, বিএনপিতে তোলপাড়

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে ভুল ঔষধ খাওয়ার জন্য আস্তে আস্তে বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার মূল অসুখ হলো অস্টিওআর্থারাইটিস। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই রোগে ভুগছিলেন। অস্টিওআর্থারাইটিস একটি বয়স সম্পর্কিত রোগ, যা কার্টিলেজের ক্ষয় বা ছিঁড়ে যাওয়ার জন্য হয়ে থাকে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা নেয়া হয়েছে। কিন্তু তারেক জিয়ার বিয়ের পর এই চিকিৎসার পুরো দায়িত্বই পড়ে তারেক জিয়ার স্ত্রী ডা. জোবাইদার ওপর। এই রোগ হলে পায়ে, গিটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। আর এই ব্যথা উপশম করার জন্য বেগম জিয়াকে হাই-পাওয়ার এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং ওরাল পথ্য হিসেবে প্রেসক্রিপশন করেছিলেন ডা. জোবাইদা। ব্যথানাশক ওষুধের মধ্যে অ্যাসপিরিন, কিটোপ্রোফেন, পাইরোকসিকাম, ন্যাপ্রোক্সেন। আর ইনজেকশন এবং ওরাল পথ্যের মধ্যে ছিলো পেনিসিলামাইন, সালফালাইজিন, কোরাকুয়িন, ডেপসন এবং লিভামিসোল।

উল্লেখ্য যে, ডা. জোবাইদা লন্ডনে ইমপেরেল মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করলেও কখনো প্র্যাকটিস করেননি। জিয়া পরিবারের একজন সদস্য দাবি করেছেন যে, তিনি কখনোই প্রাক্টিসিং ডাক্তার নয়। ডা. জোবাইদা তার শাশুড়ির জন্য যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন তা কি তিনি জেনেশুনে দিয়েছিলেন কিনা সেই প্রশ্ন এখন উঠেছে। এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা উপশমের জন্য এ ধরনের ঔষধ খাওয়ার ফলে লিভারে আক্রান্ত হয়েছেন যা সকলেই জানে। যখন উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়া হবে তখন তা লিভারে প্রতিক্রিয়া ফেলবে এবং বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নিয়ে বিএনপিতে এখন তোলপাড় চলছে।

বিএনপির মধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে তাহলে জোবায়দাই স্লো পয়জনিং করেছেন। ভুল চিকিৎসার কারণেই কি বেগম খালেদা জিয়ার আজকের এই অবস্থা। ডা. জোবাইদা এটি কেন করেছেন। এখন বিএনপির মধ্যে মোটামুটি সকলেই নিশ্চিত যে ডা. জোবাইদাই বেগম খালেদা জিয়ার আজকের অবস্থার জন্য দায়ী।  বিশেষ করে লিভার সিরোসিসের জন্য ডা. জোবাইদা ভুল ওষুধ দায়ী এটা নিয়ে বিএনপি'র এবং এভারকেয়ার হাসপাতাল কারও মধ্যে কোন সংশয়, সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল যে ডা. জোবাইদার মত একজন মেধাবী চিকিৎসক এটি কি  ভুল করে করেছেন নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন।

বিএনপির মধ্যে অনেকের সন্দেহ তারেক জিয়া ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্ত হওয়ার জন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে এরকম কাণ্ড করেছেন। আবার অনেকেই মনে করেন যে তারেক জিয়া কখনোই চান না যে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির কর্তৃত্ব আগের মতো নিক আর এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশেষ করার জন্য তিনি তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান কে ব্যবহার করেছেন। তারেক জিয়ার বর্তমান সময়ে আচার-আচরণ এবং তার মায়ের অসুস্থতা নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া দেখে বিএনপির মধ্যে এই সন্দেহ ক্রমশ দানা বাঁধছে। আর এ কারণেই স্লো পয়জনিং নিয়ে বিএনপিতে এখন এক ধরনের তোলপাড় শুরু হয়েছে।

খালেদা জিয়া   বিএনপি   তারেক জিয়া   ডা. জোবাইদা রহমান  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন