ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পাঁচ কারণে সিটি নির্বাচনে বেকায়দায় বিএনপি 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার, ০৬:০০ পিএম
পাঁচ কারণে সিটি নির্বাচনে বেকায়দায় বিএনপি 

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই। গতকাল ১০ জুলাই প্রতীক বরাদ্দের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে এই তিন সিটি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে এসে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা জোরেশোরে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণার কাজ চালালেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণায় নেই তেমন কোনো গতি। অনুসন্ধানে দেখা যায় বিএনপির নেতা কর্মীদের হতাশার পেছনে পাঁচটি বিষয় কাজ করছে। এগুলো হলো:

১. উদ্যমহীনতা: গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হবার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা ধারনা করছে যে, ‘আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ যে কোনো উপায়ে জয় লাভ করবে।’ তাই পরাজয় নিশ্চিত জেনে সিটি নির্বাচনের শুরু থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ ও উদ্দীপনার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন, গতকাল বরিশালে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যে কমিটি গঠন করা হয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে, সেই কমিটি গঠন করতে পারে নাই বিএনপি। নয়টি ওয়ার্ডে বিএনপির লোকজনই আসে নাই।

২. মামলা-মোকদ্দমার ভয়: বিএনপির পক্ষ থেকে সিটি নির্বাচনে হতাশা ও অনাগ্রহের অন্যতম আরও একটি কারণ বলা হচ্ছে মামলা-মোকদ্দমা ভয়। বিএনপির অনেক নেতা কর্মীর নামে অনেক মামলা চলছে। বিগত সময়ে তিন সিটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা তৃণমূলের কর্মীদের খোঁজ খবর রাখেন নাই। মামলা মোকদ্দমা চলাকালে কোনো সহযোগিতাও করে নাই। তাই নেতাকর্মীরা নতুন করে আর মামলা মোকদ্দমার ঝুঁকি নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে চাইছেন না আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।

৩. অর্থসংকট: শুধু বিএনপির কর্মীরা নয় মেয়র প্রার্থীরাও হতাশাগ্রস্ত হয়ে আছেন। প্রার্থীরা ভাবছেন, ‘আমি যে এত টাকা খরচ করব আমার লাভটা কি? আমি তো হেরেই যাব।’ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারণায় শেষদিনে লক্ষ্য করা যায়, হাসান উদ্দিন সরকার হাল ছেড়ে দিয়ে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা গুটিয়ে ফেলেছিল নিশ্চিত পরাজয় জেনে। আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীরা পরাজয়ে ভয়ে টাকা পয়সা ব্যয় করতে রাজি হচ্ছে না। যার কারণে সিটি নির্বাচনে চরম অর্থসংকটে ভুগছে বিএনপি। 

৪. এজেন্ট নিয়ে অবিশ্বাস: চতুর্থ যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে তা বিএনপির নেতা ও কর্মীদের মাঝে অবিশ্বাস প্রচণ্ডভাবে দানা বেঁধেছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের পর কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট আসছে যে বিএনপির পোলিং এজেন্টদেরকে কিনে ফেলা হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের কিনে ফেলার পর তাঁরা এলাকায় থাকে না। প্রথমে বিএনপি ভেবেছিল সরকার পোলিং এজেন্টদের গুম বা আটক করেছে। পরবর্তীতে দেখা যায় সরকার এদের কিছুই করে নাই। তারাই কয়েকদিনের জন্য এলাকায় বাহিরে চলে গিয়েছে। এজেন্ট নিয়ে অবিশ্বাসের কারণে এই তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা এখন আর কাউকে পোলিং এজেন্ট দিতে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আবার কর্মীরা ভাবছে তিনি (মেয়র প্রার্থী) তো আমাদের বিশ্বাসই করে না তাঁর সঙ্গে কি কাজ করব।  সুতরাং অবিশ্বাস বিএনপির সিটি নির্বাচনে বর্তমান অবস্থায় জন্য অন্যতম একটি কারণ।

৫. জামাত ও অন্যান্য ইসলামি দলের ভোট: সিলেট সিটিতে বিএনপির ২০ দলীয় জোটের শরিক জামাত তাঁদের মেয়র প্রার্থী দিয়েছে। রাজশাহী ও বরিশালে সিটিতে মেয়র পদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছে। যার কারণে দেখা যাচ্ছে যে জামাত ও অন্যান্য কট্টরপন্থী ইসলামি দলগুলোর ভোট, যা বিগত বেশির ভাগ সময়ে বিএনপির বাক্সে পরত। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন জামাত ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর ভোট কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। জামাত ও অন্যান্য ইসলামি দলের ভোটে অংশগ্রহণ করাটাও বিএনপির জন্য হতাশার অন্যতম একটি কারণ।

দলীয় নির্দেশে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা আসন্ন রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও তাঁদের মধ্যে ভোটের যে আনন্দ ও জয়ের জন্য যে স্পৃহা তাঁর কোনটাই নাই।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ