ইনসাইড টক

‘সব মিলিয়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ফ্লো কমে যায়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১২ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, করোনাকালে আমাদের দেশে রেমিটেন্স এর প্রবাহ বেশ বেড়েছিলো, বিশেষ করে গত অর্থবছরে এর পরিমাণ অনেকাংশে বেড়েছিলো তার বড় কারণ বিদেশে বসবাসকারীরা নিজ দেশের আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে সেই সময় বেশ চিন্তিত ছিলেন। তাদের সেই সময় মূল লক্ষ ছিলো যেভাবেই হোক দেশে বসবাসকারী নিজ লোকদেরকে অর্থ সরবরাহ করা, তাছাড়া তারা সেই সময় ওই সব দেশ থেকেও প্রণোদনা পেয়েছিলেন সেখান থেকেও তারা অর্থ পাঠিয়েছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারও সেই সময় যারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাবেন তাদের জন্য ২ শতাংশ কেশ ইনসেন্টিভের ঘোষণা করে। অনেক প্রবাসী কর্মী ভেবেছিলেন যেসব দেশে তারা কাজ করেন সেখানেও যেহেতু লক ডাউন হচ্ছে সেহেতু তারা তাদের পুরনো সব সঞ্চয় গুটিয়ে নিয়ে দেশে চলে এসেছিলেন। এই সব কারণেই গত বছর দেশে রেমিটেন্স এর প্রবাহ অনেকাংশে বেড়েছিলো।

বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়া সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য ড. আতিউর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এইসব প্রবাসীদের কিছু নিয়ম নীতিও সহজ করে দিয়েছিলো যেন যারা প্রণোদনার টাকা পাঠায় তারা যেন কাগজ পত্রের জটিলতায় না পড়েন। অনলাইনে পেমেন্টকেও বেশ জোরদার করা হয়েছিলো। যার কারণে গত অর্থ বছরে প্রায় ২৫ (২৪.৮) বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স বাংলাদেশে এসেছিলো। কোন কোন ব্যাংক নিজ থেকেই ১ শতাংশ প্রণোদনা প্যাকেজ সুবিধা দিয়েছিলো, যেমন অগ্রণী ব্যাংক এই সুবিধা গুলো প্রবাসীদের জন্য বরাদ্দ করেছিলো যাতে করে সরকার ঘোষিত ২ শতাংশে সাথে আরো এক শতাংশ মোট তিন শতাংশ প্রণোদনা যোগ করে প্রবাসীরা যাতে আরো উৎসাহিত হয় দেশে টাকা পাঠানো ক্ষেত্রে।

তিনি আরও বলেন, তবে এই অর্থ বছরের শুরুতে দেশে রেমিটেন্স এর প্রবাহ কিছুটা কমে এসেছে। গত বছর দেশে প্রথম কোয়াটারে রেমিটেন্স এসেছিলো ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিন্তু এই বছরের প্রথম কোয়াটারে তার পরিমাণ ৫.৪ ডলার অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এই বছর প্রথম কোয়াটারে রেমিটেন্স কমেছে ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে রেমিটেন্স যতটা কমেছে তার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ বেড়েছে রপ্তানি আয়, এই অর্থ বছরে আগের বছরের তুলনায় ১.৩৭ শতাংশ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরেই বেড়েছে গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং ২.৬ বিলিয়ন ডলার বেশি এসেছে। তার মানে বছরের প্রথম কোয়াটারে আমরা রেমিটেন্স থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার কম আয় করেছি কিন্তু অন্যদিকে রপ্তানি থেকে আমরা ২.৬ বিলিয়ন ডলার বেশি আয় করেছি গত অর্থ বছরের তুলনায়। সব মিলিয়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ফ্লো কমে যায় নি। সুতরাং শুধু রেমিটেন্স এর কথা না ভেবে দুটো মিলিয়ে যদি ভাবি তবে আমাদের বৈদেশিক আয় কমেনি বরং বেড়েছে।

ড. আতিউর রহমান বলেছেন, যারা বিদেশ থেকে করোনায় দেশে আটকে গিয়েছিলো তারা আবার বিদেশে ফিরতে শুরু করেছেন। বিমান সেবা চালু হয়েছে, বিমান বন্দরে আরটিপিসি ল্যাব চালু করা হয়েছে, সরকার বিদেশ যাত্রীদের করোনার টেস্টের খরচ বহন করছে সুতরাং এসব কারণে এখন আরও বেশী লোক যাচ্ছে। এবং যে সব দেশের তেলের দাম বেড়ে গেছে। কালকে  আশি ডলার হয়ে গেছে তেলের দাম। এখন মধ্যপ্রাচ্যের দাম বাড়া মানে কাজকর্মও বাড়বে এবং সেজন্য আবার  আমাদের কর্মীরা যাওয়া শুরু করেছে এবং নতুন করে কাজ পাবে। যাদের বেতন কমে গিয়েছিল তাদের বেতন বাড়বে।  সুতরাং এটা খুব সাময়িক একটা বিষয় রেমিট্যান্স কমে গিয়েছে। আমার নিজের ধারণা আগামী দুই মাসের মধ্যেই হয়তো রেমিট্যান্স পুরনো গতিতে ফিরে আসা শুরু করবে। 

প্রণোদনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তবে এই সময়টায় সরকার আরেকটু প্রণোদনা দেয়া যায় কিনা, বিশেষ করে যারা কম পয়সা পাঠায়, যেমন এক হাজার, দেড়  হাজার ডলার। এমন পরিমাণের জন্য আরও ১% প্রণোদনা সরকার বাড়াতে পারে কিনা ভেবে দেখতে পারে। তাতে করে ফ্লোটা আরও বাড়তো। এখন রেমিট্যান্স আমার নিজের ধারণে বছর শেষে হয়তো ২৫ বিলিয়ন ডলারও হবে না। তবে কাছাকাছি থাকবে ২২-২৩ বিলিয়ন ডলারের কম হবে না আমার নিজের ধারণা। এক কোয়ার্টারে যদি ১ বিলিয়নও কমে, ৪ কোয়ার্টারে ৪ বিলিয়ন কমবে, তাঁর মানে ২১। এর সাথে যদি ইদানীং কালের যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তেলের দাম বাড়ছে, মানুষ বেশি বাড়ছে এসব কারণে যদি আরও ১-২ বিলিয়ন বাড়ে তাহলে তো ২২-২৩ বিলিয়ন ডলারটা খুব সহজ। সেটাও আমাদের জন্য কম না। 

ড. আতিউর রহমান বলেছেন, আমাদের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ কিন্তু একটুও কমে নি। সর্বশেষ ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ ৪৬.১৫ কিন্তু আছে। ৪৬ বিলিয়ন ডলারের উপরেই এখন আমাদের রিজার্ভ। কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, ফিনিশ গুড সবই বাড়ছে। বিশেষ করে রপ্তানি খাতের জন্য যে ধরণের কাঁচামাল দরকার, যে ধরণের যন্ত্রপাতি দরকার সেগুলো অনেকটাই বেড়েছে। আগামীতে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়বে। আমদানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ডলারের উপর চাপ পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেজন্য খানিকটা ডলারের দামও বেড়েছে। এবং বাংলাদেশ ব্যাংক  তাঁর প্রতিক্রিয়ায় ডলার বাজারে বেশি করে বিক্রি করা শুরু করেছে। যেহেতু আমাদের রিজার্ভের অবস্থা ভাল সুতরাং বাংলাদেশ  ব্যাংক এটা করতেই পারে। আমি মনে করি করাটা ঠিক হচ্ছে। বেশি করে ডলার বিক্রি করে দেয়া মানে বাজার থেকে লিকুইডিটি তুলে নিচ্ছে। বাজারে যে অনেক বেশি লিকুইড পজিশন আছে এখন সেটা খানেকটা কমে আসছে। সেটা ভালো মনে করি। ধীরে ধীরে আমাদের যে লিকুইডিটি বাজারে ছেড়েছিলাম আমরা পুনরুদ্ধারের জন্য সেটা কমিয়ে এনে স্বাভাবিক করে ফেলতে হবে ব্যাংকিং ব্যবস্থাটাকে। দুই দিক থেকেই লাভ হচ্ছে। সুতরাং এই মুহূর্তে আমদানি করার জিনিসপত্রের দাম খানিকটা বাড়ছে, বাড়বে। কিন্তু প্রবৃদ্ধির জন্য যে সমস্ত প্রয়োজন, মেগা প্রকল্পের জন্য যে আমদানি, রফতানির জন্য যে আমদানি সেটা অব্যাহত থাকুক। তার জন্য যদি ডলার আরও খরচ হয়, রিজার্ভ যদি কমেও যায় কমুক। তবুও এটা চালু থাকুক। আমার মনে হয় যে সব মিলিয়ে আগামী বছর আমাদের প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে এবং আমাদের দেশের ভিতরের ভোগ এবং বিনিয়োগ দুইটিই বাড়বে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আগামী কিছুদিনের মধ্যে ওমিক্রনের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা যাবে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ওমিক্রন সম্পর্কে আরো অনেকে বলতেছে। প্রথম কথা হলো এটি একবারে নতুন ভেরিয়েন্ট। অনেক কিছু রিসার্চ পর্যায়ে। আমরা তেমন কিছু জানি না। গত ২৪ নভেম্বর প্রথম ওমিক্রন সম্পর্কে বিশ্ববাসী জেনেছে। এটি আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ছড়িয়েছে। পাশাপাশি ইসরাইল, হংকং, বেলজিয়াম, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশে এ ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বিষয়টি উদ্বেগজনক। কিন্তু এখনও আমরা সিউর না কি হতে যাচ্ছে। আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দেশের জন্য যা দরকার তা হলো কঠোর পর্যবেক্ষণ। বিশেষ করে যারা দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বাইরের দেশগুলো থেকে আসবে, তাদের টেস্ট করতে হবে। কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। আমাদের সীমান্তসহ নৌপথেও নজরদারি বাড়াতে হবে। যারাই বর্ডার দিয়ে আসবে, বৈধ-অবৈধ সবাইকে যেন টেস্ট করা হয়। পজিটিভ হলে অবশ্যই যেন কোয়ারেন্টাইন করা হয়। আবার ওমিক্রন নাও আসতে পারে। আমরা তো আসলে জানি না। কিন্তু জানি না বলে বসে থাকা যাবে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী কিছু দিনের মধ্যে এটির ভয়াবহতা সম্পর্কে পরিষ্কার জানা যাবে।  সুতরাং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। গত বছরের মত এবারের অবস্থা কিন্তু নেই। গতবার ইতালি থেকে আমাদের দেশে করোনাটা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছিলো। গতবার যখন করোনাটা আসলো তখন আমরা অনেক কিছুই জানতাম না, তবে এখন আমরা অনেক কিছুই জানি, আমাদের প্রশাসনও জানে অনেক কিছু। জনগণ যেন স্বাস্থ্যবিধি ঠিক ঠাক মত মেনে চলে সেদিকে নজর রাখতে হবে, অনেকের মাঝে ঢিলেঢালা গা ছাড়া ভাব এমনটা যেন না করে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকা গ্রহণ করা এ দুটোই কিন্তু আমাদের সুরক্ষার মূল হাতিয়ার। স্বাস্থ্যবিধি বলতে মাস্ক, হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং অবশ্যই যারা টিকা গ্রহণ করেন নাই তারা যেন টিকা গ্রহণ করেন। যদিও তারা বলছে বাজারে যে টিকা আছে তা ততটা কার্যকরী নাও হতে পারে কিন্তু এগুলো এখনো কনফার্ম না। তবে সবচেয়ে বড় কথা সচেতনতার কোন বিকল্প নাই, জনগণকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মালিক এবং শ্রমিক আমাদের এমনকি সরকারকে জিম্মি করেছে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমার তো মনে হয় ২০১৮ সাল থেকে সরকার শিক্ষা নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছে। সরকারের অনেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন। বিআরটিসি অর্ধেক ভাড়া কমানোর ঘোষণাও ইতোমধ্যে দিয়ে দিয়েছে। এটা তো অবশ্যই ইতিবাচক।

সড়ক আন্দোলন সহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যেটা ইতিবাচক নয়, সেটি হচ্ছে সড়ককে নিরাপদ করার যে উদ্দেশ্য নিয়ে সড়ক আন্দোলন হয়েছিল, আইন-কানুন, বিধি-বিধান মানার, সেখানে অগ্রগতি নেই। বরঞ্চ সড়কে বিশৃঙ্খলা আগের থেকে বেড়েছে। মালিক এবং শ্রমিক আমাদের জিম্মি করেছে। এমনকি সরকারকেও জিম্মি করেছে। এগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ। এগুলো দেশের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।

পরিবহন মালিকদের দাবি করা ৮০ শতাংশ পরিবহন মালিক গরীব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কয়েক কোটি টাকার মালিক হলেও আপনি নিজেকে গরীব দাবি করতে পারেন। কেননা অনেকে তো হাজার কোটি টাকারও মালিক। সেই হাজার কোটি টাকার মালিক থেকে আপনি তো অবশ্যই গরীব। গরীব কথাটি আসলে আপেক্ষিক বিষয়। দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। পরিবহন মালিকরা নিজেদের গরীব বলে কি বুঝাতে চাইছেন, তা আমি বুঝি না। গরীব বিষয়টি সম্পূর্ণই আপেক্ষিক। এটি একটি অস্পষ্ট কথা। এর থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া দুরূহ। 

পরিবহন সেক্টরের কালো টাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে আইন-কানুন, বিধি-বিধান, কিছুই চলে না, প্রয়োগ নেই, সেখানে এটা হবেই। এটা হতে বাধ্য। একে ঠেকাতে হলে পরিবহন মালিকদের কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। তাদের কথায় সব হতে হবে কেন? সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এর মাত্রা অনেকটাই কমানো যায়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আমেরিকার আমন্ত্রণ না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ’

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন দুটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথমটি হলো এটা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে,  চীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশকে একাত্ম করতেই এ সম্মেলন ডেকেছেন বাইডেন। এটার মধ্যে একটি রাজনীতি আছে, গণতন্ত্র কতখানি আছে, তা বলা মুশকিল। কারণ এটা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার একটি প্রচেষ্টা করছে বাইডেন প্রশাসন। ফলে সেখানে আমরা কেন জড়িত হব? বরং আমন্ত্রণ পেলে আমরা যাবো কি যাবো না প্রশ্নে ঝামেলা হতো। কেননা এটি চীনের বিরুদ্ধে একটি নতুন জিনিস দাঁড় করানো হচ্ছে।

বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন সহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

দ্বিতীয়টি হলো যারা দাওয়াত পেয়েছে তাদের দেশের গণতন্ত্র এমনকি খোদ আমেরিকার নিজের গণতন্ত্র যে নড়বড়ে, এটা বলার তো আর অপেক্ষা রাখে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালো না সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। যেখানে পাকিস্তান, ফিলিপিন, এমনকি নরেন্দ্র মোদির ভারতকেও যদি গণতান্ত্রিক বলা হয়, তাহলে তো আমাদের কিছু বলার বা করার নেই। যেহেতু রাজনীতির একটি অংশ হিসেবে আমেরিকা এটা করছে, আর আমাদের সাথে চীনের একটি ভালো সম্পর্ক, সেখানে আমরা কখনোই অন্য দেশের হয়ে আরেকটা দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি না এবং আমরা কখনো দাঁড়াইনি। সেই জায়গায় আমি মনে করি,  আমন্ত্রণ না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষের উপই ছেড়ে দিতে হবে। এটা বাংলাদেশের জনগণের বিষয়। এটা অন্য দেশ এসে এই জিনিসটা সেইভাবে করার কোনো সুযোগ নেই। এটা আমরা বহুবারই দেখেছি এবং আমরা দেখেছি যে, গত ২০ বছরে আমেরিকা আফগানিস্তানে যে ধরণের গণতন্ত্র চর্চা করেছে, সেটাও আমরা দেখেছি। আমেরিকা বিগত ২০ বছরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে উপনিবেশবাদ চালু করেছে। যে দেশ ভিয়েতনামকে তছনছ করে দিল, যে দেশ একাধিক যুদ্ধে বিভিন্ন দেশে যখন-তখন যুদ্ধ করে যাচ্ছে, সেই দেশকে যদি গণতান্ত্রিক বলা হয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি বলবো যে, আমার জানা সংজ্ঞা অনুযায়ী আমেরিকা দেশ ‍হিসেবে গণতান্ত্রিক হতে পারে না। অন্যরা যদি বলে থাকে, বলতে পারে। এটাকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, সেটাতে আমার আপত্তি আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমালোচনা যদি করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক সমালোচনা করাই ভাল। আমেরিকাকে বলার দরকার নেই। যে দেশ ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানকে তছনছ করলো, তার আগে ভিয়েতনামকে তছনছ করলো, ইরাক তছনছ করলো, ইরানে চেষ্টা করেছিল। সেই দেশের গণতন্ত্রকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, তাহলে আমি তাদেরকে বলবো যে, গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও একটু ভালোভাবে জানতে। আমেরিকা নিজে বলে বেড়াচ্ছে গণতন্ত্র, নির্বাচন। কিন্তু হিটলারও তো নির্বাচিত ছিল, মোসেলিনিও নির্বাচন করেই এসেছিল। তাই আমার মনে হয়, আমাদের যে ঘাটতি, তা আমাদের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমাদের জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। সেটা আমেরিকা ব্যাখ্যা করবে, আমি তা মানতে রাজি না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাভাবিক ভাবেই বলবে যে, আমাদের থেকে দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ডাকা হয়েছে। আবার ঐ দিকে শ্রীলঙ্কাকে ডাকা হয়নি কেন, এটাও কেউ বুঝলো না। শ্রীলঙ্কায় মহেন্দ্র রাজা পাকশে তো নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছে। আমি ধরে নিলাম, যে আমাদের দেশে নির্বাচন নিয়ে সমস্যা আছে। কিন্তু রাজা পাকশে যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, সে নির্বাচন নিয়ে তো সেই ধরণের কোনো সমালোচনা ছিল না। বিরোধী পক্ষও সংসদ বয়কট করেনি। সেখানে বুঝাই যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার সাথে চীনের একটি ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে আমন্ত্রণ পায়নি। অন্যকথায় এটা চীন বিরোধী একটি সম্মেলন। শেষপর্যন্ত কয়টা দেশ এই সামিটে যাবে, কোন লেভেলে যাবে, সেটাও দেখা দরকার। আমার মনে হয় না এটা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে এমনিতেই।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বিএনপি আদৌ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চায় না’


Thumbnail

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, প্রথম কথা হলো, খালেদা জিয়ার মুখে এবং অন্যান্য পথে রক্ত যাচ্ছে এই কথাটার সত্যতা আছে কিনা এটা নিয়ে সন্দেহ আছে। এখন আমি যতদূর জানি, গতকাল সাড়ে দশটার দিকে এন্ডোসকপি করানো হয়েছে, বাইরের একজন নামীদামী ডাক্তার দিয়ে করেছে। এখানে কোনো ফাইন্ডিং নাই। রক্ত যাচ্ছে এ রকম কোন হিস্ট্রোরিও শুনি নাই আমরা। ভিতরে আদৌ কি হচ্ছে সেটা তো আমরা জানি না। ওখানকার হাসপাতালের ডাক্তাররাও কিন্তু কিছু বলে না। বোর্ডের সিদ্ধান্ত কিংবা যারা চিকিৎসা করতেছেন তারাও কিন্তু কোন কিছু বলে না। খালেদা জিয়া যখন বঙ্গবন্ধু ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি ছিলো তখন তার ডাক্তাররা কিন্তু প্রেস ব্রিফ করতো। বলতো যে কি অবস্থায় আছে। এখন কিন্তু সেখানে বলতেছে না।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও লিভার সিরোসিস সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, যতদূর আমরা খবর পায় উনি ভালোই আছেন। এখন এটা নিয়ে যেহেতু রাজনীতি আরম্ভ হচ্ছে, দল রাজনীতি করতেছে, এটা নিয়ে মন্তব্য করাও মুশকিল। তবে আমি যেটা মনে করি, আমাদের দেশে বিগত এক যুগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে উন্নয়ন হয়েছে, আমাদের দেশেও অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তার আছে। সেখানে এ সমস্ত রোগীর, যেহেতু বয়স্ক এবং অনেক জটিল রোগে ভুগছে, এই সমস্ত রোগীর চিকিৎসা আমাদের বাংলাদেশে আছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে জানা যায় জানালে তিনি বলেন, সরকার কিংবা বিএনপি কিংবা খালেদা জিয়ার পরিবার, তাদের উচিত বাংলাদেশে যারা নামীদামী ডাক্তার রয়েছে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, লিভার বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদেরকে নিয়ে একটা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোর্ড করা উচিত। বোর্ড করে চিকিৎসা করা উচিত যদি আসলেই ওই রকম কিছু হয়ে থাকে।

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় এভারকেয়ার হাসপাতালে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভিন্ন জিনিস। চিকিৎসা ব্যবস্থা আলাদা। চিকিৎসা একটা মানবিক ব্যাপার। সেই প্রেক্ষাপটে এভারকেয়ার সহ আরও বিভিন্ন জায়গায় ভালো ভালো চিকিৎসক আছে। সুতরাং, যদি রোগীর অবস্থা খারাপই হয় দলেরও উচিত, এভারকেয়ার হাসপাতালেরও উচিত, তার ফ্যামিলিরও উচিত এবং সরকারেরও দায়দায়িত্ব আছে। খালেদা জিয়ার অবস্থা যদি খারাপ হয়ে থাকে এই এক্সিকিউটিভ অর্ডার বাতিল করে, সরকারের নিজস্ব তত্ত্ববাধায়নে বঙ্গবন্ধু ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ  টিমের দ্বারা বোর্ড করে তার চিকিৎসা করা উচিত।

তিনি বলেন, তারা কর্মসূচী দিয়েছে সহিংস কর্মসূচী, দানবিক কর্মসূচী। সরকার পতন করবে। সরকারের কাছে বিএনপি মানবিকতা চাচ্ছেন, সুযোগ চাচ্ছে, আবার সরকার পতনের কথাও বলছে। এখানে কোথাও একটা বোঝাপড়ার সমস্যা রয়েছে। বিএনপি আদৌ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চায় কিনা সেটা নিয়ে ধুম্রজাল রয়েছে। তারা তো চায় না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আমরাই বেগম জিয়ার চিকিৎসা দিতে সক্ষম’

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৪ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে সব ধরণের চিকিৎসাই সম্ভব, সব ধরণের চিকিৎসার প্রাপ্যতা আমাদের দেশেই আছে। আমরা এ দেশেই সব চিকিৎসা দিতে সক্ষম। যদি কেউ আমার এখানে বোর্ড করে বিদেশী চিকিৎসক এনে চিকিৎসা দিতে চায় তবে সেটাও এখানে সম্ভব। খালেদা জিয়া এর আগে বিএসএমএমইউ তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখন তিনি এভারকেয়ারে আছেন। তবে তারা যদি আবার চায় তবে আমরা আবার এখানে তাকে চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত। 

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, তাকে বিদেশে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও আমাদের দেশে তার চিকিৎসা সক্ষমতার নানা বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন ড. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। 

লিভার ট্রান্সপ্লান্ট এর মত জটিল চিকিৎসা ব্যবস্থা কি এখানেই সম্ভব কিনা সেই বিষয়ে তিনি জানান, আমরা এখানে সবই পারি, আমাদের সেই সক্ষমতা রয়েছে। যদি দরকার পরে তবে আমরা ইন্ডিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসবো, তারা দুজনে মিলে কাজটি করবে। বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার যে দাবি সেটির আমি কোন দরকার আছে বলে মনে করি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং তারা যেভাবে বলছে এই ধরণের বহু রোগের চিকিৎসা আমাদের এইখানে হয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক মানে চিকিৎসা দিতে সক্ষম। 

বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে সাধারণকে তাহলে নিরুৎসাহিত করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে বিদেশে বিয়ের কেনাকাটা করতে যায়, গিয়ে চিকিৎসাও করে আসে তাহলে তো সেটি ভিন্ন বিষয়। গত দেড় বছর কেউ চিকিৎসা করতে বাহিরে যায় নাই, সবাই এদেশেই চিকিৎসা করেছেন করোনার কারণে। সুতরাং আমরা যে পারি তার কিন্তু প্রমাণ ও হয়ে গিয়েছে। 

আমাদের চিকিৎসার মান নিয়ে বিএসএমএমইউর উপাচার্য হিসেবে কথা বলতে গিয়ে প্রফেসর ড. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে যে যাই বলুক, কতিপয় কয়েকজন খারাপ কাজ করলেও সারা দেশের চিকিৎসার মান কিন্তু ভালো। দুই এক জায়গায় আমরা হয়তো শুনি যে এটা খারাপ ওইটা খারাপ কিন্তু আমি যদি এভারেজ হিসেবে বলি তবে আমাদের দেশের চিকিৎসার মান কিন্তু ভালো। দুই একজায়গায় যে খারাপ কাজ দেখি সেটি ওই ব্যক্তির খারাপ কাজ, চিকিৎসা খারাপ না। 

বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয় তবে তার চিকিৎসা দিতে বিএসএমএমইউ সক্ষম কিনা সে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বেগম জিয়াকে এখানে ভর্তি করে একটি উচ্চ সক্ষমতার একটি বোর্ড করবো এবং বোর্ড যদি বলে যে উনার চিকিৎসার জন্য দুই একজন চিকিৎসক বাহির থেকে আনা দরকার তাহলে তাদের এনে চিকিৎসা দিতে পারি। 

বেগম খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে ভর্তির সময় তার শরিলে যে যে ধরণের সমস্যা ছিলো তা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে ছিলো না, উনার হাঁটুতে ব্যথা ছিলো, ব্লাড প্রেশার উঠা নামা করতো। এগুলো সবই তার বয়স জনিত সমস্যা।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন