ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এমপিদের আয়ের বড় উৎস বিএনপি-জামাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার, ১০:০০ পিএম
এমপিদের আয়ের বড় উৎস বিএনপি-জামাত

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়েছিলেন এলাকার এমপির কাছে। দলের এমপির কাছে তাঁর তদবির ছিল ছেলের চাকরি। চেয়ারম্যানের কথা শুনে এমপি বললেন, এখনতো বেশ কড়াকড়ি। মেধাতালিকায় থেকেও অনেকের চাকরি হয় না। তারপরও আমি দেখব। কিছুদিন পর খবর এলো তাঁর ছেলের চাকরি হয়নি। বিষয়টি মেনেই নিয়েছিলেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। কিন্তু পরে যা শুনলেন তা কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না। চাকরি হয়েছে এলাকায় বিএনপি পরিবার বলে চিহ্নিত একজনের ছেলের। একটু খোঁজ নিয়েই জানতে পারলেন বিস্তারিত, এমপি সাহেব ওই পরিবারের ছেলের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করেছেন। পরিবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে সার্টিফাই করেছেন। আবার গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই যখন ভ্যারিফাই করতে গেছে সেখানেও টাকা ঢেলে সব ঠিক করেছেন এমপি। বিএনপি পরিবারের জন্য আওয়ামী লীগের এমপির ভালোবাসার উৎস হলো টাকা। বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে বিএনপির ছেলেকে সরকারি চাকরি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের এমপি।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের এক নেতা এই ঘটনা জানান।

গত ৩০ জুন ও ৭ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সভা করেছেন। সভায় উপস্থিত সব নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনা সম্ভব হয়নি আওয়ামী লীগ সভাপতির। তখন প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, আপনাদের এলাকার যার যা সমস্যা লিখে নির্দিষ্ট বক্সে জমা দিয়ে যাবেন। তৃণমূলের নেতারা লিখিতভাবে তাদের অভিযোগের কথা জমা দিয়ে যান। উল্লিখিত ঘটনাটি একজনের লেখায় পাওয়া যায়।

আর এমন অভিযোগ একটি নয়, অসংখ্য। বেশির ভাগ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ কর্মীদের কাছ থেকে টাকা খেতে পারে না বলে তাদের পছন্দ করেন না অনেক এমপি। এমপিদের পছন্দ বিএনপি-জামাত, কারণ তাদের কাছ থেকে টাকা খেতে পারে। চাকরির তদবির (ডিও) করে বিএনপি-জামাতের জন্য। আবার চাকরির তদবিরর করতে গেলে এনএসআইসহ গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট লাগে। তখন গোয়েন্দা সংস্থা ম্যানেজ করার জন্য আবার আলাদা করে টানা নেন এমপিরা।

শুধু চাকরির তদবিরই নয়। ব্যবসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগের অনেক এমপির পছন্দ বিএনপি-জামাত। কারণ আওয়ামী লীগের লোকজনের কাছ থেকে টাকা চাইতে পারে না। এই এমপিরা নিজে ব্যবসা নিয়ে জামাত-বিএনপির কাছে অর্থের বিনিময়ে তুলে দেয়।

এখানেই শেষ না বিএনপি-জামাত থেকে আরও আয়ের উৎস আছে এমপিদের। বিএনপি-জামাতের লোকেরা গ্রেপ্তার হলে তাঁদের জন্য থানা-পুলিশ তদবির করছেন অনেক এমপি। অর্থের বিনিময়ে বিএনপি-জামাতের কর্মীদের কোর্টে জামিনের ব্যবস্থাও করছেন এই এমপিরা। 

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা দেখা যায় এমপিদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে, যুক্তি দেয়, তর্ক করে। এই কারণে অনেক এমপি তো তৃণমূলের নেতাদের কথা বলার সুযোগই দেন না। এমপির সাক্ষাতই পায়না অনেক তৃণমূল নেতা।

জানা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে উল্লিখিত অভিযোগগুলো এসেছে। সাম্প্রতিক যত নিয়োগ হয়েছে তাতে অনেক বিএনপি-জামাত পন্থী চাকরি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন অনেক তৃণমূল নেতা। 

তৃণমূলের একাধিক নেতা বলেন, এমপিদের কাছে বিএনপি-জামাতের লোকেরা টাকা নিয়ে যায়। তাঁদের কথা গোপন রাখা হয়। চাকরি পাওয়ার সময় টাকা দেওয়ার লোকরাই পায়। এমপি টেন্ডার-ব্যবসা বিক্রি করে বিএনপি জামাতের কাছে। নিজেদের লোক তো আর টাকা দিবে না। 

প্রায় ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। কিন্তু টাকার বিনিময়ে এমপিদের বিএনপি-জামাত ভালোবাসার কারণে তৃণমূল নেতারা বঞ্চিতই রয়ে গেছেন। অথচ ক্ষমতায় না থেকেও বহাল তবিয়তে আছে বিএনপি-জামাতের লোকেরা।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ