ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির সঙ্গে জোটে আগ্রহী নয় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২১ জুলাই, ২০১৮


Thumbnail

এই বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে একটি নির্বাচনী জোট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির জোট হবে এমন একটি জোর আলোচনা রাজনীতি পাড়ায় ছিল। গত রমজানে বিএনপি যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক ও বিকল্পধারার সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে নিজেদের ইফতার পার্টিতে নিয়ে এসেছিল, এমনকি তাঁকে ‘অভিভাবক’ হিসেবেও অভিহিত করেছিল। সে সময় যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির কথা হয়েছিল যে, তাঁরা যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে ২০ দলের বাইরে একটি আলাদা জোট গঠন করবে। জোট করতে বি. চৌধুরী প্রথম দিকে ভালোই উৎসাহী ছিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি বিএনপির সঙ্গে কথা বলেছেন, মিটিং করেছেন, ইফতার পার্টিতেও গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে একটি পর্যায়ে গিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তিনি।

জোট করবার উদ্দেশ্যে কেবল বি. চৌধুরীর সঙ্গেই নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছিল বিএনপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে কেউই জোট করেনি।

প্রকৃতপক্ষে কোনো দলই বিএনপির সঙ্গে প্রকাশ্য নির্বাচনী জোটে এবং আন্দোলনের জোটে যেতে রাজি নয়। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আ স ম রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না - তাঁদের বিএনপির সঙ্গে জোট করার কোনো আগ্রহ নেই। এই নেতারা মনে করছেন বিএনপি যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে জোট করতে চাচ্ছে তা থেকে বিএনপির অন্য দলগুলোকে দেওয়ার কিছুই নেই। দলগুলোর বদ্ধমূল ধারণা, বিএনপি আসলে সঠিক রাজনীতি করছে না। কারান্তরীণ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে বিএনপির রাজনীতি স্বচ্ছ এবং সঠিক নয় বলে মনে করছে দলগুলো। পাশাপাশি সামনের নির্বাচনে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ হবে তাতে বিএনপি নিজেদের জন্য যতগুলো আসন প্রত্যাশা করছে তাতে যুক্তফ্রন্টের জন্য বাকি যে আসনগুলো বরাদ্দ থাকবে তার সংখ্যা যুক্তফ্রন্টের জন্য খুব সম্মানজনক হবে না বলে মনে করছেন তারা। যুক্তফ্রন্ট বরং মনে করছে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে যদি তারা ৩০০ আসনের জন্য আলাদা নির্বাচন করে, তাদের জন্য সেটিই বেশি সম্মানজনক হবে। তাই যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির ঐক্যজোট করার যে চেষ্টা বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর করেছিলেন, সেই উদ্যোগটা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। এছাড়া বিএনপি যাদের সঙ্গে ঐক্য করতে চাচ্ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলো কামাল হোসেনের গণফোরাম এবং বাম ফ্রন্ট। এই দলগুলোও ইতিমধ্যে বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোটের একটি হিড়িক পড়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে দলগুলোর কোনোটিই তাঁদের সঙ্গে জোটে যেতে আগ্রহী না।

এই মুহূর্তে বিতর্কিত ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে আছে। এছাড়া বিরোধী দলে অন্য যেসব ইসলামী দলগুলো আছে তাঁরা বিএনপির সঙ্গে জোট করতে মোটেও আগ্রহী না। ইসলামী দলগুলোর জোট ইসলামী ঐক্যজোটও বছর দুয়েক আগে ২০ দলীয় জোট ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। অর্থাৎ ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপি যেমন সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যজোট করতে পেরেছিল, এবার তেমনটি ঘটছে না। এবার ইসলামী দলগুলোই আলাদা জোট করছে।

দলগুলো কেন বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন করতে আগ্রহী না তার পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। প্রথমত, বিএনপির সঙ্গে জোট করলে বিএনপিই সব আসন দখল করে ফেলে, বাকি দলগুলোর জন্য কিছুই বাকি থাকে না। দ্বিতীয়ত, বিএনপির সঙ্গে জোট করার পর শেষ পর্যন্ত তারা যদি নির্বাচনে না যায় তাহলে বাকি দলগুলোর মধ্যে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। কারণ বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকলেও, বাকি দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে কোনো অনাগ্রহ নেই। আর তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় কারণটি হচ্ছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে দলগুলো পছন্দ করে না। তারেকের নেতৃত্বে তাঁদের আপত্তি আছে। এসব কারণেই দেশের বিরোধী দলে থাকা দলগুলো বিএনপির সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, বিএনপি ততই একঘরে হয়ে যাচ্ছে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তালতলীতে কৃষকলীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন

প্রকাশ: ০১:৪৪ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail তালতলীতে কৃষকলীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন

বরগুনার তালতলীতে বাংলাদেশ কৃষকলীগ তালতলী উপজেলা শাখার ত্রি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে তালতলী উপজেলা শাখার সভাপতি হাজী আলম কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. গাজী জসিম উদ্দিন সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজিজুল হক স্বপন সভাপতি বরগুনা জেলা কৃষকলীগ।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন রেজবি উল কবির জোমাদ্দার সভাপতি তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা চেয়ারম্যান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ নিউ খেইন সহ সম্পাদক (ধর্ম বিষয়ক) কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনসুর আলী জোমাদার সাধারণ সম্পাদক কৃষক লীগ তালতলী উপজেলা শাখা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আজ থেকে ফের সংলাপে যাচ্ছে বিএনপি

প্রকাশ: ০১:৩৪ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail আজ থেকে ফের সংলাপে যাচ্ছে বিএনপি

সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপ ফের সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। দুপুর ২টা গুলশান চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। 

রোববার (২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপি পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত থাকবেন। আর কল্যাণ পার্টির পক্ষ থেকে দলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেবেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৪ মে সরকার-বিরোধী বৃহত্তর যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে বিএনপি। প্রথম দফার ওই সংলাপে ২৩টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল জেএসডি, গণফোরামের একাংশ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী ঐক্যজোট, কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় দল, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, সাম্যবাদী দল, ডেমোক্রেটিক দল (ডিএল), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), ইসলামিক পার্টি, পিপলস লীগ, ন্যাপ-ভাসানী ও বাংলাদেশ ন্যাপ।

বিএনপি   সমমনা দল   আন্দোলন   সংলাপ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আন্দোলন নিয়ে বিভক্ত বিএনপি

প্রকাশ: ১১:২০ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বিভক্ত বিএনপি

সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে গিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। আন্দোলন সফল করতে দলটি জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে। এই মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সভা শুরু হয়। চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। এতে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কিন্তু আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় উঠে আসে এক ভয়ংকর চিত্র। সভায় আবারও উঠে আসে দলের অভ্যন্তরীণ মত ভেদের কথা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ড থেকে আগামী দিনে সরকার পতনে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করার কথা বলেন। বহিষ্কারসহ বিভিন্ন কারণে যারা এতদিন দল থেকে দূরে ছিলেন, তাদেরকেও দলে ফিরিয়ে এনে আন্দোলনে যুক্ত করার নির্দেশনা দেন।

তবে বহিষ্কৃত ও দল ছেড়ে যারা চলে গেছেন, তাদের ফেরানোর ব্যাপারে আপত্তি জানান তৃণমূলের নেতারা। তারা বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য বৃহত্তর ঐক্য দরকার। কিন্তু যারা দলের ক্ষতি করে গেছেন, তারা ফিরলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা অস্বস্তিতে পড়বেন। তাদের জন্য ত্যাগীরা দলে জায়গা না পেলে বিশৃঙ্খলার ‍সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, সরকার পতনের আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি না করার ব্যাপারেও বিএনপির হাইকমান্ডকে পরামর্শ দেন তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা বলেছেন, বিভাগীয় গণসমাবেশ শেষ করে এক থেকে দেড়মাস মেয়াদি সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে হবে। তাহলে আন্দোলনে গতি আসবে। নেতাকর্মীরাও সক্রিয়ভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে থাকবেন।

বৈঠক শেষে যশোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, সরকার পতনের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলন যৌক্তিকপর্যায়ে নিয়ে যেতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যেভাবে অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে দেশ চলছে, তা চলতে দেওয়া যায় না। এজন্য আন্দোলন বেগবান করে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দলের ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতেই বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করা হয়েছে। এ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকাসহ ১০ বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশের ঘোষণা করেছে বিএনপি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী- আগামী ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিভাগে, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ করবে বিএনপি।

বিভক্ত   বিএনপি   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ম্লান হয়ে যাচ্ছে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ম্লান হয়ে যাচ্ছে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন ম্লান হয়ে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। শুরুতে বিএনপির এই দাবির সাথে অন্যান্য দলগুলো এ নিয়ে কথা বললেও এখন আর সেভাবে কোনো দলই সক্রিয় নয়। বরং সব দলগুলোই এখন নির্বাচনমুখী হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে দলটির দাবি এখন পর্দার আড়ালে চলে যাচ্ছে। বিএনপির এই দাবি ম্লান হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো এই দাবি সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে দলটি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন ম্লান হতে কসেছে। আর এর প্রমাণ পাওয়া যায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে। 

বিএনপি এখন আন্দোলন করছে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভোলায় নুরে আলম ও আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধান, মুন্সিগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওন ও যশোরে আব্দুল আলিম হত্যাসহ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে। অথচ দলটির নেতারা নিজেরাই এতোদিন বলে আসছিল যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিই হলো  বিএনপির একমাত্র এবং এক দফা দাবি। কিন্তু দলটি এখন সে দাবি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সপক্ষে দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও তেমন সক্রিয় নয় বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিশেষ করে দলটির চেয়ারম্যান সরকারের নানা সমালোচনা করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে তেমন কোনো কথা বলছেন না। বরং দলটি আগামী নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া কথা বলেছে। যেকারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে, বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। আর বিএনপির নেতাকর্মীরাও এই নিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছেন।

শুধু জাতীয় পার্টি নয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত জোট সাতদলীয় ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ বিভাগে প্রতিনিধি সভা ও অক্টোবর-নভেম্বরে জেলায় জেলায় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি বাড়ছে। এছাড়া ইসলামী দলগুলোর এখন নির্বাচনমুখী হচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নিজেদের রোডম্যাপ তৈরি করছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবেই ৩০০ আসনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আসলে ম্লান হয়ে যাচ্ছে কিনা সেটা এখনই সুস্পষ্টভাবে বলা মুসকিল। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর এই দাবি নিয়ে তেমন সক্রিয় আছে বলে পরিলক্ষিত হয় না। বরং তারা নির্বাচনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করছে।

বিএনপি   তত্ত্বাবধায়ক সরকার   আন্দোলন   জাতীয় পার্টি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ফরিদপুর-২ আসনে নৌকার মাঝি হতে আগ্রহী ১৪ জন

প্রকাশ: ০৮:৪৩ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ফরিদপুর-২ আসনে নৌকার মাঝি হতে আগ্রহী ১৪ জন

জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা ও কৃষ্ণপুর) আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন তার দুই ছেলেসহ ১৪ জন। গেল ১১ সেপ্টেম্বর সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা যাওয়ার পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা নেওয়া শুরু হয়। শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নগরকান্দা, সালথা উপজেলা ও সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনের উপনির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী ৫ নভেম্বর।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ওই আসনে আসনে কে হবেন নৌকার মাঝি, তা নিয়ে নগরকান্দা, সালথা ও কৃষ্ণপুরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অনেক নেতাকে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে।

দলীয় মনোনয়ন চেয়ে যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখিত ও আলোচিত জায়গায় রয়েছেন প্রয়াত সাজেদা চৌধুরী দুই ছেলে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আয়মন আকবর ওরফে বাবলু চৌধুরী ও শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু।

ওই আসনে অন্য যারা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান জুয়েল, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মেজর (অব.) আতমা হালিম, সাব্বির হোসেন, নগরকান্দার চর যশোহরদী ইউনিয়নের আবু ইউসুফ মিয়া, জেলা মৎসজীবী লীগের আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান, নগরকান্দার শশা গ্রামের বাসিন্দা বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এয়ার কমোডোর (অব.) কাজী দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান ও নগরকান্দা সদরের চৌমুখা মহল্লার বাসিন্দা কালাচাঁদ চক্রবর্তী।

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ১৪ জন নেতার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।
 
গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ইভিএম পদ্ধতিতে এ উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। তফসিল অনুযায়ী মানোনয়নপত্র জমা আগামী ১০ অক্টোবর, বাছাই ১২ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ১৯ অক্টোবর আর ভোটগ্রহণ হবে ৫ নভেম্বর।

ফরিদপুর-২   উপনির্বাচন   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন