ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় বিএনপিকেই নিতে হবে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬:৪৪ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারের কোনো দায় থাকবে না। এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে, মির্জা ফখরুল সাহেবদের নিতে হবে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সংবিধান ও আইন দ্বারা দেশ পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক নিয়ন-নীতির মধ্যে যতটুকু সম্ভব তার সবটুকু সুযোগ বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার মানবিক হৃদয়ের কল্যাণে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়া বাসায় থাকছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, হতে পারে খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আইনের চোখে তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার বর্তমান পরিচয় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর উদারতাকে প্রতিহিংসা বলতে দ্বিধা করছেন না। বিএনপির কৃতজ্ঞতাবোধ নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলে। কিন্তু এই দেশের রাজনীতিতে তারা প্রতিহিংসার জন্ম দিয়েছেন।

এ সময় তিনি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড, বিএনপির আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর বিভিন্ন সময় নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আজকে মির্জা ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলেন। কারো চিকিৎসার নামে জনগণকে জিম্মি করা যাবে না। কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জনগণকে সঙ্গে আওয়ামী লীগ তা প্রতিহত করবে। দেশবিরোধী এ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে প্রতিহত করতে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে, আমরা তাদের সমুচিত জবাব দেবো।

‘খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে’ বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন, বেগম জিয়াকে নাকি স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আজকে যে সুবিধা গ্রহণ করছেন বেগম জিয়া, এটা প্রধানমন্ত্রীর উদারতার কারণে। তার পাশে থাকেন আপনারা, ফখরুল সাহেবরা। তাকে যে খাওয়ায় সে পরিবারেরই লোক। তার আশেপাশে সর্বক্ষণ ঘোরাফেরা করে বিএনপির লোকেরা। আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের কেউ তার পাশে থাকে না। তার ব্যক্তিগত পছন্দের চিকিৎসকরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন। আশপাশের লোকেরা সব বিএনপির, পরিবারের। স্লো পয়জনিং যদি করা হয়ে থাকে তাহলে পাশের লোকেরাই করতে পারে। হুকুমের আসামি শেখ হাসিনা হবে না, হলে ফখরুল সাহেব আপনি হবেন।

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার জন্য এখন এত মায়াকান্না কাঁদেন। তার জন্য দেখার মতো কার্যকর ও অর্থবহ একটা মিছিল রাজপথে করার দুঃসাহস আপনাদের ছিল না। এটা দেখাতে পারেননি। কোন মুখে তার জন্য মায়াকান্না কাঁদছেন? লজ্জা করে না!

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, অসীম কুমার উকিল, আবদুস সোবহান গোলাপ, ওয়াসিকা আয়শা খান, শাম্মী আহমেদ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিপ্লব বড়ুয়া, দেলোয়ার হোসেন, সায়েম খান, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যে কারণে সিলেটে গেলেন ডা. মুরাদ

প্রকাশ: ০৯:২৬ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আলোচিত রাজনীতিক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সিলেট সফরে গিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে তিনি সিলেট গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টায় বিমানযোগে ডা. মুরাদ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সিলেটে যাওয়ার পর থেকে তিনি একরকম চুপচাপ আছেন বলে জানা গেছে। 

তিনি শাহাজালাল রাহ. এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে সিলেট গিয়েছেন। সিলেটে ডা. মুরাদ সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন।

ডা. মুরাদ হাসান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

করোনা সংক্রমণ কমলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে: মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ০৮:২৬ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কপাল ভালো। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। জনগণ অলরেডি রাজপথে নেমে গেছে। জনতার স্রোতে ১৪৪ ধারা ভেঙে যাচ্ছে। সংক্রমণ একটু হ্রাস পেলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে। আন্দোলনের তোড়ে এই সরকার ভেসে যাবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাকশাল-গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে আরও বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। সভা সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক।

সভায় মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘দেশে আজ নতুনরূপে বাকশাল কায়েম হয়েছে। মানুষ কথা বলতে পারেন না। সাংবাদিকরা লিখলে সাগর-রুনির পরিণতি ভোগ করতে হয়, জেলে যেতে হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে টুটি চেপে ধরে রেখেছে। অনেক সাংবাদিক আজ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে! লবিস্ট কী জিনিস তাইতো আমরা জানতাম না। ১৪ সালে রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসে নানা অপকর্ম ঢাকতে আপনারাই অর্থ দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন। আপনারা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করছেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছেন, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন তা কি বিশ্ব দেখে না?’

বিএনপি   মির্জা আব্বাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দলে কি গুরুত্ব হারাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগে টানা দ্বিতীয়বারের মত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু ইদানীং বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের গুরুত্ব হারাচ্ছেন, অনেকেই মনে করছেন তিনি ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ওবায়দুল কাদের মোটেও ক্ষমতা হারাননি বরং শারীরিক অসুস্থতা এবং নানা রকম বাস্তবতার কারণে অনেকগুলো দায়িত্ব বিভিন্ন নেতার কাছে বণ্টন করা হচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, ওবায়দুল কাদের ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছেন বা দলে তার গুরুত্ব কমে গেছে। যে সমস্ত দায়িত্ব বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে দেয়া হচ্ছে সে সমস্ত দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে ওবায়দুল কাদেরও ভূমিকা রাখছেন বলে কেউ কেউ বলছেন। তবে দৃশ্যমান যেটি হচ্ছে তা হলো যে, দলের অনেক নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদকের তেমন কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনটি নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আওয়ামী লীগ সভাপতি এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজমের হাতে। মির্জা আজম ঢাকা বিভাগ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। কাজেই তাকে দায়িত্ব দেয়াটা যৌক্তিক। কিন্তু জাহাঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দেয়ার মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে। এই নির্বাচনে ওবায়দুল কাদের শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে এবং পরে দুটি বিবৃতি দিয়েছেন। তবে সেই বিবৃতি জাতীয় রাজনীতিতে তেমন কোন প্রভাব ফেলেনি। এরপর, সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানের জন্য ওবায়দুল কাদেরকে ভুমিকাহীন দেখা গেছে। এমনকি এ নিয়ে তিনি বক্তৃতা-বিবৃতিও দেননি। এমনকি সংকট মোকাবিলায় সরকারের মূল দায়িত্ব যার তিনি হলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও বটে। তবে তাকে পাশ কাটিয়ে এখানেও জাহাঙ্গীর কবির নানককে সংকট সমাধানের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আসীম কুমার উকিল এবং সুভাষ সিংহ রায় মো. জাফর ইকবালের বাড়িতে গিয়ে এই সংকট সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও দলের অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে, সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা আগের মত দৃশ্যমান নয়। তাহলে কি সাধারণ সম্পাদককে পাশ কাটিয়ে অন্য নেতাদেরকে সামনে আনা হচ্ছে? অনেকেই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

তবে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলছেন যে, সাধারণ সম্পাদক অবশ্যই আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং সাধারণ সম্পাদক দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তিও। নানা বাস্তবতার কারণে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের দৃশ্যমান উপস্থিতি কম। প্রথমত, তিনি অসুস্থ। তিনি গুরুতরভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি ফিরে এসেছেন। কিছুদিন আগেও তিনি আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ছিলেন। এ কারণেই আওয়ামী লীগের মত একটি বড় রাজনৈতিক দলের সব চাপ তাকে যদি দেয়া হয় তাহলে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এরকম ভাবনা থেকেই দায়িত্বগুলো বণ্টন করা হচ্ছে। তবে সাধারণ সম্পাদক এসব বণ্টন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলছেন যে, দেশে যখন করোনার প্রকোপ এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের যখন অসুস্থতা সে কারণেই হয়তো ভাগ ভাগ করে নেতৃবৃন্দদেরকে দায়িত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও গত প্রায় এক বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাইরে একটি নেতৃত্বের উন্মেষ দেখা যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, এস এম কামালের মতো নেতারা এখন আওয়ামী লীগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। এটি কি সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা খর্ব হওয়ার লক্ষণ কিনা সেটি বোঝা যাবে আরও পরে।

আওয়ামী লীগ   সাধারণ সম্পাদক   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আইন হলো, আন্দোলন কবে?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

জাতীয় সংসদে আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিল পাস হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ৫০ বছর পর প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত একটি আইন হলো। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে এরকম একটি আইনের কথা বলে আসছিল। সরকার আইন না করে কেন সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করছে তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। আর এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে নতুন নির্বাচন কমিশন আইন প্রথম অনুমোদিত হয় এবং আজ জাতীয় সংসদের এটি পাস হলো। নতুন নির্বাচন কমিশন আইন অনুমোদিত হওয়ার পরপরই এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, সুধীজনের মধ্যেও এই আইন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলো এই আইনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে যে, সরকার তাদের অনুগতদের নিয়েই একটি সার্চ কমিটি গঠন করবে এবং সেই সার্চ কমিটি অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। আর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বদিউল আলম মজুমদার, অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদাসহ অনেকেই এই আইনের সমালোচনা করেছেন। এমনকি কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এটাও বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন আইন যদি পাশ করা হয় তাহলে তারা আন্দোলনে যাবে। কিন্তু সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন আইন ইতিমধ্যে পাস করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে আগামী রোববার নাগাদ এই আইনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি নূতন সার্চ কমিটি গঠিত হবে, যা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে।

উল্লেখ্য যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো বিরোধীদল কি করবে, বিরোধীদল কি সার্চ কমিটি পর্যন্ত গঠন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, নাকি তারা এখনই আন্দোলন শুরু করবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির অন্যতম নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, তারা নতুন নির্বাচন কমিশন আইন যে মানেন না সেটি আগেই বলেছেন। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন নয়, তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান। কাজেই এটি নিয়ে তারা নতুন করে কোনো আন্দোলন করবে বলে মনে করার কোন কারণ নেই। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়ার পর এখন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আন্দোলনে বিএনপি নেতারাও খুব একটা উৎসাহী নয়। বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে দেখা গেছে, তারা মনে করছেন যে নির্বাচন কমিশন নয় বরং তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে একটি আন্দোলন গড়ে তোলার কাজ করছেন। এ লক্ষ্যে তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন, তবে এই আন্দোলন কবে হবে সেটি ভিন্ন বিষয়। 

বাংলাদেশের সুশীল সমাজরা এই আইনটি গ্রহণ করেননি এবং তারা মনে করছেন যে, এই আইনের ফলে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আজ জাতীয় সংসদের সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বিগত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে আইনের খসড়া দেওয়া হয়েছিল সেই খসড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বর্তমান আইন করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এমনকি আইনমন্ত্রী এই আইনে যে তাড়াহুড়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তারও জবাব দেন। দৃশ্যত, এ সমস্ত বাস্তবতা থেকে মনে হচ্ছে যে, সকল পক্ষই এখন এই আইনের আওতায় কিভাবে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয় এবং অনুসন্ধান কমিটি কাদের নাম প্রস্তাব করে সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে নির্বাচন কমিশন আইন নিয়ে আন্দোলন হবে বলে অনেকেই মনে করেন না।

নির্বাচন কমিশন   ইসি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ঝুলে গেছেন কামরুল-মায়া

প্রকাশ: ০৫:১৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে বলে গত বছর ১৯ নভেম্বর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু একমাত্র রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়া অন্য দুইজন এই সংক্রান্ত কোন চিঠি পাননি বলে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম উভয়ই নিশ্চিত করেছেন।

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এরকম কোন তথ্য আমার কাছে নেই। এই সবকিছু মিডিয়ার সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন,  ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন