ইনসাইড পলিটিক্স

স্যার ফজলে হাসান আবেদের না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:১৭ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮


Thumbnail

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। যোগাযোগের কারণ ছিল জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবার অনুরোধ। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন, আপনার যোগ দেয়ার দরকার নেই। আপনি শুধু সুশাসন এবং জবাবদিহিতার কথা বলবেন। কিন্তু তাঁর এই অনুরোধ বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিলেন বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও’র প্রতিষ্ঠাতা। বললেন, ‘এটা আমার বিষয় না।’ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাকে অন্তত শহীদুল আলমের ব্যাপারে একটি বিবৃতি দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু আবেদ জানিয়ে দেন এটা তার কাজ নয়, এ বিষয়ে তিনি জড়াতে চান না। এই আলোকচিত্রীর জন্য অনেক নোবেল জয়ীও বিবৃতি দিয়েছে, এটি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্মরণ করিয়ে দিলে স্যার আবেদ বলেন, ‘এটা তাদের বিবেচনা থেকে দিয়েছেন। আমার চিন্তা ভিন্ন।‘

উল্লেখ্য স্যার ফজলে হোসেন আবেদ ব্র্যাকের বাইরে কোন রাজনৈতিক তৎপরতায় কখনও জড়াননি।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদাকে বিদেশ পাঠাতে কেন মরিয়া বিএনপি?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নয় বরং তাকে বিদেশে পাঠাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। বিএনপি এখন পুরো বিষয়টিকে এমনভাবে এনেছে যে, বিদেশে পাঠানোই যেন বেগম খালেদা জিয়ার একমাত্র চিকিৎসা। বেগম জিয়া যেন বিদেশে গেলেই সুস্থ হয়ে যাবে, যা কোনোভাবেই বিজ্ঞানসম্মত নয় এবং চিকিৎসার রীতিনীতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেকোনো মানুষ সুচিকিৎসার জন্য অবশ্যই বিদেশ যেতে পারেন এবং বিদেশ যাওয়াটা নির্ভর করে সুযোগ-সুবিধা এবং নানারকম সঙ্গতির উপর। কিন্তু বিএনপি নেতারা এমনভাবে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার দাবিটিকে সামনে আনছেন যেন মনে হচ্ছে যে, বিদেশে না গেলেই বোধহয় বেগম খালেদা জিয়ার অন্যকিছু হয়ে যাবে। অর্থাৎ একটি চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ দেখিয়ে তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়াটাই যেন বিএনপি প্রধান লক্ষ। এর প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাটি একটি রাজনৈতিক অসুখ? বেগম খালেদা জিয়া যে অসুস্থ এই নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। ৭৬ বৎসরের প্রবীণ একজন নারী এই বয়সে নানারকম রোগশোকে অসুস্থ থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। এই বয়সে একজন মানুষ সবদিক থেকে সুস্থ থাকেন না। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার নানা রকম জটিলতা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। এসবের কারণে বেগম খালেদা জিয়া এই বয়সেও সুস্থ স্বাভাবিক থাকবেন এই রকম ভাবনা কোনদিনও চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত ভাবনা নয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, বেগম খালেদা জিয়াকে কেন বিদেশে পাঠাতে মরিয়া হয়ে উঠল বিএনপি? এটা কি তার সুচিকিৎসার জন্য নাকি এর পেছনে অন্যকোনো মতলব রয়েছে। একটু অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পিছনে রয়েছে একটি সুগভীর রাজনৈতিক পরিকল্পনা। বিএনপি গত দু'বছর ধরে রাজনৈতিক আন্দোলনের বদলে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আর এই উৎখাতের ষড়যন্ত্রের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সাইবার জগতকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত প্রতিনিয়ত নানা রকম গুজব এবং অপপ্রচার সৃষ্টির মাধ্যমে এক ধরনের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকার সম্বন্ধে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, সরকারের বিরুদ্ধে সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রথমে বেগম খালেদা জিয়াকে সরাতে হবে। কারণ, বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশে আছেন তখন তার চিকিৎসা, তার জেলের বাইরে থাকা ইত্যাদি ইস্যুকে বিএনপির আমলে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া মনে করেন যে, খালেদা জিয়া থাকার কারণেই তিনি সবগুলো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে পারছেন না, অনেক সীমাবদ্ধতা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশে নেয়া যায় তাহলে তারেক জিয়া যা খুশি তাই করতে পারবেন।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, বাংলাদেশে এখন আন্দোলন দরকার নেই। দরকার যে কোন ষড়যন্ত্রের নিবিড় বাস্তবায়ন এবং সেটি করার মতো সক্ষমতা তারেকের আছে বলেও বিএনপির অনেক নেতারা মনে করেন। আর এ কারণেই তারা চাইছেন যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে। সেখানে নেয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে একটা বিবৃতি ও তৈরি হয়ে আছে, যে বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়া সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ছড়ানো হবে নানা রকম অপপ্রচার,মিথ্যাচার ইত্যাদি। এইভাবে একটি অন্য রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি আসলে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন।  কারণ বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা যদি এতটাই খারাপ হতো যে তাকে তার কোন চিকিৎসাই দেশে দেয়া সম্ভব নয় তাহলে তিনি কেন এখনো এভারকেয়ার হাসপাতাল রয়েছেন, এই প্রশ্নের উত্তর বিএনপি কারো কাছে নেই। বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো এখন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে একটি পরিবেশ তৈরি করা, সেটি কি বিএনপি পারবে?


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কালক্ষেপণ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন উস্কে দেয়া হচ্ছে?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীরা হাফপাসের দাবিতে আন্দোলন করছে। অথচ এখন পর্যন্ত এ বিষয়টির সুরাহা হয়নি। এই আন্দোলনের মধ্যেই গত বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দুজনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকায়। একজন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী, অন্যজন গণমাধ্যমকর্মী। এই দুই জনের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের আন্দোলন আবার নতুন করে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বিআরটিএ পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করছে। এসব বৈঠকে মনে হচ্ছে, অনেকটাই দায়সারা এবং এক ধরনের গা বাঁচানোর কৌশল। কোন বৈঠকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংকট সমাধানে আন্তরিক দেখা যাচ্ছে না। বরং সমস্যাকে জিয়িয়ে রেখে শিক্ষার্থীদের যেন সরকারের প্রতিপক্ষ করার এক প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে। কারা এটি করছে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। 

শিক্ষার্থীরা এর আগেও ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনের স্থায়িত্ব ছিল ৯ দিন। এই আন্দোলনে পুরো ঢাকা শহর অচল হয়ে গিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দাবি মানার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন পর্যন্ত সীমিত পর্যায়ে। কারণ অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোপুরিভাবে খোলেনি। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পরীক্ষা নিয়ে এক ধরনের ব্যস্ত। কিন্তু এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে যেকোনো সময় আন্দোলন দানা বেঁধে উঠতে পারে এবং ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে বলে জানা গেছে। তাহলে কি সরকারের ভেতর থেকেও কেউ কেউ চেষ্টা করছে যে, এই আন্দোলন জিয়িয়ে থাকুক? 

বিআরটিএর চেয়ারম্যান পরিবহন মালিকদের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন যে, কত স্কুল আছে এবং কত শিক্ষার্থী বাসে পরিবহন করে ইত্যাদির তালিকা দরকার। এ ধরনের অবাস্তব এবং উদ্ভট চিন্তা ভাবনা একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাথায় কিভাবে আসে সেই প্রশ্ন উঠেছে সরকারের মধ্যেই। কারণ এটি একটি নীতিগত প্রশ্ন। কত শিক্ষার্থী আছে বা কত শিক্ষার্থী বাসে পরিবহন করে সেটি মূল বিষয় নয়। তিনি কালক্ষেপণের জন্য নাকি শিক্ষার্থীদেরকে তাঁতিয়ে দেওয়ার জন্য এ ধরনের বক্তব্য রাখছেন সেটি একটি বিষয় বটে। পরিবহন মালিকদের বক্তব্য বেশ উদ্বেগজনক। তারা বলেছেন যে, আশিভাগ পরিবহন মালিক নাকি গরিব। গরিবই যদি হবেন তাহলে তারা পরিবহন মালিক হলেন কিভাবে? পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের তালবাহানা দেখা যাচ্ছে। 

যেহেতু শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে আছেন, সেখানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর একটি ভূমিকা থাকা উচিত ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর কোন ভূমিকা আমাদের চোখে পড়েনি। বরং তিনি বিষয়টি একধরনের এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছেন। এ ধরনের কৌশল খুবই আত্মঘাতী হতে পারে বলেও বিভিন্ন মহল মনে করছেন। ২০১৮ সালে যখন আন্দোলন করা হয়, তখন শিক্ষার্থীদেরকে যে সমস্ত আশ্বাসগুলো দেয়া হয়েছিল তার খুব কমই বাস্তবায়ন হয়েছে। কাজেই এখন নতুন করে আশ্বাস দিয়ে সবকিছু সমাধান হবে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। তাছাড়া একটি নাজুক সময় শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমেছেন এবং এর পরিণাম যেকোনো সময় ভয়ঙ্কর হতে পারে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আর তাই দ্রুত স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদেরকে ঘরে নিতে হবে এবং এই আন্দোলনটির একটি ইতিবাচক সমাধান করতে হবে। কিন্তু সেই করার ক্ষেত্রে সরকারের একটি মহলের চরম গাফিলতির লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়ার অসুস্থতার সব তথ্য সরকারের হাতে

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যে ধরনের কথাবার্তা বলা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল সামান্যই বলে জানা গেছে। সরকার তার নিজস্ব উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। এভারকেয়ার হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন সর্বশেষ রিপোর্ট, তার শারীরিক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। সরকার এই বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল রয়েছে বলেই সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যেন কেউ জলঘোলা করতে না পারে সেজন্য সরকার সজাগ এবং সচেতন। আর একারণেই বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যগুলো সরকার গ্রহণ করছে।

 বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া এখন স্থিতিশীল রয়েছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন, চোখ মেলে তাকাতে পারছেন এবং খাবার গ্রহণ করতে পারছেন। তার যে উচ্চরক্তচাপ ছিল সেটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তার ডায়াবেটিস এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং তিনি কোন ধরনের লাইফ সাপোর্টে নেই। অর্থাৎ একজন সাধারন রোগীর মতোই তিনি অবস্থান করছেন। আর বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে তিনি টুকটাক কথাবার্তা বলছেন। তার লিভার সিরোসিস হয়েছে। এই লিভার সিরোসিসের বেগম খালেদা জিয়ার দুদিন পায়খানার সঙ্গে রক্ত হয়েছিল, একদিন তিনি বমি করেছিলেন। এটি লিভার সিরোসিসের একটি লক্ষণ। আর এজন্য চিকিৎসকরা তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যেভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা তথ্য দিচ্ছেন তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই বলেই জানা গেছে।

সরকার ধারণা করছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার ইস্যুকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়ে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন সরকার শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে বাধ্য হয়। এমনকি এক ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুপথযাত্রী। কিন্তু বাস্তবতায় এরকম কোন পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত হয়নি বলেই এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে সরকারের বিভিন্ন সূত্রগুলো নিশ্চিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর জন্য একটি চাপ সৃষ্টি করার জন্যই অসুস্থতার বিষয়টি রং চড়িয়ে বলা হচ্ছে। আসলে বেগম খালেদা জিয়া যতটুকু অসুস্থ, তার চেয়ে বহুগুণ বাড়িয়ে বলা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। সরকার বিষয়গুলোর উপর নজর রাখছে।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আইনগতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর বেগম খালেদা জিয়া যদি বিদেশে যেতে চান তার জন্য তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেগম জিয়া বা তার পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেননি। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি দেয়নি। আর এভারকেয়ার হাসপাতাল বলছে যে, আর দশ জন রোগীকে যেভাবে তারা চিকিৎসা দেয়, তেমনি চিকিৎসা দিচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও। হাসপাতাল সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যে রোগে আক্রান্ত এরকম রোগের চিকিৎসা তারা নিয়মিত দিয়ে থাকেন। সরকার পুরো বিষয়টির দিকেই নজর রাখছে, কারণ সরকারের বিভিন্ন মহল মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে নিয়ে একটি উশৃঙ্খলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আর কারণেই সরকার এইসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়ার অসুস্থতা: প্রতারণা, মিথ্যাচার এবং জালিয়াতি

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ধরণ, প্রকৃতি নিয়ে চরম মিথ্যাচার এবং প্রতারণা ও জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল এক সংবাদ সম্মেলন করেন। উল্লেখ্য যে, এই সংবাদ সম্মেলনে এভারকেয়ার হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এফএম সিদ্দিকী, ডা. এ কিউ এম মহসিন, ডা. শামসুল আরেফিন, ডা. মো.নূর উদ্দিন, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. আল মামুন। উল্লেখ্য যে, এরা কেউই এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক নন। সাধারণ নিয়ম হলো যে, একটি হাসপাতালের যেই চিকিৎসকরা একজন রোগীকে চিকিৎসা দেন, সেই চিকিৎসকদেরই বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য এবং সেই চিকিৎসকরাই বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্বন্ধে সঠিকভাবে বলতে পারেন। ডা. এফএম সিদ্দিকী চিকিৎসা দেন ল্যাবএইড হাসপাতালে। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের কেউ নন তিনি কিভাবে বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিয়ে কথা বললেন? এমনকি এই চিকিৎসা নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে সেগুলো বিজ্ঞানসম্মত এবং মেডিকেল রীতিনীতির পরিপন্থী বলে একাধিক চিকিৎসক অভিযোগ করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। লিভার সিরোসিসের চিকিৎসার তিনটি ধাপ রয়েছে বলে চিকিৎসকরা মন্তব্য করেছেন। প্রথম ধাপ হলো ওষুধ। দ্বিতীয় ধাপ হলো তার লিভার প্রতিস্থাপন অথবা তৃতীয় ধাপ হলো স্টেম সেল। চিকিৎসকরা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার যে মাত্রা, সে মাত্রায় তাকে ওষুধ দিয়েই এখন পর্যন্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা স্টেমসেল দেওয়ার মতো বাস্তব অবস্থা নাই। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যে ‘ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপ্যাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (Transjugular Intrahepatic Portosystemic Shunt-TIPS)’ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, সেই ‘TIPS’ পদ্ধতি কোনোভাবেই লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা নয় বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তারা বলছেন এটি হলো লিভারের রক্ত বন্ধের জন্য একটি ব্যবস্থা মাত্র। তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসা নিয়ে এ ধরণের নাটক করা কেন হচ্ছে? এভারকেয়ার হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে এক ধরনের প্রতারণা এবং জালিয়াতি করা হচ্ছে। এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা বলছেন, তাকে অন্য ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা, যারা মূলত রাজনীতিবিদ। এদের কারোই আধুনিক উন্নত লিভার চিকিৎসা সম্বন্ধে ন্যূনতম জ্ঞান নেই। বরং বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে পুঁজি করে যেকোনো মূল্যে তাকে বিদেশে পাঠানোর একটি পরিকল্পনাই আস্তে আস্তে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

একাধিক সূত্র বলছেন যে, লিভারের রক্তক্ষরণ ঠেকানোর জন্য যে ‘TIPS’ পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে সেই টিপস পদ্ধতিতে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য কখনোই সঙ্গত নয়। কারণ এর ফলে উচ্চমাত্রার হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, পৃথিবীতে লিভার সিরোসিস আক্রান্ত রোগীদের শতকরা ৬৫ ভাগ ওষুধে সেড়ে যান। ১০ ভাগ অন্য চিকিৎসা নেন। লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত একজন মৃত্যুবরণ করবেন এমন কোন বিজ্ঞানীভিত্তিক প্রমাণও নেই। বরং দেখা যাচ্ছে যে, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। যেকোনো মুহূর্তে তিনি মারা যেতে পারেন। এরকম তথ্য দিয়ে সরকারকে একটা চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে দ্রুত সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। বিভিন্ন মহল মনে করছেন যে, মূল লক্ষ্য বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নয়। মূল লক্ষ্য হলো তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক আবহ তৈরি করা। আর সেটি করার কাজে চিকিৎসকরা ব্যবহৃত হচ্ছেন। এটা মেডিকেল ইথিক্সের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণভাবে প্রতারণা। রোগী সম্বন্ধে ভুল তথ্য দেওয়া একজন চিকিৎসকের জন্য ঘৃণ্যতম অপরাধ। সেই অপরাধের কাজ করেছেন বলেও মনে করছেন অনেক চিকিৎসক।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

হেফাজত মহাসচিব নুরুল ইসলাম মারা গেছেন

প্রকাশ: ১২:৩৬ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী মারা গেছেন। আজ (সোমবার) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর ল্যাব এইডে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার থেকে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন নুরুল ইসলাম জিহাদী। তার ছেলে মোর্শেদ বিন নূর গতকাল জানিয়েছিলেন শনিবার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বাবাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

শনিবার অনুষ্ঠিত ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন বাস্তবায়নে নিয়ে কর্মব্যস্ত ছিলেন নুরুল ইসলাম। সম্মেলন শেষে মাদরাসায় ফেরার পথে গাড়ির মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন