ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আ.লীগের ধুমকেতুরা  

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ মে ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
আ.লীগের ধুমকেতুরা   

আওয়ামী লীগের মতো প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলে তাদের উথান ধুমকেতুর মতো। হঠাৎ আলোর ঝলকানি দিয়েই তাঁরা নিভে গেলেন। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না। দলের নেতা তাঁদের দিয়েছিলেন উজাড় করে, কিন্তু তাঁরা অজানা কারণে আলো ছড়াতে পারেননি, স্থায়ীত্ব পায়নি তাঁদের অবস্থান, আওয়ামী লীগের এই সব ‘ধুমকেতু’ নেতাদের হারিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন আওয়ামী লীগেই।

হঠাৎ আলো ঝলকানি দেয়ার তালিকায় প্রথমেই আসে সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম। সাবের হোসেন চৌধুরীর আওয়ামী লীগের অবস্থান যেন এলাম দেখলাম জয় করলাম- এর মতো। ১৯৯৬ সালে আনকোরা, অচেনা এই তরুন ব্যবসায়ী মনোনয়ন পেলেন মতিঝিল থেকে। মির্জা আব্বাসের মতো বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে তাকে মনোনয়ন দেন শেখ হাসিনা। সাবের হোসেন চৌধুরী ঐ নির্বাচনে প্রচারণায় আনেন আধুনিকতা, অমিয়তা। এরপর হন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের পর, আবার চমকে দেন সাবের। শেখ হাসিনা তাঁকে তাঁর রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন। কাউন্সিলে পান সাংগঠনিক সম্পাদক পদ। এসময় তিনিই আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হলেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের ঝড়ে ধুমকেতুর পতন হলো। সাবের হোসেন চৌধুরী এম.পি কিন্তু আওয়ামী লীগে তিনি থেকেও নেই। দলীয় কাজকর্মে তাঁর উপস্থিতিও চোখে পরেনা কারো। শেখ হাসিনার সাথে তাঁর দূরত্বের কথা আলোচিত হয় সর্বত্রই। কিন্তু কেউ জানে না, কেন তিনি হারিয়ে গেলেন।

আবদুল মান্নান কৃষিবিদ। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুঃসময়ে ছাত্রলীগের হাল ধরেছিলেন। শেখ হাসিনা তাঁকে রীতিমতো একাই টেনে তুলেছিলেন। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেও নিয়ে এসেছিলেন। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় নির্বাচনে অনিবার্য পরাজয়ের পরও শেখ হাসিনার আনুকূল্য বঞ্চিত হননি। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের পর তিনি দলে অপাংক্তেয়। শেখ হাসিনারও আস্থা হারিয়েছেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগে আছেন কিনা, তাও জানে না কেউ।

ডা. দীপুমনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়াটা ছিল ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম চমক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে তিনি বিদেশে বিদেশে কাটিয়েছেন বহুদিন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের জন্য তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়নি। আইভি রহমানের মৃত্যুর পর অনেককে বাদ দিয়ে শেখ হাসিনা দীপুমনিকে বেছে নেন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে তিনি কি করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রী ভালো জানেন। ২০১৪ তে মন্ত্রিত্বে আর ফেরত যেতে পারেননি। দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। কিন্তু তারপরও তিনি যেন থেকেও নেই। আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের এতো বড় পদ পেয়েও তিনি যেন ম্লান। কর্মীদের উজ্জীবিত করার কোনো কারিশমা দেখাতে পারেন নি। এখনো শেখ হাসিনার আপত্য স্নেহেই থাকেন। কিন্তু এতো সুযোগ পেয়েও দীপুমনি যেন আওয়ামী লীগের হারিয়ে যাওয়া ধুমকেতু।

এই তালিকায় আছেন মুকুল বোসও। এক সময় তাকে ভবিষ্যত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভাবা হতো। কিন্তু এখন দলে অপাংক্তেয় মুকুল বোস, শেখ হাসিনার করুনাতেই উপদেষ্টা কমিটির সদস্য।

এছাড়াও শেখ হাসিনার আশীর্বাদ পেয়েও রাজনীতিতে হারিয়ে যাওয়া তারকার তালিকা দীর্ঘ। এরা আওয়ামী লীগে থেকেও নেই। কেউ বিশ্বাস ভঙ্গ করে কর্মীদের আস্থা হারিয়েছেন, কেউ বা প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমান করতে পারেননি। রাজনীতিতে তাই শুধু আনুকূল্য পেলেই হয়না, বিকাশের জন্য লাগে নিজস্ব যোগ্যতা, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি। তাই শুধু আনুকূল্য পেলেই হয় না, বিকাশের জন্য লাগে নিজস্ব যোগ্যতা, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি।  



Read in English- https://bit.ly/2IgVQP2

বাংলা ইনসাইডার

বিষয়: আ-লীগ