ইনসাইড পলিটিক্স

যা ঘটতে পারে আগামী ৭ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী সাতদিন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সাত দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ বিজয়ের মাসে প্রবেশ করবে, বাংলাদেশ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব করবে। আবার এই সাত দিন অনেক রাজনৈতিক এবং পারিপার্শ্বিক গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে, যেটি রাজনীতির গতি-প্রকৃতিকে পাল্টে দিতে পারে। আগামী সাত দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এই সাত দিনে অনেক কিছুই ঘটতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আগামী সাত দিন যে বিষয়গুলোর দিকে দেশের জনগণ সতর্ক নজর রাখবে তার মধ্যে রয়েছে:

১. বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা:  চিকিৎসকরা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে অসুখ সেই অসুস্থতা অত্যন্ত জটিল এবং অলৌকিক কিছু না ঘটলে এই অসুস্থতা চূড়ান্ত পরিণতির দিকেই নিয়ে যায় একজন মানুষকে। যদিও আজ বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, তিনি যে রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অর্থাৎ লিভার সিরোসিস এটির তেমন কোনো চিকিৎসা নেই, সময়ের ব্যাপার। আগামী সাতদিনে বেগম খালেদা জিয়ার কি পরিণতি হয় তার উপর দেশের অনেক কিছুই নির্ভর করছে। কারণ শেষ পর্যন্ত যদি বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে না যেতে পারেন এবং দেশেই যদি তার চূড়ান্ত পরিণতি হয় তাহলে সেক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে পারে। এই উত্তাপ কতদূর যাবে এবং এটির রাজনীতিকরণ কতটুকু হবে সেটি বোঝা যাবে আগামী সাতদিনে।

২. সড়ক আন্দোলন:  নিরাপদ সড়কের দাবিতে আবার বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে রোববারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে তারা আন্দোলন চূড়ান্ত করবে। ইতিমধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ছাত্রদের দাবির কাছে একাত্মতা ঘোষণা করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম গত বুধবার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এর পরদিনই আবার পান্থপথে একজন সংবাদকর্মী মৃত্যুবরণ করেন। এই সবকিছু মিলিয়ে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন আবার জটিল হয়ে উঠেছে। খুব শীঘ্রই এই নিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত হতে পারে। আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি সরকার নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে না পারে কিংবা সড়ক আইন বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ না করতে পারে তাহলে এটি একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র মনে করছে।

৩. হাফ পাস: হাফ পাসের দাবিতে আন্দোলন ক্রমশ বেগবান হচ্ছে এবং এর সঙ্গে আবার নিরাপদ সড়কের আন্দোলনও যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে আগামী সাত দিন যদি শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবিটি না মিটে তাহলে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সরকারকে এ ব্যাপারে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

৪. ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচন: ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং গত দুই পর্বে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যেরকম সহিংসতা এবং সন্ত্রাস হয়েছে তাতে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন নিয়ে একধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উত্থান, সহিংসতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটা সংকট তৈরি করেছে। এই ধারায় তৃতীয় পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একই সংকট তৈরি হবে কিনা সেটি একটি উদ্বেগের বিষয় বলেই অনেকে মনে করছেন।

৫. সারাদেশে সন্ত্রাস-সহিংসতা: হঠাৎ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে কুমিল্লার এই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস একটি বড় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন দেশের জনগণ। আর আগামী সাতদিন বোঝা যাবে যে, এই বিষয়ে সরকার কি পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তাই আমাদের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আগামী সাত দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সাত দিনে যা ঘটবে তার ওপর রাজনীতির গতি-প্রকৃতি অনেকখানি নির্ভরশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যে কারণে সিলেটে গেলেন ডা. মুরাদ

প্রকাশ: ০৯:২৬ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আলোচিত রাজনীতিক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সিলেট সফরে গিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে তিনি সিলেট গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টায় বিমানযোগে ডা. মুরাদ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সিলেটে যাওয়ার পর থেকে তিনি একরকম চুপচাপ আছেন বলে জানা গেছে। 

তিনি শাহাজালাল রাহ. এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে সিলেট গিয়েছেন। সিলেটে ডা. মুরাদ সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন।

ডা. মুরাদ হাসান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

করোনা সংক্রমণ কমলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে: মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ০৮:২৬ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কপাল ভালো। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। জনগণ অলরেডি রাজপথে নেমে গেছে। জনতার স্রোতে ১৪৪ ধারা ভেঙে যাচ্ছে। সংক্রমণ একটু হ্রাস পেলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে। আন্দোলনের তোড়ে এই সরকার ভেসে যাবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাকশাল-গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে আরও বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। সভা সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক।

সভায় মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘দেশে আজ নতুনরূপে বাকশাল কায়েম হয়েছে। মানুষ কথা বলতে পারেন না। সাংবাদিকরা লিখলে সাগর-রুনির পরিণতি ভোগ করতে হয়, জেলে যেতে হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে টুটি চেপে ধরে রেখেছে। অনেক সাংবাদিক আজ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে! লবিস্ট কী জিনিস তাইতো আমরা জানতাম না। ১৪ সালে রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসে নানা অপকর্ম ঢাকতে আপনারাই অর্থ দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন। আপনারা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করছেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছেন, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন তা কি বিশ্ব দেখে না?’

বিএনপি   মির্জা আব্বাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দলে কি গুরুত্ব হারাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগে টানা দ্বিতীয়বারের মত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু ইদানীং বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের গুরুত্ব হারাচ্ছেন, অনেকেই মনে করছেন তিনি ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ওবায়দুল কাদের মোটেও ক্ষমতা হারাননি বরং শারীরিক অসুস্থতা এবং নানা রকম বাস্তবতার কারণে অনেকগুলো দায়িত্ব বিভিন্ন নেতার কাছে বণ্টন করা হচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, ওবায়দুল কাদের ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছেন বা দলে তার গুরুত্ব কমে গেছে। যে সমস্ত দায়িত্ব বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে দেয়া হচ্ছে সে সমস্ত দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে ওবায়দুল কাদেরও ভূমিকা রাখছেন বলে কেউ কেউ বলছেন। তবে দৃশ্যমান যেটি হচ্ছে তা হলো যে, দলের অনেক নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদকের তেমন কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনটি নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আওয়ামী লীগ সভাপতি এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজমের হাতে। মির্জা আজম ঢাকা বিভাগ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। কাজেই তাকে দায়িত্ব দেয়াটা যৌক্তিক। কিন্তু জাহাঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দেয়ার মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে। এই নির্বাচনে ওবায়দুল কাদের শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে এবং পরে দুটি বিবৃতি দিয়েছেন। তবে সেই বিবৃতি জাতীয় রাজনীতিতে তেমন কোন প্রভাব ফেলেনি। এরপর, সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানের জন্য ওবায়দুল কাদেরকে ভুমিকাহীন দেখা গেছে। এমনকি এ নিয়ে তিনি বক্তৃতা-বিবৃতিও দেননি। এমনকি সংকট মোকাবিলায় সরকারের মূল দায়িত্ব যার তিনি হলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও বটে। তবে তাকে পাশ কাটিয়ে এখানেও জাহাঙ্গীর কবির নানককে সংকট সমাধানের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আসীম কুমার উকিল এবং সুভাষ সিংহ রায় মো. জাফর ইকবালের বাড়িতে গিয়ে এই সংকট সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও দলের অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে, সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা আগের মত দৃশ্যমান নয়। তাহলে কি সাধারণ সম্পাদককে পাশ কাটিয়ে অন্য নেতাদেরকে সামনে আনা হচ্ছে? অনেকেই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

তবে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলছেন যে, সাধারণ সম্পাদক অবশ্যই আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং সাধারণ সম্পাদক দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তিও। নানা বাস্তবতার কারণে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের দৃশ্যমান উপস্থিতি কম। প্রথমত, তিনি অসুস্থ। তিনি গুরুতরভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি ফিরে এসেছেন। কিছুদিন আগেও তিনি আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ছিলেন। এ কারণেই আওয়ামী লীগের মত একটি বড় রাজনৈতিক দলের সব চাপ তাকে যদি দেয়া হয় তাহলে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এরকম ভাবনা থেকেই দায়িত্বগুলো বণ্টন করা হচ্ছে। তবে সাধারণ সম্পাদক এসব বণ্টন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলছেন যে, দেশে যখন করোনার প্রকোপ এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের যখন অসুস্থতা সে কারণেই হয়তো ভাগ ভাগ করে নেতৃবৃন্দদেরকে দায়িত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও গত প্রায় এক বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাইরে একটি নেতৃত্বের উন্মেষ দেখা যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, এস এম কামালের মতো নেতারা এখন আওয়ামী লীগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। এটি কি সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা খর্ব হওয়ার লক্ষণ কিনা সেটি বোঝা যাবে আরও পরে।

আওয়ামী লীগ   সাধারণ সম্পাদক   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আইন হলো, আন্দোলন কবে?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

জাতীয় সংসদে আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিল পাস হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ৫০ বছর পর প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত একটি আইন হলো। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে এরকম একটি আইনের কথা বলে আসছিল। সরকার আইন না করে কেন সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করছে তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। আর এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে নতুন নির্বাচন কমিশন আইন প্রথম অনুমোদিত হয় এবং আজ জাতীয় সংসদের এটি পাস হলো। নতুন নির্বাচন কমিশন আইন অনুমোদিত হওয়ার পরপরই এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, সুধীজনের মধ্যেও এই আইন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলো এই আইনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে যে, সরকার তাদের অনুগতদের নিয়েই একটি সার্চ কমিটি গঠন করবে এবং সেই সার্চ কমিটি অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। আর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বদিউল আলম মজুমদার, অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদাসহ অনেকেই এই আইনের সমালোচনা করেছেন। এমনকি কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এটাও বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন আইন যদি পাশ করা হয় তাহলে তারা আন্দোলনে যাবে। কিন্তু সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন আইন ইতিমধ্যে পাস করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে আগামী রোববার নাগাদ এই আইনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি নূতন সার্চ কমিটি গঠিত হবে, যা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে।

উল্লেখ্য যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো বিরোধীদল কি করবে, বিরোধীদল কি সার্চ কমিটি পর্যন্ত গঠন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, নাকি তারা এখনই আন্দোলন শুরু করবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির অন্যতম নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, তারা নতুন নির্বাচন কমিশন আইন যে মানেন না সেটি আগেই বলেছেন। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন নয়, তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান। কাজেই এটি নিয়ে তারা নতুন করে কোনো আন্দোলন করবে বলে মনে করার কোন কারণ নেই। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়ার পর এখন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আন্দোলনে বিএনপি নেতারাও খুব একটা উৎসাহী নয়। বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে দেখা গেছে, তারা মনে করছেন যে নির্বাচন কমিশন নয় বরং তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে একটি আন্দোলন গড়ে তোলার কাজ করছেন। এ লক্ষ্যে তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন, তবে এই আন্দোলন কবে হবে সেটি ভিন্ন বিষয়। 

বাংলাদেশের সুশীল সমাজরা এই আইনটি গ্রহণ করেননি এবং তারা মনে করছেন যে, এই আইনের ফলে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আজ জাতীয় সংসদের সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বিগত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে আইনের খসড়া দেওয়া হয়েছিল সেই খসড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বর্তমান আইন করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এমনকি আইনমন্ত্রী এই আইনে যে তাড়াহুড়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তারও জবাব দেন। দৃশ্যত, এ সমস্ত বাস্তবতা থেকে মনে হচ্ছে যে, সকল পক্ষই এখন এই আইনের আওতায় কিভাবে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয় এবং অনুসন্ধান কমিটি কাদের নাম প্রস্তাব করে সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে নির্বাচন কমিশন আইন নিয়ে আন্দোলন হবে বলে অনেকেই মনে করেন না।

নির্বাচন কমিশন   ইসি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ঝুলে গেছেন কামরুল-মায়া

প্রকাশ: ০৫:১৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে বলে গত বছর ১৯ নভেম্বর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু একমাত্র রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়া অন্য দুইজন এই সংক্রান্ত কোন চিঠি পাননি বলে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম উভয়ই নিশ্চিত করেছেন।

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এরকম কোন তথ্য আমার কাছে নেই। এই সবকিছু মিডিয়ার সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন,  ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন