ইনসাইড টক

‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হচ্ছে নির্বাচন-নির্বাচন খেলা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৫ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই যে সহিংসতা আমরা দেখছি, মনোনয়ন বাণিজ্য দেখছি, এগুলো হলো রোগের উপসর্গ, রোগ নয়। আমার বিবেচনায় রোগ তিনটি। এর মধ্যে প্রথমটি হল আমাদের রাজনীতিতে সুবিধাবাদ। রাজনীতি হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণের জন্য, জনস্বার্থে। কিন্তু আমাদের রাজনীতিটা হয়ে গিয়েছে ব্যক্তির স্বার্থে, গোষ্ঠীর স্বার্থে, দলের স্বার্থে। অর্থাৎ রাজনীতিতে মানুষ এখন যুক্ত হয় কিছু পাওয়ার জন্য। তাই রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী পেলে কিংবা এইসব নির্বাচিত পদ-পদবী পেলে তারা রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক হয়। বিভিন্ন রকম অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এই পরিস্থিতি যতদিন থাকবে, অর্থাৎ রাজনীতি যদি আবারও জনকল্যাণমুখী না হয়, জনগণের স্বার্থে না হয়, ততদিন পর্যন্ত এই অসম প্রতিযোগিতা, মনোনয়ন বাণিজ্য, একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করার, ল্যাঙ মারার, সহিংস আচরণ বিরাজ করতেই থাকবে। এটি হলো প্রথম রোগ। রাজনীতিকে কলুষিত মুক্ত করতে হবে, কল্যাণমুখী করতে হবে এবং রাজনীতিটা করতে হবে জনস্বার্থে, কিছু পাওয়ার জন্য নয়।

স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা, নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা সহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দ্বিতীয় রোগটি হল আমাদের সবকিছু দলীয় হয়ে গেছে। প্রশাসন দলীয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দলীয়, আমাদের নির্বাচন কমিশন দলীয়। এর ফলে এই যে দলীয় ভিত্তিক নির্বাচন হচ্ছে, যারাই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাচ্ছে, তাদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। এবং এরই প্রতিফলন ঘটছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া কিন্তু নির্বাচন নয়। এটা হচ্ছে নির্বাচন-নির্বাচন খেলা। নির্বাচন হলো বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা। কিন্তু আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন। আর তৃতীয় রোগটি হলো, আমাদের নির্বাচন কমিশন নির্বাসনে চলে গিয়েছে। বস্তুত নির্বাচন কমিশন তথা ইসি নির্বাচনকে `নির্বাসনে` নিয়ে গেছে। তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেই নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছে। ভোটের মাঠে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে। অথচ ইসি সেখানে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল বুঝে গেছে- যত অন্যায়ই করুক না কেন, নির্বাচন কমিশন কিছু করতে পারবে না। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা মনে করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পক্ষে। ফলে কেউ কোনো আইন বা রীতির তোয়াক্কা করছে না। তারা যে কোনো মূল্যে জয় পেতে চাইছে এবং সহিংসতায় জড়াতেও দ্বিধা করছে না।

ইসি মাহবুব তালুকদারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ওনি তো সাহিত্যিক মানুষ। ওনি ওনার ভাষায় কথা বলেন এবং হয়তো পাঠকদের জন্য, শ্রোতাদের জন্য আকর্ষণীয় হবে ভেবে এই ভাষায় মন্তব্য করেছেন। আমি যে ভাষা ব্যবহার করেছি তা হল আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনের অকর্মণ্যতা, অদক্ষতা এবং পক্ষপাতদুষ্টটার কারণে হয়েছে। তো ওনি ওনার ভাষার কথা বলেছেন। আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা তো ভেঙ্গে পড়েছে। আমাদের মধ্যরাতে ভোট হয়। আমাদের অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। পাশাপাশি আমাদের নিকৃষ্ট যন্ত্র ইভিএম, যা নিরীক্ষণ করা যায় না, তা ব্যবহার করা হয়। 

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ওনার ভূমিকা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওনাদের বিরুদ্ধে তো আমরা অভিযোগ করেছি। ওনারা চরমভাবে  ব্যর্থই নয় শুধু, চরম অসদাচরণও করেছে। তারা মধ্যরাতে ভোট নিয়েছেন। বিভিন্ন রকমের অন্যায় বিশেষ করে টকা-পয়সা লোপাট, দুর্নীতি করেছেন এবং সাফাই গেয়েছেন। তারা ট্যাক্স পেয়ারের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়েছেন। বৈশাখী টেলিভিশনে সাত-আট পর্বের একটি প্রোগ্রামও করেছে তাদের দুর্নীতি নিয়ে। শুধু তাই নয়, তাদের অন্যতম দুর্নীতি হল ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে লাভবান হওয়া এবং অন্যকে লাভবান করা। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মধ্যরাতে ভোট করেছে। বিভিন্নভাবে ক্ষমতাসীনদেরকে অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। সেটাই তো সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। সুতরাং তারা চরমভাবে ‍দুর্নীতিগ্রস্থ এবং তারা চরমভাবে ব্যর্থ। তারা আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙ্গে দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি মনে করি আমরা মহা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটটি আরো ঘনীভূত হবে। যেহেতু ক্ষমতায় যাওয়া মানে হল সুযোগ সুবিধা পাওয়া, অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়া, তাই ক্ষমতা ছাড়ার আর কোনো রকম আগ্রহ কারোরই নাই এবং থাকবেও না। এটি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই ক্ষমতায় থাকার জন্য ক্ষমতাসীনরা সবকিছুই করবে। যা আমাদের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম-কানুন, বিধি-বিধান সবকিছু ধ্বংস করে দিবে। পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যাবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে কেন এখন কোটা সংস্কার করা যাচ্ছেনা’

প্রকাশ: ০৫:১০ পিএম, ১৬ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, সব দেশেই কোটা আছে। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে কোটা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতেও ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কোটা আছে। এটা একটি দেশের বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে কম বেশি করা যায় এটা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। 

সম্প্রতি কোটা বিরোধী আন্দোলনে সহিংসতায় ঘটনা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এ বিষয়ে কথা বলেন  অধ্যাপক আবদুল মান্নান। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আমরা ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনে কি দেখেছি। শুরুতে এটা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল, পরে পরে সেই আন্দোলনে রাজনীতিককরণ ঘটেছে। এবারও এমন কিছুর আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে তাদের মধ্যে সমন্বিত নেতৃত্ব নাই। তারা বলছে তাদের এ আন্দোলনে সমন্বয় রয়েছে, কিন্তু সেটা হচ্ছে ২০১৮ সালে নূরের মতো নেতৃত্ব। যারা কোন কোন রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এখন সরাসরি ভাবে কোটা আন্দোলনে জড়িয়ে গেছে। তারা দেখছে যে, তারা তো এতো আন্দোলন করে কিছু করতে পারল না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি শক্তিশালী। সেজন্য তাদেরকে তারা কিভাবে ব্যবহার করতে পারে সেটার একটি দুরভিসন্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

শিক্ষার্থীরা হয়তো একটি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল কিন্তু এখন সেটা তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হয়ে গেছে। একই ঘটনা ঘটেছিল নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের বেলায়ও। এখন এই কোটা আন্দোলনেও তাই হয়েছে। কারণ বিএনপি এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন কিংবা তাদের মিত্রদের কথাবার্তা সেই বার্তাই বহন করছে। 

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে কেন এখন কোটা সংস্কার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে। এই মুহূর্তে আসলে কিছু করার নেই। পরিস্থিতি যেহেতু অবনতি হচ্ছে সেজন্য সরকার চাইলে হয়তো শুনানি একটু এগিয়ে আনা যায় কি না তার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। এর বাইরে আসলে করার কোন কিছুই নেই। 

কোটা কিরোধী আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ্য করে আবদুল মান্নান বলেন, কেন সরকার এই মুহুর্তে কিছু করতে পারছে না বা কেন কোটা রাখা দরকার তার একটি বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত নিয়ে তাদের বোঝানো যেতে পারে। কোটা থাকার ফলে কি হয়েছে আর না থাকার কারণে কি হয়েছে তার একটি বাস্তব চিত্র আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা দরকার। এক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন ক্রোড়পত্রের মধ্য দিয়ে এই বাস্তব চিত্রগুলো সবার সামনে তুলে ধরতে পারে। এতে করে আমার মনে হয় শিক্ষার্থীরা বাস্তব চিত্র বুঝতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ অনেক সময় ভুল তথ্য পেয়ে অনেক বড় ভুল করে বসে কিংবা গুজব ছড়ায়। কিন্তু বাস্তব চিত্র তাদের সামনে থাকলে সেই ভুল করা বা গুজব ছড়ানোর সুযোগটা আর থাকে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কোটা ছিলই না। কোটা বন্ধ ছিল। আর মুক্তিযুদ্ধ করার কারণে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে ‘ক্যু’ হয়েছে এই অজুহাতে ১৪৪ জন সেনা সদস্যকে বিনা বিচারে হত্যা করেছিলেন। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের লাশটাও ফেরত দেয়া হয়নি। সরকারের উচিত এই তথ্যগুলো জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

ট্রাম্পের ওপর হামলা যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি সামাজিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ

প্রকাশ: ০৪:১১ পিএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেছেন, ট্রাম্পের ওপর হামলা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রকাশ। এটি নিন্দনীয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটির তীব্র নিন্দা জানাই। দেখুন, যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকটোরাল সিস্টেম বেশ জটিল। তাই চট করেই হামলাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রাতারাতি বেড়ে যাবে এ কথা বলার সুযোগ আপাতত নেই। অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভরশীল দেশটির নির্বাচন। ফলে হামলার মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা আসতে পারে একজন প্রার্থির পক্ষে তা বলা এখনই ঠিক নয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয় রয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলা হয়েছে। কেনো বা কী কারণে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে এ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। 

হামলাটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সৃষ্ট কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, এটি একেবারেই অসম্ভব। কারণ বাইডেন এমনিতেই বিপর্যস্ত ও দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়াও এমন একটি হামলা ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার তেমন দৃষ্টান্ত দেশটিতে আগেও দেখা যায়নি। অতএব ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিক থেকে এমন ভাবার কোন রকমের অবকাশ নেই। একইসঙ্গে এমন বাইডেন প্রশাসন কখনই এমন বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে না। 

তিনি বলেন, এমন সমীকরণ থেকে এটা বলাই যায় যে একান্তই ব্যক্তিগত বিকৃত মানসিকতা থেকেই হামলাকান্ডটি হয়েছে। ট্রাম্পের ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে পূর্বে নানা সমালচনা রয়েছে আর সে হিসেবে নির্বাচনে বাড়তি জনপ্রিয়তা লাভের  আশায় তিনি নিজে এমন হামলার নেপথ্য পরিকল্পনাকারী কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এনাম খান সেটিকে নাকচ করে দেন। এ প্রশ্নের জবাবে বাংলা ইনসাইডারকে তিনি বলেন, দেশটির ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী এবং বিচার ব্যবস্থা এতটাই জটিল যে এমন কাজ করে ট্রাম্প নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। 

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যুক্তরাষ্ট্র কোন রকমের বেআইনি কিছু হলে দেশটির বিচার ও আইন সংস্থাগুলো অত্যন্ত কঠোরতার সাথে সকল বিষয় জবাবদিহিতার আওতায় এনে থাকে। এমনকি সে ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাকেও আইনের উর্ধ্বে রাখ হয় না। তাই ট্রাম্প যদি এটি ভুলেও করিয়েও থাকতেন তবে পরে তদন্তে তা প্রমাণিত হলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবন যেমন আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তো অনুরূপ রিপাবলিক দলের গ্রহনযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসতো। 

তিনি বলেন, অতএব এত বড় অপরাধ ঘটানোর কোনো সম্ভাবনা ট্রাম্পের নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রতি বিভিন্ন বন্দুক হামলা বৃদ্ধির কারণ নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, দেশটির বন্দুক আইনের বিপক্ষে রিপাবলিকদের অবস্থান জোরালো। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন সেটিকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও রিপাবলিকের বাধার মুখে কার্যত বাস্তবায়নে পিছিয়ে। সেক্ষেত্রে বলা যায় দেশটিতে সঠিক অস্ত্র আইনের উপস্থিতির অভাবের আরেকটা প্রতিফলনও আজকের এ হামলা। আমি মনে করি সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই সঠিক সময় কার্যকরি একটি অস্ত্র আইনের দিকে যাওয়া। 

তিনি আরো বলেন, অস্থির সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তি পর্যায়েও নানা অস্থিরতা দেশটিকে ক্রমেই সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আজকের হামলা থেকে এটা বলাই যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার আরেক চিত্র এ হামলা। 

অন্যদিকে বিশ্বের অন্য কোন পরাশক্তি এমন হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে কিনা এমন শঙ্কার কথা নাকচ করে দিয়ে এনাম খান বলেন, এটি কোনোভাবেই সমভব নয়। কারণ, রাশিয়া, চীনসহ অন্যান্য বেশ কিছু পরাশক্তিধর রাষ্ট্র সবসময় চায় ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে তাদের একটা সুবিধাজনক অবস্থান থাকবে। অতএব এ হামলার সঙ্গে অন্য কোনো শক্তিধর রাষ্ট্রের কোনো রকমের সম্ভাবনা নেই   যুক্ত থাকার। 

অধ্যাপক সাহাব এনাম খান অবশেষে বলেন, ট্রাম্পের ওপর এ হামলাকে সম্পূর্ণ ‘ক্রিমিনোলজি পারসপেকটিভ’ থেকেই আমাদের দেখতে হবে। না ব্যক্তি ট্রাম্প, না রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠীর এ হামলায় জড়িত। এটি একেবারেই বিকৃত মানসিকতাবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন একক ব্যক্তি দ্বারা সংঘটিত একটি হামলার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য মানুষের সচেতনতা অনেক বেশি জরুরি’

প্রকাশ: ০৪:১৩ পিএম, ১৩ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল) মোঃ খায়রুল বাকের বলেছেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য মানুষের সচেতনতা অনেক বেশি জরুরি। কারণ আমরা যে ড্রেনেজ সিস্টেমগুলো করেছি সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিক এবং পলিথিন পাই। কোন কোন ড্রেনেজ থেকে ১ থেকে ২ ট্রাক পর্যন্ত প্লাস্টিক এবং পলিথিন পাওয়া যায়। আজকে সকালে গোড়ানের একটি ড্রেনে জাজিন পাওয়া গেছে। এই বিষয়গুলোই ড্রেন দিয়ে পানি সরে যেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

শনিবার (১৩ জুলাই) বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মোঃ খায়রুল বাকের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগে ড্রেনেজের দায়িত্ব ছিলো ঢাকা ওয়াসার। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেটা ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে আমরা স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে যে সমস্ত জায়গাগুলো জলাবদ্ধ প্রবণ সেগুলোকে প্রথমে চিহ্নিত করেছি। এ রকম আমরা ১৬১টি স্থান চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে ১০৯ টি স্থানে জলাবদ্ধতা ইতোমধ্যে দূর হয়েছে। যেমন আজিমপুর, নটর ডেম কলেজের সামনে। তবে ঘূর্ণিঝাড় রেমাল বা মোখার ফলে যে বৃষ্টিপাত হয় সেক্ষেত্রে একটু জটিলতা তৈরি হয়। কারণ আমাদের ড্রেনেজগুলো এই বৃষ্টিপাতের উপযোগী নয়। 

যারা ড্রেনেজ সিস্টেম নষ্ট করে তাদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন কেন আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না জানতে চাইলে মোঃ খায়রুল বাকের বলেন, আমাদের যথেষ্ট লোকবল নেই। এছাড়া এগুলো সারাক্ষণ পাহারা দিয়ে রাখার মতো আমাদের নিজস্ব কোন বাহিনী বা পুলিশ নেই। এখানে মানুষের সচেতনতাই মুখ্য। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে এর রক্ষণা বেক্ষণ করা সম্ভব নয়। 

তিনি বলেন, আগে ঢাকায় বৃষ্টি হলে সেই বৃষ্টির পানি সরতে ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত। কিন্তু এখন সেটা নেই। কোথাও কোথাও কিছুটা জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও সেটা এখন ঘণ্টায় নেমে এসেছে। আমরা সেটাকে আরও কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছি। গতকাল আমরা সারাদিন কাজ করেছি। আজকেও আমরা সকাল থেকে সবাই কাজ করছি।

গতকালের জলাবদ্ধতা দ্রুত কেন শেষ হলো না জানতে চাইলে মোঃ খায়রুল বাকের বলেন, ঢাকা শহরের বৃষ্টির পানি যে নদীগুলো নামবে এখন সেই সবগুলো নদী পানিতে ভরে গেছে। সেজন্য কালকের এই জলাবদ্ধা তৈরি হয়েছিল।

জলাবদ্ধতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘কোটা ইস্যুতে আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করা উচিত’

প্রকাশ: ০৪:২৭ পিএম, ১১ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও চেয়ারম্যান, বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেছেন, আমাদের দেশের শিক্ষার মানের উন্নয়নের জন্য গবেষণার দিকে আরও বেশি নজর দেয়া উচিত। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতোই আমাদেরকে শিক্ষার গবেষনার মান বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনের নানা অস্থিরতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে নিরসনে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য আমাদের সকল সচেতন মহলকে কাজ করতে হবে। 
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতা করেন ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। 

চলমান আন্দোলন নিরসনে দ্রুত সমাধানের কথা উল্লেখ করে ড. আহমদ কামরুজ্জামান বলেন, আমরা তা না করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অস্থিতিশীলতায় বাস করি। আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

দেশের শিক্ষার স্থিতিশীলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২২ সালে প্রকাশিত ইকোনোমিস্ট ইনটেলিজেন্স প্রকাশিত গ্লোবাল লায়েবিলিটি ইনডেক্সে বিশ্ব শিক্ষার স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আমাদের স্কোর ছিল ৫৫। অথচ সেখানে ২০২৩-২৪ এর রিপোর্টে দেখা যায় এ মান এসে দাঁড়িয়েছে ৫০। আমি মনে করি শিক্ষার মান বাড়াতে ছাত্র-শিক্ষকসহ সকলকেই অধিক মনোযোগী হওয়া দরকার। আর তাতেই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত সফলতা আসবে। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘রাজশাহীর রাজনীতিতে গ্রুপিং নতুন নয়’

প্রকাশ: ০৩:৫৮ পিএম, ২৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, রাজশাহীর এই ভুল বোঝাবুঝি বা গ্রুপিং অনেক আগের। আমরা কয়েকবার বসার চেষ্টা করেছি। ভুল বোঝাবুঝির অবসানের উদ্যোগও নিয়েছিলাম। ব্যক্তিগত ভাবেও আমি সবার সাথে যোগাযোগ করে কয়েকবার বসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বসা হয়নি। সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচনের জন্য পরে আর বসা হয়নি। এর মধ্যে একটি দু:খজনক ঘটনা ঘটে গেল। বাঘার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হলেন। এক সময় তিনি ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত ছিল, ছাত্রলীগের রাজনীতি করতো। পরে বাঘা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সে মারা গেল, এটা দু:খজনক।

সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগের দু পক্ষের সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে হুমকি সহ সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। উল্লেখ্য, কামাল হোসেন রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

কামাল হোসেন বলেন, রাজশাহীর এই পুরো বিষয়টি আমি অবগত আছি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা করা হবে। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সিদ্ধান্তে হবে সাংগঠনিক কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি এরই মধ্যে দলের পুরো রিপোর্ট সংগ্রহ করে রাখবো। দল চাইলে আমি সে রিপোর্ট জমা দিব। দলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আমাকে যেভাবে নিদের্শনা দিবেন আমি সেভাবে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, এই মুহুর্তে আমি চেষ্টা করছি দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করতে যাতে করে আর কোন সংঘাতের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এখানে আসলে আমার একার পক্ষে কোন কিছু করার সম্ভব না। কারণ এখানে একজন কেন্দ্রীয় নেতা আছেন যিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য। পদাধিকারবলে তিনি আমার চেয়ে বড় এবং তিনি জাতীয় নেতা এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামানের সন্তান। এখানে একটা পুরো টিম আছে। এখানে একজন  ‍যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আছেন, একজন প্রেসিডিয়ামের সদস্য আছেন। এছাড়াও কয়েকজন সদস্য আছেন। সুতরাং দল থেকে আমাকে যে নিদের্শনা দেওয়া হবে আমি আমার পুরো টিম বসে সেটি বাস্তবতায়ন করবো।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন