ঢাকা, সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘নিমকহারামদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন কেন?’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৮ রবিবার, ০৫:৫৯ পিএম
‘নিমকহারামদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন কেন?’

লেডিস ক্লাবে শনিবারের ইফতার পার্টি নিয়ে তোলপাড় চলছে বিএনপিতে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও ইফতার পার্টিতে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো এবং তাঁর বক্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারেক জিয়া বিএনপি মহাসচিবের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘বি. চৌধুরী সাহেব আপনার কেমন অভিভাবক?  উনি যদি আপনার অভিভাবক হন তাহলে তো আপনার বিএনপি করার দরকার নেই।’ বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গতকাল শনিবার রাজনীতিবিদদের স্মরণে বিএনপি এক ইফতার পার্টির আয়োজন করে। ইফতার পার্টিতে অধ্যাপক বি. চৌধুরী, আ. স. ম. আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাত্র দুজন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব তাঁকে ‘সকলের অভিভাবক এবং উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে অভিহিত করেন। বক্তব্য দিতে এসেই অধ্যাপক বি. চৌধুরী বিএনপির নাম উচ্চারণ না করেই, বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ওয়াদা বরখেলাপকারীকে আল্লাহ পছন্দ করে না। যারা মুখে এক আর কাজে আরেক তাঁদের আল্লাহ পছন্দ করে না।’ বক্তৃতায় তিনি একবারও বেগম জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ আনেন নি। তারেক জিয়া সম্পর্কেও কোনো কথা বলেননি। ইফতার অনুষ্ঠানেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে অসন্তোষ শুরু হয়। ইফতারের পর কয়েকজন নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রীতিমতো ঘেরাও করেন।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দলটির নেতা। তিনি বিএনপির প্রথম মহাসচিব। কিন্তু বিএনপিতে তিনি দুই কারণে বিতর্কিত। ১) জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজেই ছিলেন। জিয়াকে উশৃঙ্খল সেনা সদস্যরা হত্যা করলেও অক্ষত থাকেন অধ্যাপক বি চৌধুরী। ৩০ মে ১৯৮১ তে বি চৌধুরীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২) রাষ্ট্রপতির হয়ে অধ্যাপক চৌধুরী জিয়ার কবরে যাননি। এজন্য তাঁকে যখন অভিসংশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি, তখন তিনি পদত্যাগ করেন।

বিএনপিতে তারেক পন্থীরা অধ্যাপক চৌধুরীকে পছন্দ করেন না। অধ্যাপক চৌধুরীও এখন সুযোগ পেলেই বিএনপি এবং তারেক জিয়া সমালোচনা করেন।

বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেছেন,‘ সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে আমরা বি চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু মহাসচিব অতি উৎসাহী হয়ে তাঁকে বক্তব্য দিতে বলেছেন। এটা উচিৎ হয়নি।’

ড. খন্দকার মোশররফ হোসেনও বলেছেন, ‘তার ( অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী) বক্তব্য গ্রহণ যোগ্য নয়। এটা তার নিজস্ব মত।’

কিন্তু এই ক্ষোভ শুধু দেশে থাকলে কথা ছিল না। ইফতার পার্টির বিস্তারিত চলে গেছে লন্ডনে। আর এতেই বিপাকে পড়েছেন দলের মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারেক বলেছেন ‘ আপনি নিমকহারামদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন কেন? বিশ্বাসঘাতকদের কোনো সহানুভূতি, সমর্থন বিএনপির দরকার নেই।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি মহাসচিব ও অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর আচরণে দু:খ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন‘ ভুলটা আমার, এর মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র নেই।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ