টেক ইনসাইড

প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক যাওয়া যাবে দেড় ঘন্টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:৪০ এএম, ১৮ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

আকাশ ভ্রমণে মানুষের স্বপ্ন দিনকে দিন যেনো বড়ই হচ্ছে। মানুষ যেখানে ভ্রমণ করতে মহাকাশে পাড়ি জমাচ্ছে সেখানে সাধারণ বিমান সেবায় যদি দ্রুত গতি না আসে তবে সেটি সত্যিই বেমানান। একসময় যাত্রীবাহী বিমান পরিসেবার সবচেয়ে বড় নাম ছিলো কনকর্ড, ব্রিটেইন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ফ্ল্যাগ শিপ দ্রুত গতির উড়োজাহাজে চড়ে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডন পাড়ি দিতে সময় লাগতো তিন ঘণ্টা। কিন্তু এয়ারলাইনসগুলো তাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা চাইছে হাইপারসনিক গতির উড়োজাহাজ। এ ধরনের একটি উড়োজাহাজে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডন পাড়ি দিতে দেড় ঘণ্টা লাগতে পারে। এই দুই শহরের দূরত্ব ৩ হাজার ৪৭০ মাইল। 

হাইপারসনিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের গতি দাঁড়ায় ম্যাক ৫। লন্ডন নিউইয়র্ক এর এই পথ পাড়ি দিতে সেখানে সাধারণ যাত্রীবাহী জেট বিমানে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, হাইপারসনিক এই উড়োজাহাজ কি তৈরি করা করা যাবে এবং তাতে ভ্রমণ করা কি সম্ভব?

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টাভিত্তিক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বা স্টার্টআপ হার্মিউসের লক্ষ্য হচ্ছে হাইপারসনিক উড়োজাহাজ তৈরি করা। তারা মনে করছে, শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ দ্রুতগতিতে ছুটতে পারে, এমন উড়োজাহাজ তৈরি করা সম্ভব। তারা নতুন ধরনের ইঞ্জিন নিয়ে ইতিমধ্যে পরীক্ষা–নিরীক্ষা চালিয়েছে। এই ইঞ্জিনের ম্যাক ৫ (ঘণ্টায় তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি) পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এই ইঞ্জিনের নকশা করা হয়েছে ছোট ও মনুষ্যবিহীন উড়োজাহাজের জন্য।

হার্মিউস বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য এ ধরনের ইঞ্জিন তৈরির কাজ করছে। তাদের দাবি, ইঞ্জিনের আকার বড় করা হলেই তা যাত্রীবাহী বিমান চালাতে সক্ষম হবে।

সিএনএন বলছে, এ ধরনের হাইপারসনিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের নাগাল পেতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে হার্মিউস আশা করছে, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই তারা হাইপারসনিক উড়োজাহাজের পরীক্ষা শুরু করতে পারবে। তার জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে প্রযুক্তি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। হার্মিউস বাণিজ্যিকভাবে উড়োজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা ঠিক করে রেখেছে।

শুরুতে বর্তমান এয়ারলাইনসগুলোকে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের চেয়ে অনেক ছোট হবে হার্মিউসের উড়োজাহাজ। এমনকি তা ১০০ যাত্রী পরিবহনে সক্ষম কনকর্ডের চেয়ে আকারে ছোট হবে। হার্মিউসের প্রধান নির্বাহী এ জে পিপলিকা বলেন, ‘উড়োজাহাজের আকার নির্ধারণ করার জন্য আমরা মূলত একটি বিমান সংস্থার জন্য ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করেছি। আমরা ব্যবসায়ী শ্রেণি এবং প্রথম শ্রেণির ভ্রমণকারীদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। এরপর আমরা গতি ও পরিচালনা ব্যয়ের বিষয়গুলোর মতো কিছু পরিমিতি নির্ধারণ করেছি। তা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি, এমন একটি উড়োজাহাজ প্রয়োজন, যাতে ২০ যাত্রীর একটি কেবিন থাকে।’

অর্থাৎ একটি উড়োজাহাজে কেবল একটি শ্রেণি থাকবে। পিপলিকা বলেন, ‘আমরা আশা করি, এটি আজকের ব্যবসায়িক শ্রেণির দামে লাভজনক হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, পাঁচ গুণ দ্রুতগতিতে ওড়ার জন্য মানুষ কত টাকা দিতে প্রস্তুত হবে, তার হিসাব করা কঠিন।’

সিএনএন বলছে, প্লেনের পরিসীমা হবে প্রায় চার হাজার নটিক্যাল মাইল। এটি নিউইয়র্ক থেকে প্যারিসের মতো ট্রান্স অ্যাটলান্টিক পথের জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে টোকিওর মতো ট্রান্স প্যাসিফিক পথের জন্য এটি যথেষ্ট নয়। এ পথে বিরতির প্রয়োজন পড়বে।

যাত্রীবাহী ম্যাক ৫ উড়োজাহাজের গতি কেমন হবে, তা বুঝতে উড়োজাহাজের গতির রেকর্ডের দিকে নজর দেওয়া যায়। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের গতি উঠেছিল ম্যাক ৯ দশমিক ৬ (ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার ৮০০ মাইল)। নাসার এক্স-৪৩এ নামের একটি মনুষ্যহীন উড়োজাহাজে ওই গতি ওঠে। এ উড়োজাহাজের দৈর্ঘ্য ছিল ১২ ফুট।

তবে ওই ফ্লাইটের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। তবে ম্যাক ৫ গতি সবচেয়ে বেশিক্ষণ ধরে রেখেছিল বোয়িং এক্স-৫১ নামের একটি মনুষ্যবিহীন পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ। ২০১৩ সালে ওই উড়োজাহাজটি ম্যাক ৫ দশমিক ১ (ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মাইল) গতিতে তিন মিনিট উড়েছিল। দুটি উড়োজাহাজকেই বি-৫২ বোম্বার নামের একটি উড়োজাহাজ থেকে নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে ছাড়া হয়েছিল।

যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে গতির রেকর্ড হচ্ছে ম্যাক ৬ দশমিক ৭ (ঘণ্টায় ৪ হাজার ৫২০ মাইল)। এক্স-১৫ নামের একটি উড়োজাহাজ এই গতি তুলতে সক্ষম হয়। এটি ছিল মূলত একট রকেট, যার সঙ্গে আসন বসানো ছিল। রকেট ছাড়া জেট ইঞ্জিনচালিত উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে গতির রেকর্ড সর্বোচ্চ ম্যাক ৩ দশমিক ৩, যা ১৯৭৬ সালে একটি সামরিক গোয়েন্দা বিমান এসআর-৭১ ব্ল্যাকবার্ড তুলতে সক্ষম হয়েছিল।

কনকর্ডের ক্ষেত্রে দুটি যাত্রীবাহী সুপারসনিক উড়োজাহাজের একটি বাণিজ্যিকভাবে ওড়ার সময় ম্যাক ২ দশমিক ০৪ (ঘণ্টায় ১ হাজার ৩৫০ মাইল) গতি তুলতে সক্ষম হয়।

হার্মিউসের প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ প্রকল্প সফল হলে তা কনকর্ডের গতি সহজেই পেরিয়ে যাবে। এটি শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম হবে।

তাই হার্মিউসের নির্মাতারা এখন ইঞ্জিনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন ধরনের ইঞ্জিন নিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। জেনারেল ইলেকট্রিকের তৈরি ফাইটার উড়োজাহাজের মডেলের ওপর ভিত্তি করে এ ইঞ্জিন তৈরির কাজ চলছে। এটি হবে প্রচলিত দুই ধরনের প্রযুক্তির হাইব্রিড মডেল। একটি হচ্ছে প্রচলিত এয়ারলাইনসগুলোর ব্যবহৃত টার্বোজেট ও সুপারসনিক গতির জন্য ব্যবহৃত র‌্যামজেট প্রযুক্তি। শুরুতে মার্কিন বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ছয় কোটি মার্কিন ডলারের হাইপারসনিক ড্রোন কোয়ার্টারহাউসে এটি ব্যবহৃত হবে।


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া নিবন্ধন পাবে না ব্লুটুথযুক্ত মোটরসাইকেল

প্রকাশ: ০৯:০৮ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের অনুমতি ছাড়া ব্লুটুথ প্রযুক্তি সম্বলিত কোন মোটরসাইকেলের নিবন্ধন দিবে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ)

ব্লুটুথসহ বেতার তরঙ্গ সেবাযুক্ত মোটরসাইকেল বাজারজাতকরণে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি) থেকে অনুমুতি নিতে হবে বলে সম্প্রতি এক চিঠিতে জানিয়েছে বিআরটিএ। টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ অনুযায়ী বিটিআরসি কর্তৃক বরাদ্দ করা তরঙ্গ ছাড়া কোন বেতার যন্ত্রপাতি স্থাপন, পরিচালনা বা ব্যবহার করা যাবে না।

সম্প্রতি দেশের সকল মোটরসাইকেল উৎপাদন বিপণনকারি কোম্পানিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিআরটিএ। বিআরটিএর প্রকৌশল পরিচালক শীতাংশু শেখর বিশ্বাস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মোটরসাইকেলে ব্লুটুথ তরঙ্গ ভিত্তিক অ্যাপ ডিভাইস সংযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বিটিআরসি থেকে অনুমোতি নিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের চাহিদার কথা চিন্তা করে নতুন নতুন সব উদ্ভাবন যুক্ত করছে তাদের মোটরসাইকেলে, যেমন এবিএস, ফুয়েল ইঞ্জেকশন এবং ব্লুটুথ   ডিভাইস। যার মাধ্যমে চালক  অ্যাপের মাধ্যমে বাইকের মাইলেজ, রাইডিং হিস্ট্রি, গড় গতি, পারকিং হিস্ট্রি, ইত্যাদি জানতে পারে।

যদি আমদানীকারকরা বিটিআরসি থেকে ব্লুটুথ, ইন্টারনেট অব থিংকস, ভেহিহেল ট্রাকিং সিস্টেম অথবা অন্য কোন ওয়্যারলেস ডিভাইস মোটরসাইকেলে সংযোজনের অনুমোদন না নেয়, তবে গ্রাহকরা  বিআরটিএ থেকে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন পাবে না।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ইয়ামাহার অনুমোদিত পরিবেশক এসিআই মোটরস বিটিআরসি থেকে ব্লুটুথ এনাবেল্ড টেকনোলজি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আসন্ন আর ওয়ান ফাইভ ভার্সন ., এফ জেড এক্স, এক্স ১৫৫ মডেলের বাইকে এই আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হবে।


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

বদলে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২:০৬ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। গত কয়েক বছর ধরেই বার্তা আদান প্রদানের এই মাধ্যমটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছিলো। তবে সেই হাওয়ায় বড়সড় ধাক্কা লাগে যখন হোয়াটসঅ্যাপ কে গ্রাহকের গোপনীয়তা বজায় না রাখতে পারার অভিযোগ সামনে আসে। এর পর ফেসবুকের প্রাইভেসি পলিসির কারণে একটা বৃহৎ অংশের গ্রাহক মেসেজিং মাধ্যমটি ছেড়ে চলে যায়। কমতে থাকে এক সময় একক আধিপত্য বজায় রাখা হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা।

এরপর থেকেই নিজেদের মেসেজিং মাধ্যমটিকে নানা ভাবে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। এমনই একটি পদক্ষেপ হিসেবে নতুন কয়েকটি বৈশিষ্ট্য যোগ করা হচ্ছে এতে। সেগুলো কী কী?

মেসেজ ডিলিট করার সময়সীমা

এখন ১ ঘণ্টা ৮ মিনিট ১৬ সেকেন্ড পর্যন্ত পাঠানো মেসেজ ডিলিট করা যায় হোয়াটসঅ্যাপে। কিন্তু বদল আসছে এই সময়সীমায়। নতুন সময়সীমা হচ্ছে ৭ দিন ৮ মিনিট। তার মধ্যেই ডিলিট করা যাবে পাঠানো মেসেজ।

প্রোফাইল ছবি কারা দেখবেন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল ছবি কারা দেখবেন, তা ঠিক করতে পারেন আপনি নিজেই। তিনটি রাস্তা রয়েছে। কেউ দেখতে পাবেন না (নোবডি), সকলে দেখতে পাবেন (এভরিওয়ান), ফোনে যাদের নম্বর সেভ করা আছে, শুধু তারা দেখতে পাবেন (মাই কনট্যাক্টস)। এর সঙ্গে এ বার যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি বিষয়। ফোনে যাদের নম্বর সেভ করা আছে, তাদের মধ্যে কয়েক জন বাদ দিয়ে বাকি সকলে দেখতে পাবেন ছবি (মাই কনট্যাক্টস... একসেপ্ট)।

ছবির সম্পাদনা

ছবি পাঠানোর আগে টুকটাক সম্পাদনা করা যায় হোয়াটসঅ্যাপে। ফোন কিংবা কম্পিউটার-দু’জায়গা থেকেই এই কাজ করা যায়। এবার ছবির সম্পাদনাতে জুড়ে যাচ্ছে আরও নতুন কয়েকটি বিষয়।

বানানো যাবে স্টিকার

এতদিন ব্যবহারকারীরা শুধু হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব স্টিকার বা থার্ড পার্টির তৈরি স্টিকার ব্যবহার করতে পারতেন। এবার থেকে তারা নিজেদের তৈরি করা স্টিকারও ব্যবহার করতে পারবেন এই মেসেজিং অ্যাপে।


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বিদ্যুৎচালিত বিমানের বিশ্বরেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩:০৪ পিএম, ২১ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

রোলস-রয়েসের তৈরি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ‘রেকর্ড’ সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের তৈরি ‘স্পিরিট অব ইনোভেশন’ বিশ্বের দ্রুততম সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত বিমান। রোলস-রয়েস বিশ্বাস করে, তাদের তৈরি ‘স্পিরিট অব ইনোভেশন’ বিশ্বের দ্রুততম সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত বিমান।

ডার্বিতে অবস্থিত রোলস রয়েসের এয়ারস্পেস সদর দপ্তর বলছে, পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বিমানটির গতি ঘণ্টায় ৬২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে। এটি তিনটি ভিন্ন দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পরিসংখ্যান বিশ্ব এয়ার স্পোর্টস ফেডারেশনে পাঠানো হয়েছে।

উইল্টশায়ারের আমেসবারির বসকম্ব ডাউনে গত ১৬ নভেম্বর পরীক্ষামূলক ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হয়। ফ্লাইট অপারেশনের পরিচালক এবং পাইলট ফিল ওডেল সর্বোচ্চ গতি তোলেন। তিনি বলেন, এটি আমার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য ঘটনা এবং পুরো দলের জন্য এটি একটি অবিশ্বাস্য অর্জন।

রোলস-রয়েস বলছে, স্পিরিট অফ ইনোভেশন ২০১৭ সালে সিমেন্স ই-এয়ারক্র্যাফ্ট চালিত এক্সট্রা ৩৩০ এলই অ্যারোব্যাটিক বিমানের করা রেকর্ডের তুলনায় ঘণ্টায় ১৩২ মাইল বেশি দ্রুততম ছিল। এটি ৯৮৪২.৫২ ফুট উপরে উঠতে দ্রুততম সময় নেয়ার রেকর্ডটিও ভেঙ্গেছে ৬০ সেকেন্ডের ব্যবধানে। ওই উচ্চতায় উঠতে ২০২ সেকেন্ড সময় লাগতো। বিমানটিতে একটি ৪০০কেডাব্লিউ বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন ব্যবহার করা হয়েছে- যা একটি ৫৩৫বিএইচপি সুপারকারের সমান।

মহাশূন্যে এ পর্যন্ত যুক্ত করা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রোপালশন ব্যাটারি প্যাক যুক্ত করেছে যা দিয়ে এক সাথে সাড়ে সাত হাজার ফোন চার্জ করা সম্ভব। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ইস্ট বলেছেন, ‘কপ-২৬ এ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নেয়ার গুরুত্বের উপর বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ হওয়ার পর এটি আরেকটি মাইলফলক যা ‘জেট জিরো’কে বাস্তবে পরিণত করতে সাহায্য করবে।

বাতাস, স্থল এবং সাগরে কার্বনমুক্ত পরিবহনের আনার যে গুরুত্ব সমাজে তৈরি হয়েছে সেখানে কাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তি নিয়ে আসার আশাকে সমর্থন করে। রোলস রয়েস আশা করে যে, ফেডারেশন অ্যারোনটিক ইন্টারন্যাশনাল (এফএআই) অদূর ভবিষ্যতে নতুন বিশ্ব রেকর্ড হিসাবে এই ফলগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করবে।


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

শেষ হলো শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭:৩০ পিএম, ১৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে দীর্ঘতম আংশিক চন্দ্রগ্রহণ শেষ হয়েছে আজ। গত ৫৮০ বছরের মধ্যে এতো দীর্ঘ সময়ের জন্য চন্দ্রগ্রহণ আর হয়নি। এবারের চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের প্রায় ৯৭ শতাংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে যায় বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে এই চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয়। তবে বাংলাদেশে দেখা যায় বিকেল ৫টার পরে।

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১২ থেকে ২৭ মিনিটের মধ্যে এই চন্দ্রগ্রহণ শুরু হতে পারে। এটি চলে সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিট পর্যন্ত। জানা গেছে, ঢাকায় বিকেল ৫টা ১৩ মিনিট, ময়মনসিংহে ৫টা ১১ মিনিট, চট্টগ্রামে ৫টা ১০ মিনিট, সিলেটে ৫টা ৫ মিনিট, খুলনায় ৫টা ১৮ মিনিট, বরিশালে ৫টা ১৫ মিনিট, রাজশাহীতে ৫টা ১৯ মিনিট এবং রংপুরে ৫টা ১৪ মিনিট থেকে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়। 

৫৮০ বছর পর আজ এমন দীর্ঘ মেয়াদে আংশিক চন্দ্রগ্রহণের দেখা পেল বিশ্ববাসী। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার মূল গ্রহণ উত্তর আমেরিকার দেশগুলো থেকে সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব এশিয়া, উত্তর ইউরোপ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও তা দৃশ্যমান হয়। চাঁদ ও সূর্যের মাঝামাঝি একই সরলরেখায় পৃথিবী এলে চন্দ্রগ্রহণ হয়। তখন পৃথিবীর আড়ালে থাকায় সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না চাঁদে। আজ যেহেতু পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের ৯৭ শতাংশ ঢাকা পড়ে, তাই এটিকে আংশিক বা খণ্ড গ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বলা হচ্ছে। পুরোটা ঢাকা পড়লে বলা হতো পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ।


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

মার্ক জাকারবার্গকে আইনি নোটিশ পাঠালেন বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:৪৭ এএম, ১৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বাংলাদেশ থেকে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নামে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক এস এম মাসুম বিল্লাহ ও আইনজীবী জর্জ চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রেজিস্ট্রি ও ই–মেইলযোগে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাপস কান্তি বল।

দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির অপব্যবহার রোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মেটার প্রধান জাকারবার্গসহ আরো চার ব্যাক্তির কাছে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

অন্য যে চারজনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁরা হলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান, ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির মহাপরিচালক।

নোটিশ গ্রহণের তিন দিনের মধ্যে কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের অপব্যবহার ও ফেসবুকের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এতে ব্যর্থ হলে আইন অনুসারে উপযুক্ত আদালতে প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবী তাপস কান্তি বল বলেন, ‘১৩ অক্টোবর ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা হয়েছে। মণ্ডপে কোরআন রাখা নিয়ে ভিডিও–ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে ঘৃণাসূচক বক্তব্যসহ অন্য বিষয়ের অবতারণা হয়। যাঁদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁরা এসব রোধ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন।’


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন