ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা থেকে আমাদের প্রত্যাশা কী?

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার, ০৯:৫৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা থেকে আমাদের প্রত্যাশা কী?

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ক্ষমতায় এসেই দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের দিকে নজর দেন তিনি। নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, দেশে বেকারত্বের হার কমেছে, নাম লিখিয়েছে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের মধ্য দিয়ে মহাকাশে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ, শুরু হয়েছে নৌবাহিনীর সাবমেরিন যুগ। দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আরও আছে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় ও সমুদ্র সীমা বিজয়ের মতো অর্জন। অর্জনগুলোর সংখ্যা এতটাই বেশি যে সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তার পরিমাপ করা যাবে না।

এসব অর্জনের জন্য এবার দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানিত করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই উদ্দেশ্যে আগামী ২১ জুলাই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেবে দলটি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ঈর্ষণীয় উন্নয়ন, অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন করায় তাঁকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা তার শুরুটা এত সহজ ছিল না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে সুখী, সমৃদ্ধ ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী হায়েনাদের কারণে তাঁর সে স্বপ্ন সফল হয়নি। ১৫ আগস্টের এক কালরাতে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করেছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাবিরোধী শকুনেরা। পরের দুই দশকে স্বাধীনতা বিরোধী ও স্বৈরাচারদের শাসনে বিপর্যস্ত হয় বাংলাদেশ, বিধ্বস্ত হয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা। এই উত্তাল সময়ে সংগঠন হিসেবেও সংকটের মুখোমুখি হয় আওয়ামী লীগ।

এই পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বহুধা বিভক্ত আওয়ামী লীগকে রক্ষায় হোটেল ইডেনে দলীয় কাউন্সিলে সর্বসম্মতভাবে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচন করা হয়। তখনও কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসতে পারেননি। অবশেষে ১৭ মে ১৯৮১ সালে স্বৈরাচারী সরকারের সকল ভ্রুকুটি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে যদি সে সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত না করা হতো, তবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হত কেউ জানে না। দলীয় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে শক্তিশালী করে তুলতে এবং বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দলকে জনপ্রিয় করে তুলতে প্রধান দায়িত্ব পালন করেছেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দুই দশক পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সে সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট সরকার এবং ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীন অগণতান্ত্রিক সরকারের সময় এসব উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আবার ২০০৮ সালে এক গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জনগণের রায়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে জাতির পিতার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণেই কাজ করে চলেছেন তিনি।

বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এমন সময়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, বাঙালি জাতির ভাগ্য উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভিশন ২০৪১ এর ঘোষণা করেছেন, আবার যদি স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় চলে আসে তবে তার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আর অতীতে দেখা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে যতবার স্বাধীনতা বিরোধী ও ধর্মান্ধ-মৌলবাদীরা এক হয়েছে ততবারই আওয়ামী লীগ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। সাম্প্রতিক কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী এই শক্তিটি আবার শক্তি সঞ্চয় করে মাঠে নেমেছে। আর তাঁদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে শক্তিটিকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে সেক্যুলার বাম দলগুলোও। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনটি যে আওয়ামী লীগের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত। তাই এই কঠিন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য পরবর্তী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে এটি অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। দেশকে এত কিছু দেওয়ার পর এই সংবর্ধনাটি তাঁর প্রাপ্য ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার অবদানের সঙ্গে মানানসই উপহার একটিই হতে পারে – আগামী নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে জনসেবার সুযোগ করে দেওয়া। দেশের উন্নয়ন, জনগণের সেবাই শেখ হাসিনার ধ্যান-জ্ঞান। তাই জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়াই হবে শেখ হাসিনার জন্য বড় উপহার। এ লক্ষ্যে সকল বিভেদ ভুলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং জনগণের সামনে শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরতে হবে। এসব উন্নয়ন সম্পর্কে জানলে অবশ্যই জনগণ আবার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই একতাবদ্ধ থাকার প্রতিজ্ঞাটিই আসলে শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা থেকে দেশের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কাজ করার দায়িত্ব কিন্তু কেবল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরই নয়। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, যারা বাংলাদেশকে আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান তাঁদের প্রত্যেকের দায়িত্ব শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। যেদিন শেখ হাসিনা আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে, সেদিনই বলা যাবে, বাংলাদেশের উন্নয়নের সারথী এই প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর যোগ্য সংবর্ধনা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনা আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন এবং এই লক্ষ্যে তাঁর পেছনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশের সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে এমন চেতনার বিস্তারই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা থেকে আমাদের প্রত্যাশা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ