ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তারেকের বিনিময়ে খালেদার মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার, ০৮:০০ পিএম
তারেকের বিনিময়ে খালেদার মুক্তি

তারেক জিয়া দেশে না ফিরলে খালেদা জিয়ার মুক্তি নেই। শুধু খালেদা জিয়ার বন্দিত্বই দীর্ঘায়িত হবে না বিএনপির ব্যাপারে দেশে কঠোর অবস্থান নেবে সরকার, যদি তারেক জিয়া স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসতে রাজি না হয়। একাধিক সূত্র এ ব্যাপারে সরকারের মনোভাব নিশ্চিত করেছে। একাধিক সূত্র বলছে, সরকার নির্বাচনের আগে তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর দণ্ড কার্যকর করতে চায়। এ কারণে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা যেমন অব্যাহত রেখেছে, তেমনি দেশেও বিএনপির উপর চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা হতে পারে বড় ট্রাম্প কার্ড। দেশে এনে তাঁকে কারাগারে রেখে দণ্ড কার্যকর করলে, তা বিএনপিকে হতাশ ও দুর্বল করবে।’  সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে স্পষ্ট করেই নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারেক জিয়াকে যেকোনো মূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর সরকার তারেককে দেশে ফেরাতে ঘরে-বাইরে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যেমন এনিয়ে আলোচনা চলছে, তেমনি দেশেও এ ব্যাপারে চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তারেককে দেশে ফেরাতে সরকারের বড় অস্ত্র এখন বন্দী বেগম খালেদা জিয়া। সরকার মনে করছে, বেগম জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হলে এক পর্যায়ে মায়ের জন্য, তারেক স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ঝুঁকি নেবে। বিশেষ করে বেগম জিয়ার অসুস্থতার খবর যেভাবে চাউর হচ্ছে তাতে শেষ পর্যন্ত তারেক হয়তো নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে  দেশে ফিরবে।

গত রোববার বেগম জিয়ার পরিবারের সঙ্গে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, খালেদা জিয়া মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার বিষয়টি সরকার চিন্তা করবে তখনই যখন তারেক জিয়া দেশে ফিরবে। শামীম ইস্কান্দারকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তারেককে দেশে আসতে বলুন, বেগম জিয়ার সব কিছু হবে।

শুধু বেগম জিয়াকে আটক না, সরকার তারেক জিয়াকে দেশে আনতে বিএনপির উপর আবার চড়াও হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার বিএনপিতে ধরপাকড় শুরু করেছে সরকার। একাধিক সূত্র বলছে, শুধু মধ্যস্তরের নেতা নয়, প্রয়োজনে শীর্ষ নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। জানা গেছে, বিএনপি অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধেই নানা মামলা রয়েছে। মামলাগুলো একটু সচল করলেই তাদের গ্রেপ্তার করা যাবে সহজেই। এজন্য তারেক জিয়াকে দেশে ফেরাতে বিএনপির উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে সরকার।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রত্যার্পন চুক্তিসহ তারেক জিয়াকে দেশে ফেরাতে সরকার নানা কূটনৈতিক  উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কূটনৈতিক উদ্যোগে তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। সরকার এতদিন অপেক্ষা করতে চায় না। সরকার মনে করছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেকের যুক্তরাজ্য থাকা বিপদজনক। এসময় তারেক নানা ষড়যন্ত্র করতে পারে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে। তাছাড়া সরকার মনে করছে, তারেককে বাইরে রেখে বিএনপি ভাঙ্গাও কঠিন কাজ। এজন্যই নির্বাচনের আগে তারেককে তাঁর দণ্ড ভোগ করাতে চায় সরকার। আর এটা করতে পারলে, বিএনপির মনোবলের শেষ প্রাচীরটুকুও ভেঙ্গে যাবে।




বাংলা ইনসাইডার/জেডএ