ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জামাত পাশে নেই, দোষ সরকারের?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৯ পিএম
জামাত পাশে নেই, দোষ সরকারের?

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এরপরও অবশ্য বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী আছে তাঁদেরই শরিকেই। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের দল এবং তাদের দীর্ঘদিনের সহযোগী জামাত থেকে দেওয়া প্রার্থীও প্রচারণা চলিয়ে যাচ্ছে সিলেটে। আর নগরের সাম্প্রতিক প্রচারণায় দেখা গেছে জামায়াতের প্রার্থী সিলেট মহানগর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পক্ষে  বিএনপি ছাড়া ২০ দলের শরিকদের সবাই কাজ করছে। সিলেটের স্থানীয় ‘এলডিপি’, ‘ন্যাপ’ এবং ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য ইসলামী দলগুলো জামায়াতের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজ করছেন। প্রচারণার শুরু থেকেই জামাত ও অন্যান্য শরিকদের চাপে বেকায়দায় সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

সিলেটের মতোই নিজেদের জোটের শরিক জামাতের কারণেই রাজশাহীতেও চাপে পড়েছে বিএনপি। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও জামাত কাউন্সিলর পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আর মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রচারণায় দেখা যায়নি জামাতকে। অনানুষ্ঠিকভাবেই রাজশাহীতে বিএনপি বর্জন করেছে জামাত।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির জামাত নির্ভরতার কথা কারও অজানা নয়। কিন্তু খুলনা ও গাজীপুরে বিপুল ব্যবধানে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের ব্যর্থতার পর এখন জোটের মধ্যে থেকে বিরোধিতায় দিশেহারা বিএনপি। আওয়ামী লীগ প্রার্থী যেখানে তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নিরঙ্কুশ সমর্থন পাচ্ছে, সেখানে নিজেদের জোট থেকেই পাচ্ছে বিরোধিতা বিএনপি। অতি সম্প্রতি বিএনপি নেতারা নিজেদের জোটের বিরোধীতার জন্য দায়ী করছেন সরকারকে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠ স্তব্ধ করার জন্য ২০ দলীয় জোটের উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। জামায়াতকে আলাদা চাপে রাখা হয়েছে।’ আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর। এসময় তিনি জামাতকে পাশে না পাওয়ার দোষ দেন সরকারকে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ সত্যতা আসলে কতটুকু?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরাবরই জামাত ছিল ইসলামিক ভোটের মূল দাবিদার। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে না থাকায় অন্য ইসলাম পছন্দ দলগুলো তাঁদের ভোট পাচ্ছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খুলনা ও গাজীপুর সিটিতে দেখা গেছে, নির্বাচনে একাধিক ইসলাম পছন্দ দল থাকলেও মূলত ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনই জামাতের ভোট কেড়ে নিচ্ছে। জামাত নেতৃত্বের উপলব্ধি হলো, তারা নির্বাচনে না গেলে ইসলামিক ভোটগুলো ধীরে ধীরে বেহাত হয়ে যাবে। সিলেটে ইসলামিক ভোটের ব্যাংক বেশ সমৃদ্ধ। তাই বেশ আঁটঘাট বেঁধেই সেখানে মাঠে নেমেছে জামাত। অন্তত সিলেটের ইসলামিক ভোট বেহাত হতে দিয়ে চায়না জামাত।

জামাত ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদের বিএনপি বিরোধিতার আরেকটি বড় কারণ হলো জোটে কোনো পাত্তা না পাওয়া। ২০ দল বলা হলেও সব নির্বাচনেই শুধু প্রার্থী দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। গত ৪ জুন বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের এক বৈঠকে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একক প্রার্থীর দেওয়ার কথা বলা হয়। ঐদিন বৈঠক শেষে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে এই কথা বলেন। কিন্তু এরপর বিএনপি সব ভুলে গেছে বলে দাবি জামাত নেতাদের। জামাতের পক্ষ থেকে একমাত্র সিলেট সিটিতেই মেয়র পদে ২০ দলের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে শুরুতে সায়ও ছিল বলে দাবি জামাতের। তবে বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। যে কারণে জামাত বাধ্য হয়ে সিলেটে প্রার্থী দিয়েছে বলে দাবি দলটির নেতাদের।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের চাপে নয় বরং বিএনপির স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণেই এখন জামাত ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে জোট থেকে। আর শুধু জামাতই নয় জোটের অপর দলগুলোর মনোভাবও অনেকটা একই রকম। অতিসম্প্রতি ২০ দলের বৈঠকের দিকে খেয়াল করলেই দেখা যাবে বিএনপি বাদে অন্য দলগুলোর প্রতিনিধি কমছে। তাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ভাঙ্গন এখন শুধু সময়ের ব্যাপার বলেই মত বিশ্লেষকদের।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ