ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মানুষটি কেমন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:১০ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮


Thumbnail

সম্প্রতি মার্কিন সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড ‘ফেয়ার: ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’ শিরোনামে একটি নতুন বই প্রকাশ করেছেন। বইটি প্রকাশের পর থেকে সারাবিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, এই বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরের বহু বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। উঠে এসেছে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অনেক কিছুই।

বব উডওয়ার্ড একজন মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক। তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট এর হয়ে কাজ করেন। এর বিখ্যাত এ সাংবাদিক ওয়াটারগেট কেলেংকারি ফাঁস করে ১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পতন ডেকে এনেছিলেন। ওয়াশিংটনে ক্ষমতার কেন্দ্রে এমন সব লোকদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, যে কোথায় কি ঘটছে কিছুই তাঁর জানার বাইরে নয়। এজন্য তাঁর প্রকাশিত এ নতুন বইটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জানা যাক, ‘ফেয়ার: ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’ শীর্ষক বইয়ের তথ্যনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেমন?

ট্রাম্প নির্বোধ

বব উডওয়ার্ড প্রকাশিত বইয়ের তথ্যমতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ’নির্বোধ’ প্রকৃতির। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি ট্রাম্পকে নিয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠককালে তিনি ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

চলো আসাদকে মেরে ফেলি`

২০১৭ সালের এপ্রিলে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। তখন ধরা হয়েছিল, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীই এ কাজ করেছে। সেসময় ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে হত্যা করার কথা। তিনি বলেছিলেন, ‘চলো আমরা সিরিয়ায় যাই, আসাদকে মেরে ফেলি, ওদের সবাইকে মেরে ফেলি।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাটিস প্রথমে তা মেনে নিলেও পরে বলেছিলেন, তিনি এমন কিছু করবেন না।

বদমেজাজি প্রেসিডেন্ট

উডওয়ার্ড লিখেছেন, ট্রাম্প বদমেজাজী। তিনি সব সময়ই হোয়া্ইট হাউসে তার কর্মকর্তাদের বকাঝকা করেন। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কোহনের মতে তিনি একজন `পেশাদার মিথ্যেবাদী`। বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রসকে ট্রাম্প একবার বলেছিলেন, তিনি তাঁকে বিশ্বাস করেন না। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি চাই না আপনি আর কোনো আলোচনায় থাকুন। আপনার দিন শেষ হয়ে গেছে।’

তাছাড়া ট্রাম্প তাঁর প্রথম চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রাইবাসকে `ইঁদুরের সঙ্গে` তুলনা করে বলেছিলেন, `ও শুধু তিড়িংবিড়িং করে ছোটাছুটি করে।’ এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সকে প্রকাশ্যেই অপমান করেছিলেন ট্রাম্প। আড়ালে বলেছিলেন, ‘এই লোকটা একটা মানসিক প্রতিবন্ধী, দক্ষিণ থেকে আসা একটা একটা নির্বোধ। শহুরে আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতাও তাঁর নেই।’

`হাজিরা দিলে আপনাকে জেলে যেতে হবে`

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তদন্ত করছেন রবার্ট মুলারের বিশেষ কলাকুশলীরা। এই কলাকুশলীদের সামনে হাজিরা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠিক মতো জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিতে পারবেন কিনা তা দেখতে একটা `পরীক্ষামূলক মহড়ার` আয়োজন করেছিলেন তাঁর আইনজীবী জন ডাউড। সেই মহড়ায় দেখা গেল, চোখা চোখা প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে ট্রাম্প হয়রান হয়ে পড়ছেন, এক পর্যায়ে ক্ষুদ্ধভাবে সেই তদন্তকে ভুয়া বলে বর্ণনা করছেন।

তখন জন ডাউড বললেন, ‘আপনি সাক্ষ্য দিতে যাবেন না। এটা করলে আপনাকে জেলে যেতে হবে।’ ডাউড তখন মুলারের সাথে দেখা করে বললেন তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের বিরোধী। কারণ তিনি চান না যে প্রেসিডেন্টকে `একটা নির্বোধের মত` দেখাক এবং বিশ্বের সামনে গোটা জাতিকে লজ্জা পেতে হয়। কিন্তু পরে ডাউড যখন জানলেন যে প্রেসিডেন্ট সাক্ষ্য দেবেন বলে মনস্থির করেছেন, তাঁর পরদিনই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

প্রেসিডেন্টের ডেস্ক থেকে কাগজ চুরি

উডওয়ার্ড তাঁর প্রকাশিত বইয়ে বলছেন, ট্রাম্প একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। ট্রাম্প যাতে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে না পারে, সেজন্য তাঁর প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্যারি কোহন এবং হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি রব পোর্টার দলিলগুলো ডেস্ক থেকে সরিয়ে নিয়ে লুকিয়ে ফেলেন। উডওয়ার্ড এই ঘটনাটিকে `একটি প্রশাসনিক ক্যু দেতা-র চাইতে কম কিছু নয়` হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

ট্রাম্প সম্পর্কে অন্যদের বক্তব্য

ট্রাম্প সবসময় অন্যদের নিয়ে খারাপ কথা বলেন। এর বিপরীতে তাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পাল্টা বলতে ছাড়েননি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস একবার বলেছিলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ট্রাম্পের জ্ঞানবুদ্ধি ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়া একটা ছেলের মতো।’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেডরুমকে `শয়তানের কারখানা` বলে বর্ণনা করেছেন কেলির পূর্বসুরী রেইন্স প্রাইবাস। এখান থেকেই নিয়মিত টুইটার বার্তা ছাড়েন প্রেসিডেন্ট। উডওয়ার্ড তাঁর বইয়ে আরও লিখেছেন, ট্রাম্প মনে করন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর থেকে ভালো কাজ আর কেউ করতে পারেননি।

ওয়াশিংটন পোস্ট উডওয়ার্ডের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি ফোনালাপের একটি রেকর্ডিং প্রকাশ করেছে। সেখানে ট্রাম্প বলছেন, উডওয়ার্ডের বইয়ের কথা তাঁকে বলা হয়নি। তাঁর কাছ থেকে এ বিষয়ে কখনো সাক্ষাৎকারও চাওয়া হয়নি। তবে উডওয়ার্ড দাবি করছেন, একথা মিথ্যা।

বাংলা ইনসাইডার/বিপি/জেডএ

 



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেনে হামলা করলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন পুতিন

প্রকাশ: ০৯:০৮ এএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

রাশিয়ার হস্তক্ষেপ থেকে ইউক্রেনকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ এককাট্টা হয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। মস্কোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বলেছেন, ইউক্রেনে হামলা চালালে রাশিয়ার ওপর নানা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হবে। বিবেচনায় আসবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টিও। এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গন। রাশিয়ার হস্তক্ষেপ থেকে ইউক্রেনকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব মস্কোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনে হামলার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশই উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন সীমান্তে লাখো সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। দেশটি সম্প্রতি এ এলাকায় সামরিক মহড়াও শুরু করেছে। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং উড়োজাহাজ প্রতিরোধী ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুতিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করেন বাইডেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেনে হামলা হলে বিশ্বজুড়ে এর ‘পরিণতি হবে ব্যাপক’, যা হতে পারে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণের ঘটনা।’

এ ছাড়া জো বাইডেন বলেন, ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তবে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার বিষয়টি মাথায় রেখে সাড়ে আট হাজার সেনাকে সতর্কতায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ইউক্রেনে প্রায় ৯০ টন অস্ত্র-গোলাবারুদ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য ‘অভিনব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতেও প্রস্তুত।’

ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আপনি এ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বাণিজ্য বিধিনিষেধ হিসেবে ভাবতে পারেন।’

অবশ্য রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা মস্কোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, এবং উপদ্বীপটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়।

বাইডেন   ইউক্রেন   রাশিয়া   যুক্তরাষ্ট্র   পুতিন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত বাড়লো

প্রকাশ: ০৮:২৭ এএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিশ্বে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় সোয়া ৩২ লাখে।

আজ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯ হাজার ৪০২ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৮ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও স্পেন। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৮৯ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৬ লাখ ৩৩ হাজার।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৭ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১২ লাখের বেশি। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার ৫৫৮ জনে।

করোনা   মৃত্যু   শনাক্ত   বিশ্ব  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

প্রজাতন্ত্র দিবস: দিল্লির রাজপথে চমক

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের মতোই ২৬ জানুয়ারিও প্রত্যেক ভারতবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গর্বের দিন। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ইংরেজ শাসনের থেকে স্বাধীনতা পায়। কিন্তু সে সময় ভারতের নিজস্ব কোনও স্থায়ী সংবিধান না থাকায় ব্রিটিশ সরকারের ১৯৩৫ সালের সংবিধান অনুযায়ী শাসিত হত স্বাধীন ভারত। ২৯ আগস্ট ভারতে স্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে একটি খসড়া কমিটি গড়ে তোলা হয়। এরপর ৪ নভেম্বর ভারত খসড়া কমিটি সংবিধান সভায় তাদের সংবিধান জমা দেয়। ঐ বছরের ২৬ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধান সভায় গৃহীত হয়। ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভার ৩০৮ জন সদস্য সংবিধানের হস্তলিখিত কপিগুলিতে সই করেন। এর মাত্র দু’দিন পর ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয় আর সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত। এই দিনটিই ভারতের রিপাবলিক ডে বা প্রজাতন্ত্র দিবস হিসাবে পালিত হয়।

বিভিন্ন কার্যক্রমে এ দিনটি সাজিয়ে তোলে ভারতীয়রা। দিনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ রাজপথে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো কুচকাওয়াজ। কুচকাওয়াজ শুরু হয় দিল্লির রাজপথ থেকে। আট কিলোমিটারের এ কুচকাওয়াজ শেষ হয় ইন্ডিয়া গেটে এসে। প্যারেডে অংশগ্রহণ করে ভারতীয় সেনা, নৌ ও বায়ুসেনা। এটি একটি বড় আকর্ষণ দেশের মানুষের কাছে। দিবসটি উপলক্ষে কাজাখিস্তান, কিরগিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে বিশিষ্টজনেরা আসবেন এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে ২৪ হাজারের বদলে রাজপথে মাত্র আট হাজার মানুষকে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ১৫ বছরের নীচে কোনও শিশু এবং ভ্যাকসিন নেননি এমন মানুষ কুচকাওয়াজে অংশ নিতে পারবেন না।

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে প্রতি বছর বিভিন্ন রাজ্যের ট্যাবলো অংশগ্রহণ করে। ট্যাবলোগুলি দেশের ভিন্ন সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। ভিন্ন ধরনের সংস্কৃতির সঙ্গে দেশবাসীকে পরিচয় করায়। এদিন সেনাবাহিনীতে বীরত্বের জন্য পরম বীর চক্র, অশোক চক্র এবং বীর চক্র দেওয়া হয়। আর রাষ্ট্রপতি প্রদান করেন বিখ্যাত পদ্মশ্রী পুরস্কার।

উল্লেখ্য, এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিশিষ্ট অতিথিদের ওপর হামলার ছক কষেছে আতঙ্কবাদীরা, এমনই তথ্য পেয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার তরফে একটি নয় পাতার রিপোর্ট তৈরি করা হয়। ফলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভারত   প্রজাতন্ত্র দিবস  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬:৪৯ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ ইতালির ল্যাম্পেদুসা যাওয়ার পথে নৌকায় হাইপোথার্মিয়ায় (শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস) আক্রান্ত হয়ে সাত বাংলাদেশি অভিবাসী মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ইতালির অ্যাগ্রিজেনটো শহরের প্রসিকিউটর লুইগি প্যাট্রোনাজ্জিও এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, কোস্টগার্ডের সদস্যরা ল্যাম্পেদুসার কাছে জনবসতিহীন দ্বীপ ল্যাম্পিওনের উপকূল থেকে ২৯ কিলোমিটার দূরে অভিবাসীদের নৌকাটি সারারাত ভাসতে দেখেছেন। পরে অভিবাসীদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার কার্যালয় অবৈধ অভিবাসন এবং অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ল্যাম্পেদুসার মেয়র স্যালভাতোরে মার্তেল্লো ওই সাত বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, অভিবাসীদের বহনকারী ওই নৌকায় অন্তত ২৮০ জন ছিলেন; যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ এবং মিসরের নাগরিক।

হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান রুট ইতালি। গত কয়েক মাস ধরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপ যাওয়ার প্রবণতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে সোমবার পর্যন্ত ইতালির বিভিন্ন বন্দরে এক হাজার ৭৫১ জন অভিবাসী পৌঁছেছেন।

সূত্র: রয়টার্স।


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ঐতিহাসিক সফরে তিন দশক পর সৌদি যাচ্ছেন থাই প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০১:৪৭ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ব্লু ডায়মন্ড অ্যাফেয়ার নামে পরিচিত সৌদি আরব এবং থাইল্যান্ডের মাঝে বিরোধের প্রায় তিন দশক পর এক ঐতিহাসিক সফরে সৌদি যাচ্ছেন থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা। 

আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তাঁর সৌদি যাওয়ার কথা রয়েছে। 

এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৩০ বছর আগে দামি রত্ন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক বিরোধের পর দুই দেশের মধ্যে এই প্রথমবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে। 

এক বিবৃতিতে থাই সরকার জানিয়েছে, সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা দুই দিনের সফরে সৌদি যাচ্ছেন। ঐ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩০ বছরের বেশি সময় পর থাইল্যান্ড সরকারের প্রধান সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং আরো শক্তিশালী করতে থাই প্রধানমন্ত্রী এমবিএস খ্যাত সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে সৌদি প্রিন্সের প্রাসাদে কাজ করা এক থাই রক্ষী ২ কোটি ডলারের রত্ন চুরির পর ব্যাংককের সঙ্গে সৌদির কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ব্লু ডায়মন্ড অ্যাফেয়ার নামে পরিচিত যে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখনো সমাধান করা যায়নি। পরে থাই পুলিশ বেশ কিছু রত্ন সৌদিকে ফিরিয়ে দিলেও দেশটির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন যে, এগুলো আসল নয়। সে সময় একটি বিরল ৫০ ক্যারেটের নীল হীরাসহ সবচেয়ে মূল্যবান বেশ কিছু রত্নের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। 

সৌদি আরব   থাইল্যান্ড   ডায়মন্ড  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন