ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘আমাকে জেলে রাখার জন্য কত পেয়েছেন?’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
‘আমাকে জেলে রাখার জন্য কত পেয়েছেন?’

বিএনপির আইনজীবীদের উপর আবার চটলেন, কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এতদিন কি করলেন? এসব মামলায় এতদিন কেন জামিন নিলেন না? আমাকে জেলে রাখার জন্য কত পেয়েছেন?’  অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন ও সানাউল্লাহ মিয়াসহ ৫ জন আইনজীবী বেগম জিয়ার সঙ্গে আজ বিকেলে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি ঐ মন্তব্য করেন। কারাসূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।

পাঁচ আইনজীবী মূলত গিয়েছিলেন, নিম্ন আদালতে বেগম জিয়ার জামিন আবেদনের জন্য ওকালত নামায় তাঁর স্বাক্ষর গ্রহণের জন্য। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭ টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আছে। গত মার্চ মাস থেকে একে একে এসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু বেগম জিয়ার আইনজীবীরা এক কুমিল্লার দুটি মামলা ছাড়া অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে জামিনের আবেদন করেনি।

জানা গেছে, এর আগে খন্দকার মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে বেগম জিয়া তাদের এইসব মামলায় জামিন নিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাঁকেও বেগম জিয়া একই নির্দেশ দেন। কিন্তু বিএনপির আইনজীবীরা এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেননি। কারাসূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী আইনজীবীরা বলেছেন, তারা আপিল বিভাগের জামিনের অপেক্ষা করছিলেন। খন্দকার মাহাবুব হোসেন যুক্তি দেখান, ‘আমরা মনে করেছিলাম, এই মামলায় আপিল বিভাগ জামিন দিলে বাকি মামলাগুলোতে আপনা আপনি জামিন হয়ে যাবে। নিম্ন আদালত আপিল বিভাগের আদেশকে একটা নির্দেশনা হিসেবে দেখবে।’ তিনি বলেন, ‘এসব মামলার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোটা আইনের লঙ্ঘন। কারণ আপনি যে গ্রেপ্তার আছেন এটা কারও অজানা নয়।’  অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’ তিনি কুমিল্লার একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে আমি জামিনের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু শুনানির পর কোর্ট নো অর্ডার দিয়ে রেখে দিয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যেতে পারছি না।

কিন্তু বেগম জিয়া আইনজীবীদের এসব কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি মনে করেন, এসব মামলায় চেষ্টা করলে আগেই উচ্চতর আদালত থেকে জামিন নেয়া যেত। বেগম জিয়া বলেছেন, আপিল বিভাগেও অসুস্থতার কারণে সব মামলায় একসঙ্গে জামিন চাওয়া যেত, কিন্তু আপনারা এসব কিছুই করেননি।

উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন বেগম জিয়া। গত ১৬ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ এই মামলায় তাকে জামিন দেয়। কিন্তু আরও ৭ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় এখনো নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারেই অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।



Read in English- https://bit.ly/2IMVP9m


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ