ইনসাইড আর্টিকেল

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:১৫ এএম, ০৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর ৬৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০ শতকের মধ্যভাগে প্রবন্ধ রচনা করে যারা খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। তিনি উন্নত মানের জীবনী, নকশা, সম্পাদকীয়, নিবন্ধ প্রভৃতি রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।

‘মরুভাস্কর’-এর রচয়িতা এই লেখক ও সাংবাদিকের জন্ম ১৮৯৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার বাঁশদহ গ্রামে। শিক্ষাজীবন শুরু বাঁশদহের মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়ে। স্থানীয় বাবুলিয়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে বৃত্তিসহ এন্ট্রান্স পাসের পর কলকাতা গিয়ে ভর্তি হন বঙ্গবাসী কলেজে। মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ এবং ইংরেজি ‘দি মুসলমান’ পত্রিকার সম্পাদক মৌলভী মুজীবুর রহমানের সংস্পর্শে এসে তিনি জাতির সেবা করার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। 

পরীক্ষার আগেই পড়াশোনা চুকিয়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেন। একই সাথে যোগ দেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনে। সাংবাদিক জীবনের শুরুতে ১৯০৬ সালে ওয়াজেদ আলী চাকরি নেন ‘দি মুসলমান’ পত্রিকায়। এরপর ১৯০৮ সালে কাজ করেছেন আকরম খাঁর সাপ্তাহিক মোহাম্মদীর সম্পাদকীয় বিভাগে। ১৯২১ সালে দৈনিক সেবকে কর্মরত ছিলেন। একই বছর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক মোহাম্মদীর। ১৯২২-এ দ্বিপাক্ষিক সাম্যবাদী সম্পাদনা করেছেন। ১৯২৬ সালে সাপ্তাহিক খাদেম এবং ’২৮ সালে সাপ্তাহিক সওগাতের সম্পাদকীয় বিভাগে ছিলেন। এর মধ্যে ১৯২৪ সালের দিকে বিয়ে করেন শাহের বানুকে।

তিনি নবযুগ, বুলবুল, সহচর এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার সাথেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন। স্বাস্থ্যহানির দরুন ১৯৩৫ সালে নিজ গ্রামে ফিরে যান। জীবনের বাকি দুই দশক কাটিয়ে দেন সেখানেই। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে প্রাঞ্জল ভাষার প্রবন্ধকার হিসেবে বাংলা সাহিত্যে যে ক’জন ব্যক্তিত্ব খ্যাতিমান হয়েছেন, ওয়াজেদ আলী তাদের একজন। প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রতিভাবলে উন্নতমানের জীবনী, সম্পাদকীয়, নকশা প্রভৃতি রচনা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। দুই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ লিখলেও জীবদ্দশায় তার বই বেরিয়েছিল খুব কম। তাঁর লেখা ছোট বা মাঝারি আটটি গ্রন্থের হদিস পাওয়া যায়। তার বিষয়বস্তু ছিল ইসলামের আদর্শ-ঐতিহ্য-মূল্যবোধ। শিক্ষা, সাহিত্য, ধর্ম ও ভাষা সম্পর্কে তিনি অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ লিখে গেছেন।

তার রচনার একটি বড় বৈশিষ্ট্য, সহজ-সাবলীল প্রকাশভঙ্গি। তার গ্রন্থগুলোর মধ্যে মরুভাস্কর ১৯৪১, মহামানুষ মুহসীন ১৯৪০, সৈয়দ আহমদ, হজরত মোহাম্মদ ১৯৪৮, কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৯, মনিচয়নিকা ১৯৫১, ডন কুইকজোটের গল্প ও স্মার্না-নন্দিনী।

বাংলা একাডেমি তার রচনাবলির অংশবিশেষ দুই খণ্ডে প্রকাশ করেছে। আদর্শনিষ্ঠ ওয়াজেদ আলী এতই দৃঢ়চেতা ছিলেন যে, সরকারি চাকরি পেয়েও তা করেননি। বরং সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজসেবাকে জীবনের ব্রতরূপে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন যুক্তিবাদী মানস এবং পরিচ্ছন্ন চিন্তার অধিকারী। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে ১৯৫৪ সালের ৮ নভেম্বর  ইন্তেকাল করেন তিনি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

শীতে পিঠা বিক্রি করে স্বাবলম্বী দুই সহোদর


Thumbnail

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে জমে উঠেছে শীত কালীন পিঠা বিক্রির জমজমাট ব্যবসা। জ্বলন্ত  চুলায় লাকড়ি দিয়ে দশ - বারোটি মাটির খোলায় চিতই পিঠা বানাচ্ছেন মনির। চুলার অল্প আগুনে উড়ছে ধোঁয়া।

তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চিতই সাথে ৯- ১০ রকমের নানান পদের ভর্তা । আর চুলা থেকে নামানোর পর মুহূর্তেই তা চলে যাচ্ছে  ক্রেতার হাতে।

ক্রেতারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সেই পিঠা কিনছেন। কেউ বা নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য কেউ আবার দাঁড়িয়েই খাচ্ছেন।

দোকানে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে ব্যস্ত মনিরের ছোট ভাই সাদেক। রাস্তার পাশে এই দুই ভাইয়ের দোকানে সন্ধ্যার পর থেকে রাত১০টা- ১১ টা পর্যন্ত একটানা লাইনে দাঁড়িয়ে যে যার চাহিদা মত গরম- গরম পিঠা ক্রয় করছে আর খাচ্ছে। এক একজনে ৩টা অথবা ৫ টা পর্যন্ত অনায়াসে খেয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য করে দেখা গেছে প্রায় শতের উপরে মানুষ  পিঠা কেনার জন্য ভিড় জমিয়েছেন।

রবিবার  (৪ঠা ডিসেম্বর ) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে  শিশু পার্কের  মূল ফটকের পশ্চিম পাশে বৈদ্যুতিক খাম্বার পাশে যেমনি মানুষের ভিড় তেমনি চলছে শীতের বাহারি রকমের পিঠা খাওয়ার ধুম  এই দৃশ্যের চোখে পড়ার মত। 

মনির বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুম এলে পিঠা বিক্রি করি। এবার প্রায় ১০-১৫দিন হয়েছে চিতই পিঠা বিক্রি শুরু করেছি। ১০ টাকা করে প্রতি পিস, বিক্রিও খুব ভালো।

রুবেল কুরী  নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী  মনিরের  দোকান থেকে পিঠা কিনে প্রশংসা করে বলেন, এখানকার পিঠার মান ভালো। তাই প্রতিবছরই কিনে থাকি। এবারও কিনেছি।

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের প্রবেশ পথে পাশাপাশি দুই দোকানে পাটিসাপ্টা, ভাপা, ফুলি ,  ডিমের পিঠা তেলের পিঠা ও চিতই পিঠা সবজি পিঠা ঝাল পিঠা  বিক্রি করছেন কামরুল এবং আলি।

পিঠা বিক্রেতা কামরুল জানান  আগে সবজি ব্যবসা করতাম  এ বছর ব্যবসা ঘুরিয়ে নিলাম  পিঠার ব্যবসা লাভ জনক তাই  এ পেশা বেছে নিয়েছি।  কামরুল জানান, ফুলি পিঠা ১০ টাকা পিস, পাটিসাপ্টা ২৫ টাকা ও পাঁপড় তিন পিস ১৫ টাকায় বিক্রি করছি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিঠা তৈরির হচ্ছে চালের গুঁড়ি নিয়ে তার ওপর গুড়, নারকেল ছিটিয়ে ভাপ দিচ্ছেন দোকানি। খোলায় বানানো হচ্ছে চিতই পিঠা। প্রতি দিন  সন্ধ্যার আগে১৬ কেজি চাউল ৫০ টাকা  দরে ক্রয় করে গুড়ি ভেঙ্গে নেন তারা দুই ভাই। আরো অতিরিক্ত ৫ কেজি চাউলের গুড়ি সাথে সাদা আটা মিলিয়ে চিতাই পিঠা  তৈরি করার জন্য চাউলের গুড়ির ডই বা লিকুইড তৈরি করেন । আমরা দুই ভাই মিলে নিয়ে আসি বাজারে আর তৈরি করি নানান রকম পিঠা  আর তখনি চিতাই এবং ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্য  দোকানে ভিড় জমায়  বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।  দৈনিক আমাদের পিঠা বিক্রিয় হয় ৩৫০০-থেকে ৪০০০ হাজার টাকা। লক্ষ করা গেছে স্থানীয়  কেউ এ পিঠার ব্যবসার সাথে জড়িত নয়।

দূরদূরান্ত থেকে এসে পিঠার ব্যবসা করছেন এ ব্যবসায়ীরা। এর মাজে দেখা গেছে কাহার বাড়ি সিলেট অথবা গোপালগঞ্জ নয়তোবা রংপুর দিনাজপুর।  এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পিঠার দোকান সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। অনেকে আবার পিঠা বিক্রির দোকান দিয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।

লক্ষ্মীপুর উত্তর স্টেশন  থেকে শুরু করে সরকারি সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মোড়  পিটিআই মোড়, দক্ষিণ তেমনি আবুলের চায়ের দোকানের সামনের  মোড়,ঝুমুর  মোড়, সদর হাসপাতাল রোড, মাদাম মোড় আলিয়া মাদ্রাসা সামনে মহা সড়কের পাশে ,  বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার মোড় আর ফুটপাতে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক অস্থায়ী পিঠার দোকান।

মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ীরা মোড়ে মোড়ে পিঠার দোকান নিয়ে বসে পড়েছেন। আর সাধারণ মানুষও খাচ্ছেন এসব ধোঁয়া-ওঠা গরম পিঠা।

দোকানিরা জানান,  পিঠার ব্যবসা করতে খুব বেশি পুঁজি লাগে না। ফলে সহজে এ ব্যবসা শুরু করা যায়। জ্বালানি হিসেবে খড়ি, অকেজো কাঠের টুকরা, কিংবা গাছের শুকনা ডাল পাটকাঠি  ব্যবহার করছেন তারা। তবে কেউ কেউ আবার পিঠা তৈরি করতে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। কিছু গুড়, আটা, নারকেল নিয়ে এ ব্যবসা খুলে বসা যায়।

পিঠা ব্যবসায়ী মনির এবং  লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে পিঠা  বিক্রেতা সাদেক  বাংলা ইনসাইডার কে বলেন, পাটিসাপ্টা, ফুলি, চিতই, তিলের  পিঠা ও তেলের পিঠা বিক্রি করেন তিনি। দামে কম ও মান ভালো হওয়ায় দোকানে  ভিড় লেগে থাকে।


স্বাবলম্বী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

প্রথম স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে ভুটান

প্রকাশ: ০৮:০৪ এএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

একাত্তরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলে থাকা জনপদ একের পর এক দখল মুক্ত করছিল। তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ সময় অপরিহার্য ছিলো বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতিদানের। এ লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যুগ্মভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাকারী অন্যতম দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে অনুরোধ জানিয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেন। এরই মধ্যে সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল ভুটান। ভুটানই সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যদিও এ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সংশয় ছিলো যে, কে সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভুটান না ভারত?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ভুটানের স্বীকৃতি প্রদানের আনুষ্ঠানিক খবর তারবার্তার মাধ্যমে মুজিবনগর সরকারের কাছে পৌঁছার কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি তারবার্তার মাধ্যমে ভারত, বাংলাদেশকে দ্বিতীয় রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। 

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই ডিসেম্বর ভুটানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বাংলাদেশ সফরে এলে এ বিষয়ে সরকারের কাছে নতুন তথ্য উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতির প্রশ্নে দেশটির দালিলিক তথ্য-প্রমাণ ও স্বীকৃতি প্রদানের তারবার্তা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এতে দেখা যায়, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই ডিসেম্বর ভুটানের তৎকালীন রাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুক এক তারবার্তায় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানায়। 

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে জানান, বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম ভুটান স্বীকৃতি দেয়। তবে, ভুটান এবং ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইত্যাদি বিবেচনা এটি দালিলিকভাবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, ভুটান প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ নিয়ে এখন আর কোনো বিভ্রান্তি নেই। এখন ভুটান যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে, তা সরকারিভাবে গৃহিত। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভুটানকে প্রথম স্বীকৃতিদাতা দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয়। 


বাংলাদেশ   স্বাধীনতা   স্বাধীনতা স্বীকৃতি   ভুটান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

স্বৈরাচার নিপাত করে গণতন্ত্রের মুক্তি

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

১৯৮২ সালে এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন কায়েম করেন। এরশাদের স্বৈরশাসনের বছর না ঘুরতেই ১৯৮৩ সালে যুব ও ছাত্রসমাজ স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮ দল, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় এবং জাসদ নেতৃত্বে ৫ দলীয় জোট সম্মিলিতভাবে স্বৈরাচার এরশাদ বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে নামে ছাত্র, যুব, শ্রমিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। 

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন দমনে চলে খুন, হত্যা, জেল, জুলুম, নির্যাতন। রক্তের সিঁড়ি বেয়ে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ঢেউয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। এরশাদের পতন ত্বরান্বিত ও গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয় ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর। এদিনই তিনটি জোট ঐক্যবদ্ধভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করেন। এরশাদের পতন ত্বরান্বিত করতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এক জোট হয়ে আন্দোলন করে। জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। অবসান হয় স্বৈরশাসনের, অবসান এরশাদের আর মুক্তি পায় গণতন্ত্র। এরশাদের ক্ষমতা ছাড়ার তিন বছর আগে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন নূর হোসেন। সেদিন জীবন দিতে হয় তাকে।

১৯৯০ সালের এইদিনে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণআন্দোলনের মুখে পতন হয় সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করে এরশাদের পতন ঘটায়। এই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র, যুব, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ জীবন দেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে রাজপথে প্রাণ দিতে হয় নূর হোসেন, টিটো, সেলিম, তাজুল, দেলোয়ার, দিপালী, ডা. মিলন, ফিরোজ, ময়েজউদ্দন, বসুনিয়া, জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেককে। ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্রের বিজয় ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় দিন। স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত হয়।


স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন   এরশাদ   বাংলাদেশ   রাজনীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সম্পর্কে জাতির পিতার মূল্যায়ন

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির আদর্শিক গুরু। বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন লেখায়, বক্তৃতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। যদিও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সোহরাওয়ার্দীকে খুব একটা স্মরণ করা হয় না। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সম্পর্কে জাতির পিতার মূল্যায়ন পাওয়া যায় তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে। আজ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পাঠকদের জন্য অসমাপ্ত আত্মজীবনীর একটি চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

শহীদ সাহেব ছিলেন উদার, নীচতা ছিল না, দল মত দেখতেন না, কোটারি করতে জানতেন না, গ্রুপ করারও চেষ্টা করতেন না। উপযুক্ত হলেই তাকে পছন্দ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন। কারণ, তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল অসীম। তাঁর সাধুতা, নীতি, কর্মশক্তি ও দক্ষতা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে চাইতেন। এজন্য তাঁকে বার বার অপমানিত ও পরাজয়বরণ করতে হয়েছে। উদারতা দরকার, কিন্তু নীচ অন্তঃকরণের ব্যক্তিদের সাথে উদারতা দেখালে ভবিষ্যতে ভালর থেকে মন্দই বেশি হয়, দেশের ও জনগণের ক্ষতি হয়।

আমাদের বাঙালির মধ্যে দুইটা দিক আছে। একটা হল 'আমরা মুসলমান, আর একটা হল, আমরা বাঙালি।' পরশ্রীকাতরতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে। বোধহয় দুনিয়ার কোন ভাষায়ই এই কথাটা পাওয়া যাবে না, 'পরশ্রীকাতরতা। পরের শ্রী দেখে যে কাতর হয়, তাকে ‘পরশ্রীকাতর' বলে। ঈর্ষা, দ্বেষ সকল ভাষায়ই পাবেন, সকল জাতির মধ্যেই কিছু কিছু আছে, কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে আছে পরশ্রীকাতরতা। ভাই, ভাইয়ের উন্নতি দেখলে খুশি হয় না। এই জন্যই বাঙালি জাতির সকল রকম গুণ থাকা সত্ত্বেও জীবনভর অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি। এমন উর্বর জমি দুনিয়ায় খুব অল্প দেশেই আছে। তবুও এরা গরিব। কারণ, যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজকে এরা চেনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না ততদিন এদের মুক্তি আসবে না।

অনেক সময় দেখা গেছে, একজন অশিক্ষিত লোক লম্বা কাপড়, সুন্দর চেহারা, ভাল দাড়ি, সামান্য আরবি ফার্সি বলতে পারে, বাংলাদেশে এসে পীর হয়ে গেছে। বাঙালি হাজার হাজার টাকা তাকে দিয়েছে একটু দোয়া পাওয়ার লোভে। ভাল করে খবর নিয়ে দেখলে দেখা যাবে এ লোকটা কলকাতার কোন ফলের দোকানের কর্মচারী অথবা ডাকাতি বা খুনের মামলার আসামি। অন্ধ কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসও বাঙালির দুঃখের আর একটা কারণ।

বাঙালিরা শহীদ সাহেবকে প্রথম চিনতে পারে নাই। যখন চিনতে পারল, তখন আর সময় ছিল না। নির্বাচনের সব খরচ, প্রচার, সংগঠন তাঁকেই এককভাবে করতে হয়। টাকা বোধহয় সামান্য কিছু কেন্দ্রীয় লীগ দিয়েছিল, বাকি শহীদ সাহেবকেই জোগাড় করতে হয়েছিল। শত শত সাইকেল তাকেই কিনতে হয়েছিল। আমার জানা মতে পাকিস্তান হয়ে যাবার পরেও তাঁকে কলকাতায় বসে দেনা শোধ করতে হয়। আমি পূর্বেই বলেছি, শহীদ সাহেব সরল লোক ছিলেন। তিনি ধোঁকায় পড়ে গেলেন। পার্লামেন্টারি বোর্ডে তাঁর দল সংখ্যাগুরু থাকা সত্ত্বেও নিজের লোককে তিনি নমিনেশন দিতে পারলেন না। নাজিমুদ্দীন সাহেবের দল পরাজিত হওয়ার পরে তারা অন্য পন্থা অবলম্বন করলেন। ঘোষণা করলেন, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না অর্থাৎ শহীদ সাহেবই দলের নেতা হবেন। তিনি শহীদ সাহেবকে অনুরোধ করলেন যারা পূর্ব থেকে মুসলিম লীগে আছে। তাদের নমিনেশন দেওয়া হোক, কারণ এরা সকলেই শহীদ সাহেবকে সমর্থন করবেন। খাজা সাহেব যখন নির্বাচন করবেন না তখন আর ভয় কি? শহীদ সাহেব এই কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে পুরানা এমএলএ প্রায় সকলকেই নমিনেশন দিয়ে দেন। বোধহয় তখন বাংলাদেশে একশত উনিশটা সিট মুসলমানদের ছিল। এই চাতুর্যে প্রায় পঞ্চাশজন খাজা সাহেবের দলের লোক নমিনেশন পেয়ে গেল। আবার কেন্দ্রীয় লীগে খাজা সাহেবের সমর্থক বেশি ছিলেন। লিয়াকত আলী খান, খালিকুজ্জামান, হোসেন ইমাম, চুন্দ্রিগড় সাহেব সকলেই শহীদ সাহেবকে মনে মনে ভয় করতেন। কারণ সকল বিষয়েই শহীদ সাহেব এঁদের থেকে উপযুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টারি বোর্ডও প্রায় ত্রিশজনের নমিনেশন পাল্টিয়ে দিলেন। এদের মধ্যে দুই একজন শহীদ সাহেবেরও সমর্থক ছিলেন, একথা অস্বীকার করা যায় না।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ডিসেম্বরে ভয় দেখাচ্ছে দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশের বিজয়ের ৫২ বছর পার হচ্ছে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। কিন্তু এই ডিসেম্বরে দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা অর্থাৎ রাজাকারদের উত্তরসূরীরা, রাজাকারদের সন্তান-সন্ততিরা এখন নতুন করে তাদের হিংস্র চেহারা দেখাচ্ছে, তাদের হিংস্র নখ বের করছে। আমাদের বিজয়কে আবার ক্ষতবিক্ষত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। রাজাকারপুত্ররাই এখন দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের সব অর্জন ম্লান করে দেওয়ার একটি সংগ্রাম করছে। এবারের ডিসেম্বর তাই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে মনে করছেন অনেকেই। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় গোটা বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল, একাত্ম ছিল এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মজুর সহ ছাত্র, যুবক তরুণরা জীবন দিয়েছে রক্ত দিয়েছে, আমাদের পবিত্র ভূমির জন্য। কিন্তু সেই সময়ে অল্প কিছু রাজাকার-আলবদর-আলশামস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, তাদের সহযোগিতা করেছিল। এই সমস্ত রাজাকার- আলবদররা জামায়াত, মুসলিম লীগ সহ বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠনের ছত্রছায়ায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করা, বাঙালিদের বাড়িঘর লুণ্ঠন করা এবং নির্বিচারে হত্যায় সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। 

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করে তার নির্বাচনী ইশতেহারে। এই অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে ২০১০ সালে বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয় এবং যুদ্ধাপরাধের শিরোমনি বেশ কয়েকজনকে সর্বোচ্চ আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। এদের মধ্যে ছিল যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর মতো দুর্বৃত্ত ধর্ষক এবং হত্যাকারীরা। কিন্তু এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি তৎপরতা কমে যায়নি। বরং এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান-সন্ততিরা এখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত দেশে এবং বিদেশে। এবারের বিজয় দিবসে সেই ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত রূপ দেখা যাচ্ছে। 

যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীরা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দন্ডিত প্রাপ্ত হয়েছে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের সন্তানরা এখন ক্রিয়াশীল। তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করছে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য। বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা তথ্যসন্ত্রাসের এক ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠেছে। শুধু যে বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা তথ্য সন্ত্রাস করছে এমনটি নয়। বরং রাজাকারপুত্ররা এখন দেশেও সক্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা একজন স্বীকৃত রাজাকার ছিলেন। সেই রাজাকার পুত্রই এখন বিএনপির অঘোষিত নেতা। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিজয়ের মাসে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত করতে চাইছেন। বিএনপির মধ্যে রাজাকারদের অনেক সন্তানরাই এখন সক্রিয়।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের জনসভায় যুদ্ধাপরাধী ঘৃণিত রাজাকার সাকা চৌধুরীর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী যে ভাষায় কথা বলেছেন তা আমাদের স্বাধীনতার প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। এরকম রাজাকারপুত্ররা এখন বিএনপিতে প্রকাশ্য হচ্ছে। জামায়াতের গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদের পুত্ররা সক্রিয়। বাংলাদেশে যারা যুদ্ধ অপরাধ করেছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের পুত্ররা এখন আবার সংগঠিত হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। বিজয়ের মাসে এদেরকে প্রতিহত করাই বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন