ঢাকা, রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জাতীয় নির্বাচনও কি স্থগিত হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ মে ২০১৮ মঙ্গলবার, ১০:০০ পিএম
জাতীয় নির্বাচনও কি স্থগিত হবে?

গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিতের পর জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। গাজীপুরের নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশের পরপরই জাপার মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলো।’ পরদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘বিএনপি অংশগ্রহণ করলে কি তাহলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনও স্থগিত হেয়ে যাবে?’ রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, অদৌ কি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক ভাবে স্থগিত হতে পারে? সেক্ষেত্রে সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা দখলের ঘটনা ঘটেছে তিনবার। প্রথমটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর। জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করে খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতা দখল ছিল অসাংবিধানিক। এরপর ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীতে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলও ছিল অসাংবিধানিক। ৮২’র ২৪ মার্চ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেছিল সংবিধান লঙ্ঘন করে। এছাড়াও নির্বাচন ছাড়াই সাংবিধানিক ফাঁক গলে দু ‘বছর ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু একটি সংসদের মেয়াদ শেষ হবার পর যদি নির্বাচন না হয়, তাহলে কি কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে? প্রশ্ন উঠেছে, গাজীপুর কিংবা ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন যেভাবে হাইকোর্ট স্থগিত করেছে, যেভাবে কি জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হতে পারে? বর্তমান নির্বাচন কমিশন ২৫টি আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করেছে। ভোটার তালিকাও হালনাগাদ করেছে। এই ২৫টি আসন পুনর্বিন্যাস চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হতেই পারে। কিন্তু সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম মনে করেন, ‘এরকম রিটে ৩০০ আসনে নির্বাচন স্থগিত হবার সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ ওই ২৫টি আসনের নির্বাচন স্থগিত হতে পারে।’ কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২৫টি আসনের নির্বাচন না হলে কি জাতীয় সংসদ গঠিত হবে? সংবিধানের ৬৫ (৩ক) অনুযায়ী হবে না। সেক্ষেত্রে পুরো জাতীয় সংসদ নির্বাচনই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে। ভোটার তালিকা নিয়েও নির্বাচন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে অনেক আইনজ্ঞ মনে করছেন। বাংলাদেশের সংবিধানের দুটি কারণে একটি সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে এবং সংবিধানের ৭২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্র যদি যুদ্ধে লিপ্ত হয় তাহলে সংসদের আইনের দ্বারা এককালে এক বছর সংসদের মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন বলেছেন, ‘এটা ৫ বছরও বৃদ্ধি করা যাবে, ৫টি আইনের দ্বারা রিনিউ করার মতো। এমনকি যুদ্ধ যদি চলে তাহলে ১০ বছরও করা যেতে পারে।’ প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে তো এখন কোনো যুদ্ধ নেই। কিন্তু আইনজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে তো যুদ্ধাবস্থাই চলছে। এখানে যুদ্ধ যদি কোনো কারণে শুরু হয়, সেক্ষেত্রে ৭২ (৩) অনুযায়ী নির্বাচন ছাড়াই সংসদ তার মেয়াদ এক বছর বাড়াতে পারবে। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তেমন কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখছেন না। নির্বাচন কমিশনের হাতেও ১৮০ দিন অর্থাৎ ছয় মাস পিছিয়ে দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে। সংবিধানের ১২৩ (৪) অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে তা কেবল মাত্র দৈব দুর্বিপাকের জন্য প্রযোজ্য হবে।

তবে, নির্বাচন নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের নানা সংশয় থাকলেও। নির্বাচন স্থগিত বা সাংবিধানিক সীমার বাইরে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম। বরং একটি নতুন নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।



Read In English: https://bit.ly/2I1ics0


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ