ইনসাইড পলিটিক্স

আবুল কি আসছেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:৫৬ পিএম, ১৩ জানুয়ারী, ২০২১


Thumbnail

সৈয়দ আবুল হোসেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পান। নিজ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় এবং প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বি তিনি। তার হাতেই আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর দায়িত্ব তুলেদিয়েছেন।

ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে ভাগ্যবান নেতাদের অন্যতম ছিলেন সৈয়দ আবুল হোসেন। একাধারে আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, এমপি এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। কিন্তু পদ্মা সেতু বিতর্কে সব কিছু যেন লন্ডভন্ড হয়ে যায় সৈয়দ আবুল হোসেনের। মন্ত্রীত্ব চেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরে তার আসনে আবদুস সোবহান গোপালপকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এমনকি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। যদিও পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকে অভিযোগ যে মনগড়া, ভিত্তিহীন ছিলো তা প্রমাণিত হয়েছে।

সেতু বিতর্কে ‘নির্যাতিত’ হবার কারণে তৎকালীন সেতু সচিব পুরুস্কৃত হয়েছেন। কিন্তু আবুল হোসেন অপাক্তেয়ই রয়ে গেলেন। তবে, সৈয়দ আবুল হোসেন আবার ফিরে আসছেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগেই। গত কিছুদিন ধরেই তিনি সরব। বিশেষ করে পদ্মা সেতুতে পুরো পুরি দৃশ্যমান হবার পর গণমাধ্যমে সরব দেখা যাচ্ছে সৈয়দ আবুল হোসেনকে। মন্ত্রীত্ব হারানোর পর নিজস্ব ব্যবসা এবং সামাজিক সেবা মূলক কর্মকান্ডে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। এখন রাজনৈতকি অঙ্গনেও আস্তে আস্তে সরব হচ্ছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি থাকছেন। পদ্মা সেতু সহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে বক্তব্য রাখছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছেন, দলের হাইকমান্ডের সংগে সেয়দ আবুল হোসেনের সব সময় ভালো যোগাযোগ ছিলো। তাদের পরামর্শেই রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। এখন আবার তাদের নির্দেশেই আস্তে আস্তে রাজনীতির মাঠে পা রাখছেন সৈয়দ আবুল হোসেন। গুঞ্জন আছে, আবার মন্ত্রী হতে পারেন তিনি। আবার তাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হতে পারে এমন কথাও শোনা যায়। তবে, সৈয়দ আবুল হোসেন এসব পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ভাবে না বলেই জানিয়েছেন।

পদ্মা সেতু হচ্ছে এটাই তার বড় শান্তি। তিনি মনে করেন ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি আমাকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে তা নিষ্ঠার সংগে পালন করেছি। ভবিষ্যতেও করবো।’


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নিজের দলের নেতাকর্মীদেরই বিশ্বাস করেন না তারেক জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

তারেক জিয়ার মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সিসিইউতে আছেন এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন একথা বলছেন চিকিৎসকরা। এই সময় চিকিৎসার চেয়ে সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন তাহলো নিকটজনদের পাশে থাকা। একজন মানুষের যখন চিকিৎসার সবগুলো পথ বন্ধ হয়ে যায় তখন নিকটাত্মীয়দের পাশে থাকা এবং তার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করাই একমাত্র কাজ। এটি সর্বক্ষেত্রে বয়োপ্রবীন মানুষের জন্য করা হয়। যেকোনো মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জন্য তার পরিবারের দোয়া এবং প্রার্থনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এরকম সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় তারেক জিয়ার দেশে ফেরা দরকার।

আগে বিএনপির যারা বলতেন যে, তারেক জিয়া এখন দেশে ফিরলে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে, তিনি হয়রানির শিকার হতে পারেন, তারাই এখন তারেককে অভয় দিচ্ছেন। তারা তারেক জিয়াকে বলছেন, আপনি দেশে আসুন, আমরা আপনার পক্ষে থাকবো, আমরা আপনার জন্য লড়বো, কারাগারে আপনাকে রাখা যাবে না। এমনকি বিএনপির তৃণমূলের নেতারা তারেক জিয়ার কাছে লিখিতভাবেও বার্তা দিচ্ছেন যে, তার দেশে আসাটা এখন জরুরি। বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে শুধু যে আওয়ামী লীগের দিকে সমালোচনার তীর ছোঁড়া হবে তা নয়, বরং তারেক জিয়াও যে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হবেন এই উপলব্ধি বিএনপির অনেকের রয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, খালেদা জিয়ার কিছু হলে জনরোষ থেকে বিএনপিও মুক্তি পাবে না। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্পষ্টতই তারেক জিয়াসহ জিয়া পরিবারের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

কারণ, বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার অনুমতি দিলো না, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু তারেক জিয়া কেন তার মায়ের শেষ সময়ে এসে তার পাশে দাঁড়ালেন না, সেই প্রশ্নের উত্তর তারেক জিয়া কিভাবে দিবেন। বিএনপির মধ্যেই এই প্রশ্নগুলো এখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তারেক জিয়া যে সমস্ত নেতার সঙ্গে কথা বলছেন, তারা সবাই তাকে বলছেন যে, আপনি দেশে আসেন। আপনার যদি কিছু হয় তাহলে আমরা প্রবল প্রতিবাদ করবো, আন্দোলন করবো এবং খালেদা জিয়া অসুস্থতা এবং আপনাকে গ্রেপ্তার, দুটো কাজ একসাথে সরকার করলে সরকারকেই একটা ঝামেলার মধ্যে পড়তে হবে। কিন্তু তারেক জিয়া নিজের দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আস্থাশীল নয়। তিনি বারবার নিজের বিষয়টি দেখছেন। অন্তত দু’জন বিএনপি নেতাকে তিনি বলেছেন যে, আমি দেশে ফিরলেই ওরা আমাকে জেলে নেবে। বিএনপি নেতারা তার জবাবে এটা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকেও জেলে নেয়া হয়েছে।

রাজনীতি করতে গেলে সাহস থাকতে হবে, জেলে যাওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এটাই রাজনীতির বাস্তবতা। কিন্তু তারেক জিয়ার কোনো অবস্থাতেই তার আরাম-আয়েশের জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চান না। তিনি তার মায়ের সেবা করতে এসে নতুন কোন ঝামেলায় জড়াতে চান না। শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবারের কাউকে তিনি ঝামেলায় জড়াতে চান না। কাজেই, তারেক জিয়া দেশে আসবেন, মায়ের পাশে দাঁড়াবেন, এমন প্রত্যাশা যারা করেন বিএনপিতে তারা নতুন করে আশাহত হচ্ছেন। কারণ, তারেক জিয়া তাঁর দলের নেতাকর্মীদেরকে এখন বিশ্বাস করতে পারছেন না। আর এ কারণেই হয়তো শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে তারেক জিয়া লন্ডনে বসে বসেই সবকিছু দেখবেন। আর এটি যদি করেন তাহলে খালেদা জিয়ার জীবনপ্রদীপ নিভে গেলে তারেকের রাজনীতির প্রদীপও নিভে যাবে বলে অনেকে মনে করছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দলে এবং সরকারে নিষ্প্রভ কেন কাদের?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি, একই সাথে সড়ক, যোগাযোগ এবং সেতুমন্ত্রীও বটে। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে, মেট্রোরেল এবং কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এতকিছুর পরও দল এবং সরকারের ওবায়দুল কাদের যেন নিষ্প্রভ। একের পর এক সমস্যাগুলোতে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অনেকেই বিস্মিত হচ্ছেন। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক হলো দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ। সাধারণ সম্পাদকই দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখভাল করেন এবং তিনি দল পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের সভাপতির পরামর্শে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এখন যেন নিষ্প্রভ। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপট, দলে চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে যাওয়া, একের পর এক বিভিন্ন নেতার দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। আর এ অস্থিরতার ক্ষেত্রে দলের সাধারণ সম্পাদকের যেরকম সক্রিয়, বুদ্ধিদীপ্ত এবং তড়িৎ পদক্ষেপের দরকার ছিল সেটি লক্ষণীয় নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কার এবং মেয়র পদ থেকে তার বরখাস্তের ব্যাপারটি আওয়ামী লীগ সভাপতি করেছেন। এখানে ওবায়দুল কাদেরের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত ছিল বলে অনেকে মনে করেন। সারাদেশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপট এবং নৌকার প্রতিপক্ষ হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিজয় আওয়ামী লীগকে নতুন সংকটের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে, অথচ এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদেরের ভূমিকা নিয়ে দলের ভিতরে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর এ ব্যাপারে নিঃস্পৃহতা এবং নির্লিপ্ততা দলের ভেতর সমালোচনা তৈরি করেছে। অনেক বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না বা যে দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করা দরকার ছিল সেটি দলের সাধারণ সম্পাদক পারছেন না বলে অনেকে মনে করেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জায়গায় অন্তঃকলহ, কোন্দল দানা বেঁধে উঠেছে। সেই অন্তঃকলহ, কোন্দল দূর করার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া এবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই মনোনয়ন বাণিজ্যের উন্মোচনের ক্ষেত্রেও তিনি ব্যর্থ বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল মনে করেন। শুধুমাত্র দলের সাংগঠনিক তৎপরতা ক্ষেত্রেই নয়, মন্ত্রণালয়ের কাজেও তিনি আগের মত গতিশীল নন বলেই অনেকে মনে করছেন।

ওবায়দুল কাদের যখন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন তিনি তৎপর ছিলেন, ছুটে বেড়াতেন। বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দেখতেন। এমনকি ঝটিকা সফরে যেতেন বিআরটিএ বা বিভিন্ন স্থানে। এখন যেন সেই ওবায়দুল কাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র অনলাইনে যুক্ত হয়ে কিছু লিখিত বক্তব্য পাঠ করা ছাড়া তার কার্যক্রম চোখে পড়ে না। এর ফলে সড়কে এক নৈরাজ্য চলছে, গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দেশের জনগণকে জিম্মি করে ধর্মঘট করলো, তাদের কাছে সরকার নতি স্বীকার করল। এখন শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত হচ্ছে, সড়কে আবার নতুন করে প্রাণ ঝরছে। এই সবকিছু বিষয়ে ওবায়দুল কাদের নির্লিপ্ত এবং এবং নিষ্ক্রিয় বলে অনেকে মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে আক্রমণ করে লিখিত বক্তব্য দেখে দেখে পাঠ করায় যতটা মনযোগী দেশে বিরাজমান সংকট গুলো বিশেষ করে তার মন্ত্রণালয়ের সঙ্কটগুলো সমাধানে ততটাই উদাসীন। এটি আওয়ামী লীগের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিবহনে যে নৈরাজ্য চলছে তার ঢেউ আছড়ে পড়বে সরকারের জনপ্রিয়তা উপরে। আর এ কারণেই ওবায়দুল কাদেরের আরো সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করেন দল এবং সরকার।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যা ঘটতে পারে আগামী ৭ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী সাতদিন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সাত দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ বিজয়ের মাসে প্রবেশ করবে, বাংলাদেশ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব করবে। আবার এই সাত দিন অনেক রাজনৈতিক এবং পারিপার্শ্বিক গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে, যেটি রাজনীতির গতি-প্রকৃতিকে পাল্টে দিতে পারে। আগামী সাত দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এই সাত দিনে অনেক কিছুই ঘটতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আগামী সাত দিন যে বিষয়গুলোর দিকে দেশের জনগণ সতর্ক নজর রাখবে তার মধ্যে রয়েছে:

১. বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা:  চিকিৎসকরা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে অসুখ সেই অসুস্থতা অত্যন্ত জটিল এবং অলৌকিক কিছু না ঘটলে এই অসুস্থতা চূড়ান্ত পরিণতির দিকেই নিয়ে যায় একজন মানুষকে। যদিও আজ বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, তিনি যে রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অর্থাৎ লিভার সিরোসিস এটির তেমন কোনো চিকিৎসা নেই, সময়ের ব্যাপার। আগামী সাতদিনে বেগম খালেদা জিয়ার কি পরিণতি হয় তার উপর দেশের অনেক কিছুই নির্ভর করছে। কারণ শেষ পর্যন্ত যদি বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে না যেতে পারেন এবং দেশেই যদি তার চূড়ান্ত পরিণতি হয় তাহলে সেক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে পারে। এই উত্তাপ কতদূর যাবে এবং এটির রাজনীতিকরণ কতটুকু হবে সেটি বোঝা যাবে আগামী সাতদিনে।

২. সড়ক আন্দোলন:  নিরাপদ সড়কের দাবিতে আবার বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে রোববারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে তারা আন্দোলন চূড়ান্ত করবে। ইতিমধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ছাত্রদের দাবির কাছে একাত্মতা ঘোষণা করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম গত বুধবার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এর পরদিনই আবার পান্থপথে একজন সংবাদকর্মী মৃত্যুবরণ করেন। এই সবকিছু মিলিয়ে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন আবার জটিল হয়ে উঠেছে। খুব শীঘ্রই এই নিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত হতে পারে। আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি সরকার নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে না পারে কিংবা সড়ক আইন বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ না করতে পারে তাহলে এটি একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র মনে করছে।

৩. হাফ পাস: হাফ পাসের দাবিতে আন্দোলন ক্রমশ বেগবান হচ্ছে এবং এর সঙ্গে আবার নিরাপদ সড়কের আন্দোলনও যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে আগামী সাত দিন যদি শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবিটি না মিটে তাহলে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সরকারকে এ ব্যাপারে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

৪. ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচন: ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং গত দুই পর্বে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যেরকম সহিংসতা এবং সন্ত্রাস হয়েছে তাতে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন নিয়ে একধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উত্থান, সহিংসতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটা সংকট তৈরি করেছে। এই ধারায় তৃতীয় পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একই সংকট তৈরি হবে কিনা সেটি একটি উদ্বেগের বিষয় বলেই অনেকে মনে করছেন।

৫. সারাদেশে সন্ত্রাস-সহিংসতা: হঠাৎ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে কুমিল্লার এই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস একটি বড় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন দেশের জনগণ। আর আগামী সাতদিন বোঝা যাবে যে, এই বিষয়ে সরকার কি পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তাই আমাদের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আগামী সাত দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সাত দিনে যা ঘটবে তার ওপর রাজনীতির গতি-প্রকৃতি অনেকখানি নির্ভরশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সড়ক আন্দোলন-খালেদার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি: একই সূত্রে গাঁথা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

হঠাৎ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পরপর দু’দিন দু’টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দু’টি সড়ক দুর্ঘটনাই ঘটেছে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে। একটিতে মারা গেছেন নটরডেম কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী, আরেকটিতে মারা গেছেন গণমাধ্যমকর্মী। অর্থাৎ নিরাপদ সড়কের আন্দোলন উস্কে দেওয়ার জন্য যে দু’টি শ্রেণীর মানুষকে সবচেয়ে উত্যক্ত করা দরকার সেই দু’টি শ্রেণীর মানুষকে উত্যক্ত করা হয়েছে। দু’টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা কাকতালীয় নাকি এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। যে সময়ে হাফ-পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন সেই সময়ে হঠাৎ করে কেন সড়কে প্রাণ ঝরলো, সে নিয়েও প্রশ্ন। আবার এই প্রাণ ঝরার ক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশনের গাড়িই বা কেন ব্যবহৃত হলো সেটিও এক বড় ধরনের রহস্য। একদিকে যখন বিএনপি ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং সেই কর্মসূচিতে ধাপে ধাপে লোকসমাগম বেড়েছে, ঠিক সেই সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে। অথচ সরকার নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে বন্ধ করার জন্য নূন্যতম যে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার তা নেয়ারও চেষ্টা করছে না। আর এর ফলে নতুন করে একটি প্রশ্ন উঠেছে যে, এই নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আন্দোলন, দু’টি কি একই সূত্রে গাঁথা কিনা?

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, আগামী ডিসেম্বর মাসকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার একটি নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এবার ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্য অন্যরকম তাৎপর্য বহন করে আনছে। বিশেষ করে এবারের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। সে জন্যই এই বিজয়ের মাসে বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকীকে অন্যরকমভাবে চিত্রিত করার জন্য কোন কোন মহল ষড়যন্ত্র করছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সময় হেফাজত ইসলাম সারাদেশে যে তাণ্ডব করেছিল সেই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় যে বাংলাদেশের বিজয়, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সবসময় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ষড়যন্ত্র করে। এবার সেরকম ষড়যন্ত্রের আলামত পাওয়া যাচ্ছে নভেম্বর থেকেই।

নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে এর আগে যখন শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল এবং তারা সবকিছু কার্যত অচল করে দিয়েছিল। যদি আগামীকালের মধ্যে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে না করে তাহলে রোববার থেকে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি বা তার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন যুক্ত হয় তাহলে পুরো পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যেতে পারে। হঠাৎ করেই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। সেরকম কিছু সৃষ্টি করার জন্যই কি পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা গুলো ঘটানো হচ্ছে? হাফ-পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কেন সাতদিন ধরে আন্দোলন করবে এবং বিআরটিএ কেন বাস মালিকদের কাছে নতি স্বীকার করবে এই প্রশ্নের উত্তর মেলে না। বর্তমান সরকার ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং যেকোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। সরকার বারবার কেন পরিবহন মালিকদের কাছে অসহায় হয়ে যাচ্ছে, সরকারের মধ্যে কি তাহলে পরিবহন মালিকদের সিন্ডিকেটের ভূত রয়েছে? আবার খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি কেন রাজনৈতিক মাঠে নিয়ে আসা হচ্ছে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। সবকিছু মিলিয়ে দেশে একটি অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করার নীলনকশার বাস্তবায়ন চলছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা দরকার বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় বিএনপিকেই নিতে হবে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬:৪৪ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারের কোনো দায় থাকবে না। এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে, মির্জা ফখরুল সাহেবদের নিতে হবে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সংবিধান ও আইন দ্বারা দেশ পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক নিয়ন-নীতির মধ্যে যতটুকু সম্ভব তার সবটুকু সুযোগ বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার মানবিক হৃদয়ের কল্যাণে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়া বাসায় থাকছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, হতে পারে খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আইনের চোখে তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার বর্তমান পরিচয় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর উদারতাকে প্রতিহিংসা বলতে দ্বিধা করছেন না। বিএনপির কৃতজ্ঞতাবোধ নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলে। কিন্তু এই দেশের রাজনীতিতে তারা প্রতিহিংসার জন্ম দিয়েছেন।

এ সময় তিনি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড, বিএনপির আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর বিভিন্ন সময় নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আজকে মির্জা ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলেন। কারো চিকিৎসার নামে জনগণকে জিম্মি করা যাবে না। কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জনগণকে সঙ্গে আওয়ামী লীগ তা প্রতিহত করবে। দেশবিরোধী এ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে প্রতিহত করতে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে, আমরা তাদের সমুচিত জবাব দেবো।

‘খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে’ বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন, বেগম জিয়াকে নাকি স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আজকে যে সুবিধা গ্রহণ করছেন বেগম জিয়া, এটা প্রধানমন্ত্রীর উদারতার কারণে। তার পাশে থাকেন আপনারা, ফখরুল সাহেবরা। তাকে যে খাওয়ায় সে পরিবারেরই লোক। তার আশেপাশে সর্বক্ষণ ঘোরাফেরা করে বিএনপির লোকেরা। আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের কেউ তার পাশে থাকে না। তার ব্যক্তিগত পছন্দের চিকিৎসকরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন। আশপাশের লোকেরা সব বিএনপির, পরিবারের। স্লো পয়জনিং যদি করা হয়ে থাকে তাহলে পাশের লোকেরাই করতে পারে। হুকুমের আসামি শেখ হাসিনা হবে না, হলে ফখরুল সাহেব আপনি হবেন।

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার জন্য এখন এত মায়াকান্না কাঁদেন। তার জন্য দেখার মতো কার্যকর ও অর্থবহ একটা মিছিল রাজপথে করার দুঃসাহস আপনাদের ছিল না। এটা দেখাতে পারেননি। কোন মুখে তার জন্য মায়াকান্না কাঁদছেন? লজ্জা করে না!

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, অসীম কুমার উকিল, আবদুস সোবহান গোলাপ, ওয়াসিকা আয়শা খান, শাম্মী আহমেদ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিপ্লব বড়ুয়া, দেলোয়ার হোসেন, সায়েম খান, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন