ঢাকা, সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘রাষ্ট্রপতি ছিলেন, এখন মন্ত্রিত্ব চান’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ মে ২০১৮ বুধবার, ০৫:৫৯ পিএম
‘রাষ্ট্রপতি ছিলেন, এখন মন্ত্রিত্ব চান’

অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জাতীয় সরকারের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ তো সব সময়ই ঐক্যমতের সরকারের মাধ্যমেই দেশ পরিচালনা করে। এখনো সংসদের বিরোধী দলও সরকারে আছে। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট যদি আগামী নির্বাচনে একটি আসনও পায়, আর আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে জয়ী হয় সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ জাতীয় সরকারে যুক্তফ্রন্টকে শর্ত সাপেক্ষে নেবে। অন্যদিকে, বিএনপি জাতীয় সরকারের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলেছে, এটা আওয়ামী লীগের বাকশালী ফর্মুলা।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক এবং বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী আগামী নির্বাচনের পর অন্তত ৫ বছরের জন্য জাতীয় সরকারের প্রস্তাব করেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একজন নেতা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় ঐক্যমতের ভিত্তিতে দেশ চালাতে চায়। যারা জাতির পিতাকে স্বীকার করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে, যারা স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে জোট বা আঁতাত করে না, তাদের শক্তি যত কমই হোক, আমরা তাঁদের সঙ্গে রাখি।’ তিনি বলেন, ৯৬ তে আমরা ঐক্যমতের সরকার গঠন করেছিলাম। এখনো আমরা সংসদের সব দলকে নিয়েই সরকার গঠন করেছি।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখন যে সরকার দেশ চালাচ্ছে সেটা তো জাতীয় সরকারই। সংসদে নির্বাচিত সকল দল সরকারে যাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী নির্বাচনেও যদি আওয়ামী লীগ জয়ী হয়, সেক্ষেত্রেও আমরা সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবো। এমনকি বি. চৌধুরী সাহেব এবং তাঁর দল যদি সংসদে আসেন, তাদেরকেও আমরা সরকারে নিতে পারি।’

আওয়ামী লীগ বিষয়টিকে হালকাভাবে নিলেও বিএনপি জাতীয় সরকারের আহ্বানকে একটি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই দেখছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ বলছেন, ‘সরকার যখন একটা প্রহসনের নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে, তখন জাতীয় সরকারের দাবি অপ্রাসঙ্গিক।’ তিনি বলেন, জাতীয় সরকারের প্রস্তাব, আওয়ামী লীগকে বাঁচানোর কৌশল।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেছেন, ‘বি. চৌধুরী সাহেব দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে। এখন তাঁর একটু হালুয়া রুটি খাবার সাধ হয়েছে। এজন্য তিনি জাতীয় সরকারের আবদার করছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন এবং এরশাদের মতো বিশেষ দূত হবেন।’ বিএনপির নেতারা বলছেন, ৮৮ তে যেমন আ.স.ম আব্দুর রব যেমন গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা হয়েছিলেন, এখন যেমন এরশাদ, তেমনি বি. চৌধুরী গৃহপালিত নেতা হতে চান। তিনি রাষ্ট্রপতি থেকে এখন মন্ত্রী হতে চান। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগকে বৈধতা দিতে চান।

বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগ করলেও অবশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অধ্যাপক বি. চৌধুরীর পিছু ছাড়েননি। তিনি গতকালের ইফতার পার্টিতে বিএনপির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ