ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতারা মাঠে থাকলেও কর্মীরা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার, ০৬:৩২ পিএম
বিএনপি নেতারা মাঠে থাকলেও কর্মীরা নেই

আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে জমে উঠেছে প্রচারণা। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলরা দিনরাত একাকার করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিটি দলেরই স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন। নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন কর্মী ও সমর্থকরা। তবে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। 

রাজশাহীতে নৌকার পক্ষে ভোটের প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা। খায়রুজ্জামান লিটনের নৌকা ব্যাজধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৌকা মার্কার প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করছেন। অগণিত দলে ভাগ হয়ে প্রতিদিনই তাঁরা নৌকার পক্ষে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে প্রচারণা চালালেও কর্মী ও সমর্থকদের তেমন একটা দেখা পাওয়া যাচ্ছে না ভোটের মাঠে। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগরের নেতারা যেখানে প্রচারণায় যাচ্ছেন, কর্মীরাও শুধু সেখানেই যাচ্ছেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শুরু থেকেই ভোটের প্রচারণার সাথে যুক্ত আছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু এবং রাজশাহী জেলার ছয়টি আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সিটি নির্বাচনের প্রচারণার সাথে আছেন। সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যারা সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন না আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না তাদের।

স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, মামলার ভয়ে তৃণমূলের কর্মীরা ভোটের প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছে না। দলের স্থানীয় বিরোধ ও কোন্দল স্থানীয় কর্মী সমর্থকদের নিষ্ক্রিয়তার বড় একটি একটি কারণ।  

স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বুলবুলের কাছে মিনু মহানগর সভাপতির পদ হারিয়েছিলেন। তাই সাবেক মেয়র মিনুর অনুসারীরা পুরোপুরি বুলবুলের প্রচারণায় আসেনি। মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তার অনুসারীদেরকেও ভোটের মাঠে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 

বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সামনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংসদ নির্বাচনে নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতেই নেতারা সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় নেমেছেন।

জানা যায় ভোটের জন্য পোলিং এজেন্ট সংকটে রয়েছে বিএনপির মেয়র প্রার্থী। এজেন্ট পেতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক এজেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণে আর মাত্র ৯ দিন বাকি। এমন সময়ে বিএনপির কর্মীদের ভোটের মাঠে না থাকাটা দলটির জন্য খুবই হতাশাজনক বলে মনে করছেন অনেকেই।



বাংলাইনসাইডার/আরকে