ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মৃত্যুভয়ে অশান্ত উপত্যকা ছেড়ে পালাচ্ছে বিহার আর ইউপি-র অভিবাসী শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:১২ পিএম, ১৯ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

রবিবার বিকেলে বৃষ্টিভেজা শ্রীনগর শেখ-উল-আলম এয়ারপোর্ট। টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের গা ঘেঁষে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের টিকিট অফিসের সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন একদল গরিবগুর্বো মানুষ।

পরনে মলিন পোশাক, চোখেমুখে স্পষ্ট ভয়ের আভাস। এবং চেহারা দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যায়, স্থানীয় কাশ্মীরিদের সঙ্গে দূরতম সম্পর্কও নেই তাদের, এরা এসেছেন সুদূর বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা ঝাড়খন্ড থেকে।

কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গিয়ে যেটা বুঝতে পারলাম তা হল, যে কোনওভাবে পাঁচ-সাত হাজার রুপির সঞ্চয় জড়ো করে তারা দিল্লির যে কোনও একটা প্লেনের টিকিট কাটতে বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে বিমানবন্দরে চলে এসেছেন।

আর যাদের হাতে অতটাও পয়সা নেই, তারা যাচ্ছেন জম্মুগামী বাসের টার্মিনাসে বা শেয়ারের ট্যাক্সি ধরতে - যে কোনওভাবে ভ্যালি থেকে পালানোই তাদের লক্ষ্য।

এয়ারপোর্টে আসার পথে শহরের একটা `লেবার চকে`ও দেখেছি এই আতঙ্কিত শ্রমিকদের ভিড়। অচেনা লোক দেখেই ভয়ে সিঁটিয়ে যান তারা, মুখে কুলুপ আঁটেন।

আসলে গোটা কাশ্মীর উপত্যকা জুড়েই বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো নানা রাজ্য থেকে অভিবাসী শ্রমিকরা আসেন একটু বেশি উপার্জনের আশায় - কারণ সেখানে নির্মাণ শিল্পের মজুর হিসেবে বা ছোটখাটো জিনিসপত্র বেচে রোজগারের সুযোগ বাকি দেশের চেয়ে অনেক বেশি।

ভোরবেলায় তারা অনেকেই জড়ো হয়ে যান শ্রীনগর, অনন্তনাগ, বারামুলার `লেবার চক`গুলোতে - যেখান থেকে ঠিকাদাররা তাদের সঙ্গে মজুরি নিয়ে দরাদরি করে নিয়ে যান কাজের সাইটে।

কেউ আবার রাস্তার মোড়ে মোড়ে বেচেন রোস্টেড হ্যাজেলনাট বা আখরোট, কেউ বসেন জ্যাকেট-জাম্পার-স্কার্ফের পসরা সাজিয়ে।

অভিবাসী শ্রমিক খুন

কিন্তু অক্টোবরের গোড়া থেকেই কাশ্মীরের এই ছবিটা আমূল বদলে গেছে - অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় একের পর এক বেসামরিক মানুষ ও অভিবাসী শ্রমিক নিহত হওয়ার পর তারাই এখন উপত্যকা ছেড়ে পালাতে মরিয়া।

রবিবারও কুলগাম জেলার ভানপো-তে বিহারের দুজন নির্মাণ শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, আরও একজন মজদুর আহত হয়েছেন - এবং এই নিয়ে চলতি মাসে মোট ১১জন বেসামরিক মানুষ কাশ্মীরে প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগে বিহারি পানিপুরি বিক্রেতা অরবিন্দ শাহ-কে শ্রীনগরে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে মারা হয়, আর পুলওয়ামাতে গুলিতে মারা যান উত্তরপ্রদেশ থেকে কাশ্মীরে কাঠের মিস্ত্রির কাজ করতে আসা সাগির আহমেদ।

বিহারের সাসারাম থেকে আসা রূপেশ কুমার শ্রীনগরে আখরোট বেচছিলেন গত কয়েক মাস ধরে, তিনি জানাচ্ছেন "এই পরিবেশে আমার আর কাশ্মীরে থাকার সাহস নেই, হাতের মালটুকু বেচেই আমি গাঁয়ে ফিরে যাব।"

গয়া জেলার মুরারি কিষেণও আগামী সপ্তাহেই শ্রীনগর ছাড়বেন। তিনি পাশ থেকে যোগ করেন, "প্রশাসনের পক্ষে তো সবাইকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয় ... কাশ্মীর ছেড়ে যেতই হবে, কারণ রোজগারের চেয়ে জীবনের দাম অনেক বেশি!"

কাশ্মীরিদের `বদনামের ষড়যন্ত্র`?

রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা বলছেন, কাশ্মীরিদের বদনাম করতেই ষড়যন্ত্র করে এই সব খুনখারাপি চালানো হচ্ছে - যদিও দেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে এই সব হত্যাকান্ডের পেছনে পাকিস্তানের মদত আছে।

ফারুক আবদুল্লার কথায়, "নিরপরাধ মানুষদের এভাবে মারা খুবই অনুতাপের বিষয় এবং আমার ধারণা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই করা হচ্ছে।"

"আমি নিশ্চিত যে কাশ্মীরিদের এই সব হত্যাকান্ডে কোনও হাত নেই - বরং আমাদের, অর্থাৎ কাশ্মীরিদের বদনাম করতেই এগুলো করা হচ্ছে।"

পাকিস্তান দায়ী?

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ওপর জোর দিলেও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি কিন্তু মনে করছে এই সব হত্যাকান্ডের পেছনে সরাসরি পাকিস্তানি মদত আছে।

জম্মু ও কাশ্মীরে বিজেপির সভাপতি রবীন্দ্র কুমার রায়নার কথায়, "কাশ্মীর উপত্যকায় নিজেদের মেহনত দিয়ে যারা দুপয়সা রোজগার করছিলেন, তাদের এরকম নৃশংসভাবে হত্যা করাটা একটা জঘন্যতম অপরাধ।"

"আমরা নিশ্চিত, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীরাই এই টার্গেটেড কিলিংগুলো করছে - এবং পাকিস্তানের তরফে লাগাতার এই চেষ্টাই চালানো হচ্ছে যাতে কাশ্মীরে একটা ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করে।"

হিন্দু পন্ডিতরাও পালাচ্ছেন

তবে এই সব হত্যার পেছনে যারাই থাকুক, কাশ্মীরের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক যে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে কোনও ভুল নেই।

এ মাসের গোড়ার দিকে শ্রীনগরে গুলি করে হত্যা করা হয় ফিরিওলা বীরেন্দ্র পাসোয়ানকে - যিনি বিহারের ভাগলপুর থেকে এসে কাশ্মীরে রুটিরুজি কামাচ্ছিলেন।

ভাগলপুরে তাঁর স্ত্রী বলছিলেন, মারা যাওয়ার ঠিক আগেও তার সঙ্গে ফোনে স্বামীর লম্বা কথা হয়েছিল - আর তিনিও ধারদেনা সব চুকিয়ে দিনকয়েকের মধ্যেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন।

বীরেন্দ্র পাসোয়ানের সে স্বপ্ন সত্যি হয়নি, আর এখন একের পর এক হত্যাকান্ডের জেরে কাশ্মীরে বসবাসরত বেশ কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিক ও কাশ্মীরি হিন্দু পন্ডিত পরিবার ভ্যালি থেকে পালিয়ে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

অক্টোবরের গোড়াতেই শ্রীনগরে গুলি করে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয় হিন্দু পন্ডিত সমাজের সুপরিচিত ও প্রবীণ সদস্য মাখনলাল বিন্দ্রুকে, যিনি শহরে `বিন্দ্রু মেডিকেয়ার` নামে একটি বড় ওষুধের দোকান চালাতেন।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় হিন্দু পন্ডিতরা যখন হাজারে হাজারে উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, মাখনলাল বিন্দ্রু তখনও শ্রীনগর ছেড়ে যাননি। গত পঞ্চাশ বছর ধরে তার দোকান চালু থেকেছে একটানা।

সেই মাখনলাল বিন্দ্রুকেও যখন নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে, তার জেরে উপত্যকায় টিঁকে থাকা কয়েকশো হিন্দু পন্ডিত পরিবারের মধ্যেও নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ফলে বিহার-উত্তরপ্রদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের পাশাপাশি তুলনায় বেশ কিছুটা সম্পন্ন হিন্দু পন্ডিতরাও এখন দিল্লি বা জম্মুর প্লেনের টিকিট কাটতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ওমিক্রন ১৩ দেশে শনাক্ত হয়েছে

প্রকাশ: ০৫:৫৯ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিশ্বের ১৩টি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা বা অন্য কোনো দেশে গিয়েছিলেন। ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পরই এর প্রভাব ও ভয়াবহতা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। ওমিক্রন টিকার সুরক্ষা ভেদ করতে পারে এমন উদ্বেগ থেকে অনেক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও আশপাশের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ওমিক্রন যেসব দেশে শনাক্ত হয়েছে

দক্ষিণ আফ্রিকা: রাজধানী জোহানেসবার্গ নিয়ে গঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রদেশে পিসিআর পরীক্ষায় পাওয়া নমুনায় দেখা গেছে যে এ সপ্তাহের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট করোনা শনাক্ত ১ হাজার ১০০ রোগীর মধ্যে ৯০ শতাংশ ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত।

বতসোয়ানা: দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া দেশ বতসোয়ানায় কমপক্ষে ১৯ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

যুক্তরাজ্য: দেশটিতে তিনজন ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের সবাই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

জার্মানি: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মিউনিখ বিমানবন্দরে যাওয়া দুজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে এএফপি।

নেদারল্যান্ডস: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে যাওয়া কয়েক শ যাত্রীর ৬১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত।

ডেনমার্ক: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যাওয়া দুজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

বেলজিয়াম: একজনের ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে বেলজিয়ামে ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়।

ইসরায়েল: ২৭ নভেম্বর ইসরায়েলে একজন নতুন এই ধরনে আক্রান্ত হন। আরও একজন ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ইতালি: ইতালিতে একজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার আগে গোটা দেশ ঘুরে বেরিয়েছেন।

চেক প্রজাতন্ত্র: স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটিতে একজনের ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হংকং: সন্দেহভাজন আক্রান্ত হিসেবে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা দুজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া: দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে ওমিক্রনে আক্রান্ত দুজন শনাক্ত হয়েছেন। তারা উভয়ই সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলেন।

কানাডা: সম্প্রতি নাইজেরিয়া সফর করা দুই ব্যক্তির দেহে ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ওমিক্রন: ভারতের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৫:৪৭ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়নি। এরপরও দেশটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ভ্রমণে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি পূর্ণডোজ টিকা নেওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য যে ছাড় দেওয়া হচ্ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। গত রোববার (২৮ নভেম্বর) নতুন এসব নির্দেশনা জারি করেছে ভারত সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুসারে, করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরন প্রতিরোধে এসব পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। দীর্ঘ ২০ মাসেরও বেশি সময় পর গত ২৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট ফের শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল ভারতীয় প্রশাসন। আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে এসব ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট চালু রয়েছে ভারতের।

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ কারা?
চলতি মাসের শুরুর দিকে ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়েছে আরও কয়েকটি দেশে। ওমিক্রন ধরা পড়া দেশগুলোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারত।

ভারত সরকারের নির্দেশনা অনুসারে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় রয়েছে, যুক্তরাজ্য, গোটা ইউরোপ এবং আরও ১১টি দেশ বা অঞ্চল; সেগুলো হলো- বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, চীন, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, সিঙ্গাপুর, হংকং ও ইসরায়েল।

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য নিয়ম
ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশগুলো থেকে ভ্রমণকারী অথবা ট্রানজিটগ্রহীতাদের ভারতে পৌঁছানোর পরপরই আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতে হবে এবং এর ফলাফল আসা পর্যন্ত বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করতে হবে।

ভ্রমণকারীদের কেউ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলে ভারত সরকার নির্ধারিত জায়গায় আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং নেগেটিভ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানেই থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ভ্রমণকারী ওমিক্রন বা করোনার অন্য যেকোনো ধরনেই আক্রান্ত হোন না কেন, সবারই আইসোলেশনে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই কেবল তারা ছাড়া পাবেন।

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশগুলো থেকে যাওয়া ভ্রমণকারীরা করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হলেও তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা এবং অষ্টম দিনে করোনা টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক। ওই পরীক্ষায় তারা করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হলে ভারত সরকারের কোভিড-১৯ হেল্পলাইনে তা জানাতে হবে। এছাড়া, ভ্রমণকারীদের সবশেষ ১৪ দিনের ভ্রমণ বৃত্তান্তও জমা দিতে হবে।


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা করবে আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: ০৪:২৬ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগ। এ তথ্য জানিয়েছে বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে (বিআরওইউকে)।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিআরওইউকে জানিয়েছে, গত ২৬ নভেম্বর বুয়েনস আয়ার্সের ফেডারেল ফৌজদারি আদালতের দ্বিতীয় চেম্বার নিশ্চিত করেছে যে, তারা সার্বজনীন এখতিয়ারের নীতির অধীনে মিয়ানমারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা শুরু করবে।

আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কিছু অপরাধ এতটাই ভয়াবহ যে সেগুলোর বিচার যে কোনো জায়গায় করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, বিআরওইউকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমে আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগের কাছে মিন অং হ্লাইং এবং বর্তমান জান্তার ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বসহ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের মামলার জন্য আবেদন করেছিল।


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ওমিক্রন: বিদেশিদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করছে জাপান

প্রকাশ: ০৪:১০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টওমিক্রন ইতোমধ্যে এক ডজন দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট পৌঁছে যাওয়ায় অনেক দেশ আতঙ্কিত হয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং বিমান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করছে।

সোমবার জাপান বলেছে, তারা বিদেশিদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ইসরায়েলের পথে হেঁটেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পুনরায় খুলে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

আগের সব ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় সম্ভাব্য অতি-সংক্রামক ওমিক্রন গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর থেকে এই ভ্যারিয়েন্ট অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, ব্রিটেন, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ইসরায়েল, ইতালি এবং নেদারল্যান্ডসেও শনাক্ত হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

শ্রেণিকক্ষে গান ছেড়ে ধূমপান, চার ছাত্রছাত্রী বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

শ্রেণিকক্ষে সিগারেট টানছে শিক্ষার্থীরা। এক ছাত্রী ধোঁয়া দিচ্ছে আরেক ছাত্রের মুখে। সুখটানের পাশাপাশি অশ্লীল অঙ্গিভঙ্গি চলছে। মোবাইলে বাজছে পছন্দের গান। হাসাহাসি, খুনসুঁটির সেই ভিডিওই এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

শুক্রবার এমনই একটি ভিডিও পশ্চিমবঙ্গের চন্দ্রকোনা এলাকায় ভাইরাল হয়েছে। নিন্দার ঝড় ওঠতেই চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে এর আগেও স্কুলের ভেতরে ক্লাস চলাকালীন ছাত্রীদের মদপানের বিষয়ও প্রকাশ্যে এসেছিল। বার বার এমন ঘটনা শিক্ষকদের গাফিলতির কারণেই ঘটছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা নম্বর ব্লকের জাড়া হাইস্কুলে শুক্রবার ক্লাস ইলেভেনের ছাত্র-ছাত্রীদের ধূমপানসহ অশ্লীল আচরণের ছবি ভাইরাল হতে শনিবার থেকে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনায় ক্লাস ইলেভেন টুইলেভ মিলিয়ে জন ছাত্রছাত্রী যুক্ত রয়েছে। করোনা লকডাউনে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার পরেও স্কুল খুললে ছাত্র-ছাত্রীরা এখনও উশৃঙ্খল জীবনযাপন থেকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি বলে মনে করছেন একাংশ।

তারপরও বিষয়টাকে ছোট করে দেখতে চায়নি বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটি। শনিবারই পরিচালন কমিটির বৈঠকে বসে এক বছরের জন্য ওই ছাত্র-ছাত্রীদের বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেছে। তবে তাদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে যেন পরীক্ষা দিতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে গ্রামবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়ে ওই ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এতে খুশি নয় শাসকদলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অভিভাবকরা। সবাই চাচ্ছেন এই ঘটনা প্রথম নয় এর আগেও অনেক ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র এর জন্য দায়ী স্কুলের শিক্ষকরা।

ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, খারাপ এই ঘটনাটি ঘটেছে বিদ্যালয়ের মধ্যে। এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আরও সতর্ক হবো যেন ভবিষ্যতে ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে। একইসঙ্গে ওই ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন