ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভোটের আগেই হারল আ. লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ মে ২০১৮ সোমবার, ১০:০০ পিএম
ভোটের আগেই হারল আ. লীগ

গাজীপুরে ভোটের আগেই হেরে গেল আওয়ামী লীগ। ভোটের মাত্র ৯ দিন আগে হাইকোর্টের এক আদেশে নির্বাচন স্থগিত হবার ঘটনায় কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ। গণমাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে প্রচারিত হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এরকম ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, হারার ভয়েই বোধহয় আওয়ামী লীগ কায়দা করে নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে। যদিও আজ বিএনপি প্রার্থীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রার্থীও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, সত্যি সত্যি যদি আওয়ামী লীগ গাজীপুরে হারতো, তাহলেও এত ক্ষতি হতো না, যে ক্ষতি হলো নির্বাচন স্থগিত করায়।’ তিনি বলেন, ‘হারলে আমরা বলতে পারতাম যে, নিরপেক্ষ নির্বাচন আওয়ামী লীগই করতে পারে। নির্দলীয় সরকারের দাবিও অযৌক্তিক প্রমাণের আরেকটা সুযোগ ছিল আওয়ামী লীগের কাছে। কিন্তু ভোট বন্ধে এরকম একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে আওয়ামী লীগ হারবার ভয় পায়।’

এনিয়ে তফসিল ঘোষণার পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নির্বাচন স্থগিত হলো। একটি গাজীপুর অন্যটি ঢাকা (উত্তর)। এর ফলে সারা দেশের ভোটারদের কাছে একটা বার্তা গেল যে, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ভাটার টান। এজন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভয় পাচ্ছে। বিএনপি নেতারা তো গতকাল থেকে বলতে শুরু করেছে যে, ‘নির্বাচনে ভরাডুবি জেনেই আওয়ামী লীগ গাজীপুর নির্বাচন বন্ধ করিয়েছে। ঢাকা নির্বাচন বন্ধ করিয়েছে।’ কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে এটাও বলছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভরাডুবির আশঙ্কা থেকেই সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চাইছে। এজন্যই বেগম জিয়াকে কারান্তরীণ রাখা হয়েছে।’

জাতীয় নির্বাচন তো অনেক দূরের কথা। গাজীপুর নির্বাচন স্থগিতের আঁচ লেগেছে খুলনাতেও। খুলনাতেও বিএনপি এখন প্রচার করছে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভয় পায়। এজন্য খুলনার নির্বাচনও বন্ধ করার পায়তাঁরা চলছে।

গাজীপুরের ঘটনার আরেকটি দিক হলো, হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। হাসান উদ্দিন সরকারের বাসভবন ঘেরাও করে রাখে। এসব করে সরকার নির্বাচন বন্ধের সব দায়দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এসব তৎপরতায় তার মহাজোট সঙ্গী জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। জাপার মহাসচিব তো বলেই ফেলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি সংশয় দেখছেন।

আওয়ামী লীগ গত ৫ বছর যেভাবে নিরঙ্কুশভাবে দেশ চালিয়েছে, শেষ সময়ে এসে যেন তার হাতে রাখা নিয়ন্ত্রণের লাগাম আলগা হতে শুরু করেছে। এটা কি আওয়ামী লীগ বুঝে করছে না ভেতর থেকে কেউ স্যাবোটাজ করাচ্ছে? সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে বেশকিছু ঘটনাকে স্পষ্ট স্যাবোট্যাজ বলা যায়। যেমন বেগম সুফিয়া কামাল হল থেকে রাতে কয়েকজন শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে উঠিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।

সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য এলাকায় ঘটনা গুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণ হালকা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। হঠাৎ করেই দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। এসব লক্ষণ মোটেও ভালো নয়। প্রত্যেকবারই দেখা যায় ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে ক্ষমতাশীল দল একের পর এক ভুল করে। সেই ভুলের মাশুলও তাদের দিতে হয়। ৯১ এ মাগুরা ও মিরপুর উপনির্বাচন ছিল বিএনপির অবাঞ্চিত ভুল। ২০০১ সালে ডা. ইকবাল আর মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ছেলের কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আওয়ামী লীগ। ২০০৬ সালে ড. ইয়াজউদ্দীনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করা, নির্বাচন কমিশনকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাশুল গুনতে হয়েছিল বিএনপিকে। গাজীপুর কি তেমনি এক ভুলের জন্মভূমি?


Read In English: https://bit.ly/2rvsuWm


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ