ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জেনারেল মাহবুবকে চেয়ারম্যান বানাতে কূটনীতিকদের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
জেনারেল মাহবুবকে চেয়ারম্যান বানাতে কূটনীতিকদের চাপ

বর্তমানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, কথাবার্তা বলছেন। বিরোধী দল বিএনপিকে নিয়েও সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা আছে তাঁদের। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে তিনটি শর্ত দিয়েছেন কূটনীতিকরা।

প্রথম শর্তটি হলো, অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য যা যা সহযোগিতা দরকার বিএনপিকে তা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিবাজদের দলটির নেতৃত্ব থেকে বাদ দেওয়া। এই উদ্দেশ্যে বিএনপির বাতিলকৃত ৭ ধারা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। দলটির ৭ ধারা (ঘ)-তে বলা আছে, উন্মাদ, দুর্নীতিবাজ, এ রকম কেউ নেতা হতে পারবেন না।  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে জেলে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন দুর্নীতি মামলার কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে পলাতক আছেন। মূলত তাঁদেরকে নেতৃত্বে রাখতেই ধারাটি বাতিল করেছিল বিএনপি। কিন্তু কূটনীতিকরা এই ধারার পুনর্বহাল চাচ্ছেন এবং খালেদা জিয়া, তারেক জিয়ার মতো দুর্নীতিবাজকে তাঁরা বিএনপির নেতৃত্বে দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন। অন্তত আপৎকালীন সময়ের জন্য হলেও যাতে দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনা হয় সে জন্য বিএনপিকে চাপ দিচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর কূটনীতিকরা।

এই প্রসঙ্গে খোদ পাকিস্তানের মতো দুর্নীতি ভারাক্রান্ত দেশের উদাহরণই টানা যায়। মুসলিম লীগ প্রধান নওয়াজ শরিফকে পাকিস্তানের আদালত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ‘প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য’ ঘোষণা করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এমনকি মুসলিম লীগ প্রধানের পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়াতে হয়। বাংলাদেশে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার ক্ষেত্রেও এমনটাই চাইছেন কূটনীতিকরা।

কূটনীতিকদের দেওয়া দ্বিতীয় শর্তটি হলো, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য যে সকল মৌলবাদী দলের গাঁটছাড়া বাধা আছে তা ছাড়তে হবে। এই বিষয়ে বিএনপিকে জোর চাপ দিচ্ছেন কূটনীতিকরা।

আর তৃতীয় যে শর্তটি বিএনপিকে কূটনীতিকরা দিয়েছেন সেটি হলো, তাঁরা বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব চায় এবং নতুন নেতা হিসেবে তাঁদের পছন্দ কোনো স্বচ্ছ ইমেজের ভালো মানুষ বা ভদ্রলোককে।  এসব বিবেচনায় বিএনপির অভিজ্ঞ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিংবা মোশাররফ হোসেনকেও তাঁরা নেতৃত্বে চাইছেন না। এক্ষেত্রে তাঁদের পছন্দ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানকে। সাবেক এই সেনাপ্রধানের একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। এছাড়া জেনারেল মাহবুবকে নেতৃত্বে আনতে চাওয়ার পেছনে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেটি হলো, মাহবুবুর রহমানকে নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরও সায় আছে। ফখরুল ও মাহবুব দুজন সম্পর্কে ভায়রা ভাই হন। জেনারেল মাহবুবের স্ত্রী নাগিনা মাহবুব বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় বোন। এই আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে মির্জা ফখরুলকে জেনারেল মাহবুবের বিরুদ্ধে যাবেন না বলে মনে হয়।

কূটনীতিকরা চাইছেন, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই যাতে স্বচ্ছ নেতৃত্বের হাত ধরে বিএনপি নতুন অবয়ব লাভ করে। এই বিষয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিংও করছেন তাঁরা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি