ইনসাইড টক

’দেশের বাইরে টেকনিক্যাল কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:২৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

করোনাকালীন সাম্প্রতিক সময়ে রেমিটেন্সের নিম্নমুখী প্রবাহ ও কারণ এবং উত্তরণ নিয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, করোনার সময়ে দেশে যে ইকোনোমিক ডাউনটার্ন তৈরী হয়েছিল সেসময় প্রবাসী কর্মীরা পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য বেশী রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল। কিন্তু এখন বিদেশ থেকে যারা দেশে ফিরছে তারা ঠিকভাবে ফিরে যেতে পারছে না, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, পিসিআর টেস্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ইত্যাদি কারণে বর্তমানে রেমিটেন্স কম আসছে। তাছাড়া, দেশের বাইরে বর্তমানে টেকনিক্যাল কর্মীদের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু আমাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ কম বা যুগের প্রয়োজনে পর্যাপ্ত সাপোর্ট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসকল কারণে রেমিটেন্সের উপরে ঋনাত্মক প্রভাব পরেছে। এজন্য কিভাবে আস্তে আস্তে এটি পজিটিভ পর্যায়ে পৌঁছানো যায় সে বিষয়গুলো চিন্তা করতে হবে। আমাদের চেয়ে কম কর্মী পাঠিয়েও ফিলিপাইনের মতো দেশ আমাদের চেয়ে বেশী আয় করে। সৌদি আরব বা দুবাইয়ে আমাদের কর্মীরা যেখানে পরিচ্ছনতার কাজ করছে, সেখানে এসব দেশে রেস্টুরেন্টের শেফ কিংবা স্টোরগুলোতে সেলসম্যানের কাজগুলো ভারত কিংবা ফিলিপাইনের লোকেরা করছে। সুতরাং আমাদের ধীরে ধীরে কমন কাজগুলো থেকে স্কিলড মাইগ্রেশনের দিকে যেতে হবে এবং এটি করতে পারলেই আমাদের রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে। এজন্য দেশের মধ্যে যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার সে প্রস্তুতিও আমাদের গ্রহণ করতে হবে। একটা সময় প্রচুর লোক বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আমরা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছি, কিন্তু এখন আমাদের দক্ষ ও টেকনোলজি বেইজড কর্মীকে বাইরে পাঠাতে হবে। এটা দেশে থেকেই তৈরী করতে হবে। এমনকি বাইরে থেকে যারা আসছে তাদেরকে এসমস্ত ওরিয়েন্টেশন দিয়ে আবার বাইরে পাঠাতে হবে। তাহলেই আমাদের রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে।

করোনা ও প্রবাসীদের রেমিটেন্সের বিষয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. জাফর আহমেদ খান।

প্রবাসী কর্মীদের দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, কর্মীদের স্কিলড করার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে আরো এগ্রেসিভলি বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার। আগের চেয়ে আমোদের অবস্থা এখন ভালো হয়েছে। তবে অন্যান্য লেবার সেন্ডিং দেশগুলো আরও দ্রুত এ কাজগুলো করছে। তাই সরকারকে এ বিষয়গুলো চিন্তা করতে হবে। যদিও সরকার এখন প্রত্যেক জেলায় জেলায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার করেছে, বিভিন্ন উপজেলাতে করছে। কিন্তু সেখানে ট্রেনিংয়ের মান বাড়াতে হবে। সত্যিকারভাবে যেসব কর্মীরা বাইরে যেতে ইচ্ছূক রিয়েল সেন্সে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বাইরে পাঠানো উচিত। আমাদের দেশে যেহেতু প্রচুর জনসংখ্যা, তাই স্কিলড ম্যানপাওয়ার বিদেশে পাঠাতে পারলে আমাদের রেমিটেন্সও বাড়বে এবং দেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রবাসীদের কল্যাণে কাজে লাগতে পারে বলে ড. জাফর আহমেদ খান জানান, বাইরের দেশগুলোতে কন্টিনিউয়িং এডুকেশন সিস্টেম আছে। যারা আগেই চাকরীতে ঢুকে যায় তারাও পরবর্তীতে একটা একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে তারাও এ বিষয়টি চিন্তা করতে পারে। যাদের স্কিল আছে, ভালো কাজ করতে পারে কিন্তু কোন সার্টিফিকেট নাই। এ সার্টিফিকেটের জন্য তারা বাইরে ভালো চাকরি পাচ্ছে না, দেশেও ভালো কিছু করতে পারছে না। তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে কিভাবে ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় করে একটা স্কিলড সার্টিফিকেট প্রদান করা যায় সে ব্যাপারেও চিন্তা করা যেতে পারে।

প্রবাসীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের উপর জোর দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের প্রবাসী কর্মীদের অ্যাডাপ্টিবিলিটি বা মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা অনেক বেশী। তারা বিদেশ যাওয়ার পর খুব দ্রুতই ভাষা শিখে নেয় ও বাইরের কালচারের সাথে তারা মানিয়ে নেয়। কিন্তু যাওয়ার সময় তারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত থাকে না। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই প্রবাসী কর্মীদের ভাষা কিংবা কালচার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় কিন্তু এক আরো পর্যাপ্ত করা দরকার। যেমন- যে সব কর্মীরা বাইরে যাবে তারা কোন পরিবেশে কাজ করবে, কোন ভাষা ব্যবহার করতে হবে এসব বিষয়গুলো প্রশিক্ষণের ভিতরে আরও বেশি অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। সরকার স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আলাদা একটা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে তৈরী করেছে যেটা আগে ছিল না। একটা বিষয় চিন্তা করা দরকার, যারা দেশের বাইরে যাচ্ছে সরকার তাদের পেছনে তেমন কোন ইনভেস্ট করছে না। কিছু ক্ষেত্রে ইনভেস্ট করলেও তা খুবই স্বল্প। যে ছেলেটা দেশে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, ডাক্তার হচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে তাদের পেছনে সরকারের একটা বিশাল ইনভেস্টমেন্ট আছে। প্রবাসী কর্মীদেরও যদি সরকার দক্ষ প্রশিক্ষকের দ্বারা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তাদের যদি বাহিরে পাঠানো যায় তবে তারা এক একটা সোনার টুকরা হয়ে উঠতে পারে। তাহলে তারা শুধু বিদেশেই না, দেশে এসেও তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে বিএমইটির অফিস আছে, বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার তৈরী হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি জেলায় না, বরং উপজেলা পর্যায়েও এসব দরকার। যাতে মানুষ বাইরে যাবার জন্য কি করা দরকার সেখান থেকেই জানতে পারে। উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের সরকারি সাপোর্ট অফিস নাই দেখেই এসব প্রান্তিক পর্যায় থেকে কর্মীরা দালালদের মাধ্যমে বাইরে পাড়ি জমাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও ফ্রেন্ডলি হতে হবে, তাদের কাছে যেতে আরও ইজি এক্সেস থাকতে হবে। এছাড়া প্রত্যেকটা রিক্রুটিং এজেন্সিকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা দরকার। কোন রিক্রুটিং এজেন্সিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৈধ অফিস না থাকলে লাইসেন্স দেয়া উচিত নয়। এ ব্যাপারগুলো আরও স্পষ্ট ও বাইরে যাবার চ্যানেলগুলো আরও স্বচ্ছ করা দরকার।

তিনি আরও জানান, প্রবাসী শ্রমিকরা নির্দিষ্টি সময় বিদেশে থাকার পর যখন দেশে ফিরে তখন তারা শুধু টাকা নিয়ে আসে না, তারা দক্ষতাও নিয়ে আসে। তারা দেশে ফেরার পর তাদের অর্জিত দক্ষতাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় এ বিষয়ে চিন্তা করা যায়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির মতো প্রয়োজনে আলাদা অর্গানাইজেশন তৈরী করা যেতে পারে। এখন প্রতি বছর আমাদের অনেক কর্মী বাইরে যাচ্ছে এব্ং বাইরে আমাদের এক কোটির বেশী লোক আছে। এই এক কোটি লোকের জন্য তো সরকার তেমন কিছুই করছে না। তারা আমাদের দেশের অক্সিজেন, খাবার, আমাদের ক্ষেতের ফসল কিছুই নিচ্ছে না। বরং প্রতি বছর তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তাই তাদের তাদের কিভাবে বেনেফিট দেয়া যায়, তাদের টাকা দেশে কিভাবে নিরাপদে বিনিয়োগ করা যায় এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। তবে আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সরকার সাম্প্রতিক সময়ে পার্লামেন্টে ককাস, একটি প্রেশার গ্রুপ, তৈরী করেছে। এসব বিষয়গুলোকে কিভাবে আরও সুনির্দিষ্ট পথে পরিচালিত করা যায় এবং আইন-কানুন গুলোকে আরও প্রবাসী ফ্রেন্ডলি করা যায় এ ব্যাপারে ককাস বায়রার সাথে সাম্প্রতিক সময়ে বৈঠক করেছে। এসব প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে যেসব সিভিল সোসাইটি কাজ করে তাদের সাথে বৈঠক করে পলিসি, গাইডলাইন তৈরী ও আইনকানুন পরিবর্তন করা নিয়ে আলোচনা করেছে।

ড. জাফর আহমেদ খান প্রবাসীদের কল্যানে বর্তমান সরকারের কিছু কর্মকান্ড উল্লেখ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটা ম্যান্ডেট ছিল প্রবাসী কল্যান ব্যাংক করা, সেটা আমরা করেছি। আমরা বিএমইটিকে আরও আধুনিকায়ন করেছি। সেখানে যেসমস্ত কর্মীরা বাইরে যাবে তাদের স্মার্টকার্ড প্রদান করেছি যাতে তাদের একটা ইলেক্ট্রনিক প্রোফাইল থাকে। আমরা কল্যাণ বোর্ড করেছি। আমরা আগের চেয়ে বেশী লেবার উইয়ং তৈরী করেছিলাম। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক করেছি। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেন্ট ডে ১৮ ডিসেম্বর, আমরা খুব বড়ভাবে  উৎযাপন করতাম যাতে মানুষের মধ্যে একটা সজাগ দৃষ্টি তৈরী হয় এবং সেকারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় রাষ্ট্রপতি আসতেন, বিভিন্ন দেশের মাইগ্রেন্ট কর্মীদের সাথে কথা বলতেন। এসমস্ত কাজগুলো করার প্রেক্ষিতে তখন মনে হয়েছিল বাংলাদেশ মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে একটা পর্যায়ে উন্নিত হয়েছিল। সেই বিষয়গুলোকে আরও দ্রুত কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে নেয়া যায় এ বিষয়ে আমাদেন চিন্তা করা দরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা আছে। এই জনসংখ্যাকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে পারলে আমাদের দেশের কাজে যেমন লাগবে, পাশাপাশি আমরা এদের বাইরে পাঠিয়ে অন্যান্য যেসব দেশের স্কিলড কর্মী দরকার তাদের উন্নয়নেও আমরা বিরাট একটা ভূমিকা রাখতে পারি। এতে সেসব দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কও গভীর হবে এবং আমরা শুধু বাংলাদেশের উন্নয়ন না, পৃথিবীর উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারি। আর অবৈধ পন্থায় দেশের বাইরে যাওয়া বন্ধ করা দরকার। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা যারা আছে তাদের এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধ পন্থায় বাইরে যাওয়া যত দ্রুত বন্ধ হবে ততই আমাদের জন্য এটা মঙ্গলজনক।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আগামী কিছুদিনের মধ্যে ওমিক্রনের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা যাবে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ওমিক্রন সম্পর্কে আরো অনেকে বলতেছে। প্রথম কথা হলো এটি একবারে নতুন ভেরিয়েন্ট। অনেক কিছু রিসার্চ পর্যায়ে। আমরা তেমন কিছু জানি না। গত ২৪ নভেম্বর প্রথম ওমিক্রন সম্পর্কে বিশ্ববাসী জেনেছে। এটি আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ছড়িয়েছে। পাশাপাশি ইসরাইল, হংকং, বেলজিয়াম, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশে এ ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বিষয়টি উদ্বেগজনক। কিন্তু এখনও আমরা সিউর না কি হতে যাচ্ছে। আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দেশের জন্য যা দরকার তা হলো কঠোর পর্যবেক্ষণ। বিশেষ করে যারা দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বাইরের দেশগুলো থেকে আসবে, তাদের টেস্ট করতে হবে। কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। আমাদের সীমান্তসহ নৌপথেও নজরদারি বাড়াতে হবে। যারাই বর্ডার দিয়ে আসবে, বৈধ-অবৈধ সবাইকে যেন টেস্ট করা হয়। পজিটিভ হলে অবশ্যই যেন কোয়ারেন্টাইন করা হয়। আবার ওমিক্রন নাও আসতে পারে। আমরা তো আসলে জানি না। কিন্তু জানি না বলে বসে থাকা যাবে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী কিছু দিনের মধ্যে এটির ভয়াবহতা সম্পর্কে পরিষ্কার জানা যাবে।  সুতরাং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। গত বছরের মত এবারের অবস্থা কিন্তু নেই। গতবার ইতালি থেকে আমাদের দেশে করোনাটা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছিলো। গতবার যখন করোনাটা আসলো তখন আমরা অনেক কিছুই জানতাম না, তবে এখন আমরা অনেক কিছুই জানি, আমাদের প্রশাসনও জানে অনেক কিছু। জনগণ যেন স্বাস্থ্যবিধি ঠিক ঠাক মত মেনে চলে সেদিকে নজর রাখতে হবে, অনেকের মাঝে ঢিলেঢালা গা ছাড়া ভাব এমনটা যেন না করে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকা গ্রহণ করা এ দুটোই কিন্তু আমাদের সুরক্ষার মূল হাতিয়ার। স্বাস্থ্যবিধি বলতে মাস্ক, হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং অবশ্যই যারা টিকা গ্রহণ করেন নাই তারা যেন টিকা গ্রহণ করেন। যদিও তারা বলছে বাজারে যে টিকা আছে তা ততটা কার্যকরী নাও হতে পারে কিন্তু এগুলো এখনো কনফার্ম না। তবে সবচেয়ে বড় কথা সচেতনতার কোন বিকল্প নাই, জনগণকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মালিক এবং শ্রমিক আমাদের এমনকি সরকারকে জিম্মি করেছে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমার তো মনে হয় ২০১৮ সাল থেকে সরকার শিক্ষা নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছে। সরকারের অনেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন। বিআরটিসি অর্ধেক ভাড়া কমানোর ঘোষণাও ইতোমধ্যে দিয়ে দিয়েছে। এটা তো অবশ্যই ইতিবাচক।

সড়ক আন্দোলন সহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যেটা ইতিবাচক নয়, সেটি হচ্ছে সড়ককে নিরাপদ করার যে উদ্দেশ্য নিয়ে সড়ক আন্দোলন হয়েছিল, আইন-কানুন, বিধি-বিধান মানার, সেখানে অগ্রগতি নেই। বরঞ্চ সড়কে বিশৃঙ্খলা আগের থেকে বেড়েছে। মালিক এবং শ্রমিক আমাদের জিম্মি করেছে। এমনকি সরকারকেও জিম্মি করেছে। এগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ। এগুলো দেশের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।

পরিবহন মালিকদের দাবি করা ৮০ শতাংশ পরিবহন মালিক গরীব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কয়েক কোটি টাকার মালিক হলেও আপনি নিজেকে গরীব দাবি করতে পারেন। কেননা অনেকে তো হাজার কোটি টাকারও মালিক। সেই হাজার কোটি টাকার মালিক থেকে আপনি তো অবশ্যই গরীব। গরীব কথাটি আসলে আপেক্ষিক বিষয়। দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। পরিবহন মালিকরা নিজেদের গরীব বলে কি বুঝাতে চাইছেন, তা আমি বুঝি না। গরীব বিষয়টি সম্পূর্ণই আপেক্ষিক। এটি একটি অস্পষ্ট কথা। এর থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া দুরূহ। 

পরিবহন সেক্টরের কালো টাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে আইন-কানুন, বিধি-বিধান, কিছুই চলে না, প্রয়োগ নেই, সেখানে এটা হবেই। এটা হতে বাধ্য। একে ঠেকাতে হলে পরিবহন মালিকদের কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। তাদের কথায় সব হতে হবে কেন? সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এর মাত্রা অনেকটাই কমানো যায়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আমেরিকার আমন্ত্রণ না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ’

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন দুটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথমটি হলো এটা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে,  চীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশকে একাত্ম করতেই এ সম্মেলন ডেকেছেন বাইডেন। এটার মধ্যে একটি রাজনীতি আছে, গণতন্ত্র কতখানি আছে, তা বলা মুশকিল। কারণ এটা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার একটি প্রচেষ্টা করছে বাইডেন প্রশাসন। ফলে সেখানে আমরা কেন জড়িত হব? বরং আমন্ত্রণ পেলে আমরা যাবো কি যাবো না প্রশ্নে ঝামেলা হতো। কেননা এটি চীনের বিরুদ্ধে একটি নতুন জিনিস দাঁড় করানো হচ্ছে।

বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন সহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

দ্বিতীয়টি হলো যারা দাওয়াত পেয়েছে তাদের দেশের গণতন্ত্র এমনকি খোদ আমেরিকার নিজের গণতন্ত্র যে নড়বড়ে, এটা বলার তো আর অপেক্ষা রাখে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালো না সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। যেখানে পাকিস্তান, ফিলিপিন, এমনকি নরেন্দ্র মোদির ভারতকেও যদি গণতান্ত্রিক বলা হয়, তাহলে তো আমাদের কিছু বলার বা করার নেই। যেহেতু রাজনীতির একটি অংশ হিসেবে আমেরিকা এটা করছে, আর আমাদের সাথে চীনের একটি ভালো সম্পর্ক, সেখানে আমরা কখনোই অন্য দেশের হয়ে আরেকটা দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি না এবং আমরা কখনো দাঁড়াইনি। সেই জায়গায় আমি মনে করি,  আমন্ত্রণ না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষের উপই ছেড়ে দিতে হবে। এটা বাংলাদেশের জনগণের বিষয়। এটা অন্য দেশ এসে এই জিনিসটা সেইভাবে করার কোনো সুযোগ নেই। এটা আমরা বহুবারই দেখেছি এবং আমরা দেখেছি যে, গত ২০ বছরে আমেরিকা আফগানিস্তানে যে ধরণের গণতন্ত্র চর্চা করেছে, সেটাও আমরা দেখেছি। আমেরিকা বিগত ২০ বছরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে উপনিবেশবাদ চালু করেছে। যে দেশ ভিয়েতনামকে তছনছ করে দিল, যে দেশ একাধিক যুদ্ধে বিভিন্ন দেশে যখন-তখন যুদ্ধ করে যাচ্ছে, সেই দেশকে যদি গণতান্ত্রিক বলা হয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি বলবো যে, আমার জানা সংজ্ঞা অনুযায়ী আমেরিকা দেশ ‍হিসেবে গণতান্ত্রিক হতে পারে না। অন্যরা যদি বলে থাকে, বলতে পারে। এটাকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, সেটাতে আমার আপত্তি আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমালোচনা যদি করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক সমালোচনা করাই ভাল। আমেরিকাকে বলার দরকার নেই। যে দেশ ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানকে তছনছ করলো, তার আগে ভিয়েতনামকে তছনছ করলো, ইরাক তছনছ করলো, ইরানে চেষ্টা করেছিল। সেই দেশের গণতন্ত্রকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, তাহলে আমি তাদেরকে বলবো যে, গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও একটু ভালোভাবে জানতে। আমেরিকা নিজে বলে বেড়াচ্ছে গণতন্ত্র, নির্বাচন। কিন্তু হিটলারও তো নির্বাচিত ছিল, মোসেলিনিও নির্বাচন করেই এসেছিল। তাই আমার মনে হয়, আমাদের যে ঘাটতি, তা আমাদের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমাদের জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। সেটা আমেরিকা ব্যাখ্যা করবে, আমি তা মানতে রাজি না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাভাবিক ভাবেই বলবে যে, আমাদের থেকে দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ডাকা হয়েছে। আবার ঐ দিকে শ্রীলঙ্কাকে ডাকা হয়নি কেন, এটাও কেউ বুঝলো না। শ্রীলঙ্কায় মহেন্দ্র রাজা পাকশে তো নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছে। আমি ধরে নিলাম, যে আমাদের দেশে নির্বাচন নিয়ে সমস্যা আছে। কিন্তু রাজা পাকশে যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, সে নির্বাচন নিয়ে তো সেই ধরণের কোনো সমালোচনা ছিল না। বিরোধী পক্ষও সংসদ বয়কট করেনি। সেখানে বুঝাই যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার সাথে চীনের একটি ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে আমন্ত্রণ পায়নি। অন্যকথায় এটা চীন বিরোধী একটি সম্মেলন। শেষপর্যন্ত কয়টা দেশ এই সামিটে যাবে, কোন লেভেলে যাবে, সেটাও দেখা দরকার। আমার মনে হয় না এটা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে এমনিতেই।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বিএনপি আদৌ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চায় না’


Thumbnail

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, প্রথম কথা হলো, খালেদা জিয়ার মুখে এবং অন্যান্য পথে রক্ত যাচ্ছে এই কথাটার সত্যতা আছে কিনা এটা নিয়ে সন্দেহ আছে। এখন আমি যতদূর জানি, গতকাল সাড়ে দশটার দিকে এন্ডোসকপি করানো হয়েছে, বাইরের একজন নামীদামী ডাক্তার দিয়ে করেছে। এখানে কোনো ফাইন্ডিং নাই। রক্ত যাচ্ছে এ রকম কোন হিস্ট্রোরিও শুনি নাই আমরা। ভিতরে আদৌ কি হচ্ছে সেটা তো আমরা জানি না। ওখানকার হাসপাতালের ডাক্তাররাও কিন্তু কিছু বলে না। বোর্ডের সিদ্ধান্ত কিংবা যারা চিকিৎসা করতেছেন তারাও কিন্তু কোন কিছু বলে না। খালেদা জিয়া যখন বঙ্গবন্ধু ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি ছিলো তখন তার ডাক্তাররা কিন্তু প্রেস ব্রিফ করতো। বলতো যে কি অবস্থায় আছে। এখন কিন্তু সেখানে বলতেছে না।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও লিভার সিরোসিস সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, যতদূর আমরা খবর পায় উনি ভালোই আছেন। এখন এটা নিয়ে যেহেতু রাজনীতি আরম্ভ হচ্ছে, দল রাজনীতি করতেছে, এটা নিয়ে মন্তব্য করাও মুশকিল। তবে আমি যেটা মনে করি, আমাদের দেশে বিগত এক যুগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে উন্নয়ন হয়েছে, আমাদের দেশেও অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তার আছে। সেখানে এ সমস্ত রোগীর, যেহেতু বয়স্ক এবং অনেক জটিল রোগে ভুগছে, এই সমস্ত রোগীর চিকিৎসা আমাদের বাংলাদেশে আছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে জানা যায় জানালে তিনি বলেন, সরকার কিংবা বিএনপি কিংবা খালেদা জিয়ার পরিবার, তাদের উচিত বাংলাদেশে যারা নামীদামী ডাক্তার রয়েছে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, লিভার বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদেরকে নিয়ে একটা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোর্ড করা উচিত। বোর্ড করে চিকিৎসা করা উচিত যদি আসলেই ওই রকম কিছু হয়ে থাকে।

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় এভারকেয়ার হাসপাতালে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভিন্ন জিনিস। চিকিৎসা ব্যবস্থা আলাদা। চিকিৎসা একটা মানবিক ব্যাপার। সেই প্রেক্ষাপটে এভারকেয়ার সহ আরও বিভিন্ন জায়গায় ভালো ভালো চিকিৎসক আছে। সুতরাং, যদি রোগীর অবস্থা খারাপই হয় দলেরও উচিত, এভারকেয়ার হাসপাতালেরও উচিত, তার ফ্যামিলিরও উচিত এবং সরকারেরও দায়দায়িত্ব আছে। খালেদা জিয়ার অবস্থা যদি খারাপ হয়ে থাকে এই এক্সিকিউটিভ অর্ডার বাতিল করে, সরকারের নিজস্ব তত্ত্ববাধায়নে বঙ্গবন্ধু ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ  টিমের দ্বারা বোর্ড করে তার চিকিৎসা করা উচিত।

তিনি বলেন, তারা কর্মসূচী দিয়েছে সহিংস কর্মসূচী, দানবিক কর্মসূচী। সরকার পতন করবে। সরকারের কাছে বিএনপি মানবিকতা চাচ্ছেন, সুযোগ চাচ্ছে, আবার সরকার পতনের কথাও বলছে। এখানে কোথাও একটা বোঝাপড়ার সমস্যা রয়েছে। বিএনপি আদৌ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চায় কিনা সেটা নিয়ে ধুম্রজাল রয়েছে। তারা তো চায় না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আমরাই বেগম জিয়ার চিকিৎসা দিতে সক্ষম’

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৪ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে সব ধরণের চিকিৎসাই সম্ভব, সব ধরণের চিকিৎসার প্রাপ্যতা আমাদের দেশেই আছে। আমরা এ দেশেই সব চিকিৎসা দিতে সক্ষম। যদি কেউ আমার এখানে বোর্ড করে বিদেশী চিকিৎসক এনে চিকিৎসা দিতে চায় তবে সেটাও এখানে সম্ভব। খালেদা জিয়া এর আগে বিএসএমএমইউ তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখন তিনি এভারকেয়ারে আছেন। তবে তারা যদি আবার চায় তবে আমরা আবার এখানে তাকে চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত। 

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, তাকে বিদেশে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও আমাদের দেশে তার চিকিৎসা সক্ষমতার নানা বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন ড. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। 

লিভার ট্রান্সপ্লান্ট এর মত জটিল চিকিৎসা ব্যবস্থা কি এখানেই সম্ভব কিনা সেই বিষয়ে তিনি জানান, আমরা এখানে সবই পারি, আমাদের সেই সক্ষমতা রয়েছে। যদি দরকার পরে তবে আমরা ইন্ডিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসবো, তারা দুজনে মিলে কাজটি করবে। বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার যে দাবি সেটির আমি কোন দরকার আছে বলে মনে করি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং তারা যেভাবে বলছে এই ধরণের বহু রোগের চিকিৎসা আমাদের এইখানে হয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক মানে চিকিৎসা দিতে সক্ষম। 

বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে সাধারণকে তাহলে নিরুৎসাহিত করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে বিদেশে বিয়ের কেনাকাটা করতে যায়, গিয়ে চিকিৎসাও করে আসে তাহলে তো সেটি ভিন্ন বিষয়। গত দেড় বছর কেউ চিকিৎসা করতে বাহিরে যায় নাই, সবাই এদেশেই চিকিৎসা করেছেন করোনার কারণে। সুতরাং আমরা যে পারি তার কিন্তু প্রমাণ ও হয়ে গিয়েছে। 

আমাদের চিকিৎসার মান নিয়ে বিএসএমএমইউর উপাচার্য হিসেবে কথা বলতে গিয়ে প্রফেসর ড. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে যে যাই বলুক, কতিপয় কয়েকজন খারাপ কাজ করলেও সারা দেশের চিকিৎসার মান কিন্তু ভালো। দুই এক জায়গায় আমরা হয়তো শুনি যে এটা খারাপ ওইটা খারাপ কিন্তু আমি যদি এভারেজ হিসেবে বলি তবে আমাদের দেশের চিকিৎসার মান কিন্তু ভালো। দুই একজায়গায় যে খারাপ কাজ দেখি সেটি ওই ব্যক্তির খারাপ কাজ, চিকিৎসা খারাপ না। 

বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয় তবে তার চিকিৎসা দিতে বিএসএমএমইউ সক্ষম কিনা সে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বেগম জিয়াকে এখানে ভর্তি করে একটি উচ্চ সক্ষমতার একটি বোর্ড করবো এবং বোর্ড যদি বলে যে উনার চিকিৎসার জন্য দুই একজন চিকিৎসক বাহির থেকে আনা দরকার তাহলে তাদের এনে চিকিৎসা দিতে পারি। 

বেগম খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে ভর্তির সময় তার শরিলে যে যে ধরণের সমস্যা ছিলো তা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে ছিলো না, উনার হাঁটুতে ব্যথা ছিলো, ব্লাড প্রেশার উঠা নামা করতো। এগুলো সবই তার বয়স জনিত সমস্যা।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন