ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘পদের জন্য লালায়িত কেউ দলের জন্য কিছু করতে পারে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১২:০৩ পিএম
‘পদের জন্য লালায়িত কেউ দলের জন্য কিছু করতে পারে না’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি ছাত্রলীগ করেছি কিন্তু কখনো কেন্দ্রীয় নেতা হতে পারিনি। তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ সভাপতি। কিন্তু নেতা হওয়ার জন্য আমি কখনো তদবিরও করিনি। শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যাঁকে যোগ্য মনে করেছেন তাঁকেই নেতা বানিয়েছেন। কিন্তু এখন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নিয়ে এত লালায়িত কেন সবাই। কি মধু আছে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে?

আর এজন্যই ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও সময় নিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও ভাবতে চান। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগে এমন নেতৃত্ব আনতে চান যাঁরা যোগ্য কিন্তু নেতৃত্বের জন্য লালায়িত নয়। কিন্তু গতকাল বুধবার গণভবনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বপ্রত্যাশী যাঁরা এসেছিল তাদের পদ-ক্ষুধা প্রধানমন্ত্রীকে অবাক করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেন দরবারের নেতৃত্ব থেকে বড় কিছু আশা করা যায় না।

শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় তাঁকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেওয়া হয়। তিনি এখনো বলেন, আওয়ামী লীগের একজন কাউন্সিলরও আমাকে না চায়, তাহলে আমি নেতৃত্বে থাকবো না। এই বার্তাই প্রধানমন্ত্রী গতকাল গণভবনে আসা আওয়ামী লীগের পদপ্রত্যাশীদের দিয়েছেন। বলেছেন, ‘পদের জন্য লালায়িত কেউ দলের জন্য কিছু করতে পারে না।’

গতকাল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, ‘আমি যাকে দায়িত্ব দেব তাঁর নেতৃত্বে কাজ করতে হবে। সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হবে।’

সিন্ডিকেট ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার নিজে ছাত্রলীগ কমিটি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সে উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রায় দুই মাস পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের গতকাল সাক্ষাতের জন্য গণভবনে ডেকেছিলেন তিনি। এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, পদপ্রত্যাশী ১২৯ নেতার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ মতবিনিময়ের পর কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণায় আরও কিছুদিন সময় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিন ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদপ্রত্যাশী নেতাদের বক্তব্য শোনেন। এসময় এত আবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বক্তব্যরত নেতাদের কাছে পদপ্রত্যাশার কারণ জানতে চান তিনি। সবার বক্তব্য ও পদ পাওয়ার আগ্রহ দেখে তিনি বলেন, ‘সবাই নেতা হবে না। আর আমি সবাইকে পদ দিতেও পারব না। সবাই উপযুক্ত। আমি আরও যাচাই-বাছাই করে দেখব। আরও সময় লাগবে। আমি পরে জানাব।’

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ছাত্রনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধৈর্যর প্রশংসা করেন। সভাপতি পদপ্রত্যাশী এক নেতা বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো এত ধৈর্যশীল মানুষ আমার জীবনে দেখিনি। ৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আমাদের কথা শুনেছেন এবং দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক পর্যায়ে বলেন, তাঁর বাছাই করা নেতৃত্বকে সবার মেনে নিতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতারা স্লোগান দিয়ে গণভবন মুখর করে তোলেন। সবাই বলে ওঠেন, ‘নেত্রী, আপনি যাকে দায়িত্ব দেবেন আমরা তার নেতৃত্বেই কাজ করব। আপনার নির্দেশনা মেনে চলব।’ তবে নেত্রীর বক্তব্য মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পদপ্রত্যাশীরা বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজেদের আত্মপ্রচারই করেছেন বেশি। নিজেদের বক্তব্যে ছাত্রনেতারা দলের জন্য নিজেদের আত্মত্যাগ থেকে শুরু করে পরিবারের আত্মত্যাগের কথাও বর্ণনা করেন।

ছাত্রলীগের বয়সসীমা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পদপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতা। এবার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার বয়স ২৮ বছর। গত ২৮তম কাউন্সিলে এ বয়স ছিল ২৯ বছর। বয়সসীমার কারণে অনেক যোগ্য নেতা বাদ পড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বয়সের বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তা-ভাবনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্রনেতা জানিয়েছেন।

এছাড়া কোটা আন্দোলন বিষয়েও পক্ষে-বিপক্ষে পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতারা বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।

মতবিনিময় চলার এক পর্যায়ে বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহীর সংখ্যা বেড়ে গেলে মাইক নিয়ে টানাটনি থেকে শুরু করে কিছু বিষয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অন্য কোনো নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ