ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপির সামনে সমঝোতার বড় সুযোগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৭:৫৯ পিএম
বিএনপির সামনে সমঝোতার বড় সুযোগ 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত ডিপ্লোম্যাটিক কোরের বৈঠকে দেশগুলোর কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য বিএনপির সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। দেশগুলোর কূটনীতিকদের মতে, জাতীয় শোক দিবস এখন বাংলাদেশে সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত এবং রাষ্ট্রীয় ভাবেই অনুমোদিত। বিএনপি যদি এবার শোক দিবস পালন করে তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার একটি দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

কূটনীতিকদের মতে, শোক দিবস পালনের অংশ হিসেবে বিএনপি নেতারা বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করতে পারে অথবা পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারে। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারে বিএনপি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে শোক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে পারে। এছাড়া শোক দিবস উপলক্ষে নূন্যতম একটি আলোচনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করতে পারে বিএনপি। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির একটি রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

কূটনীতিকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৫ আগস্ট আর কোনো বিভেদের ইস্যু নয়। কারণ একমাত্র বিএনপি ও কিছু দক্ষিণ-পন্থী দল দেশের প্রায় সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলই ১৫ আগস্ট শোক দিবস হিসেবে পালন করে। 

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে বিএনপি যদি ১৫ আগস্টে শোক দিবস পালন করে তাহলে কূটনীতিকদের জন্যও একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়। তারা সরকারের সঙ্গে দেন দরবার করার একটি ইস্যু পায়। তারা বলতে পারে, বিএনপি তো এখন মূল ধারায় ফিরে এসেছে। কূটনীতিকদের মতে, এতে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবধানটাও দূর হবে। একটি সমঝোতায় জায়গায় পৌঁছা যাবে। এখন সমঝোতার পথটি একমাত্র বিএনপিই উন্মুক্ত করতে পারে। শোক দিবস পালনের মধ্যে বিএনপিরই ইমেজ বাড়বে এবং এতে দলটির কোনো রাজনৈতিক ক্ষতি হবে না বলেই বিশ্বাস পশ্চিমা কূটনীতিকদের।

এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে কূটনীতিকরা বলেছেন, অনেক দেশেই বিরোধী দলের হয়েও দেশের প্রতিষ্ঠাতার জন্য অনুষ্ঠান উদযাপনের অনেক উদাহরণ আছে। প্রতিবেশী ভারতেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু এমনকি ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর জন্ম-মৃত্যু উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। শুধু বিজেপিই নয় ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দলই ভারতের স্বাধীনতায় অবদান রাখা কংগ্রেসের নেতাদের জন্ম-মৃত্যু পালন করে। সেখানে বিএনপি যদি জাতির পিতাকে স্বীকার না করে তাহলে তখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমঝোতার জায়গাটি অপূর্ণই রয়ে যাবে।

বিএনপি বারবার বলছে তারা সমঝোতা চায়। তাই কূটনীতিকরা বলছেন, বিএনপি যদি সত্যিই সমঝোতা চায় তাহলে তাদের শোক দিবস পালনের মাধ্যমে সমঝোতার জন্য বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। তখন জনগণের পক্ষ থেকেও রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য একটি চাপ তৈরি হবে। কারণ বিএনপি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে, তারা ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন করে না। বরং জন্মদিন উদযাপন করে। তারা জাতির পিতার খুনিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল। তারা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেনি। আর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই হত্যা করতে চেয়েছিল।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকের পক্ষ থেকে প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ড. মঈন খানের সঙ্গে কথা বলেছেন কূটনীতিকরা। এই দুই বিএনপি নেতা কূটনীতিকদের বলেছেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনায় যেতে রাজি নয় তারা।

এদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রস্তাব নিয়ে যোগাযোগ করেছেন কূটনীতিকরা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সঙ্গে কূটনীতিকদের কথা হয়েছে। বিষয়টি ভালো উদ্যোগ উল্লেখ করে ড. গওহর রিজভী কূটনীতিকদের বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ব্যক্তির নন, কোনো দলেরও নন, তিনি সমগ্র বাংলাদেশের। জাতির পিতার জন্য শোক দিবস পালন বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। যারা জাতির পিতাকে মানেনা, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করবে কীভাবে? আর তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা বা সংলাপে কীভাবে বসবে আওয়ামী লীগ?

ড. গওহর রিজভী কূটনীতিকদের আরও বলেন, বিএনপি যদি তাদের ভুল রাজনৈতিক পথ থেকে সরে এসে আসে, তবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ধারার সূচনা হবে। তখন রাজনৈতিক সমঝোতার একটি পথও উন্মুক্ত হবে।

শোক দিবস পালনের কূটনীতিকদের প্রস্তাবে বিএনপির সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। তবে শোকের মাস শুরু হতে আর এক সপ্তাহ মাত্র বাকি। তাই বিএনপির কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিগগিরই জানা যাবে তারা রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছে নাকি বৈরীতার।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ