ইনসাইড টক

‘সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত করতে জামায়াত-বিএনপি নিষিদ্ধ করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৬ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, এটাতো কোন সাম্প্রতিক ঘটনা নয়। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তো একটা পরিচয় আছে। একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ঘটানো হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা দেখেছি যে, তাদের লক্ষটা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক বা সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা। বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের আফগানিস্তান বা জিয়াউল হকের পাকিস্তানের মত একটি মৌলবাদভিত্তিক মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত করা। সে রাজনীতি কারা করে বাংলাদেশে? সেটা তো জামায়াত-বিএনপি-হেফাজত এদেরই তো রাজনীতি হচ্ছে  এইটা যে বাংলাদেশে ভিন্ন ধর্মের কেউ থাকতে পারবে না, ভিন্ন জীবনধারায় যারা বিশ্বাস করে তাদের কেউ থাকতে পারবে না। শুধু তাদের ব্যাখ্যা মতে যে, যে ইসলাম শুধু তারা থাকবে। এটা তো একটা রাজনীতি থাকবে, তো এগুলো কোন ব্যাখ্যা করতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, সম্প্রতি কুমিল্লার ঘটনা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় শাহরিয়ার কবির এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য শাহরিয়ার কবির এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধরাই এদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। সংখ্যালঘু তো বটেই কিন্তু তাদের ওপর যে এত অত্যাচার হয় কোথাও দেখিনাই ভারতের মত প্রতিবাদ করেছে। ভারতে মুসলমানদের একটা কিছু হলে তো সেটা নিয়ে বিরাট প্রতিবাদ হয়। মুসলমানরা রুখে দাঁড়ায়। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা কখনোই হয়না। এরা খুবই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশে কখনো কোন হিন্দু কোরআন অবমাননা করবে, ইসলাম ধর্ম অবমাননা করবে এটা কখনো ভাবা যায়না, বাস্তব পরিস্থিতি সেরকম নয়।

জামায়াত-বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে যে, গত বছর শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা হয়েছে এবার সেটা করা যাবে না। আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পরে এখানে তালেবানপন্থীরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছিল, তারা তো নতুন উদ্দীপনা ফিরে পেয়েছিল এবং তারা তো এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। যারা ঘটনা ঘটাচ্ছে সরকার তো তাদেরকে মূল জায়গায় ধরছে না। দেখা যাবে মাঠ পর্যায়ের হয়তো কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কিন্তু আমরা  যেটা সবসময় বলে এসেছি যে এটা হলো জামায়াত-হেফাজতের রাজনীতি যতদিন বাংলাদেশে থাকবে ততদিন বাংলাদেশে থেকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস দূর হবে না, মৌলবাদী-সন্ত্রাস কখনো যাবে না। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িকতা মৌলবাদ মুক্ত করতে হলে জামায়াত-বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে। কোন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বাংলাদেশে চলবে না। আদর্শগতভাবে তো এটা মোকাবেলা করা হচ্ছে না। এটা যে একটা যে একটা রাজনীতি আছে সেটা তো বুঝা যাচ্ছে। এই যে আইনশৃঙ্গলা পরিস্থিতি। বিষয়টা তো আইনশৃঙ্গলা পরিস্থিতি না। রাজনীতি হচ্ছে বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করতে হবে। বাংলাদেশ হিন্দু শূন্য হলে কাদের লাভ? আওয়ামী লীগের তো কোন লাভ নাই এতে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, আওয়ামী লীগ তো একটি সেকুলার পার্টি। যারা সেকুলারিজমের বিরুদ্ধে তারা চাইবে বাংলাদেশে এক ধর্মের মানুষ থাকবে। তাহলে তাদের লাভ। সেটাই তারা করছে। যখন তারা ক্ষমতায় থাকে, তখন একভাবে করে, যখন ক্ষমতায় থাকে না, তখন আরেকভাবে করে। তারাইতো এগুলো করছে। কিন্তু সরকার তাদের ধরছে না। তাদের মূল জায়গায় ধরছে না। হেফাজতের সঙ্গে বরং সরকার দহরম মহরম করছে। এগুলো করে তো কোনো লাভ হবে না। সন্ত্রাস বন্ধ হবে না। এগুলো চলতে থাকবে। একভাবে না একভাবে চলতেই থাকবে। আগামীতেও এটা ঘটবে। অতীতেও এটা ঘটেছে। আমাদের একটি তদন্ত কমিশনের টিম আগামীকাল রোববার (১৭ অক্টোবর) কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, এসব জায়গায় যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা একটি শ্বেতপত্রও বাহির করছি আগামী মাসে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি তো এগুলো করে যাচ্ছে, বলে যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে সরকারের তো কোনো টনক নড়ছে, এরকমটা আমরা দেখি না। হ্যাঁ, তারা বলছে সাম্প্রদায়িক শক্তি, স্বাধীনতা বিরোধী এটা করেছে। কিন্তু এটা করে কি কোনো ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে? কয়জন শাস্তি পেয়েছে? এই যে তিন চার বছর হয়ে গেল ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার  রসরাজের যে ঘটনা, তার কি হলো? একই তো ঘটনা। ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট দিলো রসরাজ ফেসবুক ব্যবহারই জানে না। তারপরও সেই রসরাজকে এখনো আসামি হয়ে কোর্টে ঘুরতে হচ্ছে। এবং এই হামলার যারা উষ্কানিদাতা, তারা সরকারের দলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এই তো হচ্ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি। এভাবে সাম্প্রদায়িকতা দূর হবে বলে আমরা মনে করি না। 

সাম্প্রদায়িকতা থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারি প্রশ্নে শাহরিয়ার কবির বলেন, এটাকে দূর করতে হলে বঙ্গবন্ধু যেই চেতনায় বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে যেটি বলা হয়েছিল, ধর্মের নামে কোনো রাজনীতি চলবে না। এখানে ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ৭২ এর সংবিধানে ফিরে না যাওয়া ছাড়া এটা করা যাবে না। নির্মূল কমিটি ৩০ বছর ধরে এটা নিয়েই আন্দোলন করে আসছি বলেও জানান তিনি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ইউরোপ, আমেরিকা এবং জাতিসংঘের দ্বিচারিতা দিবালোকের মত স্পষ্ট’


Thumbnail ‘ইউরোপ, আমেরিকা এবং জাতিসংঘের দ্বিচারিতা দিবালোকের মত স্পষ্ট’

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের বাংলাদেশ সফর শেষে কমিশনের গঠন প্রসঙ্গ, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে কথা বলেছেন। অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

বাংলা ইনসাইডার: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট শক্তিশালী এবং গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ থাকার পরও তিনি এমনটি কেন বলেছেন?

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান: জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার কি বলেছে না বলেছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কি বলে না বলে কিছু যায় আসে না। কেননা ইউরোপ, আমেরিকা এবং জাতিসংঘের যে দ্বিমুখী এবং দ্বিচারিতা তাদের এটা এখন দিবালোকের মত স্পষ্ট। কেননা আমরা দেখলাম, এদের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থী, শরণার্থী না। ফিলিস্তিনের শরণার্থী, শরণার্থী না। সিরিয়ান শরণার্থী, শরণার্থী না। কিন্তু আপনি যদি ইউক্রেনের হন, এরকম শরণার্থী পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এদের যে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, আমাদের এখানে খুঁজে বেড়াচ্ছেন আমাদের কি দোষ আছে না আছে। কিন্তু আমার ইচ্ছা হবে ড্রোন মেরে আন্তর্জাতিক আইনকে ভুলন্ঠিত করে, অন্যদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করে, যারা আমার বিরোধী বা শত্রু তাদেরকে আমি নিশ্চিহ্ন করে দিবো, তখন তাদের আইন তাদের কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না। সুতরাং জাতিসংঘ কি বলছে সেটা আমার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ যে, হ্যাঁ, আমাদের দেশে মানবাধিকারের সমস্যা রয়েছে। আমাদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আছে এবং প্রত্যেকটি অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করে এর সত্যটা বের করে আনাটা খুবই জরুরী। কিন্তু এটির জন্য আমি মনে করি অন্য কোনো তদন্ত কমিশন বা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন নাই। আমাদের যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আছে, সেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে যদি একটু দাঁড়াতে দেয়, তীক্ষ্ণ দাঁত এবং তার ওই আঙ্গুলের নখগুলো যদি একটু বড় হতে দেয় যেন আঁচড় দিলে রক্ত বেরিয়ে আসে তাহলেই যথেষ্ট। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে যদি কার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা যায়, সেই স্বাধীনতা এবং শক্তি যদি দেয়া হয়, সরকারের সেই স্বদিচ্ছা যদি থাকে তাহলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দিয়েই মানবাধিকার সুরক্ষার কাজগুলো বহুলাংশে করা সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।

বাংলা ইনসাইডার: মিশেল ব্যাচলেটের সাথে সুশীল সমাজ এবং তথাকথিত মানবাধিকারে কর্মীদের অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাদের প্রকাশিত উদ্বেগ দেশের প্রকৃত চিত্র নাকি অতিরঞ্জিত বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান: একটা দীর্ঘ সময় ধরে হলে উদ্বেগের জায়গা থাকতে পারে। অতি সাম্প্রতিককালে আমরা কিন্তু গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের খবর গণমাধ্যমে চোখে পড়ে না। সেই দিক থেকে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু অতীতে যে ঘটনা গুলো ঘটেছে বা অভিযোগ আছে সেগুলোর একটা উত্তর তো আমরা অবশ্যই প্রত্যাশা করি। যেমন- একজন মন্ত্রী বললেন যে অনেকেই নিজে থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। যদি সে নিজে থেকেও নিখোঁজ হয়ে যায় তা তার পরিবারের জন্য, আমাদের জন্য শঙ্কার। তাহলে সে কেন নিজে থেকে নিখোঁজ হয়ে গেলো সেটি খুঁজে বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কারণ, রাষ্ট্র তো সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। সে কাজটি রাষ্ট্রকে করতে হবে। সে নিজ থেকে হারিয়ে গেছে, সে একজন ফরহাদ মাজহার, এটা বললে আমরা তো শুনবো না। আমরা চাই কেন লুকিয়ে রাখছে নিজেকে, কোনো অপরাধ করে লুকিয়ে থাকছে কিনা সেটা তো তদন্ত করে বের করে নিয়ে আসা উচিৎ। রাষ্ট্র তো এখানে চুপচাপ বসে থাকতে পারে না।

বাংলা ইনসাইডার: যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ গুম হন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে পুলিশের গুলিতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার কোনো নির্দিষ্ট বিচার নেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতির চেয়ে ঢের ভালো। তারপরও কেন বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের এত উদ্বেগ?

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান: যেহেতু আমাদের সাধারণ নির্বাচন এগিয়ে আসছে, এখন নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে মানবাধিকার ইস্যুটি তত বেশি আলোচনা হবে। কারণ, পশ্চিমা আর ইউরোপের কাছে তো মানবাধিকার রাজনীতির হাতিয়ার। এই হাতিয়ার তারা ব্যবহার করে যখন সময় এবং সুযোগ আসে। একটা বড় সুযোগ আসে যখন জাতীয় নির্বাচন সামনে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিই এটা। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এটা করে। এই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কারণে ইউরোপ কোনো রাষ্ট্র আর স্বাধীন আছে বলে মনে হয় না। সেখানে তো সবাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাবেদার। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। সবই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য। তাদের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থানে আছে। আমরা নিজেরা স্বাধীন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রে বাস করছি। আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করে এই স্বাধীনতা রক্ষা করার লড়াই করছি। সেখানে চড়াই উতরাই আছে। আমরা ইউরোপের কোনো রাষ্ট্রের কথায় উঠিবসি এমন নয়। আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি।

জাতিসংঘ   মানবাধিকার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রিভিউ হওয়া উচিত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রিভিউ হওয়া উচিত’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে। আমাদের সাথে আলোচনা করে তিনি এসেছেন বিষয়টি এমন নয়। বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি দেশের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন কিছু ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেটা তিনি করতেই পারেন। সেটা উনার স্বাধীনতা। উনি আলাদাভাবে আমাদের সময় দিয়েছেন। আমরা উনার সাথে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করব। দেশের মানবাধিকার নিশ্চিতে আমাদের কাজগুলো সম্পর্কে তাকে অবহিত করব। সকলের মানবাধিকার রক্ষা করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সে ব্যাপারে সরকার আমাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। 

চার দিনের সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। তার এই সফর এবং মানবাধিকার বিষয়ক অন্যান্য বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেছেন। 

ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে সবচেয়ে বড় মানবিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি নিজে যেভাবে মানবিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তিনি কখনো কাউকে বলার কোনো অবকাশ পাননি। তিনি কাউকে বলতে পারেননি আমি বিচার চাই, আমাকে বিচার দেওয়া হোক। বাংলাদেশের হিউম্যান রাইটস প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে নেওয়া হচ্ছে এবং নিবিড়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রেক্ষাপটে আমরা দেখছি যে, বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যেগুলো হিউম্যান রাইটস কমিশনের নেওয়ার কথা যেমন কমপ্লেইনস প্রসিডিউর। সেটা আমরা নিয়েছি এবং চারটি করে ৮টি ডিভিশন ভাগ করে নিয়ে কমপ্লেইনস হ্যাণ্ডেল করছি এবং ৮০ শতাংশ কমপ্লেইনস হ্যাণ্ডেল হয়েছে। যেটা এখনকার সময় সবচেয়ে বেশি। আমরা অনলাইনে এসমস্ত কাজ করেছি। যেটা আগে কখনো ছিলো না।

দেশে গুম হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, গুম ব্যাপারটিকে যদি নির্দিষ্ট করে একটি শব্দ হিসেবে ধরা হয় তাহলে দেখা যায় যে, আমাদের প্যানেল কোর্টে এ ধরনের কোনো রকম ওয়ার্ড নেই, কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমাদের স্থানীয় বাংলা ভাষাভাষীরা একটা ওয়ার্ড জানি এবং আমাদের মাথায় বিশেষ কিছু আসে। কিন্তু আমাদের আইনগত ভাষা হলো ফোর্স ডিসিপিয়ারেন্স এন্ড এবডাকশন এবং সেগুলোর প্রেক্ষাপটে আমরা বিচার করি এবং সেভাবে চিন্তা করি। সেভাবে কাজ করতে গিয়ে আমাদের কাছে যে সমস্ত কমপ্লেইনস এসেছে সেগুলো প্রত্যেকটি আলাদা আলাদাভাবে শুনেছি এবং সেগুলোর জন্য প্রতিবেদন চেয়েছি। যেগুলোর প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি সেগুলোর প্রেক্ষিতে তার সমাধানও করেছি। বাকিগুলোর প্রতিবেদেনের অপেক্ষায় আছি। আমরা কোনোটাকেই কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। এক্ষেত্রে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দায়ী হলে আমরা কোনোভাবেই নমনীয় হই না। আমরা কাউকে কাউকে শাস্তিও দিয়েছি। শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট ভূমিকা রেখেছি এবং ফোর্স ডিসিপিয়ারেন্স যাতে না করে হয় সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখি।

র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যখন কোনো একটি দেশ অন্য কোনো একটি দেশের মানবাধিকার ব্যাপারে নিয়ম লঙ্ঘনের কথা বলতে চায় সেটার জন্য জাতিসংঘের একটা ফোরাম আছে। সেটাকে বলে ইউনিভার্সেল পিউরিটি ভিউ। এটি চার বছর পর পর প্রত্যেকটা দেশের জন্য হয় আর প্রতি বছর একটা মিটিং হয় সেখানে যেকোনো দেশে অন্য একটা দেশের সম্পর্কে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারে সেটা উপরে তদন্তে যাওয়ার জন্য সেখানে মেকানিজম রয়েছে। কিন্তু এখানে কোনো একটা দেশে কোনো দেশকে এভাবে সরাসরি অভিযোগ করার জন্য আন্তর্জাতিক কোনো নিয়ম নেই। তারা যে সমস্ত অভিযোগগুলো এনেছেন সেক্ষত্রে তারা বলেছেন যে, দেখা গেছে, জানা গেছে, বলা হয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু এভাবে তো অভিযোগ হয় না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে যেই হোক সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য হোন কিংবা সরকারের মদদপুষ্ট কোনো ব্যক্তি হয়েও যদি থাকে তাকে আমরা দোষারোপ করি এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিন্তু এর জন্য সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা উচিত। অভিযোগের ব্যাখ্যা থাকার উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটা শুধুমাত্র সাইবার ক্রাইমের ক্ষেত্রে এবং যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য বা কার্যক্রম কিংবা কোনো রকম ধর্মীয় উস্কানি দেওয়া বা সৃষ্টি করা কিংবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তোলা সে ধরনের যদি ব্যাপার হয়ে থাকে তাহলে সেটা সাইবার ক্রাইম হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু  কোনোভাবে কোনো গোষ্ঠীকে নাজেহাল করার জন্য এই ধরনের আইনের ব্যবহার একদম সম্পূর্ণরুপে অনুচিত। আমরা জানি যে, এই আইনটি ক্ষেত্রবিশেষে করা হয়েছিল। আমরা এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছি। মাননীয় আইনমন্ত্রী তিনি নিজেও এ কথা বলেছেন যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু কিছু বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনীর প্রয়োজন আছে। সুতরাং এটা সুস্পষ্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রিভিউ হওয়া উচিত।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মিশেল ব্যাচেলেটের বাংলাদেশ সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ১৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘মিশেল ব্যচেলেটের বাংলাদেশ সফর একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে’

সামাজিক আন্দোলন কর্মী, নারীবাদী এবং মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেছেন, মানবাধিকার হলো অলঙ্ঘনীয় অধিকার। যা মানুষ তার জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্যভাবেই পায়। বিশেষ করে যারা পিছিয়ে পড়ে আছেন, যারা সুবিধা বঞ্চিত আছেন, যারা কম সুযোগ সুবিধা পায়, তারা আদিবাসী হোক কিংবা ভূমিহীন হোক। দিনমজুর থেকে শুরু করে নারী, প্রতিবন্ধীসহ সকলের জন্য মানবাধিকার যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো যথার্থভাবে প্রতিপালন করা উচিত। সেটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সারাবিশ্বে হওয়া উচিত। প্রত্যেকেই যেন সে তার অধিকার সঠিকভাবে পায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের বাংলাদেশ সফর, মানবাধিকার হাইকমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের সাক্ষাৎ, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় খুশি কবির এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য খুশি কবির এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

খুশি কবির বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট আমাদের আমন্ত্রণ করেছিলেন। আমরা গিয়েছিলাম। আমাদের প্রত্যেকের কাজের আলাদা সেক্টরের ব্যাপারে জানতে পাওয়া হয়েছে আমরা হাইকমিশনারের কাছে সেটা তুলে ধরেছি। প্রতিটি দেশের বা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সকল নাগরিকদের মানবাধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আন্তর্জাতিক যতগুলো সনদ আছে যেগুলোতে সরকার স্বাক্ষর করেছে সে অনুসারে সকলের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়ন করা। শুধু আইন করলে হবে না এগুলোর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা আশা করছি হাইকমিশনার মিশেল ব্যচেলেটের বাংলাদেশ সফর একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। 

তিনি আরও বলেন, সরকার বলছে যে, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে না। কিন্তু আমরা দেখছি দেশে গুমের ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ ফিরে এসেছে। কিন্তু তারা দুই একজন ফিরে এসেছে। যারা গুম হচ্ছেন তারা বলছে তারা গুম হয়েছেন কিন্তু মন্ত্রী বলছেন গুম হয়নি। শুধু গুম নয় যাদের অবৈধভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, হাজতে রাখা হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ মারাও গেছেন। যারা যারা গেছেন তারা তো হাজতের ভিতরেই মারা গেছেন সেটা তো সরকার অস্বীকার করতে পারে না। হাজতের ভিতর মারা যাওয়া সেটা তো সরকারের জন্য সাংঘাতিক নেতিবাচক দিক। সরকার তাদের হেফাজতে রেখে সঠিক চিকিৎসা করতে পারে না, চিকিৎসার জন্য মারা যাচ্ছে। সরকারের উচিত এটা নিয়ে তাদের ভাবা।

খুশি কবির বলেন, কলা বাগানের তেতুলিয়া মাঠের ঘটনার বেলায় আন্দোলনের কর্মী সৈয়দা রত্নাকে থানা ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আবার ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। তাকে ছেড়ে দিয়েছে যখন বিরাট আন্দোলন হচ্ছে, থানার সামনে উদীচীরা বসে যখন অবস্থান নিয়েছে। যদি কিছু না হয়ে থাকে তাহলে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হলো কেন। সরকার জনসম্মুখে কিছু বলছে না যে, আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। জনসম্মুখে সেটা যুক্তরাষ্ট্র সরকারও বলে না, যুক্তরাজ্য সরকারও বলে না। ইউরোপের কোনো সরকারও বলে না। কোনো উন্নত দেশের সরকারও বলেছে না যে, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে কিন্তু সেটা তারা মানছে। আমি আমার দেশকে চাই আমার সংবিধান অনুযায়ী আমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'কমিশন গঠনে রাজনৈতিক পদধারী না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়'


Thumbnail 'কমিশন গঠনে রাজনৈতিক পদধারী না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়'

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেছেন, দেশের বিশিষ্টজনদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কমিশন হওয়া উচিত। আমার ব্যক্তিগত ধারণা হচ্ছে, কমিশন কিভাবে কাজ করবে এটার টার্মস অব রেফারেন্স আইন মন্ত্রণালয় ঠিক করে দেবে। বৃহৎ টার্মস অব রেফারেন্স হলো, যারা নাকি বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় মাস্টারমাইন্ড ছিলো তাদেরকে চিহ্নিত করা। আমার কাছে মনে হয়, একমাত্র টার্মস অব রেফারেন্স হতে পারে সে সময়ের মাস্টারমাইন্ড যারা ছিলো তাদেরকে চিহ্নিত করা।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার বিষয়ে কমিশন গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়  অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য  অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, আমার তো ধারণা সমাপ্তি পর্যন্ত হওয়া উচিৎ। কেননা আন্তর্জাতিক আইনে একটি বিধান রয়েছে 'নো ক্রাইম সুড গো আনপানিস্ট'। এটা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করে রাখা যেতে পারে। এই ধরনের একটা কমিশন কিন্তু শেখ রেহানার নির্দেশে ইংল্যান্ডে হয়েছিলো এবং সেখানে এটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিষয়ে। টমাস উইলিয়ামস বোধহয় এটার প্রধান হিসেবে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সেটার কি হয়েছে সেটা তল্লাশি চালিয়ে নিয়ে আসা উচিত। কারণ ব্রিটেন কোনো জিনিসই ছাড়ে না। আমি সেখানে পড়াশোনা করেছি, সে কারণে আমি জানি এটা। খুঁজে রেব করতে পারলে ওইটার ফাইনডিংসটা যদি আনে, তাহলে সেটাকে একটা বেইজ লাইন হিসেবে ধরা যেতে পারে। সেই বেইজ লাইনটা ধরে প্রসিড করলে ভালো হয়।

তিনি বলেন, এখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে দিয়ে কমিশনটা হওয়া উচিৎ। সেখানে বুদ্ধিজীবী থাকতে পারে, শিক্ষক থাকবে পারে, সাংবাদিক থাকতে পারে। তবে আমি বলবো এমপিদের না রাখার জন্য। কমিশনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পদধারী কোনোর ব্যক্তির না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়।

বঙ্গবন্ধু   হত্যা   ১৫ আগস্ট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ১৪ দলীয় জোটের সদস্য হিসেবে আমরা তো চাই ১৪ দলীয় জোট সক্রিয় হোক। এ ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতিও নাই। গতকাল শনিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজিত এক আলোচনা সভা করেছি। সেখানে ১৪ দলের সমন্বয়কারী এবং মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা সভা করেছি। ওই আলোচনা সভায় ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু উনিও উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। 

সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকটসহ রাজনীতিতে ১৪ দলীয় জোটের নিষ্ক্রিয় এবং বর্তমান সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হবে কিনা ইত্যাদি নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ফজলে হোসেন বাদশা এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য ফজলে হোসেন বাদশা এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এখন রাজনীতিতে বিভিন্ন দল সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে। ১৪ দলীয় জোট আমরাও চাই তাদের সে আন্দোলনকে প্রতিহত করতে। তবে যারা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাদেরকে তো একটা আদর্শে ভিত্তিতে লড়াই করতে হবে। সেটা কিন্তু হচ্ছে না। আদর্শের বাইরে অন্য কোনোভাবে করলে তো সেটা যুক্তি সঙ্গত হবে না এবং আন্দোলন করলে সঠিক রাজনীতির ভিত্তিতেই করতে হবে। আমরাও চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে একটা ভালো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হোক। কিন্তু সেটা অবশ্যই যেন আদর্শের ভিত্তিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজেদের দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে আছি কিন্তু ১৪ দলীয় কর্মসূচি তো আমরা দিতে পারি না। কারণ সমন্বয়কারী ওয়ার্কার্স পার্টি নয়। সেটা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন রয়েছে। তাই ১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব। তবে আমাদের দিক থেকে প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই। আমরা চাই ১৪ দলীয় জোট মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকুক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জোট ভেঙ্গে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে থাকা অন্যান্য দুই-একটি দল সরকারের বিরোধিতা করে কথা বলছে। তার মানে জোট ভেঙ্গে যাবে সেটা কিন্তু নয়। একটি দল তার নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করতেই পারে। সেটা তার অধিকার। বিশেষ করে এখন যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হচ্ছে সেগুলো হলো সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে সরকার। এখানে ১৪ দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাছাড়া যারা সরকারের বিরোধিতা করে কথা বলছে সেটা তারা তাদের মতামত জানাচ্ছে। সেটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতন্ত্র চর্চা করতে গিয়ে সেটা যদি কারো বিপক্ষে চলে যায় তার মানে তো তার বিরোধিতা করা নয়। সুতরাং ১৪ দলের ভাঙন কিংবা জোটের মধ্যে দূরত্ব এ বিষয়গুলো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। তবে যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এবং দলটি ১৪ দলীয় জোটের একটি অংশ। সেহেতু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির করার আগে এই নিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা করলে হয়তো এখন যে বিষয় গুলো নিয়ে মত পার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেগুলো থাকত না।

তিনি আরও বলেন, অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন যে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি এ ধরনের কোনো আশঙ্কা করা যুক্তি নেই। কারণ শ্রীলঙ্কা যে শ্রীলঙ্কা হয়েছে বা তাদের যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে, সেটা হয়েছে সেদেশের সরকারের দুঃশাসনের কারণে। সেই দুঃশাসনের কারণেই শ্রীলঙ্কার আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সে জায়গায় থেকে বাংলাদেশের এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না।

১৪ দল   কর্মসূচি   আওয়ামী লীগ   ওয়ার্কার্স পার্টি   ফজলে হোসেন বাদশা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন