ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রিজভী কি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০১৮ রবিবার, ০৪:১২ পিএম
রিজভী কি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা?

রাজশাহীর নতুন মেয়র হিসেবে আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন। জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়াই বিএনপি নির্বাচনে জিততে পারবে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক শিবির নেতা এই পোস্ট লেখেন। এই পোস্টে তিনি দাবি করেন, জামাতের সহযোগিতা ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই আসতে পারবে না আর জামাত যেহেতু রাজশাহী সিটি নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দেয়নি তাই বিএনপি প্রার্থীর জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই।

ইমনের এই ফেসবুক পোস্টের পর সেখানে সারা দেশের জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মন্তব্য করতে শুরু করেন। বিএনপি নেতাদের প্রতি আক্রমনাত্নক ও ব্যাঙ্গাত্নক মন্তব্যও পড়তে শুরু করে পোস্টে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে কটাক্ষ করে মো. আমিন নামে একজন লেখেন, ‘সকাল ১১টায় ভোট বয়কট করবে। ঘোষণা দিবে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা রিজভী।’

রুহুল কবির রিজভী প্রগতিশীল রাজনীতির পথ থেকে দূরে সরে গেলেও তিনি জামাত-শিবির বিরোধী মানুষ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জামাত-শিবিরের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন। বিএনপি নেতা রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। এমন একজন মানুষকে মহিলা দলের নেতা অভিহিত করে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীদের এমন বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী তো বটেই, তাদের পুরনো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও হতে পারে।

আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠেয় তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিলেটে মেয়র পদে পরষ্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বিএনপি ও জামাতের প্রার্থীরা। রাজশাহীতে মেয়র পদে প্রার্থী না দিলেও বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়নি জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এছাড়া এই সিটিতে কাউন্সিলর পদে জামাতের ১৪ প্রার্থী বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়বেন। এই থেকেই প্রমাণিত হয় বিএনপি ও জামায়াতের ইসলামীর মধ্যে বিপুল দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ বছর জোটবদ্ধ থাকলেও এখন আর তারা পরষ্পরের সহযোগী নয়। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিষ্টাচার বহির্ভূত বিভিন্ন মন্তব্য বিরোধের পারদ আরও তুঙ্গে তুলে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতাকর্মী এবং অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধারণা করছেন বিএনপি ও জামাতের মধ্যে যে অসহযোগিতা ও বৈরী মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে তা সৃষ্টি করেছে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। কিন্তু বাস্তবে এই অভ্যন্তরীণ বিরোধে আওয়ামী লীগের কোনো ভূমিকাই ছিল না। ক্ষমতার লোভ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বই বিএনপি ও জামাতকে পরষ্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। হালুয়া-রুটির ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বই দীর্ঘদিনের মিত্র এই দুই দলের মধ্যে বিভেদের মূল কারণ।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ