ইনসাইড পলিটিক্স

৫ ইস্যুতে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতির মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৬ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

গত একমাস ধরে রাজনীতিতে কথার যুদ্ধ চলছে। কিন্তু কথার যুদ্ধে শেষ করে এখন রাজনীতি মাঠে গড়াচ্ছে বলেই বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে কথায় উত্তপ্ত রাজনীতি এখন রাজপথে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাঁচটি ইস্যু নিয়ে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে এ চলতি মাসেই। যে ইস্যুগুলো নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে-

১. কুমিল্লা ইস্যু: ইতিমধ্যে কুমিল্লার ইস্যু নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে এবং এই তদন্তে এর পেছনে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে সেটা বেরিয়ে আসছে। ফলে যারা এর সঙ্গে জড়িত বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের যে চক্র এই অপকর্ম করে সারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের আইনের আওতায় আনলে এর প্রতিবাদে বিএনপি-জামায়াত রাজপথে আন্দোলন বা অশান্তি সৃষ্টি করার একটা চেষ্টা করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

২. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: সাম্প্রতিক সময়ে জনজীবনের সবচেয়ে অস্বস্তি এবং বিরক্তির নাম হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি মানুষকে এক অসহনীয় অবস্থায় নিয়ে গেছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে যদি উত্তরণ না ঘটাতে পারে তাহলে দ্রব্যমূল্য ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নামবে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বাম রাজনৈতিক দলগুলো দ্রব্যমূল্য ইস্যু নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৩. নির্বাচন কমিশন: সরকার নতুন সার্চ কমিটির ঘোষণা দিতে পারে চলতি সপ্তাহেই। এই সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। সার্চ কমিটি এবং নির্বাচন কমিশন গঠন, এই নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা এ সার্চ কমিটি মানে না। সুশীল সমাজও এই সার্চ কমিটির বদলে আইন করে নির্বাচন কমিশন করার কথা বলছে। নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি রাজপথে কর্মসূচি দিতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

৪. ই-কমার্স: ই-কমার্স প্রতারিত মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখ। তারা বিক্ষিপ্তভাবে এখন মিছিল মিটিং করছেন, কোথাও কোথাও মানববন্ধন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ই-কমার্সের দ্বারা প্রতারিতদেরকে এক করার চেষ্টা করছে এবং তাদেরকে নিয়ে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকার মত প্রতিষ্ঠানগুলো যে হাজার হাজার মানুষকে প্রতারিত করেছে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করলে একটা রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মনে করছে। আর এ ক্ষেত্রেও বাম রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৫. বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে একদিক দিয়ে যেমন বিএনপি সরকার সঙ্গে দেনদরবার এবং তদবির করছে, অন্যদিকে তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনাও নিয়েছে। আর এ জন্য বিএনপি কিছু কিছু আন্দোলন করবে।

তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য সরকারের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে একটি বড় ধরনের আন্দোলন তৈরি করা। সেক্ষেত্রে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো চাইছে প্রথমে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত ইস্যুগুলোকে সামনে আনতে। আর এ কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ই-কমার্সের মত ইস্যুগুলো নিয়ে তারা প্রথমে কর্মসূচি শুরু করবে যে কর্মসূচিগুলোতে মানুষকে সম্পৃক্ত করার পর আস্তে আস্তে তারা অন্যান্য ইস্যুগুলো নিয়েও আন্দোলন করবে। তবে গত ১২ বছরের বিএনপি বহুবার আন্দোলনের চেষ্টা করেছে, সফল হয়নি। এবারও আন্দোলনের চেষ্টায় বিরোধী দল কতটুকু সফল হবে সেটি দেখার বিষয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

'TIPS পদ্ধতিতে বেগম জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব নয়'

প্রকাশ: ০৭:০১ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এভার কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার জন্য সবরকমের ব্যবস্থা করছেন। আর পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও তাকে দেখভাল করছেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য টিপস (Transjugular Intrahepatic Portosystemic Shunt or TIPS) নামের এক চিকিৎসা পদ্ধতির কথা বলছেন। এটি মূলত যকৃতের একটি শীরা, হেফটিক ভেইন এর সাথে প্রোটাল ব্রেইনের একটি বাইপাস চ্যানেল তৈরি করে দেওয়া হয়। লিভার সিরোসিসের কারণে প্রোটাল ব্রেইনের প্রেসার বাড়লে এই টিপস দিয়ে প্রেসার কমানো হয়। তাতে রক্তক্ষরণ রোধ হয়। তবে এটি লিভার সিরোসিসের কার্যকরী চিকিৎসা নয়। এটি লিভার সিরোসিসের একটি জটিলতার চিকিৎসা মাত্র। বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা মনে করছেন যে, এই টিপস পদ্ধতির চিকিৎসা দিয়েই বেগম খালেদা জিয়াকে সেরে তোলা সম্ভব। কিন্তু এভার কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক দল বেগম খালেদা জিয়াকে পর্যবেক্ষণ করে বলেছেন যে টিপস পদ্ধতির চিকিৎসা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রযোজ্য নয়। এক্ষেত্রে তারা একাধিক কারণ উল্লেখ করেছেন।

প্রথমত, তারা বলেছেন যে বেগম খালেদা জিয়া উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগেও ভুগছেন। উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির জন্য টিপস পদ্ধতিতে চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে না। কারণ এতে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। টিপস পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায় এবং এটি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি ডাকতে পারে। এভার কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা এটা বলছেন যে,  বেগম খালেদা জিয়া এখন যে পর্যায়ের অসুস্থ তাতে তার পক্ষে তাকে লিভার প্রতিস্থাপন করাও সম্ভব নয়। কারণ, লিভার প্রতিস্থাপন করার জন্য যে শারীরিক সক্ষমতা এবং সুস্থতা দরকার সেটি বেগম খালেদা জিয়ার নেই। তাছাড়া স্টেমচেল দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস সারানোরও এখন পথ কম বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

এভার কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে ওষুধ দিয়ে যতটুকু সম্ভব এবং যতদিন সম্ভব সারিয়ে রাখা যায়। সাধারণত এ ধরনের লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীরা এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত নির্বিঘ্নে থাকতে পারেন এবং নিয়মিত ওষুধ পান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে, অন্য কোনো জটিলতা না থাকলে তিনি এই রোগ নিয়েই অন্তত এক থেকে দেড় বছর বেঁচে থাকতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ৩-৪ এমনকি পাঁচ বছর বেঁচে থাকারও নজির রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এভার হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা টিপস পদ্ধতিতে করা সম্ভব। আর এই টিপস পদ্ধতির জন্য তাকে দেশের বাইরে নেওয়া দরকার। এভার কেয়ার এবং ড্যাবের চিকিৎসকদের বাইরে লিভার বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করে দেখা গেছে তারা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে টিপস পদ্ধতি জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং টিপস পদ্ধতি প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে স্রেফ একটি অজুহাত হিসেবে। এই অজুহাত দাঁড় করানো হচ্ছে যেন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশি নেয়া যায়। কিন্তু শুধুমাত্র বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন রোগীকে ভুল চিকিৎসার পদ্ধতি দেয়া কতটুকু চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত এবং কতটুকু যুক্তিসঙ্গত এই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।


এভার কেয়ার হাসপাতাল   লিভার সিরোসিস   বেগম খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

এটা কি দুর্ঘটনা ছিলো নাকি পূর্বপরিকল্পিত?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী রামপুরা পলাশবাগ এলাকায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে একজন কলেজ ছাত্র নিহত হয়। এই ঘটনায় ১৪/১৫ টি বাসে আগুনও দেয়া হয়েছে। এটা কি দুর্ঘটনা ছিলো নাকি পূর্বপরিকল্পিত?

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে। এর ১২ মিনিট পর ১০.৫৭ মিনিটে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসআ) ফেসবুক পেইজের মাধমে উক্ত স্থান থেকে সরাসরি লাইভ করা হয়। রাত ১১ টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয়। আর সেখান থেকেই সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর ছড়ানোর ১০ মিনিটের মধ্যেই ১৫ টি বাসে আগুন দেয়াও শেষ। উক্ত ঘটনা থেকে তো কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়।

প্রথমত, ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেলো কিভাবে? নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো?

দ্বিতীয়ত, বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেলো? আর বাকি ১০ মিনিটেই বা ১০ টি গাড়ীতে আগুন কিভাবে দেয়া হলো?

তৃতীয়ত, এতো জনবল রাত ১১ টার পর অইখানে এলো কিভাবে? নাকি তারা আগেই প্রস্তুত ছিলো? সেনাবাহিনী,পুলিশ বা ফায়ার বিগ্রেডও এত তাড়াতাড়ি পৌছাতে পারে না ,যত দ্রুত গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। আর কম বয়সী শিক্ষার্থীরা কি এত দ্রুত পৌছে গেছে?

এমনিতেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আন্দোলন চলছে। যারাই দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন তারা সবাই শিক্ষার্থী। গাড়ীতে কি ছাত্র ছাড়া যাত্রী থাকে না? বিষয়টি মোটেও কোন দুর্ঘটনা নয়। এটা বিএনপি জামাতের অতীত অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি। পরিকল্পনা সফল হওয়ার ১২ মিনিট পরই ব্রেকিং নিউজ আকারে খবর টি প্রকাশ করে জামায়াত পরিচালিত বাঁশেরকেল্লা। বিএনপি-জামাতের রক্তের রাজনীতি জনগণের কাছে পরিস্কার।

ভেবে দেখুন। বিবেক জাগ্রত করুন।


বাস ভাড়া   বিআরটিএ   শিক্ষার্থী   বিএনপি   জামায়াত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সরকার মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০২:০৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের জাগিয়ে তুলতে হবে। সরকার ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে। ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতাগুলো অর্জিত হয়েছিল, সেই মুক্ত সমাজ, কথা বলার স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, সেগুলো এই আওয়ামী লীগ সরকার লুট করে নিয়েছে। ভিন্ন মোড়কে তারা এখানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে। 

আজ বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে  বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কেন সরকার খালেদা জিয়াকে (বিদেশে) যেতে দিতে চায় না? তারা আইনের কথা বলে। এই আইনের মধ্যেই বলা আছে, ইচ্ছা করলে সরকার তাঁকে যেতে দিতে পারে। বাধা আইন নয়, বাধা হচ্ছে সরকার। এই অবৈধ সরকার তাঁকে (খালেদা জিয়া) রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশের শুরুতে মহিলা দলের আয়োজনে মৌন মিছিল করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পুলিশ নেতা-কর্মীদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আটকে দেয়। সমাবেশ শেষেও তারা মিছিল করার চেষ্টা করেন। তাও আটকে দেয় পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, মৌন মিছিলকেও সরকার ভয় পায়।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অনুমতি না থাকা ও যানজটে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মহিলা দলকে মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। তারপরও তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে।

মহিলা দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকার সড়কে যান চলাচল সীমিত ছিল। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

মির্জা ফখরুল   বিএনপি   খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদার অসুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসকদের দুটি সংগঠনের বিবৃতি

প্রকাশ: ০১:২৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়ার শারিরীক অসুস্থতার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের প্রেস ব্রিফিং-এর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি এলামনাই এসোসিয়েশন ও এসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য সঠিক চিকিৎসার বিষয়ে যথাযথ আলোকপাত করার  আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে,  লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারন, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে। ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স হতে রক্তক্ষরন বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বারবার রক্তক্ষরন বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারনে বারবার রক্তক্ষরন এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরেও বারবার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ট্রান্সজগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিপস) করা যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি এলামনাই এসোসিয়েশন ও এসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে,  টিপস-এর ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগ জনিত কারনে অজ্ঞান হওয়ার প্রবনতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিপস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং শিরা পথে ডাই ব্যবহারে কিডনীর জটিলতা বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিপস করার সময়েও হার্ট ডিজিজ বা কিডনী ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেগম জিয়ার শারিরীক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠন দুটি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদার অসুস্থতার রাজনীতি কি বুমেরাংয়ের পথে?

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস রোগ ও তার চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের পারদটা উর্ধ্বমুখী। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন, সব জায়গায় খালেদার অসুস্থতা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। লিভার সিরোসিস রোগের সঙ্গে অনেকেই অপরিচিত হওয়ায় এ নিয়ে অন্তহীন গুজবও ছড়াচ্ছে একাধিক কুচক্রী মহল। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় বাতাসেরও আগে ছড়িয়ে যাচ্ছে এসব গুজব। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের পর খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বাংলাদেশেই সম্ভব’ বলে বিবৃতি দেয় ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএ। এরকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি যে অসুস্থ রাজনীতিটা এতদিন করে আসছিল তা এখন বুমেরাং হয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

খালেদা জিয়া গত ১৩ নভেম্বর থেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি৷ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা সংবাদ সম্মেলন করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন। বিপরীতে গত সোমবার বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বাংলাদেশেই সম্ভব’ বলে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। বিবৃতিতে সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং দেশের প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম। বর্তমানে লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম, তা করোনার সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা এসময়ে দেশের প্রায় সব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীই দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিএমএর ডাক্তারদের এ বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে অনেকেই রুষ্ট হয়েছেন বিএনপির ওপর। তারা বলছেন, শেষমেশ খালেদার অসুস্থতাকেও রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে ছেড়েছে বিএনপির নেতারা। তার ব্যক্তিগত ডাক্তাররা যে বক্তব্য দিয়েছেন এগুলো সব বিএনপির শেখানো বলেও মনে করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে রাজনৈতিক জল ঘোলাই যেন বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন একাধিক জনস্বাস্থ্যবিদ।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ডাক্তারদের করা সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, যে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে বিবৃতি দিল বা প্রেস ব্রিফ করছে তারা সবাই বিএনপির দলীয় চিকিৎসক। এখানে এভারকেয়ার হাসপাতালের কোন চিকিৎসক না, কিংবা এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের বোর্ডের কোন লিখিত সিদ্ধান্ত তারা পড়ে শোনায়নি। বিএনপির চিকিৎসকেরা খালেদার চিকিৎসা নিয়ে যে পদ্ধতির কথা বলেছে তা বিজ্ঞান সম্মত না। তারা অনেক ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রতিদিন একই সুরে কথা বলে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলছেন যে, ম্যাডাম অত্যন্ত গুরুতরভাবে অসুস্থ৷ যে কথা আমি বলেছিলাম প্রথম দিনে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে৷ এই কথাটাই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট কথা৷ তবে মির্জা ফখরুল এ কথা খালেদা জিয়ার দণ্ডিত ও জেলে যাওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন। ফলে অনেকেই এ প্রশ্ন তুলছেন যে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা একজন মানুষ এতদিন কিভাবে বেঁচে থাকে? মির্জা ফখরুলের কথা যদি সত্য হয়, তবে এটা অলৌকিক একটা ঘটনা বলেও মনে করছেন অনেকে। এমন অবস্থায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা আর অসুস্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষতো বটেই এমনকি বিএনপির ভিতরে দলীয় কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নানা কূটতর্কে জড়াচ্ছে। স্লো পয়জনিং এর মতো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বিষয়কে সামনে এনে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। নেতাকর্মীদের আন্দোলনের কথা বললেও বিদেশ থেকে ডাক্তার আনছেন না। যেখানে খালেদা জিয়ার জীবন-মরণের প্রশ্ন সেখানে আন্দোলন, চাপ প্রয়োগ, তর্ক-বিতর্ক না করে সবার আগে বিদেশ থেকে ডাক্তার আনা জরুরি। কিন্তু তারা তা করছে না। বিপরীতে দোষারোপের রাজনীতিটা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা কিংবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার বিধান মতে দণ্ড মওকুফ করে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি মিললে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়া যাবে। কিন্তু যতদিন তা হচ্ছে না ততদিন বিদেশ থেকে ডাক্তার না এনে তর্ক, বাদানুবাদ করলে, মানুষ ঠিকই আসল বিষয়টা ধরতে পারে। এটা এখন পরিষ্কার তারা চিকিৎসার ব্যাপারে আগ্রহী না, এটা নিয়ে রাজনীতি করতে যাচ্ছে এবং তারা আন্দোলন করতে চাচ্ছে। আন্দোলনের কর্মসূচির কথা বলছে। চিকিৎসার চেয়ে ওইদিকে বেশি ব্যস্ত তারা। তারা আইনের ৪০১ ধারার কথা বলছে কিন্তু আদালতে যাচ্ছে না। সুতরাং চিকিৎসা, আইন-আদালত সব ব্যাপারে বিএনপি একটি ধুম্রজালের সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের রাজনীতি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


খালেদ জিয়া   বিএনপি   স্বাচিপ   সিসিইউ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন