ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আগামী সংসদ নির্বাচনও বর্জন করবে বিএনপি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
আগামী সংসদ নির্বাচনও বর্জন করবে বিএনপি?

খুলনা সিটি নির্বাচনের পর কি বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পথেই হাঁটবে? বিএনপির একাধিক নেতা এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তাঁরা বলতে চাইছেন, আওয়ামী লীগ এমন মেকানিজম করেছে যে, নির্বাচনে জয়লাভ এখন শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব। বিএনপির নেতারা বলছেন, ‘নির্বাচন কারচুপির সম্পূর্ণ অভিনব এবং নতুন মডেল আবিষ্কার করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যে মডেলে নির্বাচন হবে আপাত: সুষ্ঠু, গোলোযোগহীন, কিন্তু এমন ভাবে ভোট হবে যে জিতবে শুধু আওয়ামী লীগই।’ বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘খুলনায় কারচুপি হয়েছে, এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত কিন্তু কীভবে কারচুপিটা হলো, তা আমরা ধরতে পারিনি।’ বিএনপিতে যাঁরা ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যেতে অনাগ্রহী’, সেই কট্টরপন্থীরা এখন সোচ্চার। তারা দলের মহাসচিবের কাছে এখনই, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, এই ঘোষণা চাইছেন। বিএনপি মহাসচিব অবশ্য এখনই চূড়ান্ত অবস্থান গ্রহণের পক্ষে নন। বরং তিনি সরকারের কৌশলের বিপরীতে পাল্টা কৌশল নিতে চান। কিন্তু দলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষের লোকের সংখ্যা ক্রমশ: কমছে।

বিএনপির মধ্যে একটা বড় অংশই তিন দফা দাবি আদায় ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে রাজি না। এই তিন দফার মধ্যে রয়েছে: ১. বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং একজন দল নিরপেক্ষ ব্যক্তির নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন ২. বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ৩. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন।

এর বিপরীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কিছু সিনিয়র নেতা ছিলেন নির্বাচনের পক্ষে। বিএনপি মহাসচিব সবসময়ই বলতেন, বিএনপি নির্বাচনে দাঁড়ালেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। জনগণ স্রোতের মতো ভোটকেন্দ্রে আসবে এবং বিএনপিকে ভোট দেবে। এরকম পরিস্থিতিতে নির্বাচনে কারচুপি করলে গণবিস্ফোরণ ঘটবে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের পর ফখরুলের দল আরও ভারী হয়। কিন্তু খুলনা নির্বাচনের পর বিএনপিতে নির্বাচন বর্জনের পক্ষে বক্তব্য আরও বেশি জোরালো হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচন বর্জনের পক্ষে অন্যতম হলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। খুলনার পর তিনি বলেছেন, আগেই বলেছিলাম আওয়ামী লীগ এমনভাবে নির্বাচন করবে যে আমরা বুঝতেও পারবো না কি হচ্ছে। শুধু গয়েশ্বর একা নন, নজরুল ইসলাম খান,আমীর খসরু মাহমুদের মত যারা শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি নন, তারা  এখন গ্রেপ্তার। খুলনা নির্বাচনের পর নতুন করে তিন দফা দাবি সামনে আসছে। বেশি কট্টররা একধাপ এগিয়ে বলছেন, গাজীপুরের নির্বাচনও বর্জন করতে হবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল  ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এখনই হাল ছাড়তে রাজি নন।তারা গাজীপুরকে শেষ পরীক্ষা হিসেবে দেখতে চান। গাজীপুরের নির্বাচনে হারলে বিএনপি কি ২০১৪’র পথেই হাঁটবে? একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও কি হবে বিএনপিকে ছাড়াই? কারণ ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দুজনই বলে দিয়েছেন যে, বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য আওয়ামী লীগ কোনো উদ্যোগ নিবে না।

Read In English- https://bit.ly/2rLy4Uu

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ