ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ব্রাজিলের ফুটবল আর শেখ হাসিনার আ. লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৮ বুধবার, ১০:০০ পিএম
ব্রাজিলের ফুটবল আর শেখ হাসিনার আ. লীগ

আওয়ামী লীগকে এখন অনেকেই তুলনা করেন ‘ব্রাজিল ফুটবল’ দলের সঙ্গে। ফুটবল বিশ্বে যেমন ব্রাজিল সবচেয়ে জনপ্রিয় দল তেমনি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসেও আওয়ামী লীগ সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি দল। ফুটবলের এত জনপ্রিয়তার জন্য যেমন ব্রাজিলের অবদান অস্বীকার করতে পারে না, তেমনি বাংলাদেশে রাজনীতি যে এখনো মানুষের প্রিয় বিষয় সেজন্য আওয়ামী লীগের ভূমিকাকে কেউ খাটো করতে পারে না। ব্রাজিলের কারণেই যে ফুটবল তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র, নিপীড়িত মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তা অস্বীকার করবে না কেউই। তেমনি আওয়ামী লীগও এদেশের গণমানুষের কাছে রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ফুটবলের এমন একচ্ছত্র সাম্রাজ্যের পরও ব্রাজিল যেমন মাত্র ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে (অনেক ফুটবল বোদ্ধারা মনে করে ব্রাজিল যদি ১০ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতো তাহলে তার নামের প্রতি সুবিচার করা হতো) তেমনি আওয়ামী লীগ দলটি জাতির পিতার নেতৃত্বে এই দেশকে স্বাধীন করল, সেই দেশে ক্ষমতায় ছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর। ৭০ দশকে ব্রাজিল ছিল বিশ্ব ফুটবলে নান্দনিকতার প্রতীক। কিন্তু ৭০ এর পর তাদের ছিল বিশ্বকাপের জয় খরা। তেমনি আওয়ামী লীগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগ বিপুল জনপ্রিয়তার পরও ক্ষমতায় ছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর (৫৪’র যুক্তফ্রন্টের সরকার গঠন বাদ দিয়ে)। নব্বই এর দশকে এসে ব্রাজিল তার বিশ্ব জয়ের খরা কাটাতে নান্দনিকতার কৌশল ত্যাগ করে। গ্রহণ করে রক্ষণাত্মক, একঘেয়ে ফুটবল। জয়ের জন্য ফুটবল। তেমনি আওয়ামী লীগ যেন, ক্ষমতায় যেতে তার গণমানুষের চরিত্র পাল্টে কৌশলী হয়েছে। ক্ষমতায় যেতে যা যা করা প্রয়োজন সেটাই করেছে। আর সে কারণেই আওয়ামী লীগ টানা দু মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেছে। তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যাবার ক্ষেত্রে তারাই ফেভারিট। এনিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই অনেক সমালোচনা। বিশেষ করে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ তার আদর্শ থেকে দূরে। আওয়ামী লীগ আর গণমানুষের দল নেই বরং ব্যবসায়ী আর বিত্তবানদের দল। কিন্তু শেষ কথা হলো, জাতির পিতার হাতে গড়া দলটি ক্ষমতায় থেকে একে একে জাতির পিতার হত্যার বিচার করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। বাংলাদেশকে দরিদ্র দেশের তালিকা থেকে বের করে এনেছে। একটা আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে দলটি শুধু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। নির্যাতিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে। যে দলের নেতা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতা দীর্ঘ সংগ্রামের পর মাত্র সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় থাকতে পেরেছে,সেই দলটি আজ টানা ১০বছর ক্ষমতায়।

আওয়ামী লীগ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়তো ৬৯,৭০ এর মতো মানুষকে মাতাল করতে পারে না। জাতির পিতার আওয়ামী লীগের মতো শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ জনতার উত্তাল ঢেউ জাগাতে পারে না। কিন্তু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ জানে ক্ষমতায় থাকার কৌশল। আর ক্ষমতায় না থাকলে সব স্বপ্নই যে অধরা তা বাংলাদেশের মানুষের চেয়ে কে বেশি জানে। জাতির পিতা বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে তার স্বপ্নগুলোকে প্রস্ফুটিত করতে পারেন নি। কিন্তু শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সব স্বপ্নই পূরণের দ্বারপ্রান্তে। জাতির পিতার মতো তিনি মহামানব নন, জাতির পিতার মতো তাঁর উদাত্ত কণ্ঠ নেই, নেই সম্মোহনী শক্তি। কিন্তু তিনি কৌশলী। ১৯৮১’র ১৭ মে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে তিনি এসেছিলেন পিতার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের এক আবছা স্বপ্ন নিয়ে। আজ সেই স্বপ্ন তিনি বাস্তবতার রূপ দিয়েছেন। ব্রাজিলের ফুটবল চিন্তা যেমন এখন পাল্টে গেছে, শেষ পর্যন্ত জয়ই হলো আসল। তেমনি আওয়ামী লীগকে তিনি গণমানুষের নিপীড়িতের দল থেকে টেনে তুলে ক্ষমতার অবয়বে সাজিয়েছেন। তিনিই এখন আওয়ামী লীগের প্রাণ ভোমরা। ১৭ মে তে তিনি না এলে আওয়ামী লীগ কি পেত কখনো এই সুখের সময়?  



Read in English- https://bit.ly/2IGWRUl


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ