ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আ. লীগের উপদেষ্টামণ্ডলী কি সান্ত্বনা ক্লাব?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৮ সোমবার, ১০:০০ পিএম
আ. লীগের উপদেষ্টামণ্ডলী কি সান্ত্বনা ক্লাব? (বাঁ থেকে) তোফায়েল আহমেদ, ড. গওহর রিজভী, আলহাজ মকবুল হোসেন, মুকুল বোস

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণে সবচেয়ে শক্তিশালী ফোরাম হলো প্রেসিডিয়াম। দলের সভাপতির পরই এর স্থান। প্রেসিডিয়ামের পরই হলো কার্যনির্বাহী সংসদ ও সম্পাদকমণ্ডলী। অবস্থান যে পর্যায়ের হোক সম্পাকদমণ্ডলী এখন আওয়ামী লীগের এক সান্ত্বনা ক্লাবে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগে গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই, সম্পাদকমণ্ডলীর তেমন কোনো কাজ নেই। সাংগঠনিক কোনো কাজও নেই।

দলের সভাপতিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা, পরামর্শ দেওয়া এই ধারণা থেকেই আওয়ামী লীগে উপদেষ্টামণ্ডলীর আবির্ভাব। প্রথমদিকে এর যাত্রাও শুরু হয় এই ধারণার বাস্তবায়নেই। আওয়ামী লীগে গুণীজন বলে পরিচিত কিন্তু রাজনীতির মাঠে কিছুটা নীরব এমন নেতাদের নিয়েই গঠিত হয় উপদেষ্টামণ্ডলী। কিন্তু সংখ্যাটি এখন বাড়তে বাড়তে এখন ৩৯ এ দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী উপদেষ্টামণ্ডলীর তালিকায় আছেন: (প্রকাশিত তালিকার ক্রম অনুযায়ী)

১. ড. এস এ মালেক

২. আবুল মাল আব্দুল মুহিত

৩. আমীর হোসেন আমু

৪. তোফায়েল আহমেদ

৫. অ্যাডভোকেট রহমত আলী

৬. এইচ. টি. ইমাম

৭. ড. মশিউর রহমান

৮. প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন আহমেদ

৯. অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন

১০. রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু

১১. ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর

১২. ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ

১৩. অ্যাডভোকেট সৈয়দ আবু নাসের

১৪. সতীশ চন্দ্র রায়

১৫. ড. আবদুল খালেক 

১৬. ড. রুহুল হক

১৭. কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ

১৮. অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান

১৯. ড. অনুপম সেন

২০. ড. হামিদা বানু

২১. ড. মো. হোসাইন মনসুর

২২. প্রফেসর সুলতান শাফি

২৩. এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সি

২৪. রাষ্ট্রদূত জমির

২৫. গোলাম মাওলা নকশাবাদি

২৬. মির্জা এমএ জলিল

২৭. ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া

২৮. মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মালিক

২৯. ড. সাইদুর রহমান খান

৩০. ড. গওহর রিজভী

৩১. প্রফেসর খন্দকার বজলুল হক

৩২. মো. রাশিদুল আলম

৩৩. স্থপতি ইয়াফেস ওসমান

৩৪. কাজী সিরাজুল ইসলাম

৩৫. আলহাজ মকবুল হোসেন

৩৬. চৌধুরী খালেকুজ্জামান

৩৭. অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার

৩৮. মোজাফ্ফরার হোসেন পল্টু

৩৯. মুকুল বোস

(উল্লেখ্য, তালিকায় সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও আলহাজ মো. ইসহাক মিয়ার নামও আছে। তাদের দুজনেরই গত বছর মৃত্যু হয়েছে)

তালিকাটি একবার দেখলেই বোঝা যায় সমস্যা কোথায়। এখানে ড. গওহর রিজভী, এইচ. টি. ইমামের মতো গুণীজন যেমন আছেন, তেমনি আলহাজ মকবুল থেকে শুরু করে মুকুল বোস, মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর মতো আওয়ামী লীগের প্রায় নিষ্ক্রিয় অনেক নেতাও আছেন। আবার আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদের মতো জাঁদরেল নেতাদেরও ঠাঁই হয়েছে উপদেষ্টামণ্ডলীতে। উপদেষ্টামণ্ডলীতে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য দেখা হবে তার কোনো ব্যাপারই নেই।

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, বিষয়টি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হচ্ছে না বা রাখা যাচ্ছে না তাঁকেই সান্ত্বনা হিসেবেই নেওয়া হচ্ছে উপদেষ্টামণ্ডলীতে। কিন্তু এর ফলে উপদেষ্টামণ্ডলী এর তাৎপর্য হারাতে বসেছে। যেই উদ্দেশ্য ও গাম্ভীর্যতা নিয়ে উপদেষ্টামণ্ডলী গঠিত হয়েছে সেটিই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, আলহাজ মকবুল, মুকুল বোসের মতো নেতাদের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ, আমুর মতো নেতাদের এক কাতারে রাখা যায় না। একইভাবে গওহর রিজভীর মতো গুণীজনের সঙ্গে রাখা যায় না মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর মতো নেতাদের। আর এই কারণেই গাম্ভীর্যতা নষ্ট হচ্ছে উপদেষ্টামণ্ডলীর। উপদেষ্টামণ্ডলী অনেকের সঙ্গে কেউ কেউ বসতেও ইতস্তত বোধ করেন বলে জানা গেছে।

একসময় মনে করা হতো উপদেষ্টামণ্ডলীর কাজই হলো সভাপতি ও দলকে পরামর্শ দেওয়া। তাই এখানে স্থানই হবে উচ্চশিক্ষিত, নিজ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ও সফল ব্যক্তিদের নিয়ে। কিন্তু এই ধারা অব্যাহত রাখা হয়নি। অনেকের মতে, উপদেষ্টামণ্ডলীর তালিকা দেখে ড. মশিউর রহমান ও ড. গওহর রিজভীর মতো ব্যক্তিরা নিশ্চয়ই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।

বর্তমানে উপদেষ্টামণ্ডলী বলতে আওয়ামী লীগের স্থানটি একটি সান্ত্বনা পুরস্কারের জায়গা বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যাঁরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন তাঁদের পুনর্বাসনের স্থান এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলী। রাজনীতিতে গুরুত্বহীনদের অব্যাহত আবাসনের কারণে অনেকে আড়ালে আবডালে উপদেষ্টামণ্ডলীকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্রই বলে ফেলেন।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের অনেকে মনে করেন, উপদেষ্টামণ্ডলী চমৎকার ভাবেই কাজ করতে পারতো যদি, সেখানে প্রকৃতভাবেই উপদেষ্টার যোগ্যতাসম্পন্নদেরই শুধু স্থান দেওয়া হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় উপদেষ্টামণ্ডলীকে রাজনৈতিক তামাশায় পরিণত করা হয়েছে।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ