ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রাজশাহীতে কি অরাজকতা আসছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০১৮ রবিবার, ০১:৪৫ পিএম
রাজশাহীতে কি অরাজকতা আসছে?

দরজায় কড়া নাড়ছে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার গণসংযোগকালে রাজশাহীর থানা ও ভোট কেন্দ্র ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বুলবুল বলেন, বিএনপির আর কোনো নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হলে থানা এবং ভোটের দিন কেন্দ্র ঘেরাও করা হবে।

গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের আগে আগে একজন রাজনীতিবিদের মুখ থেকে এমন হুমকি আসা খুবই আশঙ্কাজনক। এমন মানসিকতা আসন্ন নাশকতা ও অরাজকতার ইঙ্গিত বহন করে। এই ধরনের হুমকি সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের কথা মনে করিয়ে দেয় আমাদের।

অতীতে থানা ঘেরাওয়ের মতো কাজ করতো নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিনের (জেএমবি)। এই জঙ্গি দলটির জন্মভূমি আবার বুলবুলের এলাকা রাজশাহী। বিএনপি-জামাত জোটের শাসনামলে দেখা যেত, জেএমবির কোনো সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলে অন্যান্য সদস্যরা গিয়ে থানা ঘেরাও করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজেদের সঙ্গীকে মুক্ত করতে পারতেন তাঁরা, ততক্ষণ পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে রাখতেন। এদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে এক সময় রাজশাহীতে জেএমবির সদস্যদের গ্রেপ্তার বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কারণ ঢাকা থেকে পুলিশের সহায়তা নিয়ে দিনের পর দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব ছিল না।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের থানা ঘেরাও, ভোট কেন্দ্র ঘেরাওয়ের হুমকি কিন্তু জেএমবির আচরণের সঙ্গেই মিলে যায়। বিএনপির এই প্রার্থীকে দীর্ঘদিন কোনো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। কিন্তু এখন তিনি আক্রমনাত্নক বক্তব্য রাখছেন। এতে মনে হচ্ছে, জনসংযোগ করার বদলে তাঁর সকল আগ্রহ হুমকি-ধামকি দেওয়ার দিকেই বেশি। এমনকি গতকাল নির্বাচন কমিশনকেও হুশিয়ার করেছেন তিনি।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচনের পরপরই রাজশাহীতে নাশকতা ঘটার আশঙ্কা আছে। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থীর আগ্রাসী হুমকি সংকেত দিয়ে গেল, রাজশাহীতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা চালাতে এবং অরাজকতা-নাশকতা সৃষ্টিতে তৎপর হচ্ছে বিভিন্ন গোষ্ঠী।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ