ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘খালেদা যে সুযোগ পাচ্ছে, তার এক চুলও পাইনি আমি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০১৮ সোমবার, ০৬:০০ পিএম
‘খালেদা যে সুযোগ পাচ্ছে, তার এক চুলও পাইনি আমি’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ সোমবার সকালে সাক্ষাৎ করেন তাঁর ব্যক্তিগত স্টাফরা। এই সময় কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীকে আজকের দিনের কথা স্মরণ করে দেন। কথিত এক দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত স্টাফদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীরই নির্দেশ আছে খারাপ দিনগুলোকেই যেন মনে করা হয়। কারণ এমন দিনগুলোকে স্মরণ না করা হলে এগুনো সম্ভব নয়। খারাপ দিনগুলোকে অতিক্রম করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আজ দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর অনানুষ্ঠিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই কারারুদ্ধ হওয়ার এবং প্রায় এক বছর কারাবন্দী জীবনের কথা তোলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,বন্দী অবস্থায় আমাকে যে কি অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে রাখা হয়েছে তা বলবার নয়। সে তুলনায় খালেদা জিয়া যে কারাগারে আছেন, অনেক ভালো আছেন।

মন্ত্রিপরিষদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো মামলায় নয়, হয়রানিমূলক ভাবেই আমাকে বন্দী করা হয়েছিল। আর খালেদা জিয়া কারাগারে গেছেন দণ্ডিত হয়েছে। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে দুর্নীতি প্রমাণিত হয়ে আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দিয়েছে। এরপরই তো তিনি কারাভোগ করছেন।

বেগম জিয়ার কারাজীবনের সঙ্গে তৎকালীন কারাজীবনের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়া এখন যে সুযোগ পাচ্ছে তখন এগুলো চিন্তাই করা যেত না। আমাকে নিয়মিত কিছু ওষুধ খেতে হতো। কিন্তু অনির্বাচিত তত্ত্বাবধয়াক সরকারের সময় কারাবন্দী থাকা অবস্থায় ওষুধ শেষ হয়ে গেলেও তা এনে দেওয়া হয়নি। খাবার ও পানির কষ্ট দেওয়া হয়েছে। গরমের সময় প্রায়শই ইচ্ছাকৃত ভাবে বিদ্যুৎ-পানি বন্ধ করে দিয়ে কষ্ট দেওয়া হতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া এখন যত সুযোগ পাচ্ছেন তার এক চুলও পাইনি আমি।

বেগম জিয়ার সিএমএইচে না যাওয়ার কথা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁকে (খালেদা জিয়া) সিএমএইচে নিতে চাইলেও, তিনি যেতে চান না। অথচ আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সিএমএইচে যেতে চেয়েছিলাম। কারণ সেখানেই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা হয়। কিন্তু আমাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়নি। নেওয়া হয়েছিল স্কয়ারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বেগম জিয়া যে কারাগারে এখন গৃহপরিচারিকা পান। অথচ তখন আমার সঙ্গে কাউকে দেখা পর্যন্ত করতে দেওয়া হতো না।

প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী অবস্থার কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের সতর্ক থাকবে হবে এমন দিন যেন আর না আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি ভালোমতো কাজ না করি, যদি সতর্ক না থাকি তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা আবার আসবে।

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আবার যদি ষড়যন্ত্রকারীরা আসে তাহলে এবার কোনো ঝুঁকি তারা নেবে না। আমরা দেশের যে উন্নয়ন করেছি, দেশকে যে পর্যায়ে নিয়েছি, তাতে আর আমাকে তারা কারাগারে নেবে না। কারাগারে নিয়েও ভয়ে থাকবে তারা। তাই ঝুঁকিহীন করতে এবার ক্ষমতায় আসলে তারা আমাকে শেষ করতে চাইবে। আমাকে হত্যা করা হবে।

উল্লেখ্য, আজ শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস স্মরণে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে শুধু যুবলীগেই ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। জাতীয় দৈনিকে যুবলীগের ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ